• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
শুক্রবার, মে ১, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

বিশেষ নিবন্ধ ● আদর্শ বাবা ○ মনিকা বিশ্বাস

বিশেষ নিবন্ধ ● আদর্শ বাবা ○ মনিকা বিশ্বাস

Admin by Admin
জুন ১৬, ২০২৫
in প্রচ্ছদ, মতামত
0 0
0
বিশেষ নিবন্ধ ● আদর্শ বাবা ○ মনিকা বিশ্বাস
0
SHARES
32
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

RelatedPosts

আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

বিশেষ নিবন্ধ ● রক্ত ▌ পাস্টর এএম চৌধুরী

বিশেষ নিবন্ধ ● না চিনি আমার প্রকৃত ঈশ্বর, না চিনি আমার প্রতিবেশী ▌ডা. অলোক মজুমদার

২০১০ সালে আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। তারপরে একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছে । বাবার এই জায়গাটা অপূরণীয়ই থেকে গেছে। বাবা ছিলেন আমার জীবনের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ । তিনি আমার কাছে একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন । তার ভিতরে কোনো ঘোর-প্যাঁচ ছিল না। তিনি সরলকে সরলভাবেই মেনে নিয়েছেন এবং তাকে কেউ কটু কথা বললেও তিনি তা কখনো গায়ে মাখেননি। সব সময় তিনি আমার বায়না শুনেছেন এবং তার সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি তা পূরণ করার চেষ্টা করেছেন। কখনো তিনি তা না করেননি, সব কাজে তিনি আমাকে সাহায্য করেছেন। ছোটবেলায় বাবার যখন হাতে পয়সা থাকতো, আমাদেরকে হোটেলে নিয়ে যেত, নিয়ে গিয়ে মিষ্টি আর রুটি কিনে খাওয়াতো । আজ আর বাবা নাই, বাবার কথা খুব মনে পড়ে। বাবা যখন শেষবার চলে যায়, তখন আমি কাঁদতে পারিনি। কেন কাঁদতে পারিনি আমি জানি না। কিন্তু মানুষকে তো দেখি হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকে, আমি পারিনি। কিন্তু এখন যখন আমি নীরব থাকি, বাবার কথা স্মরণ করি, মনে পড়ে সেই ফেলে আসা দিনগুলি, তখন চোখ দিয়ে অশ্রু এমনি, এমনিই ঝরতে থাকে অবিরাম। আসলে যারা প্রিয় বাবাকে হারিয়েছেন, তারাই বুঝতে পারেন, তাদের জায়গা কেউ পূরণ করতে পারে না, অপূরণীয়ই থেকে যায়। আমি জানি , আবার বাবার সাথে দেখা হবে । এখন আমার আর এক বাবা আছে, তিনি আমার স্বর্গস্থ পিতা ।তিনি সবসময় আমাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন , শাসন করছেন, সাহায্য করছেন, পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
বাবা দিবস (Father’s Day) হলো একটি বিশেষ দিন, যা পিতৃসত্ত্বার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য উদযাপন করা হয়। এদিনে সন্তানেরা তাদের বাবাকে সম্মান জানায়, উপহার দেয়, এবং সময় কাটায়।
বাবা দিবসের উৎপত্তি যুক্তরাষ্ট্রে, ২০শ শতকের গোড়ার দিকে। এর পেছনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল সোনোরা স্মার্ট ডড নামক এক নারীর, যিনি ১৯০৯ সালে ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরে বসবাস করতেন।
সোনোরা স্মার্ট ডড তার বাবাকে খুব সম্মান করতেন। তার বাবা, উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট, একজন একক পিতা হিসেবে ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন, কারণ তাদের মা মারা যান।
মা দিবসের মতো একটি দিন বাবাদের জন্যও থাকা উচিত—এই চিন্তা থেকে সোনোরা ১৯১০ সালে প্রথম ‘‘ফাদার্স ডে’’ পালনের উদ্যোগ নেন।
১৯১০ সালের ১৯ জুন, স্পোকেনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালিত হয।
১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বাবা দিবসকে একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।
এরপর থেকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাবা দিবস পালন শুরু হয়, যদিও তারিখটি দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে।

