শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি জন্মেছিলেন ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই মার্চ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়, গোপালগঞ্জের মাটিতেই বেড়ে উঠেছিলেন। জাতির জনকের পড়াশোনার ভিত পাকা হয়েছিলো খ্রিষ্টিয়ান মিশন পরিচালিত স্কুলে। আর এখানেই তার হৃদয়কে আরো সহজ-সরল, মানবতাবোধ, মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব, প্রতিবেশির মঙ্গল সাধনে দীক্ষিত হয়েছিলেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষের প্রাণের মানুষে পরিণত হয়েছিলেন, রয়েছেন ভালোবাসার মণিকোঠায়। খ্রিষ্টান মিশন বিদ্যালয়ের পক্ষে ন্যায্য দাবি উত্থাপন করতে গিয়ে কারাবরণ করেছেন। ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে প্রথম রাজবন্দি হন। তখন প্রধানমন্ত্রী শেরে এ কে ফজলুল হক ও শিক্ষামন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী গোপালগঞ্জ সফরে আসছিলেন। তাদের সফরসূচি পণ্ড করার ব্যবস্থা নেয় কংগ্রেস। শেখ মুজিব কংগ্রেসের উদ্যোগকে প্রতিহত করতে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। তিনি সাতদিনের জন্য জেল খাটেন। এরপর দেখি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে গোপালগঞ্জে মিশন স্কুলে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেবার কারণে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তি পান।
জাতির যে শ্রেষ্ঠ সন্তান স্বাধীনতা এনে দিয়ে বাঙালির মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন, তাঁকেই ১৯৭৫ সালের ১ই আগস্ট এই দিনে সপরিবার হত্যা করে জাতিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন জীবনকালব্যাপী। তাঁর ভাষণগুলো, বাণীগুলো, বক্তব্যগুলো বিশ্ববাসীকে শান্তি, সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় জাগ্রত ও পথ দেখাতে পারে। আজ পনেরই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির জনকের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যে বাণী-বক্তব্য তুলে ধরা হলো—
১। ‘…আপনাদের মন হইতে মেজরিটি ভয় দূর করিয়া সে স্থলে ভ্রাতৃত্ব ও সমতাবোধ সৃষ্টির জন্য উভয় অঞ্চলে সকল বিষয়ে সমতা বিধানের আশ্বাসে আমরা সংখ্যাগুরুত্ব ত্যাগ করিয়া সংখ্যাসাম্য গ্রহণ করেছিলাম (ইত্তেফাক, ১৯-২০, ১৯৬৬)।
২। ‘…ন্যায্য দাবির সংগ্রামের বিরুদ্ধে আজকের সরকারের মতো অতীতের বহু সরকার হীনতম প্রচারণা চালাইয়াছে; কিন্তু তাহাতে কোন ফলোদয় হয় নাই। ন্যায্য দাবি চিরকালই প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। এবারও আমাদের দাবি যদি ন্যায্য হয়; কুটিল প্রচারণায় এ দাবি দাবাইয়া দেওয়া যাইবে না। সংগ্রাম এবং তীব্রতর সংগ্রামের দ্বারাই আমরা দাবি আদায় করিয়া লইব (ইত্তেফাক ২০ মার্চ, ১৯৬৬)।
৩। ‘…আমরা শান্তিপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করিব। …পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনসাধারণের মধ্যে পারস্পারিক সমঝোতা সৃষ্টি এবং দুই প্রদেশের জনসাধারণকে সুখী ও সমৃদ্ধিশালী করিয়া গড়িয়া তোলার মধ্যেই পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি নিহিত আছে (ইত্তেফাক ২১ মার্চ, ১৯৬৬)।
৪। ‘…আমাদের সংগ্রাম শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রাম (ইত্তেফাক ২৮ মার্চ, ১৯৬৬)।
৫। ‘…আমি তাসখন্দ ঘোষণাকেও সমর্থন করিয়াছিলাম। কারণ আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান অগ্রগতির জন্য বিশ্ব শান্তিতে আস্থাবান। আমরা বিশ্বাস করি যে, সকল আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মীমাংসা হওয়া উচিত (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুুদ্ধ: দলিলপত্র দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা-৩৫৯-৩৬৩)।
৬। ‘…শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে সফল করার পূর্বশর্ত। …ঠিক তেমনি মুহুর্তের জন্য উচ্ছৃঙ্খলতার প্রশ্রয় দেওয়ারও কোন অবকাশ নাই (ইত্তেফাক ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯)।
