খুলনা বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জন মারা গেছেন। একই সময় বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২০২ জনের। এর মধ্য দিয়ে শনাক্তের সংখ্যা ৫২ হাজার ছাড়াল। গতকাল শনিবার ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আর আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৮৪৮ জনের। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে আর আক্রান্ত শনাক্তও এক দিনের বিরতিতে আবারও হাজার ছাড়িয়েছে।
আজ রোববার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেলেন ৯৮১ জন। বিভাগে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর মোট শনাক্তের সংখ্যা ৫২ হাজার ১৬৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৯০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ৩৬ হাজার ৬১৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি পাঁচজন করে মারা গেছেন খুলনা ও বাগেরহাটে। এরপর কুষ্টিয়া, নড়াইল ও যশোরে মারা গেছেন চারজন করে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরে দুজন করে মারা গেছেন।
বিভাগে করোনায় মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা জেলায় ২৪০, কুষ্টিয়ায় ১৮৯, যশোরে ১৩৩, চুয়াডাঙ্গায় ৮৪, ঝিনাইদহে ৮৩, বাগেরহাটে ৭৯, সাতক্ষীরায় ৬৬, মেহেরপুরে ৪২, নড়াইলে ৪০ ও মাগুরায় ২৫ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ২৭ দিনে ১৭ হাজার ৮৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে মারা গেছেন ৩৩৬ জন। এর আগের ২৭ দিনে (৫-৩১ মে) শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ৭৭১ জন। ওই সময়ে মারা যান ৬৩ জন। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর ৩৪ শতাংশের বেশি এবং সমপরিমাণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই সময়ে।
বিভাগে শনাক্ত রোগী থেকে সুস্থ হওয়া ও মৃত রোগী বাদ দিলে এখন চিকিৎসাধীন (বাসায় ও হাসপাতালে) অর্থাৎ সক্রিয় রোগী আছেন ১৪ হাজার ৫৭১ জন। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৭২ জন।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় মোট ২ হাজার ৯০৩ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর আগের দিন শনাক্তের হার ছিল ৪১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাগেরহাটে ১৭৭, চুয়াডাঙ্গায় ১০৬, যশোরে ১৩৫, ঝিনাইদহে ৯০, খুলনায় ২৯৯, কুষ্টিয়ায় ১৯৫, মাগুরায় ৪৩, মেহেরপুরে ৪৫, নড়াইলে ৫৮ ও সাতক্ষীরায় ৫৪ জন।
শনাক্ত বিবেচনায় জেলাগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে খুলনা। খুলনায় এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৩২ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটে ৩ হাজার ৫৯, চুয়াডাঙ্গায় ৩ হাজার ৮৩, যশোরে ১১ হাজার ৩২৫, ঝিনাইদহে ৩ হাজার ৯৯৪, কুষ্টিয়ায় ৭ হাজার ১৮৪, মাগুরায় ১ হাজার ৪৮৭, মেহেরপুরে ১ হাজার ৬০১, নড়াইলে ২ হাজার ৫২৮ ও সাতক্ষীরায় ৩ হাজার ২৭৪ জন শনাক্ত হয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) ফেরদৌসী আক্তার বলেন, নমুনা পরীক্ষা বাড়লেই শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। শনাক্তের হার সপ্তাহখানেকের ওপরে ৪০ শতাংশের বেশি। সুস্থ হওয়ার চেয়ে শনাক্ত বেশি হওয়ায় সক্রিয় রোগী বাড়ছে। এর আগে এত বেশি রোগী কখনোই হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নেননি। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে না মানলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে না।





Users Today : 13
Views Today : 15
Total views : 175519