বাবা দিবসের তাৎপর্য:
বাবা সন্তানের জীবনে যে ত্যাগ, পরিশ্রম ও দায়িত্ব পালন করেন, তা স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।এই দিনটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করে, বিশেষ করে বাবা ও সন্তানের মধ্যে। পিতা শুধু পরিবারে নয়, সমাজেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই দিন সেই ভূমিকাকে সামনে আনে।
বাংলাদেশসহ অনেক দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার ‘‘বাবা দিবস’’ হিসেবে পালিত হয় ।
বাইবেলে অনেক পিতা আছেন যাঁরা ঈশ্বরভক্ত, ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল ছিলেন। তাঁদের জীবন ও আচরণ থেকে আমরা আদর্শ পিতার গুণাবলি শিখতে পারি।
নিচে বাইবেলের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ভালো বাবার পরিচিতি ও তাঁদের কাজ তুলে ধরা হলো:

আব্রাহাম:
ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যে ছিলেন। বিশ্বাসের পিতা হিসেবে পরিচিত।
ঈশ্বরের আদেশে নিজের প্রিয় পুত্র ইসহাককে বলি দিতে প্রস্তুত হন (পরীক্ষা হিসেবে)। তিনি তাঁর পরিবারকে ঈশ্বরের পথ অনুযায়ী পরিচালনা করতেন। তাঁর বিশ্বাস ও আনুগত্যের কারণে ঈশ্বর তাঁকে আশীর্বাদ করেন।(আদি:২২:১-১৯পদ)।

ইসহাক:
অব্রাহামের পুত্র; যাকোব ও এষৌ-এর পিতা। ঈশ্বর আব্রাহামের ১০০ বছর বয়সে এই সন্তানকে দিয়েছিলেন এবং সারার বন্ধ্যাত্ব তিনি ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে বহু জননীর মাতা করে ছিলেন। ইসহাক শান্ত ও ধার্মিক স্বভাবের ছিলেন। পিতার উত্তরাধিকার ধরে রাখেন ও ঈশ্বরের প্রতি অনুগত ছিলেন। তিনি ৪০ বছর বয়সে অরামীয় বথুয়েলের কন্যা অরামীয় লাবনের বোন রিবিকাকে বিবাহ করেছিলেন । কিন্তু রিবিকা বন্ধ্যা ছিলেন ।তারপরে ইসহাক তাঁর স্ত্রীর জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং রিবিকা সন্তান লাভ করেছিলেন (আদি:২৫:১৯-২৫পদ)।

যাকোব (ইসরায়েল):
ইসরায়েল জাতির পিতা; ১২ ছেলের পিতা, যাঁরা ১২ গোত্রের জনক।কঠিন সময়েও পরিবারের দায়িত্ব পালন করেন।যোসেফকে বিশেষভাবে ভালোবাসতেন, যদিও তা পরিবারে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছিল।
শেষ বয়সে সন্তানদের আশীর্বাদ করেন ও ভবিষ্যদ্বাণী করেন। তিনি ঈশ্বরের এবং তাঁর পিতার প্রতি আনুগত্য ছিলেন। (আদি:২৮-৫০অধ্যায়)।

