
আমাদের শিশুরা ফিরিয়ে আনে দস্যি শৈশব
এ এক ভিন্ন সন্ধ্যার শোকলিপি
থমথমে আর্ত চিৎকারের মাঝে—মুখে আগুন
জ্বলতে জ্বলতে সবটা পোড়ে থরে থরে
থাকে না আর কোনো অবশিষ্ট;
তবু সেইসব মুখগুলো অজানা কৌশলে
রোজ রোজ হানা দেয় কোনো না কোনো চোখে
জীবন্ত পৃথিবীতে—ঘুমে, অর্ধঘুমে—স্বপ্নে, দুঃস্বপ্নে;
আজ আমরাই-বা কার কতটা নিকটের…
মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে দেখি—পায়ের গোড়ালিতে
লেগে আছে শুকনো কাদা
অথচ সেই নদী, শীত ভোরে শিশির ভেজা কলাই ক্ষেতে
হাঁটতে হাঁটতে ভিজে ওঠা পা
সেই মেঠোপথ আজ প্রায় বিলুপ্ত গল্পকথা
আমাদের অবুঝ শিশুরা হাসতে হাসতে, কাঁদতে কাঁদতে
রোজ ফিরিয়ে আনে আমাদের দস্যি শৈশব
আমাদের শিশুরাই আজ নদী,
শীত ভোরের শিশির আর বর্ষার গান…
এখনও যদি থাকে
সন্ধ্যার অন্ধকার নামতে নামেতে
ঘরে ঘরে জ্বলে ওঠে সাদা বাতি
অগণিত শ্যামা পোকা
ছুটে আসে আলোর মোহে
অগণিত পতঙ্গের যেন একমাত্র গন্তব্য
কিংবা আত্মহত্যার মিছিল…
আমরাও বাজারে চাল-ডাল-তেলের আক্রায়
ক্লান্ত, ধ্বস্ত, অসহায় কিংবা বিধ্বস্ত হয়ে
ঘরে ফিরে সারাদিন খিটিরমিটির খোলসে বন্দী,
রাতের পর রাত অতল ঘুমে খুঁজি কোনো গন্তব্য…
উজানের ঢলে হু হু প্লাবন
ডুবছে ঘর, ডুবছে চরাচর
ছোট্টো এক কাগজের নৌকায় ভেসে চলা
থই থই জলে, কোথাও যদি থাকে
জেগে থাকা মাটি, ভিড়বার ঘাট…





Users Today : 128
Views Today : 165
Total views : 182013
