সাম্প্রতিককালে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ৬৬০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে এসে সহসা বলেছেন, ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা ওসিদের কাছে ঘুষ-মাসোহারা চাইলে জানান: আইজিপি’ (প্রথম আলো ৯.৭.২০২০)। তিনি ওসিদের উদ্দেশ্যে আরো বলেছেন, ‘অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বিলাসী জীবনযাপন করা পুলিশের চাকরি নয়। দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না। বড়োলোক হওয়ার ইচ্ছা জাগলে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। …নিজেরা অবৈধ উপার্জন করবেন না, অন্য কাউকে অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগও করে দেবেন না।’ তিনি তার আরো কয়েকদিন পূর্বে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত হওয়া, মানুষকে নির্যাতন করা থেকে বেরিয়ে আসা, মাদকের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা, সারা দেশে বিট পুলিশিং চালু করা ও কর্মরত অবস্থাতেই পুলিশের কল্যাণ নিশ্চিত করা। …ভালো কাজ করলে স্বীকৃতি ও উৎসাহের পাশাপাশি মন্দ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করা হবে না’ (প্রথম আলো ১৭.৬.২০২০)। ইতিপূর্বে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব) মহাপরিচালক থাকাকালীন ঠাকুরগাঁয়ে এক সমাবেশে বলেছিলেন, ‘অন্যায়ভাবে আমাদের দেশের কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের কেউ ক্ষতি করার চেষ্টা করলে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে। যারা বিনা কারণে দেশের মানুষের ক্ষতি করতে চায়, রক্তপাত করতে চায়, সম্পদ ধ্বংস করতে চায়, আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশে তাদের প্রয়োজন নেই’ (প্রথম আলো ২৮.১২.২০১৮)। বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শকের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আমাদেরকে আশান্বিত করলেও স্থানীয় পর্যায়গুলোতে পুলিশের প্রতি আদিবাসীদের আস্থা যেন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এবারের পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল— মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রশংসা সমেত বলেছেন, ‘…যার ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি পুলিশের মাঝেও গুণগত বিরাট পরিবর্তন এসেছে, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী হবে।…পুলিশ বাহিনীকে জনগণের পুলিশ হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়ে যেকোনো ধরনের অপরাধ দমন করা সহজ এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আপনারা কাজ করবেন, সেটাই আমি আশা করি।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশার সাথে আমাদের আশা-আকাঙ্খারও প্রতিফলন ঘটেছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় বাহিনী কি সত্যিই জনতার বন্ধুতে পরিণত হতে পেরেছে! জনতার সংজ্ঞাতে কী—আদিবাসী সাঁওতাল, উরাঁও, মাহালী, মুণ্ডা কিংবা কোল, ভীলদের সম্পৃক্ততা রয়েছে! বাংলার ভূখণ্ডে ঐতিহাসিক এবং জন্মসূত্রেই এদের অবস্থান রয়েছে, সেক্ষেত্রে নিঃসন্দেহের জনতার কাতারে অর্ন্তভূক্তিতা রয়েছে।
বিগত ৮ জুলাই, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিলুপ্ত প্রায় জনগোষ্ঠী আদিবাসী রাজোয়াড়’রা উপান্তর না পেয়ে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববন্ধন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রাণপন চেষ্টা করে যচ্ছেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় পুলিশ বাহিনীর সম্পৃক্ততা খোলা চোখেই পরিষ্কার হয়েছে। বিগত ১৮ জুলাই গ্রামে প্রতিবাদ সমাবেশ ঘটিয়েছে কিন্তু তারপরও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থাকার ওসি বলেছেন, ‘গতকাল তাদের একটা জিডি নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ (১৮.৭. ২০, ডেইলি স্টার)। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন করুনা রাজোয়াড় ও কুটিলা রাজোয়াড়। তারা বলেন, আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা টংপাড়া গ্রামের রাজোয়াড় আদিবাসী, ৩৫টি আদিবাসী পরিবারের বসবাস। স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশ মাতৃকার জন্য লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু স্থানীয় রাজাকার জামায়াত শিবিরের অমানবিক অত্যাচারে আমাদের অনেক মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। জীবন রক্ষার্থে মাতৃভূমি ছেড়ে পার্শবর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর ডাকে আবার এই ভূমিতে ফিরে আসি। এতদিন বংশ পরস্পরায় দীর্ঘ শতাধিক বছর পূর্ব হতে শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। ২০১৪ সাল হতে এলাকার প্রভাবশালী, জমি