যোষেফ ( “সে বৃদ্ধি করবে”) :
তাঁর পিতা ছিলেন যাকোব (ইসরায়েল)। মা রাহেলা। তিনি তাঁর বাবার প্রিয় স্ত্রী ছিলেন। তারা মোট বার ভাই ছিলেন এবং তিনি ছিলেন ১১ তম। তাঁর বাবা যাকোব তাঁকে খুব ভালবাসতেন। কারণ তিনি ছিলেন তাঁর বাবার প্রিয় স্ত্রীর সন্তান। তাঁর বাবা তাঁকে বেশি ভালবাসতেন বলে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে হিংসা করত। যাকোব যোসেফকে ভালোবেসে এক বিশেষ রঙিন জামা উপহার দিয়েছিলেন। (coat of many colors) (আদি: ৩৭:৩)।
যোসেফ কিছু স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে তাঁর ভাইয়েরা এবং এমনকি পিতা-মাতাও তাঁকে নতজানু হচ্ছেন—এটি ভাইদের মধ্যে ঈর্ষা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সেজন্য তার ভাইয়েরা তাকে একসময় বণিকদের কাছে তাকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন, উপরন্ত তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে হত্যা করতেও চেয়েছিলেন। তারপর বণিকেরা যোষেফকে মিশরের পটিফারের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি করে দেন। (আদি:৩৭:২৮পদ)।
মিশরে প্রতিফরের বাড়িতে জোসেফ একজন বিশ্বস্ত তাস হিসেবে দায়িত্বশীল থাকলেও একটু পরের স্ত্রীর লোলুপ দৃষ্টির কারণে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়। সেখানে ঈশ্বরের সহায়তায় তিনি তাঁর মর্যাদা পান এবং ঈশ্বরের দেওয়া তালন্ত স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রতিভা তিনি দেখান।
যোষেফ ফৌরনের দুটি জটিল স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন, যেখানে কেউ সেই স্বপ্নের অর্থ বলতে পারেননি । তিনি সেই অর্থ বলে দেওয়ার কারণে ফৌরন থাকে মিশরের প্রধানমন্ত্রী (second-in-command) হিসেবে নিযুক্ত করেন (আদি:৪১অধ্যায়)
যোষেফের স্বপ্নের ব্যাখ্যা অনুসারে সাত বছর দুর্ভিক্ষ হবে আর সেই দুর্ভিক্ষের সময় যাকোব তাঁর ছেলেদের মিশরে খাদ্য আনতে পাঠান।যোসেফ তাঁদের চিনে ফেলেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন না। পরে ভাইদের পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের অনুশোচনার সত্যতা যাচাই করেন।
অবশেষে তিনি নিজ পরিচয় জানান এবং পরিবারকে মিশরে এনে স্থায়ী করেন। ভীষণ কষ্টে থেকেও তিনি ঈশ্বরের প্রতি আস্থা এবং ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল কিন্তু তাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে তিনি দুর্ভিক্ষের সময় মিশরের লোকদেরকে অন্যান্য জাতিকে এবং নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
মিশরের পটি পরের স্ত্রীর প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে তিনি তাঁর পবিত্রতা রক্ষা করেছিলেন এবং নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
যোসেফ তাঁর ভাইদের অনুরোধ করেছিলেন তাঁর মরদেহ যেন পরে কনান দেশে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়।তাঁর মৃরদেহ পরবর্তিতে মোশি কনানে নিয়ে যান ।
