শরতের আকাশে এখন ছেঁড়া মেঘের ভেলা। ইতিউতি কোথাও দেখা মেলে কাশ ফুলের। ভোরবেলা শিউলির ফুলের গন্ধ। বছর ঘুরে আবার আসছে দুর্গা পূজা। দুর্গোৎসব মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দেবী দুর্গা ‘দুর্গতিনাশিনী’ সকল দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিনী। তিনি শক্তির রূপ, তিনি পরব্রহ্ম। দুর্গোৎসবে ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ভুলে মন্ডপে মন্ডপে হবে আনন্দময়ীর আগমনী স্তুতি।
দুর্গোৎসব ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, আধ্যাত্মিকতার অনুভ‚তি, সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য, বাণিজ্য, বিদ্যাচর্চা, সামাজিক প্রীতির বন্ধন, হাজার বছরের বাঙালির সমন্বয় ও শান্তির ঐতিহ্যরেই প্রকাশ।
পৌরাণিক ভাষ্য
দুর্গা পূজা কবে, কখন, কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল তার প্রামাণ্য ইতিহাস জানা যায় না। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মধ্যে মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন ছিল। সিন্ধু সভ্যতায় (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা) দেবীমাতা, ত্রিমস্তক দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আছে, সৃষ্টির আদিতে গোলকস্থ আদি বৃন্দাবনক্ষেত্রের মহারাসমন্ডলে কৃষ্ণ সর্বপ্রথম দুর্গাপূজা করেন। দ্বিতীয়বার দুর্গার আরাধনা করেন ব্রহ্মা। মধু ও কৈটভ দ্বৈত্যদ্বয়ের নিধনে তিনি শরণাপন্ন হন দেবীর। ত্রিপুরাসুরের সঙ্গে যুদ্ধকালে সংকটাপন্ন মহাদেব তৃতীয়বার দুর্গাপূজা করেছিলেন। এরপর দুর্বাসা মুনির শাপে শ্রীভ্রষ্ট হয়ে দেবরাজ ইন্দ্র যে দুর্গাপূজা করেন। এটা চতুর্থ দুর্গোৎসব। দেবী ভাগবত অনুসারে ব্রহ্মা ও ইন্দ্রের ন্যায় ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু পৃথিবীর শাসনভার পেয়ে ক্ষীরোদসাগরের তীরে মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। জাগতিক মায়ার বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে ঋষি মাÐব্য, হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারে সুরথ রাজা ও বৈরাগ্য লাভের জন্য সামাধি বৈশ্য, কার্তাবির্জাজুন বধের জন্য বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম দুর্গার আরাধনা করেন।
কৃত্তিবাসের রামায়ণ, মহাভারত, বৃহদ্ধর্মপুরাণসহ আরো বেশ কয়েকটি পুরাণে দেবী দুর্গার পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়।
বাংলায় দুর্গোৎসব
বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রবর্তন কে কবে করেছিলেন, সে সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্যের মতভেদ রয়েছে। বাংলায় যে দুর্গাপূজা প্রচলিত, তা মূলত মহিষাসুরমর্দিনীর পূজা। মহিষাসুরমর্দিনীর পূজার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে (রচনাকাল আনুমানিক অষ্টম শতাব্দী)। এছাড়া দুর্গাপূজার কথা পাওয়া যায় মার্কন্ডেয় পুরাণ (মূল পুরাণটি চতুর্থ শতাব্দীর রচনা, তবে দুর্গাপূজার বিবরণ-সম্বলিত সপ্তশতী চণ্ডী অংশটি পরবর্তীকালের সংযোজন), বৃহন্নন্দীকেশ্বর পুরাণ (সঠিক রচনাকাল অজ্ঞাত), কালিকা পুরাণ (রচনাকাল ৯ম-১০ম শতাব্দী) ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণে (রচনাকাল ১২শ শতাব্দী)। ৯ম-১২শ শতাব্দীর মধ্যকার সময়ে নির্মিত একাধিক মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তি বাংলার নানা স্থান থেকে আবিষ্কৃতও হয়েছে।
