• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

জাতির পিতার জন্মশতবাষির্কীতে শত মানুষের মূল্যায়ন—মিথুশিলাক মুরমু

Admin by Admin
মার্চ ১৮, ২০২১
in প্রচ্ছদ
0 0
0
জাতির পিতার জন্মশতবাষির্কীতে শত মানুষের মূল্যায়ন—মিথুশিলাক মুরমু
0
SHARES
161
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

RelatedPosts

শিক্ষা ভাবনা ●মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে খ্রিষ্টিয়ান ধর্ম শিক্ষক প্রসঙ্গে ○ মিথুশিলাক মুরমু

হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি

আগের বকেয়া পরিশোধ ছাড়াই ঋণ পাবেন চামড়া ব্যবসায়ীরা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি সন্তানের আন্দোলন, আদর্শ, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, মানুষের প্রতি নির্মোহ ভালোবাসা বহুমুখী দৃষ্টিকোণ, দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত এবং আমরা তাঁর শিক্ষাকে ধারণ ও লালনে উগ্রীব হয়েছি। বঙ্গবন্ধু হলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবারই, সবারই মাঝে বহমান সত্য। তাঁকে নিয়ে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মূল্যবান মূল্যায়ন করেছেন, দিয়েছেন তাঁকে যর্থাথ যোগ্য সম্মান। তবে হ্যাঁ, গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মিশে আপামর জনতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু; গ্রাঞ্চালের প্রবীণেরা এখনও বলে থাকেন ‘শেখ সাহেব’ অর্থাৎ সম্মান করেই এরূপ উপাধিতে ভূষিত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে একান্ত আলাপনে ‘শেখ মুজিব’ শব্দটি বারবার উচ্চারণ করেছেন; শেখ মুজিব শব্দটিতে রয়েছে শক্তি, সাহস ও দেশপ্রেমের মন্ত্র যা দিয়ে অজেয়কে জয় করার মানসে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশজ মাটির সন্তানেরা। জন্ম শতবর্ষে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, রাষ্ট্রনায়ক, কূটনৈতিক, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়নসমূহ। এদেশের মানুষেরা তাঁকে কতটুকু জেনেছে, ভালোবেসেছে এবং নতুন প্রজন্মরা কিভাবে ধারণ করতে সক্ষম বা তাঁর সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলা যায়, বোধ করি এই মূল্যায়ন থেকেও কিছুটা হলেও আকর্ষিত হবে।

১.       ‘মুজিব নামটি পবিত্র কোরআনের সুরা হুদের পঞ্চম রুকু থেকে নেওয়া হয়েছে। মুজিব শব্দটির বাংলা অর্থ হলো উত্তরদান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সংস্কৃতিক মুক্তির যে ফরিয়াদ বাংলার মুসলমান, বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ এবং বাংলার খ্রিষ্টানেরা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে করেছিলো, মহান স্রষ্টার কাছ থেকে সেই ফরিয়াদের জবাব হলো মুজিব বা আল্লাহর উত্তরদান’ (ড. ডেনিস দিলীপ দত্ত, মহানুভব মুজিব, পৃষ্ঠা- ১১)।

২.       ‘আজ থেকে অনেক দিন পরে হয়ত কোনো পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবে, জান খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল…। কিন্তু মানুষটির হৃদয় ছিল, ভালোবাসতে জানতেন। দিবসের উজ্জ্বল সূর্যালোকে যে বস্তু চিকচিক করে জ্বলে তা হলো মানুষটির সাহস। আর জ্যোৎস্নারাতে রুপালী কিরণ ধারায় মায়ের স্নেহের মতো যে বস্তু আমাদের অন্তরে শান্তি এবং নিশ্চয়তার বোধ জাগিয়ে তোলে তা হলো তাঁর ভালবাসা। জান খোকা তাঁর নাম। শেখ মুজিবুর রহমান’। (আহমদ ছফা, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন পত্রিকা, ষষ্ঠদশ বর্ষ সংখ্যা, ২০১৬)।

৩.      ‘ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান। …বাংলাদেশের মুকুটবিহীন তুমি প্রমূর্ত রাজ, প্রতি বাঙালির হৃদয়ে হৃদয়ে তোমার তক্ত-তাজ’ (কবি জসীমউদ্দীন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা-১৩)।

৪.       ‘ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর রৌদ্র ঝরে চিরকাল, গান হয়ে নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা, যাঁর নামের ওপর কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া, ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পাখা মেলে দেয় জ্যোৎস্নার সারস, ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো দুলতে থাকে স্বাধীনতা, ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর ঝরে মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি’ (শামসুর রাহমান, কবি; ‘ধন্য সেই পুরুষ’ কবিতা থেকে)।

৫.      ‘মুজিবের ত্যাগের কোনো সীমা নেই। তার নিষ্ঠার কোনো পরিসীমা নেই। দেশকে যে সে কতখানি ভালোবাসত তার পরিমাপ কোথাও নেই। মানুষের জন্যে মমত্ববোধ, আত্মার একটা টান তার ছিল। আজকের দিনে তার মতো একটি মানুষ সারা বিশ্বে আমি দেখতে পাচ্ছি না। তার পলায়নি মনোবৃত্তি ছিল না। যেখানে সঙ্কট, যেখানে সংগ্রাম, যেখানে সংঘাত দেখেছে, সে এসে আগে দাঁড়িয়েছে। মরণকে ভয় করেনি। তার পেছনে লক্ষ জনতা ‘মুজিব ভাই’ বলে লাফিয়ে পড়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছে’ (কবি সুফিয়া কামাল, ‘আমার দেখা মুজিব’ লেখা থেকে)।

৬.       ‘আমি আমার বুক পকেট থেকে ভাঁজ করা একখানি দশ টাকার নোট বের করে শেখ মুজিবের ছবি দেখেছিলাম বলেছিলাম, এই দেখো বাংলাদেশ’ (মহাদেব সাহা,কবি)।

৭.      ‘তাঁরই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলার পথ চলি। চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি’ (সৈয়দ শামসুল হক, সব্যসাচী লেখক)।

৮.      দীর্ঘ চব্বিশ বছরের অবরুদ্ধ কণ্ঠকে মুক্তি দিয়ে আজ চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে ‘জয়তু মুজিব জয়তু মুজিব’। মুজিব, তোমারি হউক জয়। আজ সাত কোটি বাঙালির কণ্ঠে যে মাতৃমন্ত্র ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেই ‘জয় বাংলা’ মন্ত্রে তুমিই দীক্ষা দিয়েছিলে তোমার দেশবাসীকে, আকুল মন আজ সমস্ত বিশ্ববাসীকে ডেকে বলতে চাইছে, ‘শোন শোন ওগো নতুন পৃথিবীর মানুষেরা শোন, বাংলার মাটিতে আজ সার্থকতা লাভ করেছে কবিকণ্ঠ উচ্চারিত সত্যবাণী, ‘মানবের তরে মাটির পৃথিবী, দানবের তরে নয়।’ মানুষ আজ জয়ী, অসত্য আজ পরাজিত, পশু আজ ধুলি লুণ্ঠিত’ (ড. নীলিমা ইব্রাহিম, লেখক ও শিক্ষাবিদ; ‘শেখ মুজিব—একটি সংগ্রাম একটি অনন্য ব্যক্তিত্ব’ লেখায়)।

৯.       ইতিহাসে তিনিই অমর যিনি সমগ্র জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে পারেন ইতিহাস তাঁরই পক্ষে যিনি সময়ের বিচারে নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করতে পারেন। এ সংজ্ঞায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইতিহাসের সেই মহামানব সময় যাঁকে সৃষ্টি করেনি, যিনি সময়কে নিজের করতলে নিয়ে এসেছেন। যিনি কঠিন স্বরে নিজস্ব ভঙ্গিতে উচ্চারণ করেছিলেন সর্বকালের উপযোগী এবং সব দেশের জন্য প্রযোজ্য একটি অমর পংক্তি ‘আর দাবায়ে রাখতে পারবা না’ (সেলিনা হোসেন, কথাসাহিত্যিক; ‘বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও রাষ্ট্রের মৌলিকতা’ প্রবন্ধে)।