৭। ‘…আমি জালেমকে ঘৃণা করি, মানুষকে ভালোবাসি, আজকের সংগ্রাম জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের সংগ্রাম। এই সংগ্রাম শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের (ইত্তেফাক ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯)।
৮। ‘…আমি আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন চাই, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচিত সার্বভৌম পার্লামেণ্ট চাই এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, চাকরি-বাকরি অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্ব পর্যায়ে জনসংখ্যার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব চাই। আমি শ্রমিকের শ্রমের ন্যায্যমূল্য চাই, কৃষকের উৎপন্ন দ্রব্যের উপযুক্ত মূল্য চাই, সাংবাদিকদের ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা চাই (ইত্তেফাক ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯)।
৯। ‘…আমি বামপন্থীও নই, কিংবা দক্ষিণপন্থীও নই, আমি আমার স্বদেশবাসীর স্বার্থের পক্ষে।…সকলের সহিত বন্ধুত্ব কাহারও সহিত শত্রুতা নয়—এই বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাসী (ইত্তেফাক ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯)।
১০। ‘…তিনি এমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী, যে সমাজতন্ত্র ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী নহে। …পবিত্র কোরানে মানবতার কল্যাণের শিক্ষাই প্রদত্ত হইয়াছে এবং উহাই সমাজতন্ত্র (ইত্তেফাক ১১ আগষ্ট, ১৯৬৯)।
১১। ‘…পূর্ব পাকিস্তানিরা আপসের মনোভাব লইয়া সংখ্যা সাম্য নীতি গ্রহণ করিয়াছিল কিন্তু সত্যিকার অর্থে এই নীতি কখনও কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় নাই। যতই দিন যাইতেছে দেশের এই দুই অংশের মধ্যে ততই বৈষম্যের ব্যবধান বৃদ্ধি পাইয়া চালিয়াছে (ইত্তেফাক ১২ আগস্ট, ১৯৬৯)।
১২। ‘…আমরা যাহা চাই তাহা হইতেছে ন্যায়বিচার, সমান অধিকার এবং উভয় অংশের জনসাধারণের জন্য কতিপয় সুযোগ-সুবিধা (ইত্তেফাক ১২ আগষ্ট, ১৯৬৯)।
১৩। ‘…বাঙালিরা কাউকে ঠকাইতে চায় না, ঠকিতেও চায় না। …পাঞ্জাবের পাঞ্জাবি, সিন্ধুর সিন্ধি, বেলুচিস্তানের বেলুচ, সীমান্তের পাঠান আর বাংলাদেশের বাঙালিদের লইয়াই গড়িয়া উঠিবে সুখী সমৃদ্ধ পাকিস্তানি মহাজাতি (ইত্তেফাক ৭ ডিসেম্বর, ১৯৬৯)।
১৪। ‘…সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ এবং বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাব্যাপী নির্যাতিত জনগণের যে সংগ্রাম চলছে, সে সংগ্রামে আমরা আমাদের সমর্থন জানিয়েছি (২৮ অক্টোবর ১৯৭০)।
১৫। ‘…নিজেদের প্রাণ দিয়েও যদি এদেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জীবনকে কণ্টকমুক্ত করতে পারি, আগামী দিনগুলোকে সকলের জন্য সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী করে তুলতে পারি এবং দেশবাসীর জন্যে যে কল্পনার নকশা এতদিন ধরে মনের পটে এঁকেছিলাম, সে স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণের পথ প্রশস্ত করে দুঃখের বোঝা যদি কিছুটাও লাঘব করে যেতে পারি, তাহলে আমাদের সংগ্রাম সার্থক হবে (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, দ্বিতীয় খ-, পৃষ্ঠা-৫৮১-৫৮৩)।
১৬। ‘…একটা বড় কথা বলিতে চাই, এদেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি অবশ্যই কায়েম করা হইবে। বড় লোককে আর বড়লোক হইতে দেওয়া হইবে না এবং গরিবকেও না খায়া মরিতে দেওয়া হইবে না। এই দেশ হইতে গরিব-শ্রমিক-কৃষক সর্বহারা মেহনতি মানুষের (আজাদ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
১৭। ‘…ইসলামী আদর্শেই আমি বলিতেছি, এই দেশে হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, মুসলমান সমান অধিকার নিয়েই থাকিবে (আজাদ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
