জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন ‘…আমি বাঙালি, আমি মানুষ…’ (বাঙালির কণ্ঠ, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা)। আমার বাংলাদেশের সাড়ে সতের কোটি মানুষই বাঙালি এবং মানুষ। আমাদের শিশুদেরকেও মর্যাদাপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিবেচনা আবশ্যিক। শিশুদের প্রতি মনোযোগ দেয়াই হলো তাদের নিরাপদ বেড়ে উঠার প্রথম পদক্ষেপ। শিশুরা মানুষ এবং বড়োদের মতো তাদেরও চিন্তা, চেতনা, ইচ্ছা এবং অনুভূতি আছে। আজকে যদি আমার সন্তানের জায়গায় আমি থাকতাম, তাহলে আমার কাছে কেমন লাগত! অথবা যদি আমি সেই পরিস্থিতিতে থাকতাম তাহলে আমার কি করতে ইচ্ছা হতো? এভাবে এবং আরও অনেক উপায়ে আমরা শিশুদেরকে ভালোভাবে বুঝতে শেখা শুরু করতে পারি এবং আমরা যদি শিশুদেরকে বুঝতে সক্ষম হই তাহলে শিশুদের সঙ্গে একটি স্বতঃর্স্ফূত, সুন্দর ও আন্তরিক ভাবের বিনিময় হবে এবং এর ফলে বড়োদের সঙ্গে শিশুদের একটি অনুভূতিশীল মানবিক সম্পর্ক তৈরি হবে। যত ছোটোই হোক না কেন শিশুরা অনুভূতি বুঝতে পারে। আপনার সন্তান ভালোবাসা এবং বিরক্তি, আনন্দ এবং দুঃখ সব ধরনের আবেগীয় অবস্থা প্রকাশ করতে পারে। যখন সন্তানকে আদর করেন, যত্ন নেন, জড়িয়ে ধরেন এবং সন্তানের সঙ্গে নরম সুরে ও আনন্দসহকারে কথা বলেন, তখন সে তার প্রতি আপনার ভালোবাসা অনুভব করতে পারে। এ কারণেই আপনি তাকে ভালোবাসেন এ বিষয়টি সন্তানের কাছে প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশু এবং তাদেরকে যত্ন প্রদানকারীর মাঝে আমরা একটি ভালোবাসাপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল সম্পর্ক তৈরি করতে চাই, যাতে করে শিশুরা অনুভূতিশীল ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে, যারা ভবিষ্যতে আমাদের সমাজে মানবিকতা উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্য আয়োজিত সভার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ’ সমগ্র জাতিকেও ভাবিত করে তুলেছে। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগষ্স্ট চিহ্নিত ঘাতক খুনিরা ১০ বছরের শিশুসন্তানকেও নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত কর্মচারী এএফএম মহিতুল ইসলামের ভাষ্যমতে, সেদিন “রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বলল, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে, আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব। এক ঘাতক এসে ওকে বললো, চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি। বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এত নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভেতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার করে।” বোধ করি, ঘাতকেরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা করলেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবে না। সেই প্রত্যাশায় তারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকেও ছাড় দেয়নি। আমার দেশের সর্বস্তরের শিশুদের নিরাপদ বাংলাদেশ প্রত্যয়ে শেখ রাসেলের জেষ্ঠ্য বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।
স্বাধীন দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান দেশের দায়িত্বভার নেওয়ার পরই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের বিষয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন। দেশের পবিত্র সংবিধানের সন্নিবেশিত করেছেন শিশুদের মর্যাদা, বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্র এবং নিরাপদ ও নিরাপত্তার বিষয়াদি। স্বাধীনতার মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে শিশুদের কোমল হৃদয়কে বিকশিত করতে প্রণয়ন করেছেন শিশু আইন। শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল মুজিবের গাড়ি একবার সিগন্যালে রাজপথে দাঁড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ একটি