• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

বড়দিনের বিশেষ নিবন্ধ ○ এই সময়ের ক্ষুদ্রস্বর ● সান্ত্বনা দাশ

বড়দিনের বিশেষ নিবন্ধ ○ এই সময়ের ক্ষুদ্রস্বর ● সান্ত্বনা দাশ

Admin by Admin
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫
in ধর্ম-দর্শন, প্রচ্ছদ
0 0
0
বড়দিনের বিশেষ নিবন্ধ ○ এই সময়ের ক্ষুদ্রস্বর ● সান্ত্বনা দাশ
0
SHARES
15
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

‘‘‌‌মনুষ্য পুত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে, শক্তিমান হও’’ (লূক ২১:৩৪-৩৬)
আর আত্মা ও কন্যা কহিতেছেন, আইস। যে শুনে, সেও বলুক আইস।আর যে পিপাসিত সে আইসুক, যে ইচ্ছা করে, সে আ্ইসুক, যে ইচ্ছা করে সে বিনামুল্যেই জীবন জল গ্রহন করুক। (প্রকাশিত বাক্য ২২:১৭)।
২০ পদে আরো লেখা আছে, যিনি এই সকল কথার সাক্ষ্য দেন, তিনি কহিতেছেন, সত্য আমি শীঘ্র আসিতেছি। আমেন প্রভু যীশু আইস।
কে এই সকল সাক্ষ্য দিচ্ছেন? আমরা ১৬ পদটা দেখি। লেখা আছে, ‘‘আমি যীশু আপন দূতকে পাঠাইলাম যেন সে মণ্ডলীগণের নিমিত্ত তোমাদের কাছে এই সাক্ষ্য দেয়, আমি দায়ুদের মূল ও বংশ উজ্জ্বল প্রভাতীয় তারা
মারান আথা প্রভু আসিতেছেন
ঈশ্বরের মহাপরাক্রমী ভাববাদী এলিয় এক সময় প্রাণভয়ে এমন হতাশ, এমন নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি তার মৃত্যু কামনা করেছিলেন। কিন্তু তার এই দুঃসময়ে ঈশ্বরের এক ক্ষুদ্রস্বর তাকে আবার চাঙ্গা করে তুলল (১ রাজাবলী ১৯: ১২-১৩ পদ)। শারিরীক, মানষিকভাবে ক্ষত বিক্ষত এলিয় আবার সজীব হয়ে গেলেন ঈশ্বরেরঅনুগ্রহে। বর্ত্তমান পৃথিবীতে মানুষের/খ্রীষ্টিয় সমাজের, মণ্ডলীরও একই অবস্থা। কিন্তু আজ ঈশ্বরের এক ক্ষুদ্রস্বর আমাদের চারিদিকে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কি সেই ক্ষুদ্রস্ব্র? সমস্ত পৃথিবীর পরিস্থিতি নানান ঘটনাবলী, প্রভুর বাক্যের মাধ্যমে সেই ক্ষুদ্রর্স্বই ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ‘‘কোনো ব্যাক্তি যদি প্রভুকে ভালো না বাসে, তবে সে শাপগ্রস্ত হউক; মারান আথা- মারান আথা- প্রভু আসিতেছেন”(১ করি ১৬:২২পদ) প্রভু যীশু বলেন, ‘‘যার কান আছে সে শুনুক” (মথি ১১:১৫ পদ), (প্রকাশিত বাক্য ২:২৯ পদ)
