মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমি কখনো কোনো নেতিবাচক লেখা ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে দিইনি। তবে অনেকের কৃতকর্মের প্রতিবাদে পত্রিকায় অনেক কলাম লিখেছি। সিরাজুল আলম খানকে রাজনীতির রহস্য পুরুষ বলা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্লট তৈরিতে উনার ভূমিকা ছিল। শোষকের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা বলে হাজার হাজার যুবকের জীবন নষ্ট করে গেছেন। সে জন্য আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুক।
সিরাজুল আলম খান কখনো জনসম্মুখে আসতেন না এবং বক্তৃতা-বিবৃতি দিতেন না; আড়ালে থেকে তৎপরতা চালাতেন বলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
বাংলাদশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় স্বাধীনতা লাভের মাত্র ১০ মাসের মাথায় ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদ প্রতিষ্ঠিত। যাদের নিয়ে জাসদ গঠিত হয়েছিল সেসব নেতারা ক্ষমতার অংশিদারীত্ব চেয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেনদরবার শুরু করে, বঙ্গবন্ধুর কাছে ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন তাদের সিংহভাগই মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সারা দিয়ে কেন অস্ত্র জমা দেয়নি তা ছিল রহস্যজনক। আর দু-একজন যারা জমা দিয়েছেন তা প্রতীকী অর্থ জমা দিয়েছেন।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের সে দাবি আমলে নেননি। এই নিয়ে সেসব নেতাদের মনোমালিন্য প্রকাশ্য না হলেও সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র নামের এক অদ্ভুত তত্ত্ব হাজির করে যুবনেতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে বিরোধকে উছিলা করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভেঙে দুই ভাগ হয়ে যায়। এর পর ১৯৭২ সালে সিরাজুল আলম খানের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল জাসদ প্রতিষ্ঠা হয়। সিরাজুল আলম খান কোনোদিন জাসদের নেতৃত্বে না এলেও জাসদ নেতাদের পরামর্শক হিসেবে তাদের ‘তাত্ত্বিক গুরু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানীদের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশে অবস্থানকারী মিত্রবাহিনীর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের কবে ফিরিয়ে নেয়া হবে তা জানতে চান। বঙ্গবন্ধুর এমন প্রশ্নে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী অপ্রস্তুত হয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলেন, ‘‘আপনি যখন চাইবেন তখনই আমাদের বাহিনীর সদস্যদের ফিরিয়ে নেবে’’। সাথে সাথেই বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘‘আমি চাই আমাদের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আগেই যেন তা হয়।’’
ভারতের প্রতাপশালী প্রধান শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী কিছু দিনের মধ্যেই সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সকল সদস্যকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এমন দ্রুত পদক্ষেপে ভারতের সাথে বঙ্গবন্ধু সরকারের অপ্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। প্রয়াত সাংবাদিক মহান ‘‘একুশে ফেব্রুয়ারি’’ গানের স্রষ্টা আবদুল গফফার চৌধুরী তার এক লেখায় বলেছিলেন, ‘‘মুজিব ভাই, এ ব্যাপারে ভারতের মনোভাব ইতিবাচক না ও হতে পারে।’’
বঙ্গবন্ধু গফফার চৌধুরীর একথার জবাবে বলেছিলেন,‘‘এক দখলদারিত্বের হাত থেকে মুক্ত হয়ে আর এক দখলদারির অধীনে যেতে তো ৩০ লক্ষ মানুষ নিজেদের জীবন ও ২ লক্ষ মা-বোন ইজ্জত বিলিয়ে দেয়নি’’।
বিভিন্ন লেখকের তথ্য থেকে জানা গেছে। ভারত অখুশি হয়েই ‘র’র তত্ত্বাবধানে জাসদ সৃষ্টি করছিল। যার নায়ক ছিলেন সি.আ খান।