শিশু—কত বয়স হবে, সাত কি আট গাড়ির কাছে এসে বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ করে বলছে, আসসালামু আলাইকুম মুজিব সাহেব! দেরি না করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুটির হাত ধরে আদর করলেন, ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। একটি শিশুর মানবিকতা, মানসিকতা উৎজ্জীবিত করতে স্পর্শ খুবই উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রনায়কের, জাতিরজনকের শিশুদের প্রতি কী অপার ভালোবাসা, কী অপূর্ব মমত্ববোধ ব্যক্তি জীবনকেও ছাপিয়ে গেছে। শেখ মুজিব একজন সাধারণ মানুষ, তাঁর দেহ আছে, সুস্থতা-অসুস্থতা আছে। আমাদের মতো তাঁর আত্মজন আছে। তাঁর সন্তান আছে। তবু বাংলাদেশের দুর্জয় সংগ্রাম আর সাহসের প্রতীক শেখ মুজিব যেন ব্যক্তি শেখ মুজিবকে অতিক্রম করে গেছেন। এ প্রতীক শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, বন্দি, মুক্ত সব মানুষের কাছে ’৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের কালরাত্রি থেকে একটি পবিত্র আশা আর স্বপ্নের রূপ ধরে ভাসছিল। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণেই যোগ্যতম কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মার্চকে (১৯৯৬-২০০১) জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিশ্ব শিশু দিবস পালন করা হলেও জাতীয় শিশু দিবস ছিল না। প্রথমে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসটিতে সাধারণ ছুটি না থাকলেও পরবর্তী সময়ে দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শিশুর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—বলা যায় শিশু আইন, ২০১৩ এবং জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ তে ১৮ বছরের নিচে সবাইকে শিশু বলে নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু শিশুশ্রম বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নিরসনের লক্ষ্যে গৃহীত জাতীয় শিশু শ্রম নিরসন নীতিমালা, ২০১০ শিশু হিসেবে ১৪ বছরের কম বয়সীদের এবং ১৪ বছরের বেশি কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়সীদের কিশোর-কিশোরী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও ১৮ বছরের নিচে সব মানবসন্তানকে শিশু বলা হয়েছে। শিশুর প্রতি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, নিপীড়ন করা, সহিংসতা, মারধর, গালিগালাজ বা অমার্যাদাকর আচরণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশুকে বিকশিত করতে, নিরাপদ বাংলাদেশে খোলা আকাশের নিচে যাতে করে প্রাণ খুলে খেলাধুলা, পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন এবং সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে; সে লক্ষে জাতিসংঘের উদ্যোগের ১৫ বছর পূর্বেই বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হয় ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে, আমার বাংলাদেশ এ সনদে অনুস্বাক্ষরকারী অন্যতম একটি দেশ।
প্রতিটি শিশুই ব্যতিক্রমী। কেউ বই পড়তে ভালোবাসে, কেউ পড়তে ভালোবাসে, কেউ গড়তে বা সেলাই করতে ভালোবাসে। কেউ পারিচালিত হতে ভালোবাসে, আবার কেউ পরিচালনা দিতে ভালোবাসে। একজন কথা বলতে ভালোবাসে, অপরজন শুনতে ভালোবাসে। একজন একাকী থাকতে ভালোবাসে, একজন দলে থাকতে ভালোবাসে। একজন সম্মান করে ও দ্রুত মত দেয়, অন্যজন শুধু প্রশ্ন করে। একজন শিশু কৃষক হয়, অপরজন ডাক্তার হয়। একজন শিশু শিক্ষক হয়, আরেকজন কাঠমিস্ত্রী হয়। আবার একজন ব্যবসায়ী হয়, অপরজন মুদি দোকানদার হয়। আমরা প্রতিটি শিশুকে পর্যবেক্ষণ করব এবং প্রত্যেককে তাদের স্বভাব, মেধা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের উৎসাহ প্রদান করব। আমরা শিশুদের অন্যদের মতো অনুকরণ করতে শিখাবো না। একজন বুদ্ধিমান লোক কি আশা করবেন—একটি বিড়াল কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করবে? বা মুরগী ভেড়ার মতো আচরণ করবে? প্রতিটি শিশুই