১০.     ‘ইসলামিয়ার ছাত্ররা যে আমাদের জন্য কতটা করতে পারত তার প্রমাণ পেলাম ১৯৪৬-এর রক্তাক্ত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়। বালিগঞ্জ থেকে ইসলামিয়া কলেজের রাস্তায় পদে পদে বিপদ। এই রাস্তা আমাদের ছাত্ররা পার করে দিত। ওরা বালিগঞ্জের কাছে অপেক্ষা করত আর সেখান থেকে ওয়েলেসলি স্ট্রিটে কলেজে নিয়ে যেত। আবার সেভাবেই ফিরিয়ে দিতে যেত। এখানে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি ইসলামিয়া কলেজের সেইসব মুসলমান ছাত্রদের, যাঁরা আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে বিপজ্জনক এলাকাটা পার করে দিতেন। এইসব ছাত্রদের একজনের নাম ছিল শেখ মুজিবুর রহমান’ (ভবতোষ দত্ত, ভারতের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ; ‘ষাট দশক’ বইয়ে)।   

১১.     ‘বঙ্গবন্ধু, এ স্বাধীনতার জন্য অভিবাদন তোমাকে, এ স্বাধীনতার অনেক মূল্য আছে জানি’ (আসিফ সাহাকর, উর্দু ভাষার কবি)।

১২.     ‘প্রিয় শেখ মুুজিব, মানুষ বলে তুমি মৃত। কিন্তু আমি অনুভব করি তুমি আজও আমাদের চারপাশে। আমি খুশির সঙ্গে জানাতে চাই যে, তোমার স্বপ্ন আজ তোমার মেয়ে শেখ হাসিনার দ্বারা পূরণ হয়েছে। তুমি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছ। তুমি কেবল বঙ্গবন্ধু নও, ভুটানেরও বন্ধু’ (লোটে শেরিং, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী; প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট, ২০১৯)।

১৩.     ‘ইতিহাসে খুব  কম ব্যক্তিই সক্ষম হয়েছেন নতুন একটি রাষ্ট্র তৈরি  করতে বা একটি উপমহাদেশের পরিচয় বদলে দিতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম। মানুষের জন্য অগাধ ভালোবাসা ও সংগ্রামের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি’ (প্রণব মুখার্জী, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি; ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিরলস এক রাষ্ট্রনায়ক, স্মৃতিকথা’ নিবন্ধ, পৃষ্ঠা- ৬৮)।

১৪.     ‘বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি রক্তে, বর্ণে, ভাষায়, কৃষ্টিতে এবং জন্মসূত্রেও ছিলেন খাঁটি বাঙালি’ (সিরিল ডান, বিদেশি সাংবাদিক)।

১৫.     ‘নাসের কেবল মিসরের নন, সারা আরব জাতির মুক্তিদূত। তাঁর আরব জাতীয়তাবাদ আরব জনগণের শ্রেষ্ঠ মুক্তি প্রেরণা। তেমনি শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের নন, সারা বাঙালি জাতির মুক্তিদূত। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাঙালির সভ্যতা ও সংস্কৃতির নবঅভ্যুদয়মন্ত্র (হাসনাইন হইকেল, মিসরের সাংবাদিক)।

১৬.     ‘ওদের সেই সংগ্রামী চোখের সামনে আশা আর সাহসের দেদীপ্য শিখা হয়ে জ্বলছিল যুদ্ধক্ষেত্রের বাঙ্কারে, অন্ধকার গোপন আড্ডায়, বন্দির কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে একটি নাম, একটি প্রতীক—শেখ মুজিব’ (সরদার ফজলুল করিম, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ; ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম’, পৃষ্ঠা-১৬)।

১৭.     ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করার যে নীতিতে বঙ্গবন্ধু জোর দিয়েছিলেন, এই প্রসঙ্গে তা অতি গুরুত্বপূর্ণ—শুধু বাংলা নয়, গোটা বিশ্বের পক্ষেই। বঙ্গবন্ধুকে তাই ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবেও আমরা সম্মান জানাতে পারি’ (অমর্ত্য সেন, নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ; ২৭ জানুয়ারি ২০২১ লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স আয়োজিত সভায় প্রদত্ত বক্তৃতা)।

১৮.     ‘বস্তুত মার্টিন লুথার কিং ও নেলসন ম্যান্ডেলার পরে বঙ্গবন্ধুই পৃথিবীর একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি অসহযোগ আন্দোলনকে সার্থকভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন’ (ড. আনিসুজ্জামান, লেখক ও শিক্ষাবিদ; প্রথম আলো ১৫.৮.২০২০)।

১৯.     ‘বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র সংগ্রামে অর্জিত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে তাঁরই উদ্ভাবিত ‘দেশের মাটি উত্থিত উন্নয়ন দর্শন’ (home grown development philosophy) বাস্তবায়নের মাধ্যমে শোষণমুক্ত, সমাজতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক, আলোকিত মানুষের সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন এবং যেহেতু বঙ্গবন্ধুর এ উন্নয়ন দর্শন বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তাদের দেশীয় দালাল-দোসররা, মতাদর্শগত কারণেই বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন বর্জন করেছিলো, সেহেতু প্রতিক্রিয়াশীল ঐ চক্রের দিক থেকে যুক্তিযুক্ত ছিলো তাদেও পরিকল্পিত ঐক্যবদ্ধ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে বর্বরভাবে হত্যা করা—এটাই ঐতিহাসিক সত্য’ (ড. আবুল বারাকাত,  অর্থনীতিবিদ; ‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কতোদূর যেত’, পৃষ্ঠা-৬)।

২০.    ‘হো চি মিনকে নিয়ে ভিয়েতনাম, কর্নেল নাসেরকে নিয়ে মিসর, সুকর্ণকে নিয়ে ইন্দোনেশিয়া, বর্তমানে নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইয়াসির আরাফাতকে নিয়ে প্যালেষ্টাইন। শেখ মুজিবুর রহমান নামের এই মানুষটিও তেমনি আমাদের গর্ব। বাঙালির অহংকার’ (রোকনুজ্জামান, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম’, পৃষ্ঠা-২৩)।

২১.     ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতার মূল স্থপতি, আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান সারথি ও অগ্নিপুরুষ’ (কবীর চৌধুরী, সাহিত্যক ও শিক্ষাবিদ; ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম’, পৃষ্ঠা- ১১)।

২২.     ‘ শেখ মুজিব ছিলেন সেই ব্যক্তি, জীবনব্যাপী যিনি এই জাতির স্বার্থে তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন, বিরাজ করেছিলেন এই জাতির আশা-আকাক্সক্ষার মূর্ত প্রতীক হিসেবে। …স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ চিরদিন শেখ মুজিবের কীর্তি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে’ (মওদুদ আহমদ, রাজনীতিবিদ; ভারত বিচিত্রা, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি, ২০১৬)।

২৩.    ‘সারা বাংলাদেশে শেখ মুজিবের নাম এক জাদুমন্ত্র। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, শিশু-বৃদ্ধ, অন্তঃপুরিকা বধূ সকলের মনে এ নাম বয়ে আনে এক অপূর্ব শিহরণ। এ নাম যেন তাদের সামনে অন্ধকারে এক উজ্জ্বল প্রদীপশিখা। শেখ মুজিব বাঙালি মনে অনেক সূর্যের আশা (আবুল ফজল, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ; বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা- ৬)।

২৪.     ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যতোই পরিবর্তন আসুক না কেন, তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পট পরিবর্তনের যত লীলাখেলাই চলুক না কেন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রধানতম নেতার আসন থেকে শেখ মুজিবকে বিচ্যুত করা সম্ভব হবে না। সমাজতন্ত্র, ধনতন্ত্র বা নব্য মৌলবাদ যেটাই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক কাঠামোতে ভিত গেড়ে বসুক না কেন, বা এ দেশে যত বিপ্লবী না প্রতিক্রিয়াশীল সরকারই ক্ষমতায় আহরণ করুক না কেন, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে চিরদিন শেখ মুুজিবের কীর্তি হিসেবে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে’ (মুনতাসীর মামুন, দৈনিক সংবাদ, ২৬ মার্চ ২০১৯)।

২৫.    ‘বাংলাদেশের সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক, বাংলাদেশের মানুষের সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক একটি চিরস্থায়ী সম্পর্ক যে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রকৃত অর্থে মৃত্যুঞ্জয়ী। ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যায় না। তিনি বাঙালি জাতির মাঝে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। তিনি বাঙালির চিরস্বজন’ (আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক ভিসি, ঢাবি; প্রথম আলো ১৫.৮.২০২০)।

