২৫ জুন, ২০২০, ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের সময় যখন সমস্ত পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল তখন একটি টিভি চ্যানেলের সফরসঙ্গী হয়ে প্রাণের শহর ভালুকায় উপস্থিত হলাম। আমার পক্ষ থেকে ১০০০ মাস্ক, ১০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে গিয়েছিলাম। পরে তা ভরাডোবা, স্কয়ার মাষ্টার বাড়ি, হবিরবাড়ি, ওয়াহেদ টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা, ভালুকা বাজার, ভালুকা পাঁচ রাস্তা মোড়, এই মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার উপহার দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই ভালুকাবাসীকে মাস্ক পরাতে রাজি করাতে পারছিলাম না। এই সংকটময় মুহূর্তে আমার প্রিয় কিছু মানুষ যারা ভালুকায় থাকেন তাদের সাথে দেখা করিনি।
পরেরদিন ২৬ জুন, ২০২০ সন্ধা ৬টায় ভালুকা বাজার ও ভালুকা পাঁচ রাস্তার মোড়ে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ পেলাম ভালুকার তৎকালীন এসি ল্যান্ড রোমেশ শর্মার সাথে। সেই সময় এসি ল্যান্ড রোমেশ শর্মার ভূমিকা ছিল প্রসংসনীয়। প্রথম দর্শনেই তাঁকে দেখে মুগ্ধ হলাম। যেভাবে প্রথম দর্শনেই ভালুকার রিয়াকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। জনাব রোমেশ শর্মা মিশুক ও বিনয়ী প্রকৃতির একজন মানুষ। তিনি আমাদের সাংবাদিকদের যথাযথ সহায়তা করেছিলেন যেটা চিরস্মণীয় হয়ে থাকবে। তিনি যদি তখন আমাদের সহযোগিতা না করতেন তখন আমাদের পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব হতো না। সেই সময় ভালুকাবাসীর পাশে আরো ছিলেন, হ্যালো ভালুকা, ভালুকা হেল্প লাইন, ভালুকা ক্লাবসহ একাধিক সংগঠন। যারা শতভাগ সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যার ফলে ভালুকায় ভয়াবহ করোনা ভাইরাস এ অতটা আক্রান্ত হয়নি, যতটা হওয়ার কথা ছিল।
২ থেকে ৩ নভেম্বর, ২০২০, লক ডাউন মুক্ত ভালুকাকে দেখতে আবার উপস্থিত হলাম প্রাণের ভালুকায়। সেখানে গিয়ে পরিচিত হলাম ড্রোন মাষ্টার অভি মিরাজ, রফিকুল ইসলাম রিটন, জিনু ভাই, গোলাম কিবরিয়ার সাথে। তারা সাধ্যমতো তাদের জন্মভূমি ভালুকার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ভালুকাকে আলোকরশ্মি দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ববাসী তাদের কাজ দেখছেন। অভি মিরাজ, ড্রোনের সাহায্যে ভিডিও করে তার ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচার করছেন। যারা ভালুকাকে চিনতেন না তাদেরকেও তিনি ভালুকা চিনিয়ে দিচ্ছেন। ফটোগ্রাফার জিনু ভাই ছবির মাধ্যমে ভালুকার প্রকৃতিকে তুলে ধরছেন। রফিকুল ইসলাম রিটন ও গোলাম কিবরিয়া ভিডিওর মাধ্যমে ভালুকাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছেন। এমন একটি সময় আসবে যখন তারা এই ধরণীতে থাকবেন না, কিন্তু তারা চির অমর হয়ে থাকবেন তাদের কাজের কারণে। লকডাউন মুক্ত ভালুকায় যা দেখলাম ভালুকাবাসীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেনতার ওপর যথেষ্ট অনাগ্রহ রয়েছে। সহজেই কেউ মাস্ক পরতে চান না। এবারও যাদেরকে মাস্ক উপহার দিয়েছিলাম তারাও মাস্ক পেয়ে মুগ্ধ হননি। অর্থাৎ নিজের জীবনের প্রতি, অন্যের জীবনের প্রতি হয়ত তাদের পরিপূর্ণ জ্ঞান নেই। এই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর ভালুকার মিত্রদের কাছে এই লেখার কপি পাঠিয়ে দিব। কিন্তু যার জন্য আমার প্রাণের ভালুকা, আজ আমার ভালুকায় পরিণত হয়েছে, সেই রিয়া কি এখনও আমায় মনে রেখেছে? রিয়া তুমি আমায় মনে রাখো বা নাইবা রাখো, যার হাতে আমার এই জীবন, সেই মহান আল্লাহর নামের শপথ চিরকাল তুমি, রিয়া, আমার অন্তরেই থাকবে, অন্তরেই আছো…
● সৈয়দ রশিদ আলম : কবি ওপ্রাবন্ধিক।





Users Today : 6
Views Today : 10
Total views : 180871