জাসদ প্রতিষ্ঠার পর ভারত বিরোধিতার জিগির তুললেও তা ছিল লোক দেখানো। জাসদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অকার্যকর ও উচ্ছেদ করার জন্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয় জাসদ। পাটের গুদামে আগুন, থানা ও ব্যাংক লুট, গুপ্তহত্যা, ডাকাতি রাহাজানির পথ বেছে নেয়। তখন আওয়ামী লীগের পাঁচজন নির্বাচিত এমপি জাসদের গুপ্তহত্যার শিকার হন।
এই সময়ে জাসদ বাংলাদেশের যুব সমাজের বিশাল অংশকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখিয়ে দলে ভিড়িয়েছিল। এখানে বলে রাখা দরকার এভাবে যুবসমাজ ও গণমানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারকে অজনপ্রিয় করে তাঁর হত্যার পথ তৈরি করেছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর জাসদ বহুধাবিভক্ত হয়ে ভেঙে কয়েক টুকরো হয়ে যায়।
যে আশায় ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠন করতে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফসহ বেশ কয়েকজন সেনা অফিসারকে হত্যা করে জিয়ার রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, সেই জিয়াউর রহমানই নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে জাসদকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
সারা দেশে জাসদ নেতাদের ধরে ধরে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। কিন্তু জাসদের তাত্ত্বিক নেতা সিরাজুল আলম খানের কিছুই হলো না, তিনি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। তাহের হত্যার সামান্য প্রতিবাদ ও করেননি।
বিভ্রান্ত প্রজন্ম তাকে ‘দাদাভাই’ নামেই ডাকেন। সিরাজুল আলম খান কখনো জনসম্মুখে আসতেন না এবং বক্তৃতা-বিবৃতি দিতেন না; আড়ালে থেকে তৎপরতা চালাতেন বলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘রহস্য পুরুষ’ হিসেবে তিনি পরিচিতি পান।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেকটা নির্বাসিত জীবন কাটান চিরকুমার সিরাজুল আলম খান। অবশেষে দেশে ফিরে ঢাকার কলাবাগানে ভাইদের সঙ্গেই থাকতেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশের রাজনীতির রহস্যপুরুষ সিরাজুল আলম খান।
স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রসমাজে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান ও কাজী আরেফ আহমেদকে নিউক্লিয়াস নামে বলে অভিহিত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অভিধান ঘেটে নিউক্লিয়াস শব্দের যে অর্থ জানা গেল তার বাংলা হলো ঈবষষ ঘঁপষবঁং বা কেন্দ্রিকা হলো প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, পর্দাঘেরা এবং প্রায় গোলাকার অংশ। যা কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রতিকী অর্থে অই তিন নেতাকে নিউক্লিয়াস নামে অভিহিত করা হয়েছিল। স্বাধীনতালগ্নে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ বা স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। পরে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারা। বঙ্গবন্ধুরও ঘনিষ্ঠ সাহচর্যে ছিলেন এই ছাত্রনেতারা।
সিরাজুল আলম খানের মৃত্যুর পর ফেসবুকে তাকে নিয়ে কয়েকজন কবি ও লেখকের স্ট্যাটাস নিচে তুলে ধরছি:
ফকির ইলিয়াস, আমেরিকা প্রবাসী কবি
বিদায় সি আ খান
সিরাজুল আলম খান মূলত ছিলেন আত্মপ্রতারক। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তীব্র বিরোধিতা করে লোক দেখিয়েছেন। আর নিজে খয়রাতি চিকিৎসা নিয়েছেন মার্কিন মুলুকে।
তাঁর ভ্রান্ত রাজনৈতিক মতবাদ, নেপথ্যের কলকাঠির কারণে হাজার হাজার জাসদকর্মী প্রাণ দিয়েছেন।
নিজেকে ‘চিরকুমার’ দাবি করেও তার ‘সখিসঙ্গ’ দেখে মার্কিন দেশে আমাদের অবাক হতে হয়েছিল।
১৯৭২-১৯৭৫ সময়ে তার আত্মঘাতী বোলচাল, পনেরোই আগস্টের প্লট নির্মাণ ও একাত্তরের পরাজিত আলবদর রাজাকার শক্তিকে উত্থানে সহায়তা করেছিল। তাঁর সাথে নিউইয়র্কে আমার বেশ কয়েকদফা ত্বরিত বাতচিতের সুযোগ হয়েছিল।
একটি ঘটনা বলি।
নব্বই এর দশক। জুলাই মাস। আমেরিকায় সামার চলছে। পাতালরেল # ৪ এ উঠেছি। ১৪ স্ট্রিট ইউনিয়ন স্কোয়ারে। কামরা ভর্তি প্যাসেঞ্জার। ঢুকে দাঁড়াতেই দেখি আমার সামনেই বসে শুভ্রকেশী এক দরবেশ! তাঁর মুঠো চেপে ধরা এক ললনা!