২৬.     ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে আত্মনির্ভরশীলতা, যে জয়যাত্রা আজ আমরা দেখছি তার বীজটি বপন করেছিলেন বাঙালি জাতির সর্বকালের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর মহাপ্রয়াণের দিন বিশ্বের প্রত্যেক স্বাধীনতাপ্রেমী- মুক্তিকামী মানুষের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। তিনি বাঙালিকে মুক্তির ঠিকানা দিয়েছেন, তাই তিনি বাঙালির জন অনশ্বর, অমর’ (অনুপম সেন, সমাজত্ত্ববিদ; প্রথম আলো ১৫.৮.২০২০)।

২৭.    ‘বঙ্গবন্ধু যেন এক ট্রাজিক নাট্যের অমর নায়ক। মৃত্যুতে তাঁর বিনাশ নেই, তিনি অবিনশ্বর। পৃথিবীর ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান এক অবিস্মরণীয় দেশনায়ক, যাঁকে নিয়ে কাব্য ও সংগীত রচিত হয়েছে অজস্র। উচ্চশিক্ষিত নাগরিক কবি থেকে গ্রাম্য জনপদেও দীন গায়েনের কণ্ঠে ও কলমে তাঁর জীবনকালে যেমন, তেমনি মৃত্যুর পরেও অনুপ্রাণিত পঙক্তি রচিত ও গীত হয়ে চলেছে। এমনটা পৃথিবীতে আর কোনোকালে দেখা যায়নি’ (আবুল মোমেন, কবি ও সাংবাদিক; প্রথম আলো ১৫.৮.২০২০)।

২৮.    ‘অসহযোগ আন্দোলনই শেখ মুুজিবের বিদ্রোহী সত্তার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি সকল সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন। বস্তুত তিনি সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক। বাংলার আপামর জনসাধারণ আশা-আকাক্সক্ষা, বেদনা-বিক্ষোভ সর্বোপরি আবহমান বাংলার বৈশিষ্ট্যকে তিনি নিজের জীবনে আত্মস্থ করেছেন। তাঁর কণ্ঠে বাঙালি জাতির সঠিক মুক্তির আকাক্সক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়েছে’ (মোনায়েম সরকার, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা- ৯১)

২৯.     ‘জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সোনার বাংলার স্বপ্নে যে বিষয়গুলো বিশেষভাবে লালন করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান। একটি দুর্নীতিমুক্তি বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। তাঁর সোনার বাংলা আর দুর্নীতিমুক্ত বাংলা একই সূত্রে গাঁথা’ (ইফতেখারুজ্জামান, প্রথম আলো ১৫.৮.২০২০)। 

৩০.    ‘বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুই প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ঘটান এবং এই রাজনৈতিক মূল্যবোধকে আশ্রয় করে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, পেশা নির্বিশেষে সব মানুষকে বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন’ (সরকার আবদুল মান্নান, দৈনিক সংবাদ ১৪.৮.২০২০)। চলবে

৩১.     ‘বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তিনি তো আবহমান বাংলার চিরকালের প্রাণপ্রবাহ। বাংলার পাখির গানে, নদীর কলতানে, বাসাতের উচ্ছ্বাসে, আকাশের গরিমায়, সূর্যের শৌর্যে, চাঁদের কিরণে, নক্ষত্রের ছায়াপথে, ভোরের শিশিরে, মসজিদের আযানে, মন্দিরের কাঁসরধ্বনিতে, গির্জার ঘণ্টায়, জারি-সারি ভাটিয়ালির সুরে, বসন্তের উল্লাসে, বর্ষার ক্রন্দনে, শরতের শ্যামলিমায়, বৈশাখের ভৈরবীতে, বাঙালির হাসিকান্না, প্রেম, ভালোবাসায়, মিলনে-বিরহে তিনি চিরকালের জন্যে, চিরকালের জন্যে জাগ্রত, জীবন্ত। তাঁর মৃত্যু হয়নি। তিনি আরো বেশি জীবিত চিরকালের বাঙালির মনে ও মননে’ ((আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা- ২৮)।

৩২.    “এ দেশেরই সুসন্তান চিত্তরঞ্জনকে দেওয়া হয়েছিল ‘দেশবন্ধু’ উপাধি। ফজলুল হককে দেওয়া হয়েছিল ‘শেরে বাংলা’ খেতাব। এসব হল দেশের মানুষের ভালোবাসার দান, কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। বন্ধু তো তাকেই বলি, যে আমার প্রয়োজনের কথাটি বুঝতে পারে; তা মেটানোর জন্য চেষ্ট করে। বিপদেই তো বন্ধুর পরিচয়। তখন পূর্ব পাকিস্তানের বড় বিপদ। এই বিপদ থেকে উদ্ধারের উপায়কেই ভাষা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” (গোলাম সামদানী কোরায়শী, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা- ৪৮)।

৩৩.    ‘শতাব্দীর মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি যৌবনের প্রথম দিন থেকে তাঁর স্বপ্নের একটি রাষ্ট্রের জন্মের জন্য তিলে তিলে নিজের সমস্ত শক্তিকে উজাড় করে দিয়েছিলেন’ (আইভি রহমান, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা- ৩৬)।

৩৪.    ‘একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের ম্যা-েট নিয়ে, একটি সাংবিধানিকভাবে বৈধ, কিন্তু সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অধুনা পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দেয়ায় বঙ্গবন্ধুর যে কৃতিত্ব তা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে এক এবং অদ্বিতীয়’ (মামুন আল মাহতাব, জনকণ্ঠ ২০, ২০১৯)।

৩৫.    ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার জন্য থানা স্বাস্থ্য প্রকল্প আজও বিশ্বে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার এক সমাদৃত মডেল (অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, জনকণ্ঠ ১৬. ১২. ২০১৯)।

৩৬.    ‘আজ বিশ্বব্যাপী বাঙালী বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু উপাধিতে অভিসিক্ত করে স্বাধীন বাংলার ভৌগোলিক পরিসীমা, সবুজ নদীবিধৌত ভূখ-, লাল সবুজের পতাকা, বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গিতে জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাঙালির আত্মত্যাগ, আত্মমর্যাদা এবং আত্মসম্মানকে সমগ্র বিশ্ব করেছে সুমহান সম্মানিত ও মর্যাদাসীন’ (ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী, জনকণ্ঠ ২৬.৩.২০১৯)।

৩৭.    ‘ব্যক্তি, জাতি ও মানবজাতি তাঁর বোধে মঙ্গল নিক্তিতে সুবিন্যস্ত। তাঁর পরিচয় বাঙালি, মানুষ, বঙ্গবন্ধু, বিশ্ববন্ধু ও মানববন্ধু। সব মিলিয়ে তিনি একজন সচেতন মৌলিক চিন্তক। তাই তিনি অনন্য। তাই তিনি মুজিব মৌলিক’ (মুহাম্মদ নুরুল হুদা, জনকণ্ঠ ২৬.৩.২০১৯)।

৩৮.    ‘এই অঞ্চলের বাঙালী মানস চেতনায় যে অভূতপূর্ব স্বদেশপ্রেমের স্ফুরণ ঘটেছিল, সেই অনুভূতি ছিল একটা সামগ্রিক অনুভূতি যা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে উজ্জীবিত করেছিল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় যেটা সম্ভব হয়নি, আমাদের সময়কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সেটা সম্ভব হয়েছিল’ (অধ্যাপক ড. সালাহ উদ্দীন আহমদ, জনকণ্ঠ ২৬.৩.২০১৯)।

৩৯.    ‘প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই তো ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সেই দুঃখী মানুষ, যাদের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের ১৪টি বছর তিনি জেলে কাটিয়েছেন। ২২ বার কারাগারে গেছেন। এমন জনপ্রিয় নেতা এই ভূখ-ে আর কখনও জন্মগ্রহণ করেনি। কোন কালে বোধ হয় হবেও না। বাঙালি জাতির সবচেয়ে সৌভাগ্য এমন নেতা পাওয়া। আজ সমগ্র বিশ্ব এক বাক্য স্বীকার করছে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব’ (শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, জনকণ্ঠ ২৬.৩.২০১৯)।

৪০.    ‘বাংলাদেশ, ভারতবর্ষ, দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া বা সারা দুনিয়া খুঁজে একজনও শেখ মুজিব পাইনি আমি। তিনি কেবল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী নন। তাঁকে আমি মনে করি একজনই বাঙালী, যার মাঝে বাঙালিত্বের পুরোটা আছে এবং সে জন্য তিনি সকল বাঙালীর, সকল বাংলা ভাষাভাষীর একমাত্র অনুসরণীয় নেতা’ (মোস্তফা জব্বার, জনকণ্ঠ ২৬.৩.২০১৯)।

৪১.     ‘বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সত্তা হয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের মধ্যেই নিহিত নিহিত আছে মুজিব নামের রক্তগোলাপের পরিপূর্ণ বিকশিত রূপ’ (রফিকুর রশীদ, জনকণ্ঠ ১৬.১২.২০১৯)।

৪২.     ‘বাঙালী শ্রেষ্ঠ জাতি, বাঙালী অমর জাতি। বাঙালী জাতির অমর প্রাণ, সূর্যের নামে নাম, শেখ মুজিবুর রহমান। আকাশে যতদিন সূর্য উদ্ভাসিত হবে এবং পৃথিবীর বুকে সূর্য কিরণ ছড়িয়ে পড়বে, ততদিন সূর্যের পাশে বীর বাঙালী জাতি উদ্ভাসিত হবে এবং সূর্যের ন্যায় পৃথিবীর বুকে বাঙালী জাতি পুণ্য কিরণ ছড়িয়ে দেবে। সেই কিরণে উদ্ভাসিত হবে মানবজাতি। উদ্ভাসিত হবে পুণ্যালোকে, শুভকর্মে। বিশ্বভূবন জড়ে বাঙালী জাতির জয়গান উঠবে—জয় হোক বাঙালীর। জয়তুঃ বাঙালী’ (মুসা সাদিক, জনকণ্ঠ ১৬.১২.২০১৯)।

৪৩.    ‘ঊনসত্তর সালেই তিনি পূর্ব পাকিস্তানকে ‘বাংলাদেশ’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। এবং তা জাঁদরেল পাকিস্তানী সামরিক শাসক গোষ্ঠীর ভ্রুকুটি উপক্ষো করে। এদেশের রাজনীতিকে মধ্যযুগীয় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক আবর্ত থেকে  উদ্ধার করে আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ ধারায় প্রবাহিত করার পেছনেও বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল অনন্য। বাঙালির সম্মিলিত ইচ্ছার ধারক বঙ্গবন্ধু বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি স্বাধীন পতাকা এনে দিয়েছেন’ (জাফর ওয়াজেদ, জনকণ্ঠ, ২৬.৩.২০১৮)।

৪৪.     ‘বঙ্গবন্ধু সঠিকভাবেই বাঙালী, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের প্রধান শত্রু হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং এ রাজনীতির ফসল দেশদ্রোহী পাকিপ্রেমী জামায়াতী যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করেছিলেন। এরই অনুসরণে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে চির নির্বাসনে পাঠানোর লক্ষ্যে বাঙালীকে চিরদিনের জন্য শত্রুমুক্ত রাখতে সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে যোগ করেন অন্যতম মৌলনীতি হিসেবে’ (মমতাজ লতিফ, জনকণ্ঠ ১৮.৬.২০১৭)।

৪৫.    ‘তোমার নেতা, আমার নেতা শেখ মুজিব শেখ মুজিব শ্লোগানটি যা ধরেছিলেন শত শত মুক্তিযোদ্ধা। যাদের হাতে লড়াইয়ের অস্ত্র ছিল, মাথায় গামছা বাঁধা ছিল। সেই উচ্চারণের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছিল সাড়ে সাত কোটি মানুষের যুদ্ধরত আকাক্সক্ষার মনোবৃত্তি। ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথ তলায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা স্বল্প সময়ে জন্য হলেও এর তাৎপর্য অসীম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখান থেকে মানুষ নতুনভাবে শপথ নেয়ার সুযোগ খুঁজে পেল’ (মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, শিক্ষাবিদ; ভোরের কাগজ ১৬.৪.২০১৯)।

৪৬.     ‘বাঙালী জাতিসত্তাভিত্তিক একটি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনই ছিল মুক্তিযুদ্ধের বজ্র কঠিন অঙ্গীকার। আর সে সংগ্রামের মূল নেতাই ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (শাহীন রেজা নূর, জনকণ্ঠ ২.১২.২০১৮)।

৪৭.    ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও উদার। কোন রকম সাম্প্রদায়িক কুপমণ্ডুকতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। বাঙালী জাতীয়তাবাদে সুদৃঢ় বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু হিন্দু-মুসলমানে কখনো বিভেদ সৃষ্টি করেনি’ (আ.ল.ম. আবদুর রহমান, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন পত্রিকা, ষষ্ঠদশ বর্ষ সংখ্যা, ২০১৬)।

৪৮.    ‘জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান বাঙালির সাহস ও শক্তির উৎস, বাঙালির মুক্তিদাতা। তাঁর বজ্রকণ্ঠ ও তর্জনীর বরাভয়ে পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ শত নদীবিধৌত এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের মানুষ জেগে উঠেছিল, তারা হৃদয়ে ধারণ করেছিল বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঊর্মিমালা, যার সশব্দ তরঙ্গাভিঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে হানাদার পাকিস্তানী সেনাদল। আমরা বাংলার আকাশে উড়িয়েছি রক্তস্নাত বিজয়ের বৈজয়ন্তী’ (ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ এ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন, বার্ষিক সম্মিলন ২০১৭)।

৪৯.     ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনুপস্থিত, যে সময়ে দুই অসম শক্তি ভয়াবহ এক নিষ্ঠুর সংগ্রামে লিপ্ত ছিল। বঙ্গবন্ধু এবং শুধু বঙ্গবন্ধু একাই ছিলেন সেই প্রতীক—যার চারদিকে নিঃসহায় এবং উদ্দেশ্যের সমর্থকরা একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। কিন্তু এটা কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিল না। ওই অন্ধকার দিনগুলোতে, ওই অগ্নিপরীক্ষার দিনগুলোতে, যে কোটি কোটি জনতা, যারা ভবিষ্যতের জাতিকে সৃষ্টি করবে, তাদের মধ্যে লুকানো কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা দ্বিধা ছিল না। বঙ্গবন্ধু একাই ছিলেন প্রতীক’ (অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে ঢা.বি আয়োজিত মোজাফফর আহমদ চৌধুরী স্মারক বৃক্ততায়)।

৫০.    ‘ঔপনিবেশিক যুগে যতগুলো জাতীয়তাবাদী বা কৃষক আন্দোলন ভারতবর্ষে হয়েছিল তা নীতিগত, শ্রেণিগত, বা ভৌগোলিক কারণে খণ্ডিত বা অসম্পূর্ণ ছিল। তিতুমীরের বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, সিপাহী বিপ্লব এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে যেখানে মানুষের রক্ত-অশ্রু-ঘামের বিনিময়ে এ সকল আন্দোলন বা বিদ্রোহের ফলে কোনো স্থায়ী সমাধান লাভ সম্ভব হয়নি। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু ভারতবর্ষের ইতিহাসের একমাত্র সফল আন্দোলনের নির্মিাতাই ছিলেন না, বংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি সকল শহীদের ঋণ শোধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন সেই মানুষ যার জীবন ও কর্ম সফল করেছে ক্ষুদিরাম-প্রীতিলতা-সূর্যসেন থেকে সালাম-বরকত-রফিক কিংবা ঊনসত্তরের শহীদ আসাদের আত্মদানকে। তিনিই একমাত্র নেতা যিনি একই সাথে বাঙালির অতীত ও ভবিষ্যতকে তাৎপর্যপূর্ণ করেছেন’ (অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, বেতার বাংলা, বিশেষ সংখ্যা ২০১৯)।

৫১.     ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল পুরো মাত্রায় নীতি ও আদর্শ নির্ভর। তিনি বার বার আদর্শের ওপর জোর দিয়েছেন। জনস্বার্থে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছেন কিন্তু আদর্শকে জলাঞ্জলী দিয়ে নয়।…বঙ্গবন্ধুর কাছে রাজনীতির অপর নাম ছিল দেশ সেবা। সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর কাছে দেশ সেবা’(ড. মোহাম্মদ সেলিম, ভারতবিচিত্রা, জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি, ২০১৬)।

৫২.    ‘পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র অলিখিত ভাষণ, যা বঙ্গবন্ধু নিজের বোধ থেকে বলেছিলেন এবং কোটি কোটি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার দাবীতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। একাত্তরের রেসকোর্স ময়দানের সেই ভাষণটি আসলে ছিল মহাকাব্য’ (বিনয় দত্ত, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৫৩.    ‘শেখ মুজিব খুবই দূরদর্শী রাজনীতিক ছিলেন। জনগণের মনোভাব তিনি খুবই ভালো বুঝতেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের। স্বাধীনতার জন্য নিজ দেশের জনগণকে দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি করেছিলেন তিনি এবং উপযুক্ত সময় আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বাধীনতার ডাক দেন। নিজের জীবনের চেয়েও সহকর্মী ও জনগণের নিরাপত্তাকে শেখ মুুজিব গুরুত্ব দিতেন বেশি’ (অধ্যাপক জেমস মেনর, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৫৪.    ‘১৯৪৮ সালের পর পূর্ব পাকিস্তানে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষারূপে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে চিত্রশিল্পীরা নানাভাবে একাত্ম হয়ে পোষ্টার ফেস্টুনে মুখরিত করে তুলেছিলেন। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর শাণিত ভাষণ শুনে চিত্রশিল্পীরা একজোট হয়ে আলোচনায় বসলেন, তারা আর অপেক্ষা করতে চাইলেন না। তাই শিল্পীরা ছবি ও পোষ্টারের মাধ্যমে প্রকাশ্যেই স্বাধীনতাকে বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরলেন’ ( গৌতম কুমার বিশ্বাস, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৫৫.    ‘সিআর দাস থেকে শুরু করে সুভাষ বসু পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবোধের প্রাথমিক বিকাশ এবং সেই বোধের পরিচর্যা ও লালনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই বাঙালি জাতীয়তাবোধের প্রকৃত উন্মেষ ঘটে বলে মনে করেন ইতিহাসজ্ঞরা। যার ধারাবাহিকতায় এ ভূখ-ের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন এবং ১০ মাসের মধ্যে একটি দূরদর্শী শাসনতন্ত্র রচনার মতো বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেন বঙ্গবন্ধু’ (সুমি খান, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৫৬.    ‘বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের জয়গান বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের ফ্রেমে সব সময় স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন রাজনীতি করেছেন, নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যকে বিসর্জন দিয়েছেন এদেশের দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য’ (ড. মাহাবুবুর রহমান, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৫৭.    ‘ঢাকায় লাখো বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানকে আবেগঘন অভ্যর্থনার ভেতর দিয়ে প্রমাণ করে, নতুন একটি জাতি গঠনের কঠিন ও দীর্ঘযাত্রা শুরু হলো। বাংলাদেশ এখন আনুষ্ঠানিক, পাকিস্তান থেকে বাংলদেশকে মুক্ত করার যে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন শেখের ছিল, সেটা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখন তার দায় স্বপ্নকে প্রকৃত বাস্তবায়ন করা।… শেখ মুজিবই একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তি যার ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তার মাধ্যমে তিনি তাঁর জনগোষ্ঠীকে একতাবদ্ধ করে জাতিতে পরিণত করতে পারবেন’ (দ্যা ওয়েষ্ট অষ্ট্রেলিয়ান, সম্পাদকীয়, ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২)।

৫৮.    ‘স্বাধীনতা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুর সামনে এসে দাঁড়ায় কূটনৈতিক যুদ্ধে পাকিস্তানকে হারানোর বিষয়টি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতা হিসেবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর এই নিয়মতান্ত্রিক কূটনৈতিক যুদ্ধটি বঙ্গবন্ধুর সামনে এসে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে পাকিস্তানী হানাদার বিতাড়নের যুদ্ধে বঙ্গবন্ধু যদি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিতেন বা আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে কমিউনিষ্ট বিপ্লবীদের মতো যুদ্ধ পরিচালনা করার চেষ্টা করতেন, তাহলে পাকিস্তানের সামকি শাসক তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ পেত। তারা তখন বলত, শেখ মুজিব তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষ না করে দেশকে সশস্ত্র যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা তখন আবার আলোচনার আহবান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে লক্ষ্যচ্যুত করার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিত। তাদের সে সুযোগ বঙ্গবন্ধু দেননি’ (স্বদেশ রায়, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৫৯.    ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রাজনৈতিকভাবে চিন্তাভাবনা করলে এটা হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদটা হচ্ছে তার সবচেয়ে বড়ো আদর্শ। দেশপ্রেম, জাতিত্ববোধ, সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করা—এটাই তাঁর আদর্শ। একটা জিনিস চিন্তা করে দেখেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি তাঁর কতখানি আস্থা ও বিশ্বাস ছিল, যে মানুষটি বলেছেন, মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। সেই কথাটি বঙ্গবন্ধু মনে রেখেছেন অক্ষরে অক্ষরে। সেজন্য মানুষের ওপর নির্ভর করার চেষ্টা করেছেন সব সময়। এটাই তাঁর সবচেয়ে বড়ো আদর্শ। এটি যে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন, দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, জাতিত্ববোধ, বাঙালিত্ব এটাই বড়ো গৌরব, গর্ব, অহংকার— এটা তাঁর দর্শন’ (কামাল লোহানী, সংস্কৃত ব্যক্তিত্ব; নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৬০.    ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—যিনি বাঙালীর অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেন। প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের ‘জাতির জনক’ বা ‘জাতির পিতা’ বলা হয়ে থাকে’ (ড. শিল্পী ভদ্র, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগস্ট ২০১৮)।

৬১.     ‘বইয়ের বন্ধু বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুর বইপড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো গবেষণায় নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হতে পারে। বঙ্গবন্ধু যেমন বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন, তেমনি তিনি নিজেও ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নামের বই লিখে বাঙালি তথা বিশ্বপাঠকের কাছে রেখে গেছেন একজন প্রথম শ্রেণীর লেখকের নির্দশন। বই পড়ে যেমন বঙ্গবন্ধু নিজে সমৃদ্ধ হয়েছেন, অপরকে বই পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন, তেমনি নিজেও বই লিখে মনন ও সৃজন রাজ্যে রেখে গেছেন বুদ্ধিবৃত্তিক দীপ্ত আলোর শিখা’ (অনুপম হায়াৎ, নিরীক্ষা, ২১৯তম বিশেষ সংখ্যা, আগষ্ট ২০১৮)।

৬২.     ‘আমার ১৫-১৬ জন সেক্রেটারি ছিলেন, যার মধ্যে মুজিবই সেরা’ (মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও সংগ্রাম, পৃষ্ঠা-১০১)।

৬৩.    ‘মাত্র ঊনিশ মিনিটের ওই ভাষণে তিনি এত কথা আমন অমোঘ তীকক্ষ্ণতা, সাবলীল ভঙ্গি, বাহুল্যবর্জিত কিন্তু গভীরভাবে অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া ভাষায় কেমন করে বলতে পারলেন সে এক বিস্ময় বটে! ভাষণের মূল কথা যদি খুঁজি তাহলে দেখা যায়, পূর্ব বাংলার মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস ও অধিকারহীনতার বিষয় এতে দ্রীপ্র হয়ে উঠেছে এবং পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে বাঙালির সার্বিক মুক্তি সম্ভব—এই বক্তব্যই বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তৃতাশৈলীর অতুলনীয় ভঙ্গিতে কখনো আবেগ, কখনো যুক্তি, কখনো প্রশ্ন বা ইচ্ছাকৃত জোরালো পুনরুক্তির মাধ্যমে সোচ্চার, কিংবা বিশেষ স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে সংগত কারণেই কৌশলময় ভাষা বা ইঙ্গিতে শ্রোতাদের মনে গেঁথে দিয়েছেন’ (শামসুজ্জামান খান, মার্চ ৭, ২০২০, কালের কণ্ঠ)।

৬৪.     ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অন্তর্ভূক্ত করে ইউনেসকো জাতির জনককে সম্মানিত করেছে। আমি বলব, ঐতিহাসিক এই ভাষণ অন্তর্ভূক্ত করে বরং ইউনেসকো সম্মানিত হয়েছে’ (অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রতিচিন্তা, ২১ নভেম্বর, ২০১৯)।

৬৫.    ‘বঙ্গবন্ধু তাঁর নেতৃত্বের সহজাত দক্ষতা (charishmatic) অভিজ্ঞতাপ্রসূত নির্দেশিকা (directive) ও সমন্বয়মূলক (accommodative) পারদর্শিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে এই সত্যকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সুদৃঢ় কাঠামো নিবির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন’ (নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, প্রতিচিন্তা, ২১ নভেম্বর, ২০১৯)।

৬৬.     ‘১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ এরমধ্যে আছে অনেক মাইলফলক, যেমন ১৯৪৮, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬২,১৯৬৬, ১৯৬৯-এর আন্দোলন সংগ্রাম। আওয়ামী লীগ জড়িয়ে আছে সব কটির সঙ্গে, কখনো অংশীদার হিসেবে, কখনো নেতৃত্বে। জাতিকে একটি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল জাতীয় একাত্মবোধ তৈরির, যে জাতীয়তাবোধের প্রধান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (মহিউদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগ উত্থান পর্ব ১৯৪৮-১৯৭০, পৃষ্ঠা ২৩০)।

৬৭.    ‘বঙ্গবন্ধু যে সাধারণ মানুষের নেতা ছিলেন, তা জাদুঘর পরিদর্শনকারীর সংখ্যা এবং মন্তব্য খাতায় লেখা অতিসাধারণ মানুষের বক্তব্য থেকেও বোঝা যায়’ (নজরুল ইসলাম খান, প্রথম আলো, ১৫ আগষ্ট, ২০১৯)।

৬৮.    ‘জাতির পিতা ছিলেন একজন দুর্দান্ত অনুপ্রাণিত মানুষ, যিনি তাঁর জনগণের সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর পরিবারকে দেখলাম এবং তাঁদের জীবনযাপনের পদ্ধতি আমাকে এই ধারণা দিল যে, তাঁরা সাধারণ জীবন যাপন করতেন’ (খালেদ আল ওতাইবি, সৌদি আরব, প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট, ২০১৯)।

৬৯.     ‘আজ ৪৪ বছর পর এই জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বাষির্কী পালন করা হচ্ছে, যা এই বিশ্বনেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি অনন্য উদ্যোগ’(রিয়াদ এইচ মনসুর, ফিলিস্তিন; প্রথম আলো, ১৬ আগষ্ট, ২০১৯)।

৭০.    ‘জয়বাংলা একটি জাতির অভূদ্যয়। ত্রিশ লাখ শহীদ, চার লাখ নারীর অবমাননা, এককোটি মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে পাশের দেশে শরণার্থী হওয়া এ সবই একটি মাত্র শব্দবন্ধ জয়বাংলার মধ্যে ধারণ করা আছে। ইতিহাস সৃজনকারী জয়বাংলা একটি শব্দ বা শ্লোগান শুধু নয়। একটি মানুষের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার ইতিহাস এই শব্দ ধারণ করে এবং একটি জাতির জন্মজয়ের যাবতীয় আনন্দ-বেদনা’ (করীর রেজা, প্রথম আলো, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রি.)।

৭১.     ‘ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অসামান্য। মূলত, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই ঢাকার রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপিত হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যে জাগ্রত জাতীয়তাবাদী চেতনা লালন এবং বাস্তবায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৪৮ থেকে শুরু করে স্বাধিকার ও মুক্তিসংগ্রামের দিনগুলোতে এবং স্বাধীন বাংলাদেশ ও জাতিসংঘে বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখেছেন, তার ফলে ইতিহাস তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে’ (এম আবদুল আলীম, বণিক বার্তা, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০)।

৭২.    ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হৃদয়ের জাগরণ হলো। বিনা দ্বিধায় আমরাও বলে উঠলাম, ওই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যতদিন লড়াই চলবে, ততোদিন আমরা সঙ্গে আছি। বাঙালি হিসেবে আমরাও সহযোদ্ধা’ (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আমরা কি বাঙালি, পত্রভারতী, কলকাতা, পৃষ্ঠা ১৪৩)।

৭৩.    ‘মায়ের বড় খোকা, বাবার মুজিব, আমাদের বঙ্গবন্ধু, বাংলার জাতির পিতা, পৃথিবীর সকল অসহায় নির্যাতিত মানুষের বিশ্ববন্ধু। তিনিই আমাদের একান্ত আপন প্রাণের প্রিয় শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। এই মানুষটি আসলে মানুষরূপে একজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। ¯্রষ্টার একান্ত আপনজন। শোষিত মানুষের জন্য যার জন্ম হয়েছিল। তার জন্ম হয়েছিল বাঙালির মুক্তির জন্য। নৌকায় বৈঠা বাওয়ার মানুষের অভাব নেই কিন্তু ভালো শক্ত দক্ষ হালের মাঝি পাওয়া ভার। যিনি শক্ত হাতে ঝড় ঝঞ্ছা সব উপেক্ষা করে নৌকা ওপারে নিয়ে যেতে পারেন। তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু আমাদের নৌকার দক্ষ মাঝি’ (ফিলিপ মজুমদার, পাক্ষিক স্বর্গমর্ত, ০১-৩১ মার্চ, ২০২০; পৃষ্ঠ- ১৪)।

৭৪.    ‘পৃথিবীতে এর আগে বহু দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত হয়েছে কিন্তু কোনো দেশের রাষ্ট্রনায়ক তার দেশের নির্যাতনের শিকার নারীর পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে ভাবেনি। বঙ্গবন্ধুই বিশ্বে প্রথম নেতা যিনি তাঁর দেশের নির্যাতনের শিকার নারীর পুনর্বাসনের বিষয় ভেবেছেন, তাদের অধিকার নিয়ে ভেবেছেন ও তা বাস্তবায়নের জন্য নানা রকম কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। আর একারণেই বঙ্গবন্ধু কেবল জাতির পিতা হয়ে ওঠেন নি, হয়ে উঠেছেন সমগ্র বাঙালির নায়েবে রাসূল’ (রঞ্জনা বিশ্বাস, পাক্ষিক স্বর্গমর্ত, ০১-৩১ মার্চ, ২০২০; পৃষ্ঠ- ১৪)।

৭৫.    ‘একদিকে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করা অন্যদিকে দেশের উন্নয়নে, মানুষের অগ্রগতির চিন্তায় উন্মুখ বঙ্গবন্ধুর দিনগুলো এক একটি কবিতা, তাঁর পুরো জীবন এক একটি উপন্যাস আর তাঁর হাসি-কান্নার মুর্হুতগুলো এক একটি ছোটগল্পের প্রেরণা। তাঁর তর্জনি উঁচিয়ে ভাষণ দেওয়া, পাইপ ও চশমার অনন্য মুখচ্ছবি চিত্রকলার বিশিষ্ট উদ্দীপনা। আর তাঁর প্রকৃতি, পশুপাখি ও শিশুদের প্রতি মমত্ববোধ শিশু-কিশোর সাহিত্যের উৎস। এভাবে দেখলে বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রভাব ভেতর থেকে উদ্ঘাটন করা সম্ভব’ (ড. মিল্টন বিশ্বাস, শিল্প ও সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু, পৃষ্ঠা ২০)

৭৬.    ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ কিন্তু নেই। মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন  করেই ১৯৭২ সালে আমাদের প্রথম সংবিধান গঠিত হয়েছিল। তার প্রস্তাবনার মূল সুরেই কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বিবৃত ছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র এগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বহিঃপ্রকাশ। সংবিধান আরো একটু বিস্তৃত করে বলতে হলে বলতে হয়, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করার মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লুকায়িত ছিল’ (সুধীর সাহা, ভোরের কাগজ ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯)।

৭৭.    ‘স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান কিংবা সংবিধান প্রণয়নের আইনসম্মত অধিকার রয়েছে শুধুমাত্র জনগণের দ্বারা নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের, অন্য কারও নয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন স্বাধীনতাকামী জাতির অবিসংবাদী নেতা হিসেবে, নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি হিসেবে। আন্তর্জাতিক আইন অন্য কাউকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের অনুমোদন করে না। কোনও দেশে কেউ যদি তা করেও থাকেন তবে কোন আন্তর্জাতিক বৈধতা নেই’ (শাহরিয়ারি কবির, পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান, পৃষ্ঠা ১২-১৩)।

৭৮.    ‘ঘোষণাপত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদেরকে গণপরিষদে রূপান্তরিত করেন যা নিয়মনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিধানসম্মত। এই গণপরিষদ একটি দেশের সংসদ বা পার্লামেণ্টের মত সার্বভৌম। অতএব এই গণপরিষদ বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণাকে অনুমোদন দেয়। পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, বঙ্গবন্ধু একমাত্র যথাযথ ব্যক্তি, স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার অধিকার যার রয়েছে। আর কারো আগমনের কথা হাস্যকর ছাড়া আর কিছই নয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাকে শুধু অনুমোদনই নয় তাকে স্বাধীন বাংলার রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ এক এবং অভিন্ন সত্তা’(সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম জঙ্গ মৌলবাদী সন্ত্রাস, পৃষ্ঠা- ৬২)।

৭৯.    “১৯৭২ সালে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান জাতিকে উপহার দেন তা ছিল অত্যন্ত মানবিক ও ন্যায় প্রতিষ্ঠানকারী ভারসাম্যপূর্ণ একটি দলিল। এই সংবিধান রচনার পেছনে পাকিস্তান আমলের ধর্মের নামে শোষণ পীড়নের তিক্ত অভিজ্ঞতাও যথাযথ অবদান রেখেছিল। তাই এই সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করা হয়েছিল। ‘ইন্নাল্লাহা ইয়ামুরু বিল আদল’ অর্থাৎ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতা’আলা ন্যায় পরায়নতার আদেশ দেন’। কুরআনের এই অমোঘ শিক্ষার আলোকে সেই সংবিধানে সর্ব ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল” (মওলানা জিয়াউল হাসান, জামায়াতে ইসলামীর ইসলামবিরোধী রাজনীতির স্বরূপ, পৃষ্ঠা- ৪১-৪২)।

৮০.    ‘১৯৭১ সালে পূর্ব প্রতিষ্ঠিত ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তানের অন্তর্গত পূর্ব পাকিস্তানে যখন বাঙালি জনগোষ্ঠী তাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হয়, তখন আন্তর্জাতিক বিশ্বে প্রাথমিকভাবে তা বিচ্ছিন্নতাবাদী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা নেয়া হয়। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই আন্তর্জাতিক মহলে আত্ম নিরূপণের অধিকারের দাবিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দান করা হয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সমর্থনের মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে একটি নতুন মাইল ফলক উন্মোচিত হয়’ (তুরিন আফরোজ, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরোধিতা রাষ্ট্রদ্রোহিতাতুল্য অপরাধ, পৃষ্ঠা-৫৭)।

৮১.     “১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে কারামুক্ত শেখ মুজিবকে রেসকোর্স ময়দানে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে সভার সভাপতি তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সেই থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পরিণত হলেন বাঙালির বঙ্গবন্ধু রূপে। রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে তাকে ‘জাতির জনক’ ও বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। জাতির জনক ও বঙ্গবন্ধুকে এখন বিশ্ববন্ধু আখ্যা দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত হয়েছে বৈশ্বিক পরিমণ্ডল থেকে তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে, সাধারণ মানুষ তাঁর রাজনীতির প্রধান অবলম্বন হওয়ার কারণে, সর্বোপরি বৈশ্বিক ও মানবপ্রেমিক নেতৃত্বের কারণে” (আহমেদ আমিনুল ইসলাম, ভোরের কাগজ ২৩, ০১, ২০২১)।

৮২.    ‘নৃশংস হত্যাকা- অনেক জানা ও অজানা শহীদের রক্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা শুরু হয়েছিল। এই ইতিহাস রক্তে লেখা, এই ইতিহাস পাকিস্তানের বর্বতরতার ইতিহাস, এই ইতিহাস পাকিস্তানের বঞ্চনার ইতিহাস—যা আস্তে আস্তে সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানের মাটিকে ক্রমান্বয়ে সঞ্জীবিত করেছিল। ইতিহাস থেকে জানি এ দেশের আগেরকার দিনে রাজারা রাজ্য জয়ে প্রবিষ্ট হওয়ার সময় অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করতেন। অর্থাৎ যুদ্ধের প্রধান বাহন অশ্বকে বলি দিয়ে তারা যুদ্ধের জয়রথ চালু করতেন। বাংলাদেশ অশ্বমেধ যজ্ঞ দিয়ে নয় জীবন্ত দেশ প্রেমিকের রক্ত দিয়ে তাদের যুদ্ধের রথ চালু করেছি’ (ড. এলগিন সাহা, কাল তুমি আসোনি, পৃষ্ঠা-২৯)।

৮৩.    ‘এই ঐতিহাসিক মুহুর্তে উপস্থিত লাখো জনতার কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হতে থাকে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলার আকাশে-বাতাসে যেন ছড়িয়ে দিল সেদিনের এই আয়োজন এই বার্তা যে জনগণের নেতা আবির্ভূত তাঁর সমস্ত শক্তি, বুদ্ধি, সাহস ও প্রজ্ঞা নিয়ে জনগণকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্তি দেওয়ার জন্য। তাই জয় বাংলা-মুজিব-মুক্তিযুদ্ধ আর স্বাধীনতা সেই মুহূর্ত থেকে হয়ে গেল সমার্থক, একে-অপরের পরিপূরক। পরবর্তী ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। কিন্তু বীর বাঙালি তখন থেকেই নিজের করে নিয়েছে আসন্ন যুদ্ধের মন্ত্র; ‘জয় বাংলা’, যুদ্ধের নেতা: বঙ্গবন্ধু, যুদ্ধের ফসল: স্বাধীনতা ভিন্ন আর কিছু নয়’ (অধ্যাপক জহুরুল আলম, মার্চ ১, ২০২৯, ভোরের কাগজ)।

৮৪.    ‘বঙ্গবন্ধু আজীবন মানুষের কথা চিন্তা করেছেন। চেতনা ও মনেনও রয়েছে মানুষের কথা। তার জীবন-সংগ্রাম পর্যালোচনা করলে খোঁজ মেলে তিনি যেমন আজীবন মানুষের অধিকার আদায়ে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, তেমিন তার ছিল বিশ্ব মানবতাবোধ, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ, বিশ্ব মানব ঐক্যবোধ এবং বিশ্বশান্তি’ (ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ, ১০ জানুয়ারি, ২০২১; সমকাল)।

৮৫.    “বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ, অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিক। স্নায়ুযুদ্ধকালীন বিশ্ব রাজনীতির গতিধারা বা মেরুকরণ সম্বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন। দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বর্হিবিশ্বে একজন বিচ্ছিন্নবাদী নেতা হিসেবে তিনি যাতে কোনো অবস্থায় চিহ্নিত না হন, সে ব্যাপারে তিনি ছিলেন সদা সর্বদা অত্যন্ত সতর্ক। তেমনটি ঘটলে, তৎকালীন বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়তো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত। তাঁর সম্মুখে দৃষ্টান্ত ছিল কীভাবে নাইজেরিয়ার বিয়াফ্রা বিচ্ছিন্নবাদী আন্দোলন (১৯৬৭-১৯৭০) আদর্শিক বিভাজন নির্বিশেষে বৃহৎ শক্তির প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে কঠোরভাবে দমন করা হয়। তাই বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ছিল: মেজরিটি (বাঙালি) মাইনরিটি (পশ্চিম পাকিস্তানি) থেকে বিচ্ছিন্ন হবে কেন? বরং মাইনরিটিই ‘সিসিড’ করছে বা আক্রমনকারী এটাই বিশ্ববাসীর কাছে প্রতিভাত বা দৃষ্ট হোক” (ড. হারুন-অর-রশিদ, নভেম্বর ১৭, ২০১৭; ভোরের কাগজ)।

৮৬.    ‘ ব্যক্তি জীবনে বঙ্গবন্ধু একজন খাঁটি মুসলমান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেন। ইসলামের বিধান পরিপন্থী মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মচর্চা, গবেষণা, পবিত্র কোরআন অনুবাদসহ ইসলামী জ্ঞানচর্চার পথ উন্মুক্ত করে দেন। মাদরাসা শিক্ষা বোড গঠন করেন । বিশ্ব ইজতেমার জন্য তবলিগ জামাতের বৃহত্তম সমাবেশস্থল ঢাকার অদূরে টঙ্গীতে জমি প্রদান করেন। ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তিনি বাংলা ভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বাংলা ভাষায় কোরআন হাসিসে অনুবাদ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে গোটা জাতি আজ কোরআন-হাদিসের মর্মবাণী মাতৃভাষায় অনুধাবন করতে পারছে’ (ওয়াহিদা আক্তার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২০; বাংলাদেশ প্রতিদিন)

৮৭.    ‘যেসব ব্যক্তি মহল জেনে বুঝে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণাকে বিতর্কিত করার অপতৎপরতা অপচেষ্টা করেন, তারা নিঃসন্দেহে জ্ঞানপাপী, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুবিরোধী’ (বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, ডিসেম্বর ১০, ২০২০, ইত্তেফাক)।

৮৮.    ‘ইতিহাসের অস্পষ্ট পাতা থেকেই শতাব্দীর মহানায়কের উত্থান হয়েছে, যিনি শত-সহস্র বছরের সম্প্রীতিকে ধারণ করেছেন; সংরক্ষণ করেছেন। যিনি বিশ্ব সভায় গোপালগঞ্জের অসাম্প্রদায়িকতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে পৌঁছিয়েছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন শান্তিপূর্ণ, ধর্মনিরপেক্ষ এবং উদারতার একটি দৃষ্টান্ত দেশ হিসেবে’ (মিথুশিলাক মুরমু, গবেষক ও লেখক; সমাস- বড়দিন সংখ্যা, ২০২০)।