মধ্য যুগে বাংলা সাহিত্যে দুর্গা পূজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ১১শ শতকে অভিনির্ণয়ে, মৈথিলী কবি বিদ্যাপতির দুর্গাভক্তি তরঙ্গিনীতে দুর্গা বন্দনা পাওয়া যায়। ১৫১০ সালে কুচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ কুচবিহারে দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিলেন। ১৬১০ সালে কলকাতার বারিশার রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দুর্গা পূজার আয়োজন করেছিল বলে ধারণা করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দিরের পূজা বাংলার অন্যতম প্রাচীন দুর্গাপূজা হিসেবে কথিত। দেবী মৃন্ময়ী ছিলেন মল্লভ‚ম রাজ্যের রাজরাজেশ্বরীমূল্ল রাজবংশের কুলদেবী। মল্লরাজ জগৎমল্ল ৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে এই পূজার প্রবর্তন করেন। এখানকার পূজা পদ্ধতি বাংলায় প্রচলিত দুর্গাপূজার থেকে অনেকটাই আলাদা; কিছুটা আলাদা এখানকার দুর্গাপ্রতিমার গড়নও। মৃন্ময়ী দেবী সপরিবারা বটে, কিন্তু লক্ষ্মী-গণেশ ও কার্তিক-সরস্বতী এখানে স্থানবদল করে থাকে। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর স্থলে গণেশ ও গণেশের স্থলে লক্ষ্মী এবং কার্তিকের স্থলে সরস্বতী ও সরস্বতীর স্থলে কার্তিক। এই রূপে দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের রীতিকে জগৎমল্ল-প্রথা বলা হয়। বাঁকুড়া জেলার অনেক প্রাচীন পরিবারেও জগৎমল্ল-প্রথায় নির্মিত দুর্গামূর্তি পূজিত হয়। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, রাজশাহীর তাহেরপুরের রাজা কংস নারায়ণের কথা উল্লেখ করেন। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে মুঘল শাসনামলে বাংলার দেওয়ান রাজা কংসনারায়ন ঘটা করে দুর্গা পূজা করেন।
১৭৯০ সালের দিকে এই পূজার আমেজে আকৃষ্ট হয়ে পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার গুপ্তি পাড়াতে বার জন বন্ধু মিলে টাকা পয়সা (চাঁদা) তুলে প্রথম সার্বজনীনভাবে আয়োজন করে বড় আকারে দুর্গা উৎসব। যা বারোইয়ার বা বারবন্ধুর পূজা নামে ব্যাপক পরিচিতি পায়। আধুনিক দুর্গা পূজার প্রাথমিক ধাপ ১৮ম শতকে নানা বাদ্য যন্ত্র প্রয়োগে ব্যক্তিগত, বিশেষ করে জমিদার, বড়ো ব্যবসাযী, রাজদরবারের রাজ কর্মচারী পর্যায়ে প্রচলন ছিল। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দুর্গা স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে জাগ্রত হয়।
বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১৮ শতকের মঠবাড়িয়ার নবরত মন্দিরে (১৭৬৭) দুর্গা পূজা হত বলে লোকমুখে শোনা যায়। অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্তের আত্মজীবনী থেকে জানা যায়, ১৮৩০ সালে সূত্রাপুরে নন্দলাল বাবুর মৈশুন্ডির বাড়িতে ঘটা করে আয়োজন করা হয় দুর্গা পূজার। দোতলা বাড়ির সমান উঁচু ছিল সে প্রতিমা। বিশ শতকের শুরুতে দুর্গা পূজা ছিল পারিবারিক। জমিদার বা ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা সে কালে পূজার আয়োজন করতেন। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরে আছে দুই ধরনের স্থাপত্যরীতি মন্দির। প্রাচীনতমটি পঞ্চরত দেবী দুর্গার যা সংস্কারের ফলে মূল চেহেরা হারিয়েছে। মন্দিরের প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরের মত। ধারণা করা হয়, দশম শতকে এখানে বুদ্ধ মন্দির ছিল যা পরে সেন আমলে হিন্দু মন্দির হয়েছিল এবং ১১শ বা ১২শ শতক থেকে এখানে কালী পূজার সঙ্গে দুর্গা পূজাও হত। ইতিহাসবিদ দানীর মতে, প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে রমনায় কালী মন্দির নির্মিত হয়েছিল এবং এখানেও কালী পূজার সঙ্গে দুর্গা পূজাও হত।