বললাম—‘ইউ আর মি. খান, রাইট!’
..ইয়েস, এন্ড ইউ! বললেন তিনি
… আমি ইলিয়াস!
আমি শুরু করলাম..
‘আচ্ছা, দাদা এই যে আমেরিকায় এসে আপনি প্রশ্বাস নিচ্ছেন,
আমেরিকার লাল নীল জল খাচ্ছেন—আপনার লজ্জা করে না?
তিনি নিরুত্তর। আমি কথা বলেই চলেছি।
তিনি কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে থেকে, পরে কাঁধের ঝুলো থেকে টাইম ম্যাগাজিন বের করে তাতে ডুব দিলেন!
আমি পাগলের মতো প্রলাপ বকতেই থাকলাম। ট্রেন এসে ৫৯ স্ট্রিটে থামলো। আমি নেমে গেলাম।
নামার সময় বেশ জোরেই বললাম ‘ইউ আর জাস্ট এ হিপোক্র্যাট’
তিনি ব্রংক্সে যাবেন। সখিসহ তিনি ট্রেনেই থেকে গেলেন।
এর পরে আরও বেশ কয়েক দফা নিউইয়র্কে তাঁর সাথে দেখা হয়েছে। আড্ডায় তিনি এক্কেবারে নীরব থাকতেন।…
তিনি হাসপাতালের করিডোরের ফোন থেকে তাঁর মেডিক্যাল এপোয়েন্টম্যান্ট ও ইন্স্যুরেন্স কভারেজ বিষয়ে বাকবিত-া করছিলেন।
আহমেদ শিপলু, কবি ও লেখক
তিনি ছিলেন একজন ভ্রান্ত মতবাদী রাজনীতিক। যা বলতেন, ব্যক্তিজীবনে তা বিশ্বাস করতেন না। যা করতেন, তা ছিল তাঁর নিজের মতের সাথেই তীব্র সাংঘর্ষিক।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু যে দেশে জাতির পিতাকে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে প্রাণ দিতে হয়েছিল, সেই দেশে ৮২ বছর বেঁচেছিলেন মি. খান। জাতির পিতাকে হত্যা, সামরিক জান্তাদের পথ করে দেয়ার নেপথ্যে তাঁর ভূমিকা রহস্যজনক তো ছিল বটেই, কোনো প্রতিবাদই তাঁর ছিল না।
তাঁর আত্মা শান্তি লাভ করুক।
রহস্যপুরুষ, তাত্ত্বিক নেতা, সিরাজুল আলম খানের মৃত্যুতে শোক জানাই। তবে কিছু প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে গেলো!
তাপস চৌধুরী
গতকাল থেকে ফেইসবুকে ওনার জন্য অনেক জ্ঞানী ও গুনীজনের কান্না দেখে বিস্মিত হতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পটভূমি এনার হাতেই সৃষ্টি। কত হাজার হাজার মেধাবী তরুণকে অবলিলায় উনি বিপথে ঠেলে দিয়ে ওদের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন।
অথচ বিশেষণের উপর বিশেষণ দিয়ে ওনার কৃতকর্মের কালো দিকগুলোকে এরা ঢেকে দিচ্ছে।
সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ!!
