
সুখের গানগুলো
ভোরের আলো ফুটছে
আমার ঘুম আসছে না
রাত গুটিয়ে নিয়েছে তার ডানা
আর আমাকে ছুঁড়ে ফেলেছে
এখানে, হাড়গোড় খুলিতে ভরা
এই দাবদাহের কিনারে
এখানেই থাকতে হবে
আর হাড়গোড়গুলো থেকে
গলায় তুলে নিতে হবে
মৃতদের হারিয়ে যাওয়া সুখের গানগুলো

তবু মহাকালের পরও
সে এক বিভ্রম সময়, কিংবা সময়ের চেয়েও দীর্ঘ?
কোনো গহীন অরণ্যে পথ হারিয়ে দূরতম
অতীতের দিকে হেঁটে যাওয়া, এলোপাথাড়ি!
মেঘে ঢাকা কোনো অমাবস্যা সন্ধ্যায়
দিকভ্রান্ত ছুটতে ছুটতে আবার থমকে যাওয়া
ঘরে ফেরা পাখিদের শান্ত ডাকে
ঝিঁঝিদের বিমূর্ত স্বর আর সবুজের বুনোঘ্রাণে…
হয়ত এই পৃথিবীর রক্তপাত অনতিক্রম্য
তবু মহাকালের পরও
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কুহক মুগ্ধতা জাগাবে
সুন্দরের রক্তভেজা ক্ষত, সজল মায়া
সেই প্রথম দিনের মতো; গোপনে, অগোপনে…

দ্বৈরথ
তোমার আগুন ফুল ও ফণা হয়ে দুলে ওঠে—ব্যাখ্যার অতীত এই সুবাস আর ছোবলের দ্বৈরথে দাঁড়িয়ে ভাবি, উপলব্ধির এক অদৃশ্য ক্যানোলা দিয়ে কী নিপুণা, ঢুকিয়ে দিচ্ছ প্রেম—বইয়ে দিচ্ছ অপাপবিদ্ধ যৌনতার ধারা—প্রতিটি মুহূর্তে আমার কেবলই তোমাকে ইচ্ছে করে—অনিবার্য ইচ্ছে প্রবাহিত হতে থাকে কল্লোলিত ধমনীর ভেতর—আর দেখো, প্রতিদিন মস্তিষ্কের গহ্বরে জমা হচ্ছে বিষণ্ন ঝিঁঝি ডেকে ওঠা দিন—কে জানে, তার অনুবাদ-অযোগ্য সুর আমাকে কোন অজ্ঞাতলোকে নিয়ে যেতে চায়—সেই অজ্ঞতার ফাঁকে ঢুকে পড়ি মোহের বাগানে—এক মৃণ্ময় পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে পান করি মধু—গলা দিয়ে নেমে যায় বিষ—ভাবি, দ্বৈত সত্তা তবে তোমারই আরেক নাম…
বলো, কোন অনির্ণিত অধ্যবসায়ে আয়ত্ত করেছ এই বিদ্যা—অবিসংবাদিত কলা—কেবল তুমিই জানো, কখন ফুল হতে হয়, কখন ফণা

সায় ও প্রশ্রয়
পরিত্যক্ত ঘোষণার আগে সেই সন্ধ্যাকে পোস্টমর্টেম করো—যাবতীয় উত্তেজনা ও উন্মাদনা নিরীক্ষা করো আরো একবার নিবিড়ভাবে। মায়া আচ্ছাদিত কোনো ল্যাবে। পুনরায় দেখো—হাতের তালু, আঙুলের ভাঁজ, নখ, ছড়ানো কেশঘ্রাণ, ঠোঁট, ঠোঁটের রং—
বাতাস
বৃষ্টি
বৃক্ষ
মাটি
ঘাস
বাগান
উড়ন্ত পাখির পালক
প্রজাপতির চারুকলাময় ডানা
আকাশের নমুনাও সংগ্রহ করো। দেখো, তোমার সায় ও প্রশ্রয়
পুরোটা পাগলামোতে মিশে আছে-দুধ-ননীর মতো।





Users Today : 56
Views Today : 57
Total views : 177460