ব্যতিক্রমী। শিশুরা একদিন প্রাপ্তবয়স্ক হবে, এটা সবাই জানে। কেউই একটি শিশুকে বড়ো ভেবেস্তুল করে না কিন্তু পিতা-মাতারা প্রায়ই ভুলে যান যে, শিশুরা বয়স্কদের মতো পরিচালিত হতে বা চিন্তা করতে পারে না। যখন অভিভাবকরা শিশুদের থেকে বয়স্কদের মতো আচরণ পেতে চান, তখন অভিভাবক ও শিশু উভয়েরই জন্য তা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের ও বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে, এ বাস্তবতা সামনে রেখে সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিনোদন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে—
►নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)
►জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০
►জাতীয় শিশু নীতি ২০১১
►শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১২
►প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩
►শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা চূড়ান্তকরণ (২০১৩)
►শিশু আইন ২০১৩
►গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫
►শ্রেণী কক্ষে শারীরিক শাস্তি (করপোরাল পানিশম্যান্ট) বিষয়ক হাইকোর্ট এর নির্দেশনা
►পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০
►বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭
►জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা শিশুর সার্বিক উন্নয়ন এবং এসডিজি অর্জনে সহায়ক হবে।
এছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবা ও ভাতা প্রদান, পথশিশুদের পুনর্বাসনসহ তাদের জীবনমান উন্নত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিশুর শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে উপবৃত্তি, বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে পাঠ্য বিতরণ, স্কুলে মিড ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শিশুর জন্য নিরাপদ পানি, বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে ৪২ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকার হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন ও তাদের স্কুলমুখী করাসহ চা বাগান ও গার্মেন্টস কর্মীদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেণ্টার স্থাপন করে চলেছে। ডে কেয়ার সেন্টারে শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের নারীরা সন্তানকে নিরাপদে রেখে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারছেন।
সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টার পরেও কি আমার শিশুরা নিরাপদ, হয়ত হ্যাঁ কিংবা না! একাবিংশ শতাব্দীতেও আমাদের কিশোরী ও তরুণীরা ক্রমবর্ধমান হারে অনলাইনে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পুলিশ প্রতিদিন অনলাইনে গড়ে ১০ থেকে ১২টি যৌন হয়রানির অভিযোগ পায় বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর ৯০ শতাংশ ভুক্তভোগী কিশোর-কিশোরী এবং এর চেয়ে কম বয়সি। খুব স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যায়, বাস্তবে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা আরো অনেক বেশি। বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ঘটনা ভুক্তভোগীরা আড়ালে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধগুলোকে শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রচলিত আইনগুলো যুগোপযোগী করা হয়নি এবং বর্তমান সাক্ষ্য আইনটি এত বেশি পুরোনো যে তাতে ইলেকট্রনিক সাক্ষ্যের কোনো উল্লেখই নেই।
সুপারিশসমূহ—
১. সকল শিশুর বিনামূল্যে জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা।
২. শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা এবং শিশু নির্যাতন বন্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৩. অবিলম্বে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা অন্তত ১৩ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা।