জগতে প্রবাস কালীন সময়ে প্রভু যীশু তাঁর কাজে, চলনে বলনে, আচার-আচরণে আমাদের তাঁর অসীম প্রেম, ক্ষমা দেখিয়েছেন। বার বার আমাদের জীবন সম্পর্কে সর্তক করেছেন। রূপান্তর পাহাড়ে যখন প্রভু রূপান্তরিত হয়েছিলেন, তখন স্বর্গ থেকে এই বাণী শোনা গিয়েছিল, “ইনি আমার প্রিয়পুত্র, ইহাঁর কথা শুন।” পূর্বকালে পিতা ঈশ্বর যুগে যুগে দাস ভাববাদী পাঠিয়ে মানবকূলের জন্য বহুকথা বলেছেন এবং শেষ কালে পুত্রেই কথা বলেছেন। তাই এই মুহূর্তে বড়দিন অর্থাৎ তাঁর প্রথম আগমন পালন করতে করতে প্রভু যীশুর মুখের বাক্য শুনি, অনুধাবন করি ও সর্তক হই।। লূক ২১:৩৪-৩৬ পদে আছে, “কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে; কেননা সেই দিন সমস্ত ভূতল-নিবাসী সকলের উপরে উপস্থিত হইবে। কিন্তু তোমরা সর্বসময়ে জাগিয়া থাকিও এবং প্রার্থনা করিও, যেন এই যে সকল ঘটনা হইবে, তাহা এড়াইতে, এবং মনুষ্যপুত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে, শক্তিমান হও।”
সময়ের এই মুহূর্তে আমরা স্মরণ করি স্বর্গদূতের সেই বারতা, “আমি তোমাদের মহানন্দের সুসমাচার জানাইতেছি; সেই আনন্দ সমুদয় লোকেরই হইবে; কারণ অদ্য দায়ূদ নগরে তোমাদের জন্য ত্রাণকর্ত্তা জন্মিয়াছেন; তিনি খ্রীষ্ট প্রভু।” (লূক ২:১০-১১ পদ)।
পৃথিবীর এই কঠিন সময়েও পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য এই সুখবর, এই সুসমাচার, এই অনুগ্রহের বাণী একই ভাবে আজো আকাশে, বাতাসে, জলে, স্থলে অন্তরীক্ষে ধবনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, প্রচারিত হচ্ছে। আর যারা শোনার তারা শুনছে, যারা গ্রহণ করার তারা করছে। পাপ মুক্ত হয়ে, নূতন জন্ম পেয়ে, স্বর্গপুরীর প্রজা হয়ে অনন্ত জীবনের অধিকারী হচ্ছে, মহানন্দে ভরপুর হচ্ছে।
সৌরজগতের, দূতগণের ও মানবের সৃষ্টিকর্ত্তা এবং আপন অনন্ত মহিমা ও মহিমাময় অতি মহান সঙ্কল্প সাধনকারী ঈশ্বরের কার্যকলাপ জগৎ পত্তন হতে প্রকাশিত হয়ে আসলেও, যিনি তাঁহার প্রতাপের প্রভা ও আপন সত্তার অবিকল প্রতিমূর্তির, সেই ইম্মানূয়েল প্রভু যীশু খ্রীষ্ট, মানবরূপে জগতে অবতীর্ণ হওয়ার মতো অত্যাশ্চর্য্য ও গৌরবময় ঘটনা সৌরজগতে আর দ্বিতীয়টি ঘটে নাই।
যাহারা যে পরিমাণে এটা উপলব্ধি করতে সমর্থ হবে তারা সেই পরিমাণে আর্শীব্বাদে প্রবেশ করবে। যেমন লেখা আছে, ‘‘যে পরিমানণ পরিমাণ কর, সেই পরিমানে তোমাদের নিমিত্ত পরিমাণ করা যাইবে।” মথি৭:২ পদ। অর্থাৎ, যারা যে পরিমাণে এই বড়দিনে তাঁর প্রেমে, মহিমায়, সত্যে ও শান্তিতে পূর্ণ হয়ে যাপ্রেভু যীশুর পুনরাগমনে বিশ্বাস করে প্রস্তুত থাকে তারা সেই পরিমাণেই আর্শীব্বাদে পূর্ণ হয়ে যাবে।
পিতা ঈশ্বরের মহান প্রেমের পরিকল্পনা অনুসারে পাপী মানুষকে রক্ষা করতে তিনি তাঁর একমাত্র প্রিয় পুত্রকে এ জগতে পাঠালেন। তিনি জন্মালেন, পিতাকে মহিমান্বিত করলেন, ক্রুশে মরলেন, পুনরুত্থিত হলেন- স্বর্গারোহন করে স্বর্গ দূয়ার খুলে দিলেন মানবের জন্য।
কিন্তু তারপর? তারপর কী? কী ঈশ্বরের পরবর্তী পরিকল্পনা?
লেখা আছে_
“এই কথা বলিবার পর তিনি তাহাদের দৃষ্টিতে ঊর্দ্ধে নীত হইলেন,এবং একখানি মেঘ তাহাদের দৃষ্টিপথ হইতে তাঁহাকে গ্রহণ করিল। তিনি যাইতেছেন, আর তাহারা আকাশের দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া আছেন, এমন সময়ে, দেখ’ শুক্লবস্ত্র পরিহিত দুই জন পুরুষ তাহাদের নিকটে দাড়াইলেন,আর কহিলেন, হে গালীলীয় লোকেরা, তোমরা আকাশের দিকে দৃষ্টি করিয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছ কেন? এই যে যীশু তোমাদের নিকট হইতে স্বর্গে ঊর্দ্ধে নীত হইলেন’ উহাকে যেরূপে স্বর্গে গমন করিতে দেখিলে, সেইরূপে ঊনি আগমন করিবেন” (প্রেরিত ১:৯-১১ পদ)। এখানে ও স্বর্গদূত ঘোষণা করলেন প্রভু যীশুর পরবর্তী পরিকল্পনা। তিনি আবার আসছেন! কিন্তু এ ব্যাপারে শুধু দূতের কথা অথবা ঘোষনাই নয়; এ কথা তিনি নিজেই বলেছেন;
“আর দেখ আমি শীঘ্র আসিতেছি” (প্রকাশিত বাক্য ২২:৭পদ)।
সুতরাং, তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা তিনি আবার আসছেন। তিনি তাঁর মনোনীতদের নিতে আবার আসছেন। তিনি আমাদের অনাথ রেখে যান নাই। তিনি আমাদের বলেছেন, ”কেননা, আমি তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করিতে যাইতেছি,আর আমি যখন যাই ও তোমাদের জন্য স্থান প্রস্তুত করি তখন পুনর্বার আসিব এবং আমার নিকটে তোমাদিগকে লইয়া যাইব; যেন আমি যেখানে থাকি তোমরাও সেইখানে থাক (যোহন ১৪:৩পদ)। ভেবে দেখুন এ রকম কথা জগতের কোনো নেতা বলবে না। কিন্তু আমাদের নেতা বলেছেন। ধন্য আমাদের নেতা প্রভু যীশু! ধন্য আমরা!
মহাযাজকের সন্মুখে প্রভু যীশুর বিচারের সময় প্রভু যীশু নিজের সম্পর্কে এই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, ‘আমি সেই,আর তোমরা মনুষ্যপুত্রকে পরাক্রমের দক্ষিণপার্শ্বের বসিয়া থাকিতে ও আকাশের মেঘসহ আসিতে দেখিবে’ (মার্ক ১৪:৬২ পদ)
এ কারণে প্রভু বললেন, ‘‘ লূক ২১:৩৪-৩৬ পদে আছে, “কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে; কেননা সেই দিন সমস্ত ভূতল-নিবাসী সকলের উপরে উপস্থিত হইবে। কিন্তু তোমরা সর্বসময়ে জাগিয়া থাকিও এবং প্রার্থনা করিও, যেন এই যে সকল ঘটনা হইবে, তাহা এড়াইতে, এবং মনুষ্যপুত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে, শক্তিমান হও।”
এই ‘সাবধান’ শব্দটা প্রভু তাঁর সন্তানদের জন্য বহুবার বহু জায়গায় ব্যবহার করেছেন। বাক্য আরো বলে,
১ যোহন ২:১৫-১৬ পদে লেখা আছে, “তোমরা জগৎকে প্রেম করিও না, জগতীস্থ বিষয় সকলও প্রেম করিও না। কেহ যদি জগৎকে প্রেম করে, তবে পিতার প্রেম তাহার অন্তরে নাই। কেননা জগতে যাহা কিছু আছে, মাংসের অভিলাষ, চক্ষুর অভিলাষ, ও জীবিকার দর্প, এই সকল পিতা হইতে নয়, কিন্তু জগৎ হইতে হইয়াছে।”
প্রভু বলছেন, যেন এই যে সকল ঘটনা এড়াইতে এবং মনুষ্য পুত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে শক্তিমান হও। এ সকল বাক্য প্রভু যীশু স্বয়ং শিষ্যদের সর্তক করে বলেছিলেন যা আজ আমাদেরই সম্মুখে পূর্ণতা পাচ্ছে। সমস্ত পৃথিবী ব্যাপীই আজ মহামারী খাদ্য সংকট, জল সংকট, অসুস্থ্যতার সংকট, রক্তপাত, নিষ্ঠুরতা, অদম্য গতিতে জলবায়ুর পরিবর্তন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধবাজ দেশগুলির স্বৈরাচার, অত্যাচারে ভয়ে মানুষের প্রাণ উড়ে যাচ্ছে। নাস্তিকতা ও ধর্মহীনতা বিভিন্ন জাতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বেড়েই চলেছে। ন্যায় ও সত্য পথে পথে হোঁচট খাচ্ছে। হিতোপদেশ ২৯:২ পদে বলে, “ধার্মিকেরা বর্ধিষ্ণু হইলে প্রজাগণ আনন্দ করে, কিন্তু দুষ্ট লোক কর্তৃত্ব পাইলে প্রজারা আর্তস্বর করে।” ঈশ্বর বিশ্বাসী যারা তাদের অন্তরে ঈশ্বরীয় আনন্দ বিরাজ করে। ঈশ্বরীয় গুণাবলী অর্থাৎ প্রেম, আনন্দ, শান্তি, মাধুর্য্য, ন্যায়-পরায়ণতা, ধৈর্য ও পবিত্রতা ইত্যাদি তার জীবনে রাজত্ব করে এবং প্রকাশ পায়। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মানুষ আজ ভোগ বিলাসে, মত্ততায় জীবিকার দর্পে এমনই ব্যস্ত যে প্রভুকে দেবার মতো সময় তাদের নেই। শয়তান প্রভুর সময়কে কেড়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ভাবে। আর আত্মিক সজ্ঞানতা না থাকাতে তারা বুঝতে পারছে না, বাইবেল বলে, দর্শনের অভাবে প্রজাগণ উচ্ছশৃঙ্খল হয় ( হিতোপোদেশ ২৯:১৮ পদ )। গাড়ির চাকার মতোই সময়গুলো আবর্তিত হচ্ছে। মানুষের জীবনের কর্মসূচি থেকে ঈশ্বরীয় বিষয়গুলো বাদ পড়ে যাচ্ছে। কঠিন পরিশ্রম, বিলাস-ব্যাসন জীবিকার চিন্তায় সমস্ত সময়টা অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে।
প্রভু যীশু তার সন্তানদের সর্তক করে বলছেন, “কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে; কেননা সেই দিন সমস্ত ভূতল-নিবাসী সকলের উপরে উপস্থিত হইবে। কিন্তু তোমরা সর্বসময়ে জাগিয়া থাকিও এবং প্রার্থনা করিও, যেন এই যে সকল ঘটনা হইবে, তাহা এড়াইতে, এবং মনুষ্যপুত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে, শক্তিমান হও।” কারণ যারা প্রস্তুত থাকবেন তাদের কাছে তার আগমন দিন হঠাৎ উপস্থিত হলেও সমস্যা নাই কারণ তারা তো প্রস্তুত। ঘটনার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে চললে কখনই কেউ আগমনে যেতে পারবে না। মরা মাছের মতোই এদিক ওদিক চলবে। কারণ ঈশ্বরীয় জীবনের প্রবাহ তাদের জীবনে নেই। কিন্তু জীবিত মাছ স্রোতের বিপরীতেও চলতে সক্ষম। প্রভুর বলা বাক্য দ্বারা বেশ বোঝা যায় যে, তাঁর পুনারাগমনে তাঁর সাক্ষাতে দাঁড়াবার জন্য একটা যোগ্যতার প্রয়োজন। আমরা দেখি, প্রকাশিত বাক্য ১৯:৭-৮ পদে কি বলছে, “আইস, আমরা আনন্দ ও উল্লাস করি, এবং তাঁহাকে গৌরব প্রদান করি, কারণ মেষশাবকের বিবাহ উপস্থিত হইল, এবং তাঁহার ভার্যা আপনাকে প্রস্তুত করিল। আর ইহাকে এই বর দত্ত হইল যে, সে উজ্জ্বল ও শুচি মসীনা-বস্ত্রে আপনাকে সজ্জিত করে, কারণ সেই মসীনা-বস্ত্র পবিত্রগণের ধর্মাচরণ।” মেষশাবকের ভার্যাকে তার সাথে মিলিত হবার জন্য উজ্জ্বল, শুচি ও মসিনা বস্ত্রে আপনাকে সজ্জিত রাখার কথা বলা হয়েছে। এই মসীনা বস্ত্র কী? অনেকেভাবে এটা পরিত্রাণের বস্ত্র। মথি ২২:১১ পদে “পরে রাজা অতিথিদিগকে দেখিবার জন্যে ভিতরে আসিয়া এমন এক ব্যক্তিকে দেখিতে পাইলেন, যাহার বিবাহ-বস্ত্র ছিল না।” অর্থাৎ সে পরিত্রাণ প্রাপ্ত নয়। অনেকে মনে করেন, যারা পরিত্রাণ প্রাপ্ত তারা তার আগমনে যাবার যোগ্য। কিন্তু ঠিক তা নয়। ঈশ্বরের বাক্য ভালোভাবে লক্ষ করলে/ধ্যান করলে দেখা যায় ঐ মসীনা বস্ত্র পবিত্রগণের ধর্মাচরণ। প্রকাশিত বাক্য ১৯:৮ পদে “আর ইহাকে এই বর দত্ত হইল যে, সে উজ্জ্বল ও শুচি মসীনা-বস্ত্রে আপনাকে সজ্জিত করে, কারণ সেই মসীনা-বস্ত্র পবিত্রগণের ধর্মাচরণ।” পরিত্রাণ বস্ত্র হলো মথি ২২:১২ পদ অনুযায়ী বিবাহ বস্ত্র যেটা বিবাহ বাটীর কর্তা বিনামূল্যে দান করেন। প্রভু যীশুর ধার্মিকতাই সেই বিবাহ বস্ত্র। যা বিশ্বাসীদের দেয়া হয়। যে পরিত্রাণ বিনামূল্যে অনুগ্রহে বিশ্বাস দ্বারা পাওয়া যায় তা যত্নসহকারে রক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রভু বলছেন, ‘‘…এবং মনুষ্যপুত্রের সন্মুখে দাঁড়াইতে শক্তিমান হও।”
