বিভাগীয় সম্পাদক ■ চলমান লকডাউনের পরে গণপরিবহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে সরকার আবার কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ রবিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত খাদ্য ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণের এই অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
গতকাল শনিবার এক মতবিনিময় সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেছিলেন, চলমান লকডাউন শেষে গণপরিবহন চালুর চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
মতবিনিময় সভায় ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে সরকার গণপরিবহন চালুর চিন্তাভাবনা করছে। গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি রেখে যে ভাড়া নির্ধারণ ছিল, সেই ভাড়ার অতিরিক্ত নিলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
লকডাউন শিথিল হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে গতকাল ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান লকডাউন ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউন চললেও আজ রবিবার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে দোকানপাট ও বিপণিবিতান। এই খবরে রাজধানীতে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ভোগান্তি ও করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তাঁরা পথে নেমেছেন।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দুই সপ্তাহ ধরে কোভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার কিছুটা নিম্নমুখী। চলতি সপ্তাহ থেকে মৃত্যুও কমতে পারে। অবশ্য সংক্রমণ নিম্নমুখী হলেও সপ্তাহওয়ারি হিসাবে গত বছরের প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় শনাক্ত রোগী ও মৃত্যু এখনো বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, লকডাউনের প্রভাবে সংক্রমণ কিছুটা কমে এসেছে। অবশ্য এটি নিয়ে ভিন্নমতও আছে। কিন্তু সবাই একমত যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাদেশ এখনো দূরে। অসতর্ক হলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
শঙ্কার কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগের বছর ঈদের পরে সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে। কারণ, সে সময় স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করা যায়নি। এবারও সব ক্ষেত্রে বিশেষত দোকানপাট, মার্কেট ও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে ঈদের আগে-পরে আবার নাজুক পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা থাকছে।





Users Today : 9
Views Today : 9
Total views : 184264