১৮। ‘…শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। আমরা প্রতিবেশীদের সহিত সম্মানজনক সম্পর্ক গড়িয়া তুলিতে চাই (আজাদ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
১৯। ‘…ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে আমরা ভারত, গণচীন, আফগানিস্তান, রাশিয়া, বার্মা, নেপাল, ইরান প্রভৃতি সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সহিত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়িয়া তুলিব।… শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভারতের সহিত কাশ্মীর ও ফারাক্কা সমস্যার সমাধান সম্ভব হইবে (আজাদ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
২০। ‘…অস্ত্রের দিন ফুরাইয়া গিয়াছে। এখন ভালোবাসা আর মহব্বতের দিন। অস্ত্রই যদি সব করিতে পারিত, তাহা হইলে এতদিনে বিশ্বাস আপনাদের পদানত হইত। কিন্তু হয় নাই। (আজাদ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
২১। ‘…আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল আদর্শ হইতেছে, সকলের প্রতি মৈত্রী, কাহারও প্রতি দুশমনী নয়। আর সর্বপরি আমরা চাই বিশ্বশান্তি (আজাদ ৪ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
২২। ‘…আপনারা ভালোবাসা ও শান্তির অনেক গান গেয়েছেন। আজ বস্তির নিঃস্ব সর্বহারা মানুষের জন্য গান রচনার দিন এসেছে। রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের মতো বিপ্লবী গান গাইতে হবে। মানুষের মনে প্রেরণা যোগাতে হবে। যদি এতে বাধা আসে, সেই বাধা মুক্তির জন্যে ৭ কোটি বাঙালি এগিয়ে আসবে (আজাদ ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
২৩। ‘…বাংলার মানুষ মুসলমান নয়, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি নেই—এই ধরনের অভিযোগ দিয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে ২৩ বছর ধরে তাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। …’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন শুধু বাংলাভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায়ের আন্দোলন ছিল না, এই আন্দোলন ছিল বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলন (আজাদ ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭১)।
২৪। ‘…আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করব, এমনকি আমি এ-ও পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায্য করা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও, একজন যদিও হয়, তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব (ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ১৯৭১)।
২৫। ‘…এই বাংলার হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-নন বেঙলি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের উপরে, আমাদের উপরে, আমাদের যেন বদনাম না হয় (ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ১৯৭১)।
২৬। ‘…বাঙালিদের কী অপরাধ ছিল, বাঙালিরা সম্মানের সহিত জীবন নির্বাহ করিতে চাহিয়াছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের নিকট বাঙালিদের ইহাই ছিল অপরাধ (সংবাদ ১১ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
২৭। ‘…বিশ্ববাসীকে আমরা দেখাতে চাই, বাঙালিরা কেবল স্বাধীনতার জন্যেই আত্মত্যাগ করতে পারে, তাই না, তারা শান্তিতেও বাস করতে পারে (বাঙালির কণ্ঠ, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা)।
২৮। ‘…আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান। বাঙালিরা একবারই মরতে জানে। তাই আমি ঠিক করেছিলাম, আমি তাদের কাছে নতি স্বীকার করব না। ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা (বাঙালির কণ্ঠ, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা)।
২৯। ‘…ইসলামের অবমাননা আমি চাই না। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি বিশেষ কোন ধর্মভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এ দেশের কৃষক-শ্রমিক, হিন্দু-মুসলমান সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে (বাঙালির কণ্ঠ, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা)।
