
বেলাভূমির গান
এই শহরের প্রতিটি মানুষকে আমি চিনি
কেমন বিষাদ
আর অভিমান-ভরা চোখে
তাকিয়ে থাকে তারা
রাষ্ট্র থেকে দূরে
অদৃশ্য মাটির দেয়ালে
লেখে তারা কোনো এক
বেলাভূমির গান
সেই গান গাইতে গাইতে
ছোটো শিশু থেকে
কখন যে আমিও
বুড়ো হয়ে গেলাম!
খোলা মাঠে
এই খোলা মাঠে
চাঁদের দিকে মুখ ক’রে আছে এক
মলিন মুখের ঘোড়া
শুকনো আর কর্কশ শব্দগুলো থেকে
উপচে পড়ছে ফেনা
ফেনায় ভাসছে মৃত পোকাগুলো
দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছে বুড়ো সহিষ
হয়ত মাঠের কোনও কোনায়
কারও আড়ষ্ট আঙুল ধ’রে
দৃষ্টি পেতে চাইছে আবার মৃত্যুর আগে

মূল্য
টাকায় অনেক কিছু লেখা থাকে
অনেক না বলা কথা, একটি বেনামি চিঠি
চুপসে যাওয়া কালি, কাটাছেঁড়া অনুরাগে
টাকায় ভেতরে কেউ থুতু জমা রাখে
দু-আঙুলে গুনে তোলা নেশাজাগা সিটি
শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের শুকনো কান্নার ফাঁকে
লেখা থাকে, ‘ভুলো না আমায়’
টাকাগুলো হাতে-হাতে বিক্রি হয়ে যায়

প্রায়শ্চিত্য
এই যে খরা, দুপুরের চামড়া ঝলসানো রোদ
শরীরের রক্ত জল শ্রম কিংবা নোনা ঘামের এইসব জীবন—
কখনো কখনো ঝাপসা হয়ে আসে তাদের চোখ
কোনো বিকেলে, সন্ধ্যায়
একটু অবসরে, যদি মেলে ততটা সময়
অতটুকুতেই একেকজন অসীমে চোখ মেলা
সাধু কিংবা ফকির—যেন এইটুকু সময়ের জন্যই
নগ্ন পায়ে আগুনের ওপর হাঁটা
হয়ত কালকের ভবিষ্যতও জানা নেই কারো
তবু অগ্নি, তবু দগ্ধতা, ছাই ভস্ম
ঘরপোড়া গরু, ঘরপোড়া মানুষকে
সান্ত্বনার বাণী শোনাই আমরা
পরিপাটি পোশাকে, চকচকে অবয়বে
এই চতুরতা কিংবা নিরুপায়ের মুখোশে বন্দী অন্ধতা
ঘুচবে না আর কোনো আলোতে…
দুর্ভেদ্য দৃশ্য
অনেক রাত, অনেক সকাল চলে গেলেও
তুমি কেন আসো, কেন জানালার ভাঙা কাচ গলে
ফিরে এসে অট্টহাসিতে ভরিয়ে তোলো ঘর
নখ উল্টোবার ভয় দেখিয়ে তুমি
কতটাই বা আর ডাকাবুকো সাজবে
আমাদের পৃথিবীটাই যে রোজ উল্টে পড়ে
সকালে, দুপুরে, রাতে; সে খবর যদি জানতে…





Users Today : 56
Views Today : 57
Total views : 177460
