১
একবার স্রষ্টা পৃথিবী পরিভ্রমণে বের হলেন। স্রষ্টা চতুর্দিক ঘোরাঘুরির পর একস্থানে দাঁড়ালেন, এমনি সময় কোথায় থেকে যেন দিয়াবল শয়তান সর্বশক্তিমানের সম্মুখে হাজির হলেন। প্রভুকে কুর্নিশ করে কুশল জিজ্ঞাসা করলেন, অতঃপর স্রষ্টা ঈশ্বর শয়তানের উদ্দেশ্যে বললেন—আমি পৃথিবীর সর্বস্থানে ঘুরে এসেছি, পৃথিবীর লোকেরা শান্তিতে সহবস্থান করছে, পরস্পরের মধ্যে মিল মহব্বত, ভালোবাসায় একে-অপরকে কি সম্মান করে। স্রষ্টাকে ভালোবাসে এবং তাঁর আদেশ-নির্দেশ সুচারুরূপে পরিপূরণ করে থাকে। সত্যিই আমি আমার সৃষ্টি মানুষের এহেন কর্মকাণ্ডে খুশি ও আনন্দিত। সবকিছু শোনার পর শয়তান, কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে স্রষ্টাকে উদ্দেশ্যে বলল—প্রভু বেয়াদপি ক্ষমা করবেন; আমার মনে হয় কেউ-ই আপনাকে ভালোবাসে না ও মানুষেরা নিজেদের নিজেদেরকেও শ্রদ্ধা-সম্মান করে না। শয়তান একটু বাড়িয়ে বলল—প্রভু আপনি আমাকে ৫ মিনিট সময় দেন; আর এখানে একটু সময় অপেক্ষা করুন, তাহলেই বুঝবেন মানুষেরা কেমন, কেমন তাদের আচরণ এবং আপনার প্রতি ভক্তি, ভালোবাসা এবং নিজেদের প্রতি পারস্পারিক বোঝাপড়া কতটা খাঁটি। স্রষ্টা ঈশ্বর শয়তানকে প্রশ্ন করলেন—তুমি কী করবে! কোনো মানুষের ক্ষতি করতে পারবে না। শয়তান বলল—প্রভু আমার, আপনি নিশ্চিত থাকেন, আমি কোনো মানুষের সামান্যতম ক্ষতি করবো না। তাহলে কী করবে? শয়তান অনুনয় করে বলল—প্রভু আমি ওই গ্রামে শুধু গমন করব এবং ফিরে আসব; কারো প্রতি কোনো উত্তেজনামূলক উস্কানিও দেব না। ঠিক আছে বলল—স্রষ্টা ঈশ্বর। শয়তান দেরি না করে এক প্রকার দৌড়ে সম্মুখ গ্রামে পৌঁছাল এবং গ্রামে ঢুকতেই মুদিখানা দোকানে দাঁড়াল। দোকানের কিছু ক্রয় করে আসার মুহূর্তে দোকানের সামনে সারিতে রাখা গুড়ে তর্জনী আঙ্গুলের টান দিল এবং গ্রামের অপর পাশ দিয়ে বের হওয়ার প্রাক্কালে একটি ঘরের ঘুঁটিতে গুড় লাগিয়ে আসল। অল্প কিছুক্ষণ পর গুড়ের গন্ধে পিঁপড়ের দল হাজির হলো, পিঁপড়ে খাওয়ার লোভে একটি টিকটিকি উপস্থিত হলো; বাড়ির বিড়ালটি টিকটিকির গতিবিধি লক্ষ করে টিকটিকিকে ধরার জন্য ঘাপটি মেরে থাকে। ওদিকে পাশের বাড়ির পোষা কুকুরটিও বিড়ালটিকে ধরার জন্য সুযোগ খুঁজছিল, আজকে সুযোগ পেয়ে গেছে। শয়তান স্রষ্টা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর পূর্বে লঙ্কাকাণ্ড শুরু হলো গ্রামে। টিকটিকিটি যেই পিঁপড়াগুলোকে ধরার জন্য নড়ে উঠেছে; অমনি বিড়ালটি লাফ দেয় টিকটিটিকে ধরার জন্য, সেই সাথে কুকুরটিও বিড়ালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিড়াল-কুকুরের কামড়া কামড়ির শব্দে বিড়ালের গৃহকর্তা একটি বড়ো লাঠি দিয়ে কুকুরের মাথায় বাড়ি দিলে সঙ্গে সঙ্গে কুকুরটি মারা যায়। খবরটি পৌঁছায় কুকুরের মালিকের কাছে। কুকুরের মালিকও একটি লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসলে বাঁধে বাকবিতণ্ডা এবং মারামারি। এক পর্যায়ে কুকুরের মালিক প্রতিবেশী বিড়ালের গৃহকর্তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। একঘর থেকে অপরঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওদিকে শয়তান ঈশ^রের সম্মুখে হাজির হতেই গ্রাম থেকে ধোঁয়ার কু-লী আকাশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শয়তান বলতে থাকল—প্রভু আমি শুধুমাত্র গিয়েছে আর এসেছে। আপনি দেখেন, আপনার মানুষেরা কতটা সহনশীল, ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনে আবদ্ধ; কতটা প্রতিবেশীকে ভালোবাসে, কতটা আপনাকে ভালোবাসে! আপনি দেখেন, আপনার সৃষ্টি মানুষগুলোর হৃদয়ের কোনো পরিবর্তন হয়নি; হয়েছে জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আর স্বার্থপরতা, স্বার্থন্বেষী ও আত্মকেন্দ্রীকতা।
২
এক শকুনের বাচ্চার খুব ইচ্ছে হলো মানুষের মাংস খাবার। বাচ্চা শকুনটি মা শকুনকে বিষয়টি অবহিত করলে, মা শকুনটিও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। আশপাশ থেকে মরা গরু, ছাগল ইত্যাদির মাংস নিয়ে আসে কিন্তু এতে বাচ্চার আবদার যেন বেড়ে যেতেই থাকল। প্রতিদিন সন্তানের এমন আবদার ও জোরাজুরিতে মা শকুনটি দিশেহারা হবার সামিল। একদিন সন্ধ্যায় মা শকুনটি মানুষের মাংস নিয়ে হাজির। এবার বাচ্চাটির মনে সন্দেহ হলো—কী করে, কোথায় থেকে মা মানুষের মাংস নিয়ে এলো। জিজ্ঞেস করলো—মা তুমি তো এতদিন মানুষের মাংস আনতে পারোনি, আজকে কীভাবে, কোথায় থেকে জোগাড় করেছো! মা শকুন উত্তরে জানাল—আমি হিন্দুদের মন্দিরে পচা গরুর মাংস এবং মুসলিমদের মসজিদে মরা শূকরের এক টুকরো মাংস ফেলে দিয়ে এসেছিলাম। আর এতেই বাধে হিন্দু-মুসলমান মারামারি, ঘর পোড়ানো, দাঙ্গা এবং হত্যাকা-। মানুষের মধ্যে যে এত হিংস্রতা, এত ক্ষিপ্ততা, এত ধর্মান্ধতা, উগ্রতা রয়েছে, মনে হয় আর কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। সামান্যতম সহানুভূতি, সত্যকে উদ্ঘাটন করার প্রয়াস, প্রচেষ্টা যেন তাদের শূন্যের কোঠায়। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন বলেই শুনেছি কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সময়ই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদারমূলক কোনো কার্যক্রম অবলোকন করি নাই।
কবি লিখেছেন—
‘কিন্তু ধর্ম দিও না আমায়,
না হিন্দু, না মুসলিম,
না বৌদ্ধ, না খ্রিষ্টান,
না পার্সি, না শিখ
কিছুই দিওনা আমায়।
তাহলে আর মানুষ থাকবো না,
কথা দিলাম।’
৩.
Temple এ ৬টি ওয়ার্ড আছে Masjid আর Church এও তাই!
Geeta তে ৫টি ওয়ার্ড আছে Quran আর Bible এও তাই!
Life এ ৪টি ওয়ার্ড আছে Dead এও তাই!
Hate এ ৪টি ওয়ার্ড আছে Love এও তাই!
Negative এ ৮টি ওয়ার্ড আছে Possitive এও তাই!
Failure এ ৭টি ওয়ার্ড আছে Success এও তাই!
Below এ ৫টি ওয়ার্ড আছে Above এও তাই!
Cryএ ৩টি ওয়ার্ড আছে Joyএও তাই!
Anger এ ৫টি ওয়ার্ড আছে Happyএও তাই!
Right এ ৫টি ওয়ার্ড আছে Wrong এও তাই!
Rich এ ৪টি ওয়ার্ড আছে Poor এও তাই!
Fail এ ৪টি ওয়ার্ড আছে Pass এও তাই!
যদি বিরোধী শব্দে এত মিল থাকে, তাহলে শ্রেষ্ঠ জীব মানুষে মানুষে মধ্যে কেন নয়?
মিথুশিলাক মুরমু : গবেষক ও লেখক।





Users Today : 32
Views Today : 40
Total views : 177925