যোসেফের জীবন একটি পরিপূর্ণ উদাহরণ যে, কষ্ট, বিশ্বাসঘাতকতা ও দুঃখের মধ্যেও ঈশ্বরের পরিকল্পনা সবসময় মঙ্গলময়। তাঁর কাহিনি একাধারে অনুপ্রেরণাদায়ক, শিক্ষা এবং ঈশ্বরের প্রভুত্বের প্রমাণ।

যোসেফ (মরিয়মের স্বামী):
যীশু খ্রিস্টের পালক পিতা।
ঈশ্বরের নির্দেশ মেনে মরিয়মকে বিয়ে করেন এবং যীশুর যত্ন নেন।
যোষেফ নম্র, ন্যায়পরায়ণ ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। পরিবারের নিরাপত্তার জন্য মিশরে পালিয়ে যান এবং পরে আবার ফিরে আসেন।
তিনি দায়ূদের বংশধর ছিলেন, যা যীশুর রাজকীয় উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা করে (মথি ১:১-১৬)।
তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ ও ঈশ্বরভক্ত ব্যক্তি । মথি ১:১৯পদে যোষেফকে ‘‘ধার্মিক ব্যক্তি’’ বলা হয়েছে।যখন মরিয়ম গর্ভবতী হন, তখন যোসেফ প্রথমে গোপনে তাঁকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, কারণ তিনি মরিয়মকে অপমান করতে চাননি। ঈশ্বরের নির্দেশ মান্যকারী ছিলেন তিনি। কারণ ঈশ্বর স্বপ্নে একজন স্বর্গদূতের মাধ্যমে যোষেফকে বলেন, মরিয়মের গর্ভে সন্তান পবিত্র আত্মা দ্বারা হয়েছে এবং তাঁর নাম হবে ‘‘যীশু’’ (মথি ১:২0-২১পদ)। যোষেফ নির্দ্বিধায় সেই আদেশ মেনে নিয়েছিলেন এবং মরিয়মকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছ।
পরিবারের রক্ষক ও পিতা হিসেবে হেরোদ রাজা যখন শিশুটিকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তখন স্বর্গদূতের আদেশ পেয়ে মিশরে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ও শিশু যীশুকে নিয়ে মিশরে গিয়েছিলেন (মথি ২:-১৩-১৫পদ)। হেরোদ মারা গেলে তিনি আবার ঈশ্বরের আদেশে ইস্রায়েল দেশে ফিরে এসেছিলেন এবং নাসরতে বসবাস করতে শুরু করেন। বাইবেল অনুযায়ী তিনি ছিলেন একজন ছুতোর/কাঠ মিস্ত্রি (১৩:৫৫পদ) তিনি যীশুকেও তার এই কাজ শিখিয়েছিলেন। যেটা পিতা হিসেবে তাঁর পারিবারিক কর্তব্য ছিল। তিনি ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য ছিলেন এবং ঈশ্বরের প্রত্যেকটি কথার গুরুত্ব তিনি দিয়েছিলেন। তিনি পরিবারকে রক্ষা করার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তিনি নীরবে তাঁর ভূমিকা পালন করেছিলেন যদিও বা বাইবেলে তার কথার কোন উদ্ধৃতি দেওয়া নাই কিন্তু তাঁর কাজেই তাঁর গুণের প্রকাশ পেয়েছে।তিনি যীশুর পালক পিতা হিসেবে একজন আদর্শ পিতা ছিলেন। তিনি তাঁর দায়িত্ব কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন।বাইবেল যোষেফের মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার উল্লেখ করে না। তবে ধারণা করা হয়, যীশুর প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে তিনি আর জীবিত ছিলেন না। কারণ যীশুর ক্রুশবিদ্ধকালে যোষেফের অনুপস্থিতি এবং যীশু তাঁর মাকে অন্যের দায়িত্বে রেখে গিয়েছিলেন (যোহন ১৯:২৬-২৭) পদ।
যোষেফ একজন নিঃশব্দ নায়ক। যিনি ঈশ্বরের পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন, যদিও তাঁর উপস্থিতি ছিল শান্ত ও অপ্রকাশ।