কিন্তু প্রভু যীশু বা মেষ শাবকের সামনে তাঁর পুনরাগমনে দাঁড়াবার জন্য যে মসীনা বস্ত্র দরকার হয় তা পবিত্রগণের ধর্মাচরণ যে কথা পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত বাক্য ১৯:৮ পদে আমরা দেখলাম।এবং এই বস্ত্র পরিহিত হবার জন্য শক্তির দরকার। কী সেই শক্তি? কোথায় সেই শক্তি? সেই শক্তি পবিত্রাত্মার শক্তি, পবিত্রাত্মার মাধ্যমেই এই শক্তি লাভ করতে হয়। প্রভু যীশু তাঁর স্বর্গারোহনের আগমূহুতের্ প্রেরিত ১:৪-৫ পদে বলছেন, ’আর তিনি তাহাদের সঙ্গে সমবেত হইয়া এই আজ্ঞা দিলেন, তোমরা যিরুশালেম হইতে প্রস্থান করিও না, কিন্তু পিতার অঙ্গীকৃত যে দানের কথা শুনিয়াছ তাহার অপেক্ষায় থাক। কেননা যোহন জলে বাপ্তাইজ করিতেন বটে, কিন্তু তোমরা পবিত্র আত্মায় বাপ্তাইজিত হইবে, বেশি দিন পরে নয়। প্রেরিত ১:৮ পদে আরো বলছেন, ‘‘কিন্তু পবিত্রাত্মা তোমাদের উপরে আসিলে তোমরা শক্তিপ্রাপ্ত হইবে…।’’
মথি ২৫ অধ্যায় প্রভু যীশু সুস্পষ্টভাবে একথা বলেছেন, সুবুদ্ধি ও নিবুদ্ধি কুমারীর দৃষ্টান্তে। দশজন কুমারীই কিন্তু পরিত্রাণ প্রাপ্ত ও তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রত। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে দশ জনের পাঁচ জন কিন্তু জাগ্রত জীবন যাপন করেনি। অবহেলা ও শিথিলতার জীবনযাপন করার জন্য কখন যে তাদের তেল শেষ হয়ে গেছে তারা লক্ষই করেনি এবং বাড়তি তেল সংগ্রহ করার কোন সুযোগ ও তারা নেয়নি। বাড়তি তেল রাখার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনি। এই একটু অবহেলা, অনীহা, উদাসিনতার জন্য তাদের জীবনে ঘোরতর পরিনাম হয়ে গেল। বরের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারল না। প্রভুর দ্বিতীয় আগমনের জন্য কিভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে তা তিনি নিজেই বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “তোমরা সর্ব সময়ে জাগিয়া থাকিও এবং প্রার্থনা করিও, যেন এই যে সকল ঘটনা হইবে তাহা এড়াইতে এবং মনুষ্যপুত্রের সম্মুখে দাঁড়াইতে শক্তিমান হও।”
প্রভুর আগমনের সময় বিশ্বাসীদিগকে সম্পূর্ণ পবিত্র, নিষ্কলঙ্ক, অনিন্দনীয় ও বিঘ্নরহিত অবস্থায় থাকা প্রয়োজন। ১ থিষলনীকীয় ৫:২৩ পদে “আর শান্তির ঈশ্বর আপনি তোমাদিগকে সর্বোতভাবে পবিত্র করুন; এবং তোমাদের অবিকল আত্মা, প্রাণ ও দেহ আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের আগমন কালে অনিন্দনীয়রূপে রক্ষিত হউক।”
২ পিতর ৩:১৪ পদে লেখা আছে, “অতএব, প্রিয়তমেরা, তোমরা যখন এই সকলের অপেক্ষা করিতেছ, তখন যত্ন কর, যেন তাঁহার কাছে তোমাদিগকে নিষ্কলঙ্ক ও নির্দোষ অবস্থায় শান্তিতে দেখিতে পাওয়া যায়!”
