বিভাগীয় সম্পাদক • মাদ্রিদে নেটো জোটের শীর্ষ বৈঠকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন পুরো ইউরোপের স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র জুড়ে আমেরিকান সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হবে। খবর সিএনএন, বিবিসি।
তিনি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউরোপের ‘শান্তি’ ধ্বংস করে দিয়েছেন বলেই আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে উদ্ধৃত করে মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক সিএনএন জানিয়েছে, পোল্যান্ডে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ফিফথ কোর’ সেনাদলের একটি স্থায়ী সদর দপ্তর তৈরি করা হবে। রোমানিয়াতে আরো তিন হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হবে। বাল্টিক দেশগুলোতে আমেরিকার সৈন্য সংখ্যা বাড়ানো হবে। শুধু পূর্ব ইউরোপই নয়, পশ্চিম ইউরোপেও আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে।
নেটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গের সাথে বুধবার এক বৈঠকের পর বাইডেন বলেন, মিত্রদের সাথে মিলে আমরা নিশ্চিত করব যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় নেটো প্রস্তুত। নেটোর প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
তুরস্ক আপত্তি তুলে নেওয়ার পর ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনের এই জোটের যোগ দেওয়ার পথে বাধা উঠে যাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ঠিক এই বিষয়টিই মপুতিন কখনই চাননি …কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য ঠিক এটাই এখন জরুরি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেটো জোটের শক্তি বাড়াতে যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তার নজির আগে আর দেখা যায়নি।
নেটো সৈন্য মোতায়েন দশগুণ বাড়বে
নেটো শীর্ষ বৈঠক শুরুর ঠিক আগে সোমবার জোটের মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ বলেন, ‘যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’ এমন সৈন্য সংখ্যা বর্তমানের ৪০ হাজার থেকে প্রায় দশগুণ বাড়িয়ে তিন লক্ষাধিকে নেওয়া হবে।
নতুন এই কৌশলগত পরিকল্পনা মাদ্রিদের এই শীর্ষ সম্মেলনে অনুমোদিত হতে পারে।
নেটো মহাসচিব স্টোলটেনবার্গ বলেন, নেটোর এই ‘র্যাপিড রিঅ্যাকশন ফোর্স’ হচ্ছে স্থল, নৌ ও বিমান সেনা ও সরঞ্জামের সমন্বয়ে তৈরি করা একটি বাহিনী। কোনো আক্রমণ হলে যাদেরকে দ্রুতগতিতে মোতায়েন করা যাবে। ২০১৪ সালের আগে এ বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল ১৩,০০০ আর এখন তা বেড়ে ৪০,০০০ হয়েছে।
ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর ইতিমধ্যেই লাতভিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডে মোতায়েন নেটো সৈন্যদেরকে ‘উচ্চ-প্রস্তুতিমূলক অবস্থায়’ রাখা হয়েছে।





Users Today : 140
Views Today : 147
Total views : 177550