দেশভাগের পর অনেক জায়গায়ই এককভাবে পূজা অনুষ্ঠান বেশ ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠে। ফলে ব্রাহ্মণ-অব্রাহ্মণ নির্বিশেষে মিলেমিশে পূজা করার চল শুরু হয়। তবে এখনও বাংলাদেশের অনেক জায়গায়ই পারিবারিক পূজার চল রয়ে গেছে।
দুর্গার কাঠামোগত পরিচিতি
দেবী পূজার মূল উৎস সনাতন ধর্মের আদি শাস্ত্র বেদ। অভৃশ্য ঋষির কন্যা ব্রহ্মবাদিনী বাক সর্বপ্রথম তাঁর অতীন্দ্র ধ্যাননেত্রে আবিষ্কার করেন দেবীসুক্ত। এই দেবীসুক্তই হচ্ছে মাতৃবন্দনার মঙ্গলসূত্র। শক্তি পূজার দুটি দিক-আধ্যাত্মিক এবং আধিভৌতিক। মাতৃসাধক আধ্যাত্মক্ষেত্রে মহামায়া আদ্যাশক্তির আরাধনা করেন এবং অন্তরে কাম ক্রোধাদি রিপু ও ইন্দ্রিয়দিগকে জয় করে আধ্যাত্মিক কল্পনা ও মুক্তি লাভ করেন। অন্যদিকে আধিভৌতিক ক্ষেত্রে সাধক তাঁর পূজা বন্দনা করেন দেশ ও সমাজের বাহ্য শত্রুর ও অন্ত-বিল্পবের কবল হতে দেশ জতিকে মুক্ত করতে।
মহাশক্তি শ্রীদুর্গা দেহ দুর্গের মূল শক্তি। আধ্যাত্মিক ভাবনা দুর্গা কাঠামোতে অন্তর্নিহিত। দুর্গার দশহাত দশ দিক রক্ষা করার প্রতীক, দশ প্রহরণ এক দেবতার সাধনালব্ধ বিভ‚তি। দেবী ত্রিভঙ্গা-ত্রিগুণাত্মিকা শক্তির প্রতীক অর্থাৎ সত্ত¡, রজঃ তমঃ গুণের প্রতীক। দেবী ত্রিনয়নী-একটি নয়ন চন্দ্রস্বরূপ, একটি সূর্যস্বরূপ এবং তৃতীয়টি অগ্নিস্বররূপ। তাঁর ত্রিনয়নের ইঙ্গিতেই নিয়ন্ত্রিত হয় ত্রিকাল। দেবী সিংহবাহনা-তামসিক পশুশক্তির অধিপতি পশুরাজ সিংহ। মহিষাসুর-দেহস্থ প্রবল রিপুর প্রতীক। কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্যের ঘনীভ‚ত মূর্তি মহিষাসুর। শিব-সর্বপুরি অধিষ্ঠিত শিব মঙ্গল ও স্থিরত্বের প্রতীক। দেবীর ডানপার্শ্বে ওপরে লক্ষ্মী-ধনশক্তি বা বৈশ্যশক্তির, গণেশ-ধনশক্তির বা শুদ্র শক্তির, সরস্বতী-জ্ঞানশক্তি বা ব্রহ্মণ্য শক্তির, কার্তিক ক্ষত্রিয় শক্তির প্রতীক। শক্তিসমূহ অনুভ‚তির বিষয়, অনুভ‚তির আকার নেই। সকল শক্তিই ব্রহ্মশক্তি। সাধকের হিতার্থে ব্রহ্মের নানান রূপ কল্পনা। দুর্গা দেহ-দুর্গের মহাশক্তি। সাধক সাধনাকালে সেই শক্তিকে জাগ্রত করেন। সেই শক্তি যখন জাগ্রত হয় তখন দেহস্থিত রিপুসমূহ তাকে পরাজিত করে বশীভ‚ত করার জন্য উদ্যোগী হয়। সে সময় দেবশক্তি ও রিপু তথা আসুরিক শক্তির মধ্যে বাধে সংঘর্ষ। সেই অন্তর জগতের সংঘর্ষের একটি প্রতীকী রূপ শ্রী শ্রী চণ্ডীর মাধ্যমে রূপায়িত হয়েছে।
পূজার বর্ণনা
আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দুর্গা পূজার শুরু হয় মহালয়ায়। এ দিন দেবীপক্ষের সূচনা হয়। ভোরবেলা পিতৃতর্পণের মাধ্যমে দেবীপক্ষকে আহ্বান জানান ভক্তরা। শোক, তাপ, দুঃখ, অমঙ্গল, অন্ধকার হরণ করে শুভ, মঙ্গল, আনন্দদায়ক ও আলোর দিশারী অসুরবিনাশিনী মা’কে হিমালয় থেকে মর্ত্যে বরণ করে নিবেন তারা। এর ঠিক পাঁচদিন পর মহাষষ্ঠীতে বোধন, আমন্ত্রন ও অধিবাস। শাস্ত্রমতে, দেবীর বোধন হয় বিল্ববৃক্ষে বা বিল্বশাখায়।
মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তম্যাদিকল্পারম্ভ, সপ্তমীবিহিত পূজা। কদলীবৃক্ষসহ আটটি উদ্ভিদ এবং জোড়াবেল একসঙ্গে বেঁধে শাড়ি পরিয়ে একটি বধূ আকৃতিবিশিষ্ট করে দেবীর পাশে স্থাপন করা হয়। এই হলো ‘নবপত্রিকা’ প্রচলিত ভাষায় যাকে ‘কলাবউ’ বলে।