তাই আসুন, প্রভুর যীশুর প্রথম আগমন পালনকালে তাঁর পুনরাগমনের জন্য আমরা আনন্দ করি, উল্লাসিত হই। তাঁর মুখের বাক্য, লূক ২১:২৫-২৮ পদে “আর সূর্যে, চন্দ্রে ও নক্ষত্রগণে নানা চিহ্ন প্রকাশ পাইবে, এবং পৃথিবীতে জাতিগণের ক্লেশ হইবে, তাহারা সমুদ্রের ও তরঙ্গের গর্জনে উদ্বিগ্ন হইবে। ভয়ে এবং ভূমণ্ডলে যাহা যাহা ঘটিবে তাহার আশঙ্কায়, মানুষের প্রাণ উড়িয়া যাইবে; কেননা আকাশমণ্ডলের পরাক্রম সকল বিচলিত হইবে। আর তৎকালে তাহারা মনুষ্যপুত্রকে পরাক্রম ও মহাপ্রতাপ সহকারে মেঘযোগে আসিতে দেখিবে। কিন্তু এই সকল ঘটনা আরম্ভ হইলে তোমরা উর্ধ্বদৃষ্টি করিও, মাথা তুলিও, কেননা তোমাদের মুক্তি সন্নিকট।”
মথি ১৩:২৬ পদে প্রভু বলছেন, ‘‘আর তখন লোকেরা দেখিবে, মনুষ্যপুত্র মহাপরাক্রম ও প্রতাপের সহিত মেঘযোগে আসিতেছেন। তখন তিনি দূতগণকে প্রেরণ করিয়া পৃথিবীর সীমা অবধি আকাশের সীমা পর্যন্ত চারি বায়ু হইতে তাঁহার মনোনীতদিগকে একত্র করিবেন।”
তিনি আরো বলেছেন, লূক ২১:৩৩ পদে “আকাশের ও পৃথিবীর লোপ হইবে, কিন্তু আমার বাক্যের লোপ কখনও হইবে না।” সূতরাং প্রভু যা যা বলেছেন সেসব হচ্ছে, সে সব ঘটছে এবং ঘটবে। এবং আমাদের বিচলিত হবার কিছুই নেই কারণ আমাদের প্রভু তাঁর অনুগ্রহে সবই অগ্রীম আমাদের জানিয়েছেন।
বাক্যই বলে, (আমোষ ৩:৭ পদ) ’নিশ্চয়ই প্রভু সদাপ্রভু আপনার দাস ভাববাদীগণের নিকটে আপন গূঢ় মন্ত্রণা প্রকাশ না করিয়া কিছুই করেন না।’
যা হোক এতক্ষণ আমাদের প্রভু জানালেন এসব জেনে আমাদের হৃদয় আত্মা কি উত্তপ্ত হচ্ছে? এ ব্যাপারে আমাদের কোন দায়িত্ব আছে বলে কি মনে হচ্ছে?? আসুন আমরা মনে করি প্রভুর সেই মহান আজ্ঞা, যে আজ্ঞা তিনি আমাদের সবার জন্যই তিনি দিয়েছেন মথি ২৮:১৮-২০ পদে, ’তখন যীশু নিকটে আসিয়া তাঁহাদিগকে কহিলেন, বলিলেন, স্বর্গে ও পৃথিবীতে সমস্ত কর্তৃত্ব আমাকে দত্ত হইয়াছে। অতএব তোমরা গিয়া সমুদয় জাতিকে শিষ্য কর; পিতার ও পুত্রের ও পবিত্র আত্মার নামে তাহাদিগকে বাপ্তাইজ কর; আমি তোমাদিগকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিয়াছি, সেই সমস্ত পালন করিতে তাহাদিগকে শিক্ষা দাও। আর দেখ, আমিই যুগান্ত পর্যন্ত প্রতিদিন তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি।”