৩০। ‘…আমরা সকল দেশের সহিত শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের দেশ একটি ছোট দেশ। আমরা কোন দেশের শত্রু হইতে চাই না এবং কোন দেশ আমাদের শত্রু হইয়া থাকুক উহাও আমরা চাই না (সংবাদ ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
৩১। ‘…বাংলাদেশের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতন্ত্র। এর মধ্যে কোন হাঙ্কি-বাঙ্কি নাই। এ বাংলায় শোষকদের মাথা তুলতে দেওয়া হবে না (সংবাদ ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।
৩২। ‘…আমাদের দুদেশের মৈত্রী বন্ধন চিরস্থায়ী। কেননা, আমরা উভয়েই গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র—এ চারটি মূলস্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব হৃদয়ের, প্রয়োজনের নয় (সংবাদ ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।
৩৩। ‘…সব সময় পাকিস্তানের তিনটি শ্লোগান ছিল, ইসলাম খত্রা মে হ্যায় (ইসলাম বিপদাপন্ন), কাশ্মীর লে লেয়েঙ্গা (কাশ্মীর নিয়ে নেব) এবং হিন্দুস্তান হামারা দুশমন হ্যায় (হিন্দুস্তান আমাদের শত্রু)। কিন্তু তারা সমস্যাজর্জরিত জনসাধারণের প্রতি নজর দেননি। জনসাধারণ যে অনাহারে মরছে সেদিক নজর নেই (সংবাদ ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।
৩৪। ‘…আমি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করি না। আমি বলি পশ্চিম পাকিস্তান শাান্তিতে থাক (সংবাদ ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।
৩৫। ‘…আমাদের মিল আদর্শের মিল, নীতির মিল। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, আমিও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তিনি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, আমিও সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করি, শ্রীমতি গান্ধীও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করেন। আমরা উভয়েই ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী (সংবাদ ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।
৩৬। ‘…বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা নেই। অতীতে যখনই পূর্ববাংলা নিজেদের অধিকারের কথা বলেছে, তখনই সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানো হয়েছে। আমি ভারতের জনগণকে উপদেশ দিতে চাই না, আমি শুধু বলতে চাই, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে (সংবাদ ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২)।
৩৭। ‘…বাংলাদেশ ও সোভিয়েত জনগণ বিশ্বাশান্তি চায়। শোষণ মুক্তির জন্য উভয় জনতা সমাজতন্ত্র কায়েমের সংগ্রাম করেছে। … কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দুদেশের জনতা এগিয়ে এসেছে। ঘাতক দুশমনের কব্জা থেকে মুক্তির জন্য উভয় জনতা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে (সংবাদ ৫ মার্চ, ১৯৭২)।
৩৮। ‘…আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অভিজ্ঞতা বিশ্বব্যাপী ঔপনিবেশিকতা ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত মুক্তিপাগল জনতার চেতনাকে উদ্ভাসিত করিবে (ইত্তেফাক ২৭ মার্চ, ১৯৭২)।
৩৯। ‘…আমাদের পররাষ্ট্রনীতি জোট বহির্ভূত ও সক্রিয় নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে রচিত। বৃহৎ শক্তির আন্তর্জাতিক সংঘাতের বাহিরে আমরা শান্তিকামী। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতিতে বিশ্বাসী এবং প্রতিবেশীর সহিত সদ্ভাব সৃষ্টিতে আগ্রহী। দেশ গড়ার কাজে কেহ আমাদের সাহায্য করিতে চাহিলে তাহা আমরা গ্রহণ করিব। কিন্তু সে সাহায্য অবশ্যই হইতে হইবে নিষ্কটক ও শর্তহীন। আমরা জাতীয় সার্বভৌম ও সমস্ত জাতির সম-মর্যাদার নীতিতে আস্থাশীল। আমাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কেহ হস্তক্ষেপ করিবেