যীশু খ্রীষ্টের পুনরুত্থান (তাঁর ক্রুশের মৃত্যুসহ) খ্রীষ্টান বিশ্বাসের কেন্দ্রীয় ঐশীক ঘটনা। যীশুর পুনরুত্থান ছাড়া খ্রীষ্ট বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। সাধু পৌল লিখেছেন, “আর খ্রীষ্ট যদি উত্থাপিত না হয়ে থাকেন, তাহলে তো আমাদের প্রচার বৃথা, তোমাদের বিশ্বাসও বৃথা” (১ করিন্থীয় ১৫ : ১৪)।
খ্রীষ্ট বিশ্বাসী হিসেবে আমি নিশ্চিৎ যে ৩০ খ্রীষ্টাব্দের এক শুক্রবারে রোমীয়দের মর্মান্তিক অত্যাচারে ক্রুশের ওপর যীশুর মৃত্যুর পর তিনি আবার রবিবার অতি প্রত্যুষে মৃত্যুকে জয় করে কবর থেকে উত্থাপিত হয়েছেন। এটি বিশ্বাস করা সহজ নয়, তবে এটি যদি সত্যি হয় তবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। যীশুর পুনরুত্থানের প্রতিরক্ষার জন্য অনেক কিছুই রচিত হয়েছে কিন্তু নতুন নিয়মে যেভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও দৃঢ়তার সাথে তা প্রকাশ করা হয়েছে যা শুরুতেই ভাববাদীগণ তাঁর বিষয়ে ভাববাণী করেগেছেন সেটাই গ্রহণীয়।
সন্দেহাতীত বিষয় হলো যীশুর অনুগমীদের প্রথম প্রজন্ম বিশ্বাস করেছিল যে তিনি বেঁচে এসেছেন, এবং তারা বিশ্বাস করেছিল যে ফলাফলস্বরূপ সব বদল হয়েছে।
নতুন নিয়মে তাঁর পুনরুত্থানের তিনটে বিশেষ কারণকে দৃষ্টিগোচর করা হলো—
১. যীশুর পুনরুত্থানের অর্থ হলো তাঁর ক্রুশের মৃত্যু আমাদের পাপ থেকে ক্ষমা করার জন্য যথেষ্ঠ ছিল
সাধু পৌল বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ও আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ১করিন্থীয় ১৫৩-৪ পদে যে, খ্রীষ্ট শাস্ত্রানুসারে আমাদের পাপের জন্য মারা গিয়েছিলেন, তাঁকে সমাধীস্থ করা হয়েছিল, শাস্ত্রানুসারে আবার তৃতীয় দিনে তিনি পুনরুত্থিত হয়েছিলেন। তারপরে আমরা দেখতে পাই যে তিনি যুক্তি দেখান যে, “যদি খ্রীষ্ট পুনরুত্থিত না হন তবে আপনার বিশ্বাস নিরর্থক এবং এখনও আপনি আপনার পাপের মধ্যে রয়েছেন।” অন্য কথায়, পৌল আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য যীশুর পুনরুত্থান ও তাঁর মৃত্যুর পর্যাপ্ততার মধ্যে সরাসরি সংযোগ দেখিয়েছেন। যীশু খ্রীষ্ট যখন মৃত্যু থেকে পুনরায় তৃতীয় দিবসে উত্থাপিত হন তখন প্রকাশ্যে ঘোষণা হয় যে, ঈশ্বর তাঁর প্রিয় পুত্রের বলিদানী মৃত্যুতে পুরাপুরি সন্তুষ্ট। যীশুর পুনরুত্থানের সময় প্রমাণিত হয়েছিল (১ তিমথীয় ৩ : ১৬), তাঁর এই পুনরুত্থানে আমরাও সাক্ষ্য প্রদান করছি। এই জন্য সাধু পৌল তিনি প্রকাশ করছেন যে, সেই যীশু আমাদের অপরাধের নিমিত্ত সমর্পিত হইলেন, আমাদের ধার্মিক গণনার নিমিত্ত উত্থাপিত হইলেন (রোমীয় ৪ : ২৫)। যীশুর পুনরুত্থান আমাদের ঈশ্বরের সামনে ধার্মীক গণিত করে।
২. যীশুর পুনরুত্থানের অর্থ হলো মৃত্যুকে একেবারে আর সর্বদা পরাজিত করা
