নাজিম উদদীন, বিশেষ প্রতিবেদক
কয়েকদিন আগেই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে হয়ে গেল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশের ৯টি উপকূলীয় জেলার ২৭টি উপজেলা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানি যখন বাড়তে শুরু করেছে, তখন সেখানকার নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শতশত মানুষ লড়াই করছেন বাঁধ বাঁচানোর জন্য। মানুষ জীবন-জীবিকা-বাসস্থান বাঁচানোর জন্য মাথায় করে মাটির বস্তা, বালির বস্তা নিয়ে বাঁধের ওপর ফেলছেন বাঁধ রক্ষা করতে। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনছেন বাঁধের জন্য। বাঁশের খুঁটি, গাছের ডাল বসিয়ে দিচ্ছেন বাঁধের পাশে যাতে বাঁধ ভেসে না যায়। ঘরে খাবার নেই, মাথার ওপরে খোলা আকাশ, পায়ের নিচে হাঁটু সমান লোনা পানি-এ এক করুণ চিত্র। অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মানুষদের গৃহপালিত পশু নিয়ে একই ঘরে পরিবারসহ বসবাস করতে দেখা গেছে। এ হলো বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
উপকূল এলাকার মানুষ যখন বাঁধ রক্ষার জন্য প্রাণপণ লড়াই করছিলেন, সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় বাঁধ তথা বেড়িবাঁধ অধিকাংশ স্থানেই দুর্বল অথবা জরাজীর্ণ-এ তথ্য দেশের অনেক অঞ্চলের পুরোনো বাঁধের ক্ষেত্রেও। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি সহজেই চলে গেছে লোকালয়ে, প্লাবিত করেছে জনবসতি, ফসলের মাঠ। অনেক জায়গায় দেখা গেছে বাঁধ ভাঙা নয় ঠিকই, কিন্তু জোয়ারের পানি বাঁধের ওপর দিয়ে চলে গেছে জনপদে। বাঁধের উচ্চতা কমে গেছে মাটি ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে এমনটি হয়েছে। বাঁধ মেরামত হয়নি দীর্ঘকাল। তদুপরি জোয়ারের পানির প্রবল চাপে বাঁধের অনেক স্থান নতুন করে ভেঙেছে।
উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামত করা হোক। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়েছে, সে কারণে বাঁধ মজবুত করার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের উচ্চতাও বাড়াতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যাতে জোয়ার যত বেশিই হোক, বাঁধ উপচিয়ে যেন পানি আসতে না পারে। কিন্তু উপকূলবাসীর আবেদন, নিবেদন, দাবির প্রেক্ষিতে সরকার কতটা উদ্যোগী? বাঁধের বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ভুক্তভোগী জনগণ, সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন।
ষাটের দশকের বাঁধ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের মোট ১৬ হাজার ২৬১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আছে। এর মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলের সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর, নাজুক।
বাংলাদেশের উপকূলে বেড়িবাঁধ তৈরির কাজ শুরু হয় ষাটের দশকে। সাতক্ষীরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত উপকূলঘেঁষে নির্মিত এ বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার। ষাট বছর আগের এ বাঁধের অবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এখন জরাজীর্ণ, বিশেষ করে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে।
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম নভেম্বর এবং এপ্রিল-মে মাসে। এ সময় প্রতিবছর ছোটোখাটো বা কম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয় উপকূলীয় এলাকায়। এ জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য তৈরি করা হয় বেড়িবাঁধ।
ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে আসা জলোচ্ছ্বাস, তা দুর্বল বা শক্তিশালী যাই হোক না কেন, প্রথমেই আঘাত করে বেড়িবাঁধকে। বেড়িবাঁধ নতুন অবস্থায় মজবুত ছিল, তাই জোয়ারের ধাক্কা সামলাতে পেরেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে, পানির ধাক্কায় অনেক জায়গা ভেঙে যায় বা ক্ষয়ে যায়। লোনা পানি গ্রাম, লোকালয়, জনপদ প্লাবিত করে, ফসলের ক্ষতি করে। পুরোনো ভাঙাচোরা বাঁধ যে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে অক্ষম তা আবারও সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে প্রমাণিত হলো।
কেবলই প্রতিশ্রুতি
এলাকায় এলে বা ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার প্রতিশ্রুতি দেন-বাঁধ হবে, খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে, আশ্রয়ের ব্যবস্থা হবে; কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পায় না উপকূলীয় মানুষ।