৮৯.    “বঙ্গবন্ধু অভিধার মর্যাদা রক্ষার্থে আমরা কবির কণ্ঠ কণ্ঠ মিলিয়ে উচ্চারণ করি, ‘তোমারি নাম বলব নানা ছলে।’ স্মর্তব্য, ছল শব্দটির নানা অর্থের মধ্যে কপটতা, ছলনা, প্রবঞ্চনা, ফাঁদ প্রভৃতি অর্থে যেন না হয়। বরং দেশ, জাতি ও মানবকল্যাণে বঙ্গবন্ধুর প্রবর্তন ভাবনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ‘ছলে’ অর্থাৎ প্রয়োজনে বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করব। তিনি অর্ধশতবর্ষ আগে প্রশাসনিক সেবা পদ্ধতির যে পরিকল্পনা করেছিলেন, আজকের সমস্যা জর্জরিত পৃথিবীর শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যা ভাবতে শুরু করেছেন, তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নেব। এতে বঙ্গবন্ধু অভিধাটির মাহাত্ম্য অক্ষুণ্ন থাকবে এবং তাঁকে যর্থাথ সম্মান দেওয়া হবে” (গোলাম কবির, ১৯ আগস্ট, ২০১৯, কালের কণ্ঠ)।

৯০.    ‘বঙ্গবন্ধু এখন আর শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি বাঙালীর নেতা, বিশ্বনেতা, জাতির পিতা। তাকে ছোট করে দেখার হীনম্মন্যতায় ভুগলে নিজেদের অস্তিত্বই থাকে না। কারণ, বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশকে কল্পনাও করা যায় না। জাতিসত্তাকে কেউ কোনোদিন অস্তিত্বহীন করতে পারে না। বাংলাদেশ মানেই স্বাধীন-সার্বভৌম বাঙালি জাতিসত্তার প্রতীক আর সেই দেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’(মোল্লা জালাল, ১৬ আগস্ট, ২০২০, যুগান্তর)।

৯১.     “বঙ্গবন্ধুর চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছিল ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘আমরা আরো অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা—যেখানে সব নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে।’ শুধু তা-ই নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের কারণে এক কোটি মানুষের দেশ ত্যাগের ঘটনাও বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থাকা সত্ত্বেও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দুই কোটি মানুষের পুনর্বাসন বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছিল” (ড. শিরীন আক্তার, ৯ মার্চ, ২০২০, কালের কণ্ঠ)।

৯২.     ‘বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে থেকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে। ছয় দফা থেকে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্ত পর্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম। তিনি কোনো অন্যায় পদক্ষেপ নেননি। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে, তখনই তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন’ (রামেন্দু মজুমদার, ৭ মার্চ, ২০২০, কালের কণ্ঠ)।

৯৩.    ‘জনগোষ্ঠীর জাতিগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য ধারণ করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও অসংগতি মোচনে নতুন পথ দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। উপনিবেশ উত্তর রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো ব্যত্যয় যখন বিশ্ব সম্প্রদায় অনুমোদন করেনি, সেই সময়ে প্রথম যৌক্তিক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু। এর তাৎপর্য অপরিসীম। বিচ্ছিন্ন হলেও তাঁর আন্দোলন বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিল না, ছিল জাতীয় মুক্তির আন্দোলন; জাতি, ধর্ম, ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য ও অধিকারের প্রতি মান্যতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্রের প্রবর্তন’(মফিদুল হক, ৭ মার্চ, ২০১৮, প্রথম আলো)।

৯৪.     ‘পৃথিবীতে কত স্বাধীনতা আন্দোলন ব্যর্থ হলো, কত আন্দোলন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে ইতিহাসের দীর্ঘশ্বাস হয়ে রইল, আমাদের হাজার বছরের পুণ্যের ফলে আমরা পেয়েছিলাম শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন শালপ্রাংশু বিশাল মাপের নেতাকে, যিনি তাঁর ত্যাগ, দেশপ্রেম, কারিশমা, শ্রম ও প্রজ্ঞা দিয়ে আমাদের উদ্বুদ্ধ করলেন স্বাধীনতায়, আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন চরিতার্থতা পেল’ (আনিসুল হক, ৭ মার্চ, ২০১৮, প্রথম আলো)।

৯৫.    ‘শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন। সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উচুঁতে ছিলো তার মাথাটি। সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই আলোড়িত-বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন। আর পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ। জনগণকে ভুল পথেও নিয়ে যাওয়া যায়; হিটলার মুসোলিনির মতো একনায়কেরাও জনগণকে দাবানলে, প্লাবনে, আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করেছিলো, যার পরিণতি হয়েছিলো ভয়াবহ। তারা জনগণকে উম্মাদ আর মগজহীন প্রাণীতে পরিণত করেছিলো। একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল, শুভ প্লাবন, শুভ আগ্নেয়গিরি, নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন মুসলমানকে, যার ফলে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম’ (হুমায়ুন আজাদ)।

৯৬.     ‘টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে আমাদের গ্রামগুলো তোমার সাহস নেবে। নেবে ফের বিপ্লবের দূরন্ত প্রেরণা’ (কামাল চৌধুরী, ‘টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে’ কবিতায়)।

৯৭.    ‘মাটির মানুষ শেষ মুজিবুর কোথায় তুমি নেই তোমার ছবি টাঙানো আছে দেশজুড়ে সবখানেই’ (রহীম শাহ, ‘তোমার ছবি’ কবিতায়)।

৯৮.    ‘স্টালিন নয়, হিটলার নয়, মাও সেতুং নয়, মহাত্মা গান্ধী ও শেখ মুজিবুর রহমানকে যদি জগৎ এখনও না বুঝে থাকে, না বুঝে থাকে এদের মর্মবাণী, তবে সময় এসেছে এ বিষয়ে দৃষ্টি উম্মোচনের’ (আঁন্দ্রে মালরো, ফ্রান্সের বিখ্যাত সাহিত্যিক)।

৯৯.     ‘শিশু তুমি যিশু তুমি, তুমি পিতা, বাঙালির জাতিপিতা, মানবধর্মের শিখা, আদিহীন অন্তহীন ভবিষ্য অবধি। বাঙালি তোমাকে চায়, তুমি চাও বাঙালির ভালো; বাঙালি মানুষ হয় বুকে যদি মুজিবের আলো’ (মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি; ‘হে বাঙালি যিশু’ কবিতায়)।

১০০.  ‘যিশু মারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ তাকে স্মরণ করছে। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো’ (ভারতীয় বেতার ‘আকাশ বাণী’, ১৬ আগষ্স্ট, ১৯৭৫)।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত জানার চেষ্টা করেছি, আকর্ষিত হয়েছি তাঁর মহানুভবতা সম্পর্কে, ধর্মীয় বিশ্বাস, দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস, মানুষকে মানুষ হিসেবে অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবেই সম্মান করেছেন। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, আদিবাসী-অন্ত্যজ, পাহাড়ি-সমতল, অচ্ছুৎ-অস্পৃশ্যকে জয় করে তিনি মহামানবে পরিণত হয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ক্ষান্ত হননি, শত্রুমুক্ত করতে আহবানে সর্বস্তরের মানুষের সাড়াদান ভালোবাসারই একটি প্রতিচিহ্ন। আজ আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন, স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদ্যাপন করতে চলেছি। অন্যদিকে স্বাধীনতার প্রাণ পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ বা জুবিলি বর্ষ। জুবিলি আত্মপোলব্ধি, পর্যালোচনা, ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও উৎসবের বছর।  স্র্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি আমাদেরকে এমনই একজন দিয়েছিলেন, যিনি মরণ পর্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন।

মিথুশিলাক মুরমু : গবেষক ও লেখক।

Previous Post

রানা আকবরাবাদীর কবিতা —ভাষান্তর : সৈয়দ রশিদ আলম

Next Post

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা - সৈয়দ রশিদ আলম

Admin

Admin

Next Post
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী  বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা – সৈয়দ রশিদ আলম

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা - সৈয়দ রশিদ আলম

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 3 8 6 8 1
Users Today : 14
Views Today : 14
Total views : 180713
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In