৪. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তক থেকে উগ্রবাদী ধর্মীয় উপাদান সরিয়ে ফেলা এবং বই ছাপানোর কাজটি ভুলত্রুটিহীনভাবে করা।
৫. অনতিবিলম্বে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিশেষ পরিস্থিতি সংক্রান্ত অনুচ্ছেদটি ব্যাখ্যাসংবলিত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা, যাতে এই বিশেষ বিধানটি কেউ অপব্যবহার করতে না পারে। আইনের অপব্যবহারকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা করা এবং বৈধ বয়সের চেয়ে কম বয়সীদের বিয়ে ঠেকানোর জন্য মনিটরিং সেল স্থাপন করা।
৬. অপুষ্টির শিকার শিশুর সংখ্যা দ্রুত হ্রাসের লক্ষ্যে আরো সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সকল ধরনের শিশুশ্রম বিলোপের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রাখা।
৭. ‘সবার জন্য খেলাধুলা’ নিশ্চিত করার জন্য ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে অর্থ বরাদ্দ করা।
প্রধানমন্ত্রীর শিশুদের ভাবনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর মতো প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের প্রতি অত্যন্ত উদার ও শিশুবান্ধব। শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমি বিনির্মাণে তিনি প্রাণপন চেষ্ট করে যাচ্ছেন। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস খরস্রোতা পায়রা নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তার চিঠির জবাব দিয়েছেন এবং ব্রীজ নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগস্ট ঢাকা সিএমএইচে ৩৩ ঘণ্টা ধরে একটি বিরল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশু রাবেয়া ও রোকেয়ার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। নিজ ঘরে ফিরে যাবার প্রাক্কালে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুজিব শতবর্ষে রাবেয়া ও রোকেয়া ঘরে ফিরছে, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। শিশুদের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও প্রেরণার মূর্ত প্রতীক হয়েছেন তিনি।
শিশু রাসেল-কে হত্যার মাধ্যমে ঘাতকেরা মানব সভ্যতার ইতিহাসে জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করেছে। এ জাতীয় হত্যাকাণ্ড মার্সি কিলিং জীবনকেই কেড়ে নেয়নি, ধ্বংস করেছে অমিত সম্ভাবনাকেও। শিশু রাসেল শিশু অধিকার আদায়ের প্রতীক। যে মুহুর্তে গণমাধ্যমগুলোতে শিশু নির্যাতন কিংবা হত্যার মতো বর্বরতম ঘটনা প্রকাশিত হয়, ভেসে আসে শেখ রাসেল-এর প্রতিচ্ছবি। আমরা চাই শিশু অধিকার, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার পাশাাপাশি শিশু নির্যাতন বন্ধের কার্যকারী পদক্ষেপ। শিশু অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে সবার মাঝে বেঁচে থাকুক শেখ রাসেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিশুদের সুরক্ষা দেয়া যে রাষ্ট্রের কর্তব্য সেটা প্রতিষ্ঠিত করার পথে দেশ অগ্রসর হচ্ছে।
শিশুরা যদি নিন্দা ও তিরষ্কারে বড়ো হয়, তারা নিন্দা ও বিচার শেখে
শিশুরা যদি শত্রুতার মধ্যে বড়ো হয়, তারা ক্রোধ ও যুদ্ধ শেখে
শিশুরা যদি ঠাট্টার মধ্যে বড়ো হয়, তারা লজ্জিত ও প্রত্যাহারিত হতে শেখে
শিশুরা যদি লজ্জার মধ্যে বড়ো হয়, তারা নিজেদের দোষী ভাবতে শেখে
শিশুরা যদি সহ্য করার মাধ্যমে বড়ো হয়, তারা শান্ত হতে শেখে
শিশুরা যদি উৎসাহ-উদ্দীপনায় বড়ো হয়, তারা আত্মবিশ্বাসী হতে শেখে
শিশুরা যদি প্রার্থনায় বড়ো হয়, তারা উদ্বুদ্ধ হতে শেখে
শিশুরা যদি কোমলতায় বড়ো হয়, তারা সঠিক বিচার শেখে
শিশুরা যদি নিরাপদে বড়ো হয়, তারা বিশ্বাস করতে শেখে
শিশুরা যদি চিহ্নিত হয়, তারা নিজেদেরকে পছন্দ করতে শেখে
শিশুরা যদি গ্রহণ ও বন্ধুত্বে বড়ো হয়, তারা পৃথিবীকে খুঁজে পেতে শেখে।
মিথুশিলাক মুরমু : গবেষক ও লেখক।




Users Today : 25
Views Today : 31
Total views : 177916
