করোনার কারণে প্রায় ৮ মাস যাবত দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে সকল পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ৬ দফায় ছুটি বাড়ানো হয়! শিক্ষার্থীদের দুরন্তপনায় অস্থির অভিভাকরা আশায় ছিলেন সহসাই সরকার হয়ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবে। কিন্তু তা আর হলো না! এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকার। সরকারের এক ঘোষণায় কওমি মাদ্রাসা ছাড়া দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ ১৫ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে দেশের সিংহভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং লেখাপড়ায় সিরিয়াস শিক্ষার্থীরা হতাশ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে চলতি বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি ও জেডিসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে আগেই। ১ এপ্রিলে পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। একাডেমি জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। দীর্ঘ দু-বছরের পাঠ শেষে নিজেকে প্রমাণের ধাপ এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা সময়মত না হওয়ায় অনিশ্চিয়তায় শিক্ষার্থীদের জীবন। অনেকে আশায় বুক বেঁধেছিল, পরীক্ষা শেষে ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, কেউ বিজ্ঞানী হবে, এদিকে দুপুরে এই সিদ্ধান্ত জানার পর অনেককেই ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ৫ অক্টোবর ২০২০ দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেন এইচএসসিতে এবার ফরম পূরণ করা নিয়মিত শতভাগ শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হচ্ছে। এ ছাড়া গত বছর কাঙ্ক্ষিত ফল করতে না পারা মানোন্নয়নের এবং বিভাগ পরিবর্তনকারী পরীক্ষার্থীদেরও পাস করিয়ে দেয়া হবে। এই ঘোষণায় নিচের সারির ছাত্র-ছাত্রীরা খুশি হলেও মেধাবী ও মধ্যম সারির শিক্ষার্থীরা খুশি হতে পারেনি। এ নিয়ে সারাদেশে শিক্ষার্থ অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পৌনে ৩ কোটি। ইতিমধ্যে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ওপর বড়ো ধরনের প্রভাব পড়েছে। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বড় শহরে কিছুসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস নিলেও সেগুলোর বেশির ভাগে পাঠদান এখন পর্যন্ত মানসম্মত হয়নি। কারণ, আগে থেকে প্রস্তুতি ছিল না। সংকট প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত থাকলেও বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে। সেখানেও রয়েছে কয়েক কোটি শিক্ষার্থী। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে, যদিও উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তাছাড়া দেশের সিংহভাগ এলাকায় ইন্টারনেটের কম গতির কারণে ক্লাস শুনতে ও বুঝতে মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। অনলাইনে পাঠদানে বৈষম্যও আছে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই পড়াশোনায় এগিয়ে থাকে। শহর ও গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ পাচ্ছে না। সরকার গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের রেকর্ড করা ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করছে। কিন্তু টেলিভিশনের ক্লাস খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা একে তো ছোট, তার ওপর এই দুই স্তরে বাসায় থেকেও পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে না। খেলাধুলা ও আড্ডা দিয়ে সময় পার করছে। কেউ কেউ অবৈধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবরা-খবর ও ইলেক্টনিক মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও এখন দেশের সর্বত্রই কোচিং বাণিজ্য চলছে। প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখের সামনে দিয়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে পড়তে যান। তা যেন কেউই দেখছে না। দেখেও না দেখোর ভান করে থাকেন।
হাট-বাজার, শপিংমল, বিয়ে বাড়ি, খেলার মাঠ, পর্যটনকেন্দ্র, মানব বন্ধন, নির্বাচনের ক্যাম্পেইন, সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ, ধর্মশালা, বাস বা ট্রেনে ঠাসাঠাসি করা চলাচলকারী যাত্রীরা বলতে কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কারও যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি এবং কভিড-১৯ নিয়ে সরকারের সব নির্দেশনা সব প- হয়ে গেছে। সরকারের কোনো প্রচারণায়ই কেউ কান দিচ্ছে না, যে যার মতো করে চলছে। শহর বন্দর গ্রামে-গঞ্জে কোথায় এর কোনো প্রভাব নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানতে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সারা দেশে মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো তৎপরতা নেই। মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ কোনো নিয়ম-কানুন মানছেন না বললেই চলে। ঢাকার বাইরে দেশের অন্য ছোট-বড়ো শহরগুলো থেকে শুরু করে গ্রামীণ হাট-বাজার কোথাও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে না। লোকজন মাস্ক ব্যবহারে মোটেই আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আর সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি এখন কেবল কাগজে-কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, করোনাপরবর্তী সময়ে পিতা-মাতার আর্থিক দৈন্যে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও প্রকট হবে। খরচ জোগাতে না পেরে অনেক অভিভাবকই সন্তানের লেখাপড়া চালাতে পারবেন না। তাছাড়া করোনাকালের দীর্ঘ ছুটিতে পড়াশোনায় আগ্রহ কমছে ছাত্রছাত্রীদের। অনেক দিন বাইরের আলো-বাতাসে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ না পেয়ে বরং ঘরবন্দী থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর পাঠ্যবইয়ের প্রতি তৈরি হয়েছে অনীহা। যার ফলে পরবর্তী সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও বড়ো সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভবনা এখনই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ছেলেরা যে যার মতো রোজগারে লেগে পড়েছে, আর মেয়েদের অনেককেই বাল্য বিবাহ দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে গবেষণার ফলাফলের তথ্যে বলা হয়েছে—“শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। আগের চেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় কমেছে ৮০ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনায় ব্যয় করলেও এখন ২ ঘণ্টার বেশি কেউই পড়াশোনা করছে না। এতে