বাংলাদেশের আজকের রাজনৈতিক জগাখিচুড়ি অবস্থার জন্য ওনার দায় কি উনি এড়াতে পারেন?
সবার আড়ালে থেকে উনি সত্য থেকে পালিয়ে ছিলেন।
একদিন ইতিহাসবিদরাই বাংলার ইতিহাসে ওনার স্থান নির্ধারন করবে।
আসলাম আহমেদ খান
রহস্যপুরুষ কেন? এটা কি প্রশংসাসূচক? পনেরোই আগস্টের পরে তাঁর কি উদ্যোগ ছিল? প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদেশে জাসদের দশ হাজার নেতাকর্মী জেলে যাবার পরে, তিনি জিয়ার বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন করেছিলেন? হাসানুল হক ইনু, আ স ম আবদুর রব, মেজর জলিল, মেজর জিয়াউদ্দিনদের জেল হয়ে গেলে উনি কী করেছিলেন? তাহেরের ফাঁসি ঠেকাতে কী করেছিলেন? কেন শুধু মুজিবের আমলেই আন্দোলনে দৃশ্যমান ছিলেন, পরে কেন তিনি নেপথ্যে চলে গেলেন? জাসদের সব আন্দোলন কি মুজিব সরকারের বিরুদ্ধেই ছিল? ৪০ বছর কেন মিডিয়ার সামনে আসননি? মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা করে, সেই দেশেই কেন এতকাল কাটালেন?
আর কয়েকটি কথা বলেই লেখাটি শেষ করতে চাই, তা হলো ৭ নভেম্বরের ঘটনা, সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আনুকূল্য এরপর আর এক সামরিক শাসক স্বৈরাচারী এরশাদের সাথে হাত মিলানো ছাড়া সিরাজুল আলম খানের রাজনীতিতে আর কোন উল্লেখ করবার মতো ভূমিকা কি কেউ দেখেছে কখনো। বর্তমানে আ.স.ম রবসহ জাসদের ক্ষুদ্র একটা অনুসারী রাজনীতির এ ব্যর্থ খলনায়ককে গুরু মনে করেন। আ.স.ম রব অকপটে বলেছেন, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সময় থেকে আজ পর্যন্ত দাদার নির্দেশের বাইরে এক পাও তিনি ফেলেন নাই এবং দাদা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন তাঁর নির্দেশমতোই তিনি পরিচালিত হবেন।
সেই দাদার নির্দেশেই কি তবে পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে শোকাবহ হত্যাকাণ্ডের আগে রবসহ জাসদ কর্মীরা শ্লোগান দিয়েছিল, ‘মুজিব, মণি, মোজাফফর, বাংলার মীর জাফর’। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর দলের সাথে বেঈমানী বিশ্বাসঘাতকতা করে সিরাজুল আলম খান ও জাসদই বাংলাদেশের ইতিহাসে মীর জাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।
সিরাজুল আলম খান তথা কর্নেল তাহের, মেজর জলিল, রব ও ইনু এবং জাসদের অন্যান্য নেতারা বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বাস্তবায়ন করতে যেয়ে জাসদের অনেক নেতা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা তাদের হিসাবে ৩০ হাজার। এ লক্ষ্যে তাঁরা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যে নজিরবিহীন অরাজকতা, গুম, খুন ডাকাতিসহ এমন কোনো নাশকতা নেই যা তারা করেননি। জীবন সায়াহ্নে মৃত্যুর আগে ‘আমি সিরাজুল আলম খান’ শিরোনামে একটি একটি গ্রন্থ লিখেছেন তিনি। পুরো গ্রন্থটিতে তিনি তাদের অরাজকতা, নিহত জাসদের নেতা কর্মীদের এত প্রাণ হারানোর বিষয়ে একটি লাইনেও উল্লেখ করেননি তাই, গ্রন্থটিকে আমার কাছে শেষ সময়ের ভন্ডামী বলেই মনে হয়েছে।
মাহবুবুল আলম : কবি-কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও গবেষক।





Users Today : 87
Views Today : 88
Total views : 177491