জালিয়াতি, জমি দখলবাজ ভূমিদস্যু ও সাম্প্রদায়িক শক্তিদের দ্বারা আমরা প্রতিনিয়তই জীবন নাশের হুমকিতে বসবাস করছি এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো নানান ঘটনা ঘটছে। আমরা যে জায়গায় বসবাস করি, হাল গাদ ৭২৬ ও ৭২৭ আরএস রেকর্ড অনুযায়ী দেখা যায় গোলাম খালেক চৌধুরী, সাং-টিকাপাড়া, থানা—বোয়ালিয়া, রাজশাহী নাম উল্লেখ আছে। সিএস এবং এসএ রেকর্ড অনুযায়ী ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের সম্পত্তি। ওয়াকফ ষ্টেটের মালিকগণ বা গোলাম খালেক চৌধুরীর ওয়ারিশগণ বা সরকার কোনদিনও এখানে এসে জমির মালিকানা দাবি করেননি। আমরা এতদিন হিন্দু-মুসলিম শান্তিপূর্ণভাবে বাস করা কালে ২১/০৪/২০১৪ ইং তারিখে মো. তরিকুল ইসলাম (টি ইসলাম) পিতা-মৃত তোফাজ্জল হোসেন, সাং- সরদার পাড়া, ডাকঘর-নামো শংকরবাটি, থানা ও জেলা—চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তার জমি বলে দাবি করে আনুমানিক বিকাল ২:৩০ মিনিটে ১টি বাস ও ১টি ট্রাকে ভাড়া করা প্রায় ২০০ জন ভাড়াটিয়া গুন্ডা হাসুয়া, রামদা, লাঠি-লাধনা নিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙতে ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করাকালে আদিবাসীসহ স্থানীয় জনগণ প্রাণপনে বাধা দিলে তরিকুল ইসলামসহ তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরেরদিন সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় তরিকুল ইসলামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য মামলা করতে গেলে এসই সময়ের দায়িত্ব থাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের মামলা গ্রহণ করেনি। পরপর কয়েকবার মামলা করতে গেলেও থানা একটিও মামলা গ্রহণ করেনি। বরং তরিকুল ইসলাম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা একের পর এক আমাদের ওপর এবং যে সকল মুসলিম ভাইয়েরা আমাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলো তাদের উপর উপর্যুপরি জিআর ৫৭৫/১৪, ৫৪০/১৪, ৬২০/১৪, ১৮৬/১৫, সিআর ৪৪/১৫, ৬১৭/১৬ এবং ৬৩২/১৬ মামলা করেন। আমাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৪/০৮/২০১৬ ইং তারিখে রাত আনুমানিক ২:০০ ঘটিকার সময় গুন্ডা বাহিনী নিয়ে পাড়া ঘিরে ফেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসী জানতে পেরে যায়, তখন তারা আমাদের মাছ চাষের পুকুরে বিষ দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে আমাদের প্রায় ৫০০০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা ক্ষতি হয়। …আবারো ০২/০৬/২০১৭ ইং বেলা আনুমানিক বিকাল ৩:৩০ মিনিটে ৪টি মাইক্রোবাস, ১টি ট্রাক ও ১০টি মোটরসাইকেলে আনুমানিক ১৫০ জন লোক হাসুয়া, রামদা, লাঠিসোঠা নিয়ে আমাদের গ্রামে হামলা চালিয়ে ৭টি বাড়ি ভাংচুর করে। মহিলাদের কাপড়-চোপড় টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে ১৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়। এই ঘটনায় আমরা মামলা করতে গেলে থানা মামলা গ্রহণ করেনি। বরং তারাই আবার মামলা করে মামলা নং জিআর ৩৩৬/১৭, ২৮০/১৭, ৩৮৫/১৭ ও ৩৮১/১৭। সেই সময় প্রত্যেকদিন ৩/৪টি মোটরসাইকেলে তার ভাড়াটিয়া গু-ারা আদিবাসীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়াত। তাদের ভয়ে আমরা বাহিরে কাজে যেতে পারতাম না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্টে মামলায় হাজিরা দিতে গেলে মারার হুমকি প্রদান করে।
গত আড়াই মাস ধরে নোবেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর জন্য বিশ্বের মানুষ যখন লকডাউনে, তখন ভূমিদস্যু টি. ইসলাম আবারো আমাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ২৩/০৫/২০২০ ইং তরিকুল ইসলামের গুন্ডা বাহিনী ১। হাবু, পিতা-আনারুল ইসলাম, ২। নেজাম, পিতা- আলতাব, ৩। রাসেল, পিতা- মিন্টু, ৪। রাব্বানী, পিতা-এন্তাজ আলী, ৫। আব্দুল্লাহ, পিতা- রাব্বানী, ৬। রাহাদ, ৭। ফরহাদ উভয়ের পিতা- খালেক/হাবু, ৮। সাকিব, পিতা- আজিজুল, ৯। বাবু, পিতা- শিমু, ১০। সেতু, পিতা-রহিম, ১১। মিন্টু, পিতা-ভদু, ১২। সোহেল, পিতা-মিণ্টু, ১৩। পাপলু, পিতা- এরফানসহ আরো ২০ জনের সন্ত্রাসীরা আনুমানিক সকাল ৯:০০ ঘটিকায় পাড়ায় হামলা চালায় কাঞ্চন রাজোয়াড়কে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং নারীদের শ্লীলতাহানী ও পুরুষদের মারপিঠ করে। পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ১০/০৬/২০২০ তারিখে ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদ, আমনূরায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সার্কেল এর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষ পুকুরে মাছ ছাড়া ও মাছ মারা থেকে বিরত থাকবে। তবে আদিবাসীরা পারিবারিক কাজে পানি ব্যবহার করতে পারবে। তারপরও উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিগত ২২/০৬/২০২০ তারিখে