পঞ্চসপ্তমীর দিনে যেমন সাধু পিতর প্রচার করেছিলেন, ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্যে থেকে পুনরুত্থিত করেছিলেন, তাঁকে মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করেছিলেন, কারণ মৃত্যুর পক্ষে তাঁকে ধরে রাখা অসম্ভব ছিল (প্রেরিত ২ : ২৪)। মৃত্যু যীশুর কাছে ধরা দিল। কিন্তু যীশু কেবল তাঁর নিজের জন্যই মৃত্যুকে পরাস্ত করেছেন এমন না তিনি আমাদের জন্যও মৃত্যুকে চিরতরে পরাস্ত করেছেন। তিনি মারা যান এবং দ্বিতীয় আদম হিসাবে মানজাতির জন্য একজন নতুন প্রতিনিধি হয়ে উত্থাপিত হন। এই জন্য সাধু পৌল তিনি লিখেছেন, কিন্তু খ্রীষ্ট উত্থাপিত হয়েছেন, তিনি নিদ্রাগতদের অগ্রিমংশ। কেননা মনুষ্য দ্বারা যখন মৃত্যু আসিয়াছে, তখন আবার মনুষ্য দ্বারাই মৃতগণের পুনরুত্থান আসিয়াছে। কারণ আদমে যেমন সকলে মরে, তেমনি আবার খ্রীষ্টেই সকলে জীবনপ্রাপ্ত হইবে (১ করিন্থীয় ১৫ : ২০-২২)। তাঁর পুনরুত্থান আমাদের নিশ্চয়তা দেয়। খালি কবর আমাদের এই নিশ্চয়তা দেয় যে, অসুস্থতা, যন্ত্রণা, মৃত্যুই শেষ কথা না। সমস্ত কিছকে তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের দ্বারা জয়লাভ করা হয়েছে।
৩. যীশুর পুনরুত্থানের অর্থ বস্তুগত জাগতিক বিষয়ও প্রকাশ করে
যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেজন্য প্রেরিতরা যখন বলেছিলেন যে যীশু আবার জীবিত হয়েছেন, তাঁরা বোঝাতে চেয়েছিল তাঁর দৈহিক দেহ আবার জীবিত হয়েছে। উত্থিত যীশু কোন অপদেবতা বা ভূত নন, প্রাতরাশ খাওয়া হাড়-মাংস যুক্ত মানুষ। ( লূক ২৪ : ৩৬-৪৩, যোহন ২১ : ১০-১৪)।
যীশু যখন কবর থেকে শারীরিকভাবে উঠে এসেছিলেন, তখন সৃষ্টির প্রকল্পে সমস্ত বস্তুগততার সাথে ঈশ্বরের চূড়ান্ত অনুমোদনের স্টাম্প ছিল। পুনরুত্থান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি দেখায়। আর এই কারনেই প্রথম মণ্ডলীর খ্রীষ্টানেরা আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েছিল যে তৈরি করা আদেশ আপনাআপনি খালাস হয়ে যাবে (রোমীয় ৮ : ১৮-২৫)। যদিও আমরা নতুন সৃষ্টির সম্পূর্ণ সমাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছি, তবুও শাস্ত্র আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে যীশুকে মৃতদের মধ্যে থেকে পুনরুত্থিত করার শক্তি ইতিমধ্যে আমাদের মধ্যে কাজ করছে (ইফিসীয় ১ : ১৯-২০)।
আমরা দেখতে পারি যে, পুনরুত্থান কেবল ঈশ্বরের ক্ষমার আশ্বাসই দেয় না বরং আমাদেরকে মৃত্যু, রোগ, এবং ক্ষয়ের চূড়ান্ত বিপর্যয়ের প্রত্যাশা হিসাবে আমাদেরকে সান্ত্বনা দেয়।
তাই তাঁর পুনরুত্থানের শক্তিকে বিশ্বাস করে আমাদের জীবনে ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করি। মৃত্যুঞ্জয়ী যীশুকে বিশ্বাস করে আমরাও বিজয়ী জীবনযাপন করি।





Users Today : 22
Views Today : 24
Total views : 177666