মহাষ্টমীতে মহাষ্টম্যাদিকল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমীকল্পারম্ভ, মহাষ্টমীবিহিত পূজা, বীরাষ্টমীব্রত, মহাষ্টমী ব্রতোপবাস, কুমারী পূজা, অর্ধরাত্রবিহিত পূজা, মহাপূজা ও মহোৎসবযাত্রা, সন্ধিপূজা ও বলিদান।
অবশ্য সব পূজা মন্ডপে কুমারী পূজার চল নেই। মহানবমীতে কেবল মহানবমীকল্পারম্ভ, মহানবমী বিহিত পূজা। বিজয়া দশমীতে বিহিত বিসর্জনাঙ্গ পূজা, বিসর্জন, বিজয়া দশমী কৃত্য ও কুলাচারানুসারে বিসর্জনান্তে অপরাজিতা পূজা।
পুজোর সাজ পোশাক
পূজোর সাজ পোশাকেও সেকেলে ভাবটা থেকে গেছে। পূজা মানেই পাড়ার দিদি-বৌদিদের এক প্যাঁচে পরা গারদের শাড়ি। লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, আলতা রাঙা পায়ে নূপুর পড়ে পূজা মন্ডপে আসবেন তারা। ধূতি-সাদা পাঞ্জাবি উঠে যায়নি, বরং পরনের ধরনে এসেছে নানা বৈচিত্র্য। পূজার নৈবদ্যেও পুরোনো ধারা বজায় রেখেছে ভক্তরা। মৌসুমী ফলের ভোগের পাশাপাশি খিঁচুড়ি প্রসাদ, মিষ্টান্ন তারপর রয়েছে মন্ডা-মিঠাই, মুড়ি- মুড়কি।
পূজা মানেই বাড়ি জুড়ে আনন্দের ধুম। পূজার পাঁচদিন বাড়িতে রান্না হবে বাহারি পদের সব ব্যাঞ্জন। প্রথা অনুযায়ী ষষ্ঠী থেকে নবমী এ চারদিন চলবে নিরামিষ। ষষ্ঠীর সকালে মায়েরা বানাবেন লুচি ও বেগুন ভাজি। দুপুরের জন্য রান্না হবে আলু-পটলের ঝোল, তেঁতুল বা টমেটোর টক, মিষ্টি কুমড়ো ভাজি, মুগডাল ও বিভিন্ন পদের সবজি মিলিয়ে লাবড়া। সপ্তমীর দিন সকালের মেন্যু একই। অঞ্জলির পর দেখা যায় ভুনা খিচুড়ি, টমেটোর চাটনি। এ ছাড়াও রান্না হবে আলু-পনিরের রসা, লাবড়া, বেগুন ভাজি। নবমীর দিনে একটু বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন পদের সবজির আইটেম রান্না হবে। সাথে তো ভুনা খিচুড়ি থাকছেই, আর রান্না হবে মিষ্টান্ন। দশমীর দিনে ফের আমিষ। এদিন বাড়িতে পোলাও, কোরমা, রুই মাছের কালিয়া রান্না হবে।
বিজয়া দশমী
পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশম। দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গ শিখর কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন। পেছনে ফেলে যাবেন ভক্তদের শ্রদ্ধা আর বেদনাশ্রু। সকালেই দেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জনের পর্ব শেষ হবে। প্রতিমা বিসর্জনের আগে এয়ো স্ত্রীরা দেবী দুর্গাকে বেদনাবিধূর বিদায়লগ্নে তেল, সিঁদুর ও পান দিয়ে মিষ্টিমুখ করাবেন। এরপর শোভাযাত্রা সহকারে দেবী প্রতিমা বিসর্জনে চলবে ভক্তরা। শোভাযাত্রা শেষে মন্দিরে ফিরে শান্তিজল ও আশির্বাদ গ্রহণ করে ঘরে ফিরবেন ভক্তরা।
দুর্গাপূজা হলো অশুভ, অন্যায়, পাপ, পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে ন্যায়, পূর্ণ, সত্য, শুভ ও সুন্দরের যুদ্ধ। দুর্গতি থেকে রক্ষা, বিভেদ, বিবাদ, অনৈক্য, সা¤প্রদায়িকতা, ক্ষুদ্রস্বার্থবোধ ও সংকীর্ণতা প্রভৃতির ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য মহাশক্তির বর লাভের নিমিত্তে সনাতন ধর্মাবলম্বরী মেতে উঠেন দেবী বন্দনায়। আত্মশক্তির উত্থান, প্রাণশক্তির জাগরণ, ষড়রিপুর গ্রাস থেকে মুক্তির জন্য আদ্যাশক্তি মহামায়ার কৃপালাভের জন্য দুর্গাদেবীর আরাধনায় মেতে উঠে বিশ্ব চরাচর। দুর্গোৎসব সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে সৌহার্দ্য, হিংসা, বিদ্বেষ, কলুষতামুক্ত ভালোবাসার স্পন্দনে মথিত, গৌরাবান্বিত করে তুলুক সবাইকে।
বিকাশ রঞ্জন দাস : লেখক ও গবেষক।





Users Today : 34
Views Today : 34
Total views : 177437