ইয়োব :
ধৈর্য ও ধার্মিকতার প্রতীক; সাত ছেলে ও তিন মেয়ের পিতা। নিয়মিত ঈশ্বরের কাছে সন্তানদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেন। ইয়োব জীবন ছিল পূর্ণ ও ধার্মিকতা পূর্ণ একটি জীবন । তার সমাজের মধ্যেও তিনি ঈশ্বর ভক্ত, সম্মানিত নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন সফল সম্পদশালী এবং অভাবীদের প্রতি উদার। তিনি স্বামী হিসেবে সুখী ছিলেন এবং একজন গর্বিত পিতা ছিলেন । প্রায়ই তাদের পরিবার আনন্দ ভোজের জন্য একত্রিত হতেন। তিনি নিয়মিতভাবে নিজের এবং তাঁর পরিবারের জন্য ঈশ্বরের কাছে হোম বলি উৎসর্গ করতেন । তিনি প্রত্যেকটি আত্মিক উন্নতির ব্যাপারে গভীরভাবে মনোযোগী ছিলেন। তিনি ও তাঁর বন্ধুরা ধার্মিক ছিলেন এবং তারা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন । ইয়োব একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন।। চরম দুঃখ-কষ্টেও ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস হারাননি। তিনি সমস্যা ,আক্রমণ, দুর্যোগ, ক্ষতি, দুঃখ- কষ্ট, যন্ত্রণা, অসন্মান, একাকিত্ব , হতাশা, অশ্রদ্ধা, বিষণ্নতা, সন্তান হারানোর বেদনা ইত্যাদি সহ্য করেছেন। হঠাৎ করে একের পর এক আসা সবগুলো বিপদ ভোগ করেছেন। (ইয়োব :১;১৩-১৯পদ)। তিনি ঈশ্বরের ইচ্ছার উপরে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। তিনি মনের দুঃখে তার কাপড় চিনলেন এবং মাথা কামিয়ে ফেললেন তারপর যদিও তিনি গবেষ কাহত ছিলেন তবুও তিনি ঈশ্বরের গৌরব করলেন (ইয়োব:১:২০-২২পদ)। ‘‘আর কহিলেন, আমি মাতার গর্ভ হইতে উলঙ্গ আসিয়াছি, আর উলঙ্গ সেই স্থানে ফিরিয়া যাইবো, সদাপ্রভু দিয়েছিলেন, সদাপ্রভু লইয়াছেন, সদাপ্রভুর নাম ধন্য হোক। এই সকলেতে ইয়োব পাপ করিলেন না, এবং ঈশ্বরের প্রতি অবিবেচনার দোষারোপ করিলেন না।’’
তাঁর বন্ধুরা তাঁকে দোষারোপ করলো, তাঁর ধার্মিকতার বিরুদ্ধে কথা বলল । সমস্ত ভাবে তাঁকে তারা আক্রমণ করল, তাঁকে অপমানিত করল। কিন্তু তারপরেও তিনি সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করেছিলেন।
এত কষ্টের মধ্যে তাঁর স্ত্রী তাঁকে যখন তিরস্কার করছিল, তাঁকে বলছিল এখনো কি তুমি তোমার সিদ্ধতা রক্ষা করবে? ঈশ্বরকে জলাঞ্জলি দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করো। এ যে গভীর ক্ষত , কিন্তু তিনি তাঁর স্ত্রীকে মুখ্য জবাব দিয়েছিলেন ‘‘তুমি একটা মূঢ়া স্ত্রীর মতো কথা বলছো। বল কি? আমরা ঈশ্বর হতে কী মঙ্গলই গ্রহণ করব, অমঙ্গল গ্রহণ করব না? এই সকলেতে ইয়োব আপন ওষ্ঠাধরে পাপ করলেন না ’’ (ইয়োব:২:১০পদ)।
শেষে ইয়োব ঈশ্বরকে গভীরভাবে উপলব্ধি করলেন । তিনি ঈশ্বরের কথা শুনতে পেলেন । তিনি বুঝলেন ঈশ্বর সবকিছু সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করেছেন, যার মধ্য তাঁর অবস্থাও রয়েছে । তিনি তখন উপলব্ধি করলেন যে, ঈশ্বর তাঁর কল্পনার চেয়েও আরো বেশি মহান। তিনি ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং সবকিছু ধরে রাখার অসীম জ্ঞানের উপর বিশ্বাস করলেন । আর তাই তিনি তাঁর দুঃখ কষ্টের সময়ে ঈশ্বরের অসীম জ্ঞানের উপর নির্ভর করলেন। তিনি এখন বুঝতে পেরেছেন ঈশ্বর একান্তভাবে তাঁর যত্ন নিয়েছেন । এখন তিনি জেনেছেন, তিনি ঈশ্বরের উপর আরো বেশি নির্ভর করতে পারবেন। ‘‘পূর্বে তোমার বিষয়ে কর্ণ শুনিয়েছিলাম কিন্তু সম্প্রতি আমার চক্ষু তোমাকে দেখিল এই নিমিত্ত আমি আপনাকে ঘৃণা করিতেছি ধুলায় ও ভস্মে বসিয়া অনুতাপ করিতেছি’’ (ইয়োব:৪২:৫-৬ পদ)। ঈশ্বরের কাজ ও তাঁর কথা শুনে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ঈশ্বরকে বললেন, ‘‘আমি জানি তুমি সকলই করিতে পারো, কোনো সংকল্প সাধন তোমার অসাধ্য নয়’’ (ইয়োব:৪২:২পদ)। ঈশ্বর সর্বক্ষমতার অধিকারী। আর সেই সত্যটি ভীষণ দুঃসময়েও শান্তি আনতে পারে। আমরা জানি ইয়োবের জীবনের এই মহাপরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে , ঈশ্বর আবার তাঁকে তাঁর ধন-সম্পদ, ছেলে-মেয়ে, সম্মান, এবং দীর্ঘ আয়ু দিয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করেছিলেন, এবং তিনি যা হারিয়েছিলেন তার থেকে আবার তার দ্বিগুণ ফেরত পেয়েছিলেন।
পরিশেষে বলতে চাই, এই পিতারা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ও অবস্থায় ঈশ্বরের পথ অনুসরণ করে তাঁদের পরিবারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমরা জানি আমাদের পিতারাও সব সময় চেষ্টা করেন যেন তাঁর সন্তানদের জন্য যথাসাধ্য ভালো কিছু করতে পারেন এবং তারা তা করেন। বিশ্বের প্রতিটি বাবা শান্তিতে থাকুক, ভালো থাকুক এই কামনা করি।

Previous Post

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু

Next Post

সরকারি প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে আছে মামলাজটে

Admin

Admin

Next Post
সরকারি প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে আছে মামলাজটে

সরকারি প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে আছে মামলাজটে

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 3 5 6 8 1
Users Today : 112
Views Today : 122
Total views : 177373
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In