বহু কৌণিক অবস্থান থেকে আমাদের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভাবতে হয়। প্রথমেই ভাবতে হয় আমরা মানুষ, তারপরে গায়ে লাগানো চিহ্ন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বা অন্য কিছু। প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা চেতনার ধর্মীয় সংস্কৃতিক রাজনীতি থাকতেই পারে। চেতনা বোধ আলাদা থাকতেই পারে কিন্তু যখন মানুষকে মানুষ হিসেবে এক প্ল্যাটফর্মে দেখতে চেষ্টা করবো, তখন তো অবশ্যই সংস্কৃতির রাজনীতির প্ল্যাটর্ফম আলাদা হওয়া দরকার। যেখানে কোনো চিহ্নের প্রতিফলন থাকবে না। আকৃতিতে ও প্রকৃতিতে মানুষ হলেই চলবে। কোনো কোনো সময় ধর্ম হয়ে যায় শোষণের হাতিয়ার। সব কিছুকে সুন্দরভাবে গ্রহণমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি যেমন আমি তোমার―তুমি আমার, বিপদে-আপদে সব সময়। সেটা কমে যায় বা থাকেই না। রাগ ক্ষোব ঘৃণা সেই জায়গাটা দখল করে নেয়। সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গিকে দূরে সরিয়ে দেয়। যতো দিন না জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা-গোত্র নির্বিশেষে মানুষকে মানুষ হিসেবে হৃদয়ে স্থান দিতে পারবো, তত দিন যত সংস্কারই করি সেটা কোনো কাজেই আসবে না। আজ শুদ্ধ দেশ প্রেমিক ও নিরপেক্ষ মানুষের খুবই অভাব। নিরঙ্কুশ দেশপ্রেম না থাকলে মহাজাতি কি দিয়ে গঠন হবে। সুন্দর দেশ গড়তে হলে আমাদেরকে অতীত, বর্তমান ও ভবিষতের ছবি সামনে নিয়ে বের হতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, বিবেচনায় ফাঁক রেখে কখনো সত্যিকার কর্তব্য করা যায় না। সময়ের স্বর বুঝলেই ঐক্য এসে চেতনাকে সংগঠিত করে।
আজ আমরা ক্রান্তিকালিন বৈশ্বিক উত্তাপের সংস্পর্শে রয়েছি। শক্তি দিয়ে এই উত্তাপ থেকে দূরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই নিজের কৌশলে নিজেকেই তাপ থেকে রক্ষা করতে হবে। ভাবতে হবে যে অনিশ্চিত কোনো পথ রেখায় যেন আটকে না যাই আমরা কেননা ধর্ম , জাতীয়তা, সম্প্রদায় বা আঞ্চলিকতার প্রশ্ন সামনে এলে, মানুষ অমানুষ হয়ে যায়। কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ কখনো অমৃত ফল দিতে পারে না। ধর্ম ও শ্রেণী একদেশদর্শিতা সৃজন করতে পারে না। কোনো অ-মানবিক দেশ বা মানুষ, অ-বিচ্ছিন্ন মহাত্মার বোধ যেখানে নেই, সেখানে তৈরি হয় না জাতীয় ঐক্যের মহামিলনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই তো চিহ্ন দিয়ে নয়, বিচিত্র ও বৈচিত্র্যকে মেলাতে হবে, সকলেই মানুষ হিসেবে একই অঙ্গে। আজ বিজ্ঞান ও প্রজ্ঞার মধ্যে আমরা যুদ্ধ লাগিয়ে দিচ্ছি কিন্তু সেটার সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে দেখলেই তো দুটোর তফাৎ বোঝা যায়। বিজ্ঞান হলো সেই বিষয়, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু জ্ঞান, যা সুনিদ্দিষ্ট কিছু ফ্যাক্টরের সাথে সম্পৃক্ত করে সুত্রের অনুসন্ধান করা, যা যে কোনো সময় পরিবর্তন বা পরিমার্জন হতেই পারে কিন্তু প্রজ্ঞা হলো সেটাই, যেটা জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায়। আমরা যখন স্কুল কলেজে লেখাপড়া করেছি তখন দেখেছি, দেওয়ালে লেখা শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি। আসলে এই তিনটার একটা মেল বন্ধন রয়েছে। সঠিক শিক্ষা আমাদের জীবনে অবশ্যই শান্তি আনে। আর যখনই শান্তি থাকে তখনই কাজ শুরু করে প্রগতি। প্রগতিতে সুপ্ত অবস্থা রয়েছে গতিপথ পাল্টানো, সামনের দিকে যাওয়া, সমৃদ্ধি লাভ করা, উন্নতি করা, জীবনকে অর্থবহ হিসেবে পরিবর্তন করা, সুনাম সম্মান বৃদ্ধি করা। আজ আমাদের জীবনে প্রজ্ঞার অভাব, তাই তো প্রগতি হারিয়ে গেছে। আমাদের জীবনের কোনো উন্নয়ন আর স্থায়ী হয় না। একটা নির্দিষ্ট সময় পরে সেগুলো ভোগের অযাগ্য হয়ে যায়। তাই তো আমাদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে প্রজ্ঞাময় জীবন অনুসরণ করতে হবে। আবার কিছু কিছু বিষয় আছে যা কারো কাছে কষ্টের, কারো কাছে উপভোগ্য, আবার কারো কাছে দুঃস্বপ্ন। তবে যাই হোক না কেন, সঠিক পরিকল্পনা যেন ভুল হয়ে না যায়। দায়িত্ব নিয়ে পদক্ষেপ শুরু করলে, যত ছোটো কাজই হোক না কেন, সফলতা আসবেই। অনেক সময় বিজ্ঞতার সামনে না দাাঁড়াতে পারা মানুষ মিথ্যের আশ্রয় নেয়। এটা অবশ্যই প্রজ্ঞার অভাব। নিজেকে নিজে তো জানা যায়। আর এই জানাই হলো প্রজ্ঞার জ্ঞান। সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা শত কষ্টের হলেও, আমার কাছে সেটা স্বর্গীয় সুখের মতো। তাই তো শেষ ভালোর জন্য সব সময় অপেক্ষা করতে থাকি। এই আত্ম-নিবেদন আমাকে স্বাধীন করে। আর এই স্বাধীন থাকাটাও নিজের ইচ্ছার উপরেই নির্ভর করে। তাই তো সময়ের স্বর বুঝতে চেষ্টা করতেই হবে। আসলে ষোলো আনাই ভালো হতে হবে, এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী নই আমি কারণ এই পৃথিবীতে কেউই ষোল আনা ভালো ছিল না, নেই এবং আসবেও না। চলার পথে ভুল থাকবেই। দুঃখ, কষ্ট, নির্যাতন থাকবেই। তবে আদর্শের বিরুদ্ধে যাওয়া জীবনকে অনেকটাই পিছিয়ে দেয়। আদর্শিক সংগ্রাম থেকেই প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে, আদর্শকে শক্ত করে ধরে, সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবন যুদ্ধের ভুল-ত্রুটিগুলো, এক সময় ধুলোর মতো সরে যাবেই।
আমরা নির্বাচনবে গণতন্ত্রের প্রথম ধাপ মনে করি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রেও প্রথম ধাপ চিনিয়ে দেয়। নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে হলে কি আমাদের দেশ বেহেস্তে পরিণত হবে যদি সুষ্ঠু না হয়। আর না হলে কি দোজখের দিকে এগিয়ে যাবে এই দেশ। আসলে ব্যাপারটাই বুঝলাম না যে, ১৫ বছর ভোট দিতে পারিনি, সেটা সহ্য হয়েছে অথচ চার মাস সহ্য হচ্ছে না অযথা পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে গিয়ে লাভ কি। সাধারণ মানুষের কপালের পরিবর্তন কি কেউ করেছে। কৃষকের বা শ্রমিকের বা মেহনতী মানুষের বা রিক্সাওয়ালার তো বিদেশে বাড়ি হয়নি। ব্যাংকে টাকাও হয়নি। আবার শান্তিও পায়নি। দেশের আশি ভাগ মানুষের কষ্ট ছিল আছে থাকবে।






Users Today : 0
Views Today :
Total views : 175444