আমাদের সমাজের ব্যবহৃত একটি ঘর এবং আমাদের ব্যবহারের পায়খানা তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয় পাড়ায় ঢুকে শ্রী নিমচাঁদ রাজোয়াড়কে বাড়ি ভাঙতে বলে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সার্কেলকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ২৭/০৪/২০২০ তারিখে আমাদের মুরগীর খামার ঘর ভেঙে ফেলে। আমরা ২৮/০৪/২০২০ তারিখে থানায় মামলা করতে গেলে থানা আমাদের মামলা নেয়নি। উপরোন্ত তরিকুল ইসলাম আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করে। মামলা নং ২৫৮/২০। মামলায় সদ্য সেনাবাহিনীতে চাকুরি পাওয়া আদিবাসী উত্তম রাজোয়াড়কে যার চাকুরি বয়স মাত্র ৬ মাস যিনি লকডাউনের আগেই ছুটিতে গ্রামে এসেছিল, তাকেও আসামী করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমরা গ্রামে হিন্দু-মুসলিম পারস্পারিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করলেও তরিকুল ইসলাম মুসলিমদের উস্কাচ্ছে আদিবাসীদেরকে উচ্ছেদ করতে পারলে আমি মসজিদ বানানোর টাকা দিব। ২৫/০৬/২০২০ তারিখে আদিবাসী নেতা ও সংগঠক বিশ্বনাথ মাহাতো ও বঙ্গপাল সরদারকে সময় আনুমানিক সকাল ৯:২০ মিনিটে মো. তরিকুল ইসলাম-এর হুকুমে আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী ১। হাবু/খালেক (৩৫), ২। আয়নাল (২৭) সর্ব পিতা আনারুল, ৩। শরিফুল ২৬), পিতা-সিমু, ৪। রাসেল (২৭), পিতা-মণ্টু, ৫। রাহাদ (১৯), পিতা হাবু খালেক সর্ব সাং আমনুরা টংপাড়া ধারালো রড ও হাসুয়া নিয়ে মোটর সাইকেলে তাদেরকে ধাওয়া করে। প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আমনুরা টু নাচোল রাস্তার ফুলকুড়ি মোড়ে আজাদ আলীর কাঠের দোকানের সামনে দাঁড়ালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিশ^নাথ মাহাতো, বঙ্গপাল সরদারকে আঘাত করে। সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি নম্বরবিহীন লাল রঙের হিরো মোটর সাইকেল ১০০ সিসি স্থানীয় জনগণ আটক করে নাচোল থানার পুলিশে সোপর্দ করে। ২৬/০৬/২০২০ তারিখ থানায় এজাহার দিলেও ০২/০৭/২০২০ তারিখে নাচোল থানা মামলা গ্রহণ করে। হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হামলা করার জন্য আবারো তৎপর হচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সন্ত্রাসীদের কর্তৃক ব্যবহৃত মোটর সাইকেল নাচোল থানায় আটক আছে, সেই মোটর সাইকেলটি আদিবাসীরা ছিনতাই করেছে মর্মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থানা আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রহণ করেছে। বিষয়টি এলাকার আদিবাসীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশের এ ভূমিকা এদেশে নিরাপত্তাভাবে বসবাসে আদিবাসীদের হতাশ করেছে। …আমরা ২৭/০৫/২০২০ তারিখে পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জেলা প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং ২৪/০৬/২০২০ তারিখে বিভাগীয় কমিশনার রাজশাহী বিভাগ ও ডিআইজি রাজশাহী রেঞ্জকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ হতে এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। …তরিকুল ইসলাম ও তাঁর গুন্ডাবাহিনী আমাদের বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে একের পর এক হামলা আর মামলা করে যাচ্ছে। আর থানা যাচাই-বাছাই না করে মামলা গ্রহণ করছে। কয়েকজন পুলিশের এরূপ আচরণ এর কারণে আমরা দরিদ্র্যসীমার চরম সীমায় পৌঁছে গেছি এবং জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। আর কিছুদিন চলতে থাকলে জীবনের ভয়ে মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হতে হবে।
দুজন নারী নিজ গ্রাম্য সমাজের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন, একান্ত উপায়হীন হয়ে। আদিবাসী নারীরা নিভৃতে ঘর-সংসারের কাজ করে থাকে, সেখানে পরিবার, সমাজ, সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ভালোবাসার বন্ধনকে আরো মজবুত করার লক্ষ্যে দেশবাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে। আমার বাংলাদেশ থেকে কাউকে বিচারহীনভাবে দেশত্যাগ করতে দিতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই ন্যায় বিচারের প্রশ্নে আপোষহীন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুলিশের প্রতি আস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, আমরাও দেশের বৃহত্তম নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার প্রতি যদি নিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে সেবা ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন, তাহলেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নটি এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
● মিথুশিলাক মুরমু : আদিবাসী বিষয়ক গবেষক ও লেখক।





Users Today : 7
Views Today : 9
Total views : 175513
