২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি সূর্য সন্তান বঙ্গবন্ধু ৫০ বছর আগেই স্বাধীনতার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরই হাত ধরে আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পালিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যদি জন্ম না নিতেন তাহলে বাংলাদেশ নামের কোনো ভূখণ্ড বিশ্বে মানচিত্রে থাকত না। কিন্তু পরাজিত পাকিস্তানের অনুগত একদল দুস্কৃতিকারী পাকিস্তানি অনুগত সেনা সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মনে করেছিলেন এই দেশটাকে আবারও পাকিস্তানের গোলামীর যুগে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, কিন্তু তা হয়নি। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই জনগণের দুঃখ দুর্দশা দূর করার সমস্ত প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি যা এই বাংলাদেশের জন্য করেছেন কোনো কোনো রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও পারতেন না। কারণ শেখ হাসিনার ভেতর দেশবাসীর জন্য যে মমতা ও ভালোবাসা রয়েছে তা অন্য কারো ছিল না। এর পূর্বে এই বাংলাদেশ যারা শাসন করেছেন তারা এই দেশটাকে লুটপাটের দেশে পরিণত করেছিলেন।
ধর্মীয় দাঙ্গাবাজদের রাজপথে নামিয়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা কঠোর হস্তে সেইসব অপরাধীদের দমন করতে সক্ষম হয়েছেন। এদেশের মানুষ যা কখনোই ভাবতে পারেনি মেট্রো রেলের কথা তা শেখ হাসিনার কারণেই আজ বাস্তবায়নের পথে। দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের শত বছরের স্বপ্ন পদ্মাসেতু আজ নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে। যে কারণে যতদিন এই পদ্মাসেতু থাকবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশর মানুষের আশীর্বাদ পেতে থাকবেন। কারণ অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা পদ্মাসেতু স্বপ্নে দেখেননি, যেটাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। যেসকল খলনায়করা পদ্মাসেতুর নির্মাণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তারা আজ ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার কারণেই আজ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকার অবলম্বন খুঁজে পেয়েছেন। তিনিই প্রথম বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা চালু করেছেন। যারা আশ্রয়হীন, গৃহহীন তারা একটি করে নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকানাও পেয়ে যাচ্ছেন, যা অন্য কোনো সরকার কখনোই করেনি। গত ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ঠিকানা বিহীন, গৃহহীন ৬৬১৮৯ পরিবার নতুন ঘরে প্রবেশ করেছেন, এটা হচ্ছে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মুজিববর্ষের উপহার। এই উপহার অব্যাহত থাকবে।
২০২৫ সালের মধ্যে সারা বাংলাদেশে একজন মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না, এটা শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি। শেখ হাসিনা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তিনি যেই প্রতিশ্রুতি দেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন, যেকারণেই তিনি সবার চেয়ে অন্যন্য। সারা পৃথিবীর সম্মানজনক সবধরনের আন্তর্জাতিক পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বড়ো পুরস্কার পেয়েছেন ষোল কোটি মানুষের ভালোবাসা, এরচেয়ে বড়ো পুরস্কার আর কি হতে পারে? ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এমন এক প্রধানমন্ত্রী যার বিরুদ্ধে কোনো জায়গাতেই কোনো অভিযোগ উঠেনি। তিনি ইতিমধ্যে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। অর্থাৎ দেশবাসীর জননী বা মা হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন। মা হিসেবে দেশবাসীর যখন যেটা প্রয়োজন তিনি তা মিটিয়ে দিচ্ছেন, তাই তিনি আজ সবার কাছ থেকে দোয়া পেয়ে যাচ্ছেন।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো আমাদের মিত্র দেশ ভারত ও যৌথভাবে এই উৎসব পালিত হচ্ছে। দিবসটিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বর্ণমুদ্রা, একটি রৌপ্য মুদ্রা ও একটি স্মারক ব্যাংক নোট তৈরি করবে। বাংলাদেশ ডাকবিভাগ একটি উদ্বোধনী খাম ও একসেট ডাকটিকেট প্রকাশ করবে। দেশের সকল রাজনৈতিক দল দিনটিকে উদ্যাপন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘর দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাব মুদ্রা সংগ্রাহকদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর ছবি যেসব নোটে মুদ্রিত হয়েছে সেসব নোট নতুন মুদ্রা সংগ্রাহকদের মাঝে উপহার দিবে। ৫০টি বেলুন ও ৫০টি কবতুর আকাশে ছেড়ে দেয়া হবে। এছাড়া প্রচারপত্র প্রকাশ করা হবে। দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। ঈদের খুশিতে সারাদেশবাসী যেভাবে উৎসবে মেতে উঠেন ঠিক সেইভাবেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে দেশবাসী উৎসবে মেতে উঠবে। এর কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজকে যদি অন্য কোনো দলের নেতৃত্ব বাংলাদেশ পরিচালিত হতো এসব কিছুই হতো না। তার কারণ তারা বঙ্গবন্ধুকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন, ফলশ্রুতিতে তারা নিজেরাই মাইনাস হয়ে গেছেন। স্বাধীনতার এই ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের যে সদস্যরা শাহাদাতবরণ করেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এই লেখাটি তাঁদেরকে উৎসর্গ করলাম।
সৈয়দ রশিদ আলম : কবি ও প্রাবন্ধিক।





Users Today : 33
Views Today : 44
Total views : 175548