অথচ জনপদের মানুষদের বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ করা ছিল সময়েল যৌক্তিক কাজ। বাঁধের নদীর সাইডে পর্যাপ্ত জায়গা রেখে সেখানে বৃক্ষরোপণ করতে হতো। যেসব স্থানে বারবার বাঁধ ভাঙছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে সেখানে ব্লকের মাধ্যমে কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করতে হতো।
বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জমি না থাকলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি তহবিল গঠন, বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করা এবং বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তাহলেই উপকূলীয় জনপদের মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে পারবে।
প্রতিবছরের অর্থনীতিতে ক্ষতি
দেশের অন্তত ৩৫ শতাংশ মানুষের বাস সমুদ্র উপকূল অঞ্চলে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হিসেবে উপকূল অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বর্ণনাতীত। প্রতিবছর লোনা পানির কারণে ফসলের ক্ষতি হয়। ফসল ছাড়াও হাজার হাজার চিংড়ির ঘের, মাছের ঘের, মাছ চাষের পুকুর ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলবাসীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ছাড়াও মৎস্যসম্পদের যে বিরাট ক্ষতি সেটি জাতীয় অর্থনীতিরও ক্ষতি। কেননা উপকূল এলাকার মানুষ কৃষিজীবী অথবা মৎস্যজীবী। এ পেশার মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন এবং দেশের মানুষের অন্নের সংস্থান করেন। প্রতিবছর তাদের কেউ না কেউ হারাচ্ছে ঘর, হারাচ্ছে ফসলের জমি, হারাচ্ছে জীবন ও জীবিকা। সমুদ্রের লবণাক্ততায় তলিয়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন। এভাবেই সমুদ্র উপকূল অঞ্চলের অন্তত দুই কোটি মানুষের জীবন আজ গভীরভাবে সংকটাপন্ন ও বিপন্নপ্রায়।
ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় টেকসই বাঁধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার
ডা. এনামুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।

দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মাটির বাঁধ সরু হতে হতে জমির আইলের মতো হয়ে গেছে। এসব বাঁধে জোড়াতালি দিয়ে বড়ো দুর্যোগে খুব একটা সুরক্ষা দেয়া সম্ভব না। ঘূর্ণিঝড়ে অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙেছে, পুনর্নির্মাণের কাজও চলছে। বাঁধগুলো অনেক পুরোনো। এ জন্য ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় টেকসই বাঁধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সেটার জন্য বাজেট বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে সব উপকূলীয় অঞ্চল টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
আমাদের লক্ষ্য সব জায়গায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ
এনামুল হক শামীম, উপমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে এরিমধ্যে বাঁধ মেরামত ও স্থায়ীভাবে পুনর্নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ার কারণে লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হচ্ছে। সে লক্ষ্যে সরকার স্থায়ী সমাধানের দিকেই যাচ্ছে। এরিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প পাস হয়েছে। যেসব বাধে ঝুঁকি বেশি সেগুলোর কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রকল্পগুলো চলছে, কোথাও কাজ শুরু হয়েছে, কোথাও চলছে, কোথাও হবে। সবগুলো তো আর একসাথে বাস্তবায়ন করা যাবে না। এগুলোয় সময় লাগে। যেসব এলাকার বাঁধ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আমরা পর্যায়ক্রমে সেই বাঁধগুলো উঁচু করছি, প্রশস্ত করছি। আমাদের লক্ষ্য সব জায়গায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ। তার আগ পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলবে।
জার্মানভিত্তিক গবেষণা সংস্থা জার্মানওয়াচের বৈশ্বিক জয়বায়ু ঝুঁকি সূচক ২০১৯-এ বাংলাদেশকে সপ্তম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা জানি, বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ ভূমির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ মিটার। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আগামী ৬০ বছরে আরও প্রায় ১ দশমিক ৫ ফুট বৃদ্ধি পাবে, যা আমাদের উপকূলীয় অঞ্চল, তথা সমগ্র বাংলাদেশকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে।
