২০০০ সালের প্রথম দিকে খিরু নদী, যা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার প্রাণ বলে পরিচিত নদীর যেই স্রোত ছিল ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর পরিদর্শন করার পর মনে হলো অচেনা কোন নদীর পাড়ে এসে দাঁড়িয়েছি। এই ২০ বছরে ভালুকা উপজেলা জুড়ে একাধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে, কিন্তু প্রাণের খিরু নদী ততদিনে একটি বিষাক্ত নদীতে পরিণত হয়েছে। খিরু নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জেলে, কৃষক ও সাধারণ সর্বস্তরের মানুষ বিষাক্ত খিরু নদীর পানি আর কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না।
ভালুকা উপজেলার সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুসহ স্থানীয় নেতারা অনেক চেষ্টা করেছেন যেন খিরু নদী আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না। শিল্প কারখানার বিষাক্ত পানি ও শিল্প বর্জন প্রতিদিন খিরু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এই নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফলাফল আসেনি। কারণ শিল্প কারখানার মালিকরা অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কারোর প্রতিবাদকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এই বিষয়টি নিয়ে মল্লিক বাড়ি ইউনিয়নের বার্তা গ্রামের সমাজ কর্মী রফিকুল ইসলাম রিটন একাধিকবার খিরু নদী দুদর্শা নিয়ে ভিডিও করেছেন। পত্রিকায় লিখেছেন, ভালুকার জনপ্রিয় সমাজকর্মী সংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান সুমনও এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পত্রিকায় প্রতিবেদন লিখেছেন। কিন্তু শিল্পকারখানার মালিকরা কোনোভাবেই তাদের দুষ্কর্ম থেকে বিরত থাকছেন না।
যে খিরু নদীর মাছের সুনাম ছিল সমগ্র ময়মনসিংহে আজ সেই খিরু নদী মাছ শূন্য নদীতে পরিণত হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই নদীর সামনে আর যাওয়া যাচ্ছে না, বিষাক্ত দুর্গন্ধ সবাইকে অসুস্থ করে তুলছে, আশেপাশে গ্রামগুলোর বাসিন্দারাও বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যারাই খিরু নদীর পানি কোনো কাজে ব্যবহার করছেন তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যে কারণে যারা এতদিন খিরু নদীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন তারা বাধ্য হয়েছেন তাদের পেশা বদল করতে। কিন্তু যারা শিল্পকারখানার মালিক তারা বিভিন্ন জায়গায় উপঢৌকন দিয়ে সবার মুখ বন্ধ রাখেন, যেকারণে যারা খিরু নদীকে বাঁচাতে আন্দোলন করছেন, ভিডিও করছেন, পত্রিকায় লিখছেন তারা কোনো সাফল্য পাচ্ছেন না। এই শিল্প কারখানার মালিকদের অত্যাচারে সমগ্র ভালুকাবাসী অতিষ্ট। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদেরকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ফলাফল আসেনি।
ভালুকার মাননীয় সংসদ সদস্য, সকল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যেমন-হ্যালো ভালুকা, ভালুকা হেল্প লাইন, ভালুকা ক্লাবসহ সকল সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাঁচাতে হবে প্রাণের খিরু নদীকে। শিল্প কারখানার মালিকরা যতই প্রভাবশালী হন না কেন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কাছে পরাজয় তাদের স্বীকার করতেই হবে। আর যদি ভালুকাবাসীরা ঐক্যবদ্ধ না হতে পারেন বিচ্ছিন্নভাবে লেখালেখি করে, ভিডিও করে, আন্দোলন করে খুব একটা সাফল্য পাবেন না। যারাই যার যার এলাকার নদীর নাব্যতা ফিরে পেয়েছেন তারাই প্রথমেই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তারপর ফিরে পেয়েছেন নিজেদের প্রাণের নদীকে।
ভালুকাবাসী আশা করেন খুব শীঘ্রই খিরু নদীকে বিষাক্ত মুক্ত করতে সরকার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিবেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যেভাবে হোক শিল্প কারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি খিরু নদীতে ফেলা বন্ধ করতে হবে, নদী খনন করতে হবে, নদীর চারপাশে এমনভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি করতে হবে কেউ যেন ভালুকাবাসীর আত্মা প্রাণের খিরু নদীকে আর যেন দূষিত না করতে পারে। খিরু নদী ফিরে পাক তার আগের রূপযৌবন এটাই ভালুকাবাসীর প্রত্যাশা।





Users Today : 22
Views Today : 27
Total views : 175531