এর মাধ্যমে প্রভু যীশু তাঁর ক্ষমতা তাঁর শিষ্যদের দিলেন অর্থাৎ আমাদের দিলেন। যেন তাঁর সুসমাচার আমরা প্রচার করি, আমরা বলি যখন যেখানে সুযোগ পাই যেন আমরা সুযোগ কিনিয়া লই। আর কেন আমরা বলব সেটাও আমরা বাইবেল থেকেই থেকেই প্রমাণ নেই। আবার চলে যাই লূক লিখিত সুসমাচারে রাখালদের কাছে প্রধান দূত প্রভুর জন্মের সুখবর দেবার পরেই, ২:১৩-১৪ পদ, যেখানে লেখা আছে, ‘‘পরে স্বর্গীয় বাহিনীর এক বৃহৎ দল ঐ দূতের সঙ্গী হইয়া ঈশ্বরের স্তব গান করিতে করিতে কহিতে লাগিলেন, ঊর্দ্ধলোকে ঈশ্বরের মহিমা, পৃথিবীতে তাঁহার প্রীতিপাত্র মনুষ্যদের মধ্যে শান্তি” …তাহলে আমাদেরও সেই দূতের সঙ্গী হওয়া যারা বলেছিল, ‘‘এইরূপে তিনি আবার আসিবেন” এবং প্রভু নিজেই বলছেন ”আমি শীঘ্র আসিতেছি” এই খবর সকলকে দেওয়া, ঘোষণা করা কি পিতার সন্তান হয়ে, দূতের ও প্রভু যীশুর সঙ্গী হতে কি আমরা চাই না? যদি আমরা চুপ করে থাকি তাহলে কি হবে সেটাও তিনি বলেছেন, ‘‘উহারা যদি চুপ করিয়া থাকে তাহলে প্রস্তর সকল চেঁচাইয়া উঠিবে।”
আর যদি তাদের সঙ্গী হই তাহলে কি হবে তাও লেখা আছে, ‘‘আমিই সদাপ্রভু তোমার ঈশ্বর, আমি তোমাকে মিশর দেশ হইতে উঠাইয়া আনিয়াছি, তোমার মুখ খুলিয়া বিস্তার কর, আমি তাহা পূর্ণ করিব’।” (গীতসংহিতা ৮১:১০ পদ)
সমস্ত পৃথিবীতেই সেই ক্ষুদ্র স্বর আজ সবার জন্য বাজছে, আমরা কান পাতি সেই স্বর শোনার জন্য আর প্রস্তুত থাকি আর বলি এই সুখবর। মারান আথা, মারান আথা, প্রভু আসিতেছেন – প্রভু আসিতেছেন। আমেন।
আসুন, এখন আমরা সকলে বাইবেল খুলি এবং প্রকা ২২:১৭ পদ একসঙ্গে পড়ি, ‘‘আর আত্মা ও কন্যা কহিতেছেন, আইস, যে শুনে, সেও বলুক, আইস। আর যে পিপাসিত, সে আইসুক, যে ইচ্ছা করে সে বিনামূল্যেই জীবন-জল গ্রহণ করুক।”
আইস, প্রভু যীশু আইস।। আমেন।
সান্ত্বনা দাশ : খ্রীষ্টিয় ধর্মতত্ত্ববিদ।

RelatedPosts

আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

বিশেষ নিবন্ধ ● রক্ত ▌ পাস্টর এএম চৌধুরী

বিশেষ নিবন্ধ ● না চিনি আমার প্রকৃত ঈশ্বর, না চিনি আমার প্রতিবেশী ▌ডা. অলোক মজুমদার

Previous Post

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ ৬ জন দগ্ধ

Next Post

বড়দিনের বিশেষ নিবন্ধ ● যাবপাত্রের যীশু ▄ নাহিদ বাবু

Admin

Admin

Next Post
বড়দিনের বিশেষ নিবন্ধ ● যাবপাত্রের যীশু ▄ নাহিদ বাবু

বড়দিনের বিশেষ নিবন্ধ ● যাবপাত্রের যীশু ▄ নাহিদ বাবু

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 3 4 1 6 8
Users Today : 25
Views Today : 33
Total views : 175719
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In