আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে যে সুরটি প্রধান, সেটা হলো মানবতা। মানবতার কথা সবাই বলেছেন, কবিরা লিখেছেন মানবতার পঙক্তি, সবার মুখে শোনা গিয়েছে মানবতার কথা। সেই কবে কবি চন্ডিদাস, লিখেছেন,“সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই।” নাম না জানা একজন লোক কবি বলেছেন,“নানা বরণ গাভীরে ভাই একই বরণ দুধ, জগৎ ধরিয়ে দেখি সবাই একই মায়ের পুত।” জাতীয় কবি, “একই বৃন্তে দুটোফুল হিন্দু-মুসলমান /মুসলমান তাঁর নয়নের মনি, হিন্দু তার প্রাণ” আজ আমরা ধর্মের দোহাই দিয়ে সব ভুলে যাচ্ছি, আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের মানবতা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতি ,আজ আমরা মানুষের জন্মগত অধিকার… পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছি । মানুষের মানবতা বিকাশ, স্বাধীনতা, মর্যদায় পূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা অত্যাবশ্যকীয়তা সুযোগ-সুবিধা আমরা হরণ করছি , আমরা নিজের সুবিধার জন্য ধর্মের অপব্যবহার করছি।
আমি অবাক হয়ে যাই , কুমিল্লা পূজা মণ্ডবে, গণেশের পায়ের কাছে পবিত্র কুরআন শরীফ পাওয়া গেছে, কে বা কারা রেখেছে, তা বলতে চাই না, কারণ বিষয়টা এখনও বিচারের প্রক্রিয়াধীন কিন্তু এটা সত্যি যেকোনো ধর্মপ্রাণ মুসলিম তা করতে পারে না, তা কখনো চাইবেন না ,তার ধর্মগ্ৰন্থকে ছোটো করতে, একইভাবে কোন হিন্দু ভাই-বোন চাইবেন না অন্যের ধর্মগ্ৰন্থকে ছোটো করতে! তাহলে প্রশ্ন পবিত্র কুরআন শরীফ আসলো কোথা থেকে, কারা রাখল, তাদের উদ্দেশ্য কী? আমরা এতটুকু জানি হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাস, এটা আজ নতুন কিছু নয়, অনেক পুরাতন, যার কারণে দেশ ভাগ হয়েছিল, কিন্তু বাঙালিদের চেতনা ভিন্ন , আমরা অসাম্প্রদায়িকতা বিশ্বাসী, আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান। সেই চেতনাকে ধারণ করে ১৯৭১ আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই ১৯৪৭, ৫২, ৫৪, ৬৯ ও ৭১ যারা এদেশের বিরুদ্ধে ছিল সেই চক্র আজও সক্রিয়। তারা আবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে, দেশটাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, বাংলার উন্নয়ন তারা চায় না ,তাই তাঁরা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগানোর জন্য চেষ্টা করছে, হিন্দুদের বাড়িঘর, প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে লেলিয়ে দিচ্ছে। অনেক হয়েছে আর নয় যারা এই নীল নকশা করছে , তাদের উদ্দেশ্য পণ্ড করে দিতে হবে, সমস্ত দেশপ্রেমিককে এগিয়ে আসা উচিত, তা না হলে তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে এই দেশটাকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বানিয়ে ফেলবে। তাই এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা, “হে খোদা তুমি আমাদেরকে তোমার শান্তির বাহকে পরিণত কর, যেন আমাদের দ্বারা শান্তি স্থাপিত হয়, হিংসার পরিবর্তে প্রেম, ক্ষতির পরিবর্তে ক্ষমা সন্দেহের পরিবর্তে বিশ্বাস, নিরাশার পরিবর্তে আশা, মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসার আশা না করে যেন মানুষকে ভালোবাসতে পারি। আমিন।
নাহিদ বাবু : তরুণ লেখক।





Users Today : 3
Views Today : 3
Total views : 184602