পরিসংখ্যান বলছে, বিগত ৩০ বছরে বাংলাদেশে ২৩৪টি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত দুই লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই সময়ে পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর ৫ শতাংশ লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ক্রমাগত দেশের মধ্যাঞ্চলের দিকে প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ২৪০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে লবণাক্ততা।
উপকূলবাসী এখন আর ত্রাণ চায় না, চায় পরিত্রাণ, চায় স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ। বাঁধগুলো স্থায়ীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করুক। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
আমাদের এলাকায় বাঁধের দৃশ্যত কোনো কাজ হতে দেখিনি
ভবতোষ কুমার মণ্ডল
ইউপি চেয়ারম্যান, বুড়িগোয়ালিনী, সাতক্ষীরা।
সরকার প্রতিবছর বাঁধ নির্মাণ বাবদ কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে আসছে বলে খবর প্রকাশ হতে দেখেছি। আমি বা স্থানীয়দের কেউ আমাদের এলাকায় বাঁধের দৃশ্যত কোনো কাজ হতে দেখিনি। টেকসই বেড়িবাঁধের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আমার এলাকার ২৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ২৫ কিলোমিটার উপচে পানি প্রবেশ করেছে। ১৫টি স্পট ভেঙে গেছে। গ্রামের মানুষ মিলে মাটি দিয়েও আমরা বাঁধ রক্ষা করতে পারিনি। বরাদ্দের কথা তো অনেক শুনি, কাজ তো দেখি না। উল্টো মানুষ এসে চেয়ারম্যানকে ধরে। অথচ কোথায় কী টেন্ডার হয়, কত বরাদ্দ আমরা কিছুই জানি না। যদি এই এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হয়, তাহলে আগামী যে প্রজন্ম আসবে, তারা টিকতে পারবে বলে মনে হয় না।
পদে পদে দুনীতির অভিযোগ
বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন জনগণের মনে রয়েছে। সঠিকভাবে ব্যয় হলে বাঁধের এত করুণ অবস্থা হবে কেন? বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়ে স্থানীয় জনগণের অভিযোগের শেষ নেই। কখনো কখনো ঠিকাদার বদল হতে হতে সেই কাজ তারা করতে দেখেছেন লেবার ঠিকাদারদের। যাদের কাজে কোনো গুণগত মান থাকে না। নদীভাঙন ঠেকাতে দরপত্রে উন্নতমানের ব্লক ও জিও ব্যাগ তৈরির শর্ত দেয়া হলেও মান রক্ষা করা হয় না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা শর্ত ভঙ্গ করে খুবই নিম্নমানের ব্লক তৈরি করে।
অনেক সময় মানুষের মাটি চাপা দেয়া ভঙ্গুর কাঠামোর ওপর রাস্তা বানিয়ে কাজ দেখানো হয়। যা শেষ পর্যন্ত পানি ঠেকাতে কোনো কাজে আসে না। সামান্য জলচ্ছ্বাসেই ডুবে যায়।
সার্বিকভাবে কাজের অগ্রগতি ও গুণগতমান অত্যন্ত হতাশাজনক। যদিও সরকার বারাবার বলছে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পেলেই তারা দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেয়ার কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কোনোপরিবর্তন চোখে পড়ে না। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে যারা, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
খসরা প্রাক্কলন থেকে জানা যায়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ নির্মাণের জন্য ৫০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। এ অর্থ যদি আগামী পাঁচ বছর একটি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় করা হয়, তাহলে হয়ত ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক বরাদ্দ দিয়ে সেটা করা সম্ভব হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হওয়ার আগে বেড়িবাঁধগুলো বিনির্মাণ করা হোক। কেননা জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বিরাট। উপকূলবাসীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তাদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে হবে। ডেল্টা মহাপরিকল্পনার অধীনে টেকসই বাঁধ নির্মাণ হতে আরও এক দশক লাগবে। ততদিন উপকূলবাসীকে জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে মজবুত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। মনে রাখা দরকার, ঘূর্ণিঝড় আরও আসবে, আসতেই থাকবে।





Users Today : 7
Views Today : 9
Total views : 175513