দেখা গেছে, করোনার এই সময়ে শিক্ষার্থীদের শ্রমের হারও বেড়েছে।” অভাবের তাড়নায় অনেক মা-বাবা তাদের মেয়েদের পরিণত বয়সের আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেন। আবার ছেলেসন্তানের হাত থেকে বই-খাতা সরিয়ে তুলে দিয়েছেন সংসারের দায়িত্ব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনার এই মহামারী কেটে গেলেও আর্থিক অনটনের কারণে ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তত ত্রিশ শতাংশ শিক্ষার্থীর স্কুলে ফিরে আসা কঠিন হবে। কারণ চলমান মহামারির ফলে অনেক গরিব পরিবার আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে তাদের অনেকেই সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কাজে পাঠাতে চাইবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পরিবারগুলো চিহ্নিত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এই পরিস্থিতি নজিরবিহীন। প্রবীণ শিক্ষকনেতা কাজী ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমে জানান, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে আর কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকেনি। কোনো পাবলিক পরীক্ষাও বাতিল হয়নি। সংগত কারণে সরকার আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পথেই হাঁটছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁঁকির কথা বিবেচনা করে আরেক দফায় ছুটি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা চলছে।’
বাসে ট্রেনে ও অন্যান্য গণপরিবহনে চলাচলকারী যাত্রীো বলতে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে চলাচলকারী সব ট্রেনেই একই অবস্থা! স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি এবং কভিড-১৯ নিয়ে সরকারের সব নির্দেশনা ‘গুহায় গেছে’। ৮ মার্চ দেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটির মাধ্যমে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সরকারের নির্দেশনায় সীমিত আকারে ও সীমিত সংখ্যক যাত্রী নিয়ে সারা দেশে গণপরিবহন এবং ট্রেন চলাচল শুরু হয় ১ জুন থেকে। প্রথম দিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব যানবাহন চলাচল শুরু করলেও কিছু দিন যেতে না যেতেই ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সব বিধিনিষেধ উবে যায়। যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে আগের অবস্থায় ফিরে আসে গণপরিবহন ও ট্রেন।
করোনাকালে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অভিভাবকেরা বলছেন, কোনোমতে অনলাইন ক্লাস চালু রেখে পুরো টিউশন ফি আদায় করা হচ্ছে, যা তাঁদের চাপে ফেলছে। এ জন্য টিউশন ফি কমানোর দাবি তাঁদের। স্কুলগুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, টিউশন ফি আদায় না হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া যাবে না। তাতে আরেক সংকট তৈরি হবে। আর্থিক চিন্তায় শিক্ষকদের অনেকে চান বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হোক, বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়। কারণ, যেসব শিক্ষকের বেতনে সরকারের অনুদান নেই (নন-এমপিও), তাঁদের জীবিকা ঝুঁঁকিতে পড়েছে।সব চেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে দেশের প্রাইভেট কেজি ও সমপর্যায়ের শিক্ষক কর্মচারীরা। তাদের অনেকেই অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। ভাড়া বাড়িতে পরিচিালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এরই মধ্যে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কর্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যেগুলো বন্ধ হয়নি সেসব শিক্ষাপ্রষ্ঠিানের বাড়ির মালিকরাও চাপ দিচ্ছে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। সেই কারণে অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিকি এবং পরিচালকরা।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেছেন—
করোনার ক্রান্তিলগ্নে আমরা প্রায় ৬০ হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০ লাখ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার মানবেতন জীবনযাপন করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমরা কোনো ধরনের ফি আদায় করতে পারিনি। তাই শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি না থাকত তাহলে সরকারকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার বিদ্যালয় স্থাপন করে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হতো। সেদিক থেকে বলতে গেলে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আমরা সরকারের বাঁচিয়ে দিচ্ছি। পরোক্ষভাবে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও বিরাট অবদান রেখে চলেছে এসব প্রতিষ্ঠান।
করোনার সংক্রমণ রোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে সরকার। ফলে দেশের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আয়ের সুযোগও এখন একেবারে বন্ধ রয়েছে। করোনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক দুর্যোগ বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থাকে চরমভাবে ধাক্কা দিয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থা আরো করুণ ও হতাশাজনক। কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সময়ে টিউশন ফি আদায়কে অমানবিকতার পর্যায়ে পড়ে বলে বেশির ভাগ অভিভাবক মনে করেন! কিছুতেই তারা বেতন দিতে রাজি নন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান অভিভাবকদের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়ে এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সদুত্তর পাচ্ছে না। এই অবস্থায় প্রবল হুমকির মুখে দেশের প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তা থেকে একমাত্র সরকারই তাদের রক্ষা করতে পারে।
শেষ করতে চাই এই বলেই যে, তাই ঝরে পড়া রোধ এবং পড়ার টেবিলে শিক্ষার্থীদের ফেরাতে এখনি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি। আর মানবেতর জীবনযাপনকারী নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং প্রাইভেট স্কুলগুলোকে প্রণোদনায় আওতায় আনতে হবে। এদের প্রতি সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠা খোলার পরে শিক্ষক স্বল্পতায় অনেক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এতে দেশের শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখা শিক্ষাসেক্টর ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
মাহবুবুল আলম : কবি, কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও গবেষক।





Users Today : 13
Views Today : 15
Total views : 175519
