ভারত-মিয়ানমার সামরিক সম্পর্ক,ভারত সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে মিয়ানমার নৌবাহিনীকে তার ব্যবহৃত একটি রাশিয়ার তৈরি পুরাতন কিলোক্লাস সাবমেরিন সরবরাহ করেছে। সেই সাথে মিয়ানমার নৌবাহিনীকে সাবমেরিন পরিচালনায় সক্ষম করার জন্য প্রশিক্ষণও দিবে। বাংলাদেশ যখন কয়েক বছর পূর্বে চীন থেকে দুটি মিংক্লাস সাবমেরিন ক্রয় করেছিল, তখন সবার আগে আমাদের পরম মিত্র ভারত প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ভারতের বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের কোনো সাবমেরিনের প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ আমাদের নৌবাহিনীতে সাবমেরিনের সংযোজনকে ভারত মেনে নিতে পারেনি। তখন থেকে প্রতিবেশী মিয়ানমারকে বাংলাদেশের সাবমেরিন যেন ধ্বংস করা যায় সে জন্য শ্রেয়া সাবমেরিন বিধ্বংসী টর্পোডো সরবরাহ করেছে। এই টর্পেডো পাওয়ার পর মিয়ানমার নৌবাহিনীর মনোবল অনেকটাই বেড়ে গেছে। বন্ধু দেশের পিঠে কীভাবে ছুরি মারতে হয় তা সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ হচ্ছে ভারত। যারাই ভারতের সাথে বন্ধুত্ব করেছে তাদের পিঠেই ভারত ছুরিকাঘাত করেছে। গত কয়েক মাস আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান ভারত সফরে এসেছিলেন, তখন তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, অথচ মিয়ানমার সেনা প্রধান ইউরোপ-আমেরিকার কোনো দেশে প্রবেশ করতে পারেন না একজন কালো তালিকাভূক্ত ব্যক্তি হিসেবে। বাংলাদেশে ৮ লক্ষের বেশি মিয়ানমারের বৈধ রোহিঙ্গা নাগরিকরা যখন প্রবেশ করেছিল তখন অনেক বন্ধুদেশ প্রতিবাদ জানালেও ভারতের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। কোনোভাবেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমালোচনা করতে ভারত প্রস্তুত ছিল না। তার কারণ বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারত সবসময় মিয়ানমারকে ব্যবহার করেছে। অথচ আমরা ভারতকে আমাদের নিকট প্রতিবেশী বন্ধু হিসেবেই জানি।
চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইসরাইল মিয়ানমারকে সমরাস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। সেকারণে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন মনে করছে না। ইসরাইলী নৌ বাহিনী মিয়ানমার নৌবাহিনীর জন্য দুটি ফ্রিগেট নির্মাণ করছে। ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ মিয়ানমার সেনা গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া মিয়ানমার বিমানবাহিনীকে মিগ-২৯ ও এসইউ-৩০ জঙ্গিবিমান সরবরাহ করেছে। চীন মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে শত্রুপক্ষের সবধরনের জঙ্গিবিমান, মিসাইল, হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম মিসাইল ও রাডার সরবরাহ করেছে। পাকিস্তান মিয়ানমার বিমান বাহিনীকে জে-১০ জঙ্গিবিমান দিয়েছে। এর ফলে মিয়ানমার বাংলাদেশকে দুর্বল ভাবার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের নৌবাহিনীর চৌকস ও দক্ষ সাবমেরিনাররা যারা ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণের সাথে সাথেই শত্রুপক্ষের যেকোনো সাবমেরিন মোকাবেলা করতে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। যেটা সম্ভবত মিয়ানমার নৌবাহিনীর জানা নেই। খুব শীগ্রই আমাদের নৌবাহিনীতে ব্রিটেনের তৈরি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ব্ল্যাক ক্যাট সাবমেরিন বিধ্বংসী হেলিকপ্টার সংযোজিত হবে, এর ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে যেকোনো দেশের সাবমেরিন শনাক্তকরণ ও তা ধ্বংস করতে সামর্থ লাভ করবে। আমাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনী শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত হোক এটা ভারত বা মিয়ানমার কোনোদিনই মানতে পারে না। তারপরও আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। ইতিমধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিবেচনায় নেয়া উচিত। পঞ্চম প্রজন্মের জঙ্গিবিমান দিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে সাজানো উচিত, তার ফলে আকাশপথ আমাদের নিরাপদ থাকবে। এছাড়া নৌবাহিনীতে উপকূল রক্ষীবিমান ও মিসাইল সজ্জিত ফ্রিগেটের খুব বেশি প্রয়োজন, তাহলে প্রতিবেশী মিয়ানমারের যেকোনো হামলাকে মোকাবেলা করা সম্ভব।
লেখক পরিচিতি: সমরাস্ত্র বিশ্লেষক।





Users Today : 8
Views Today : 10
Total views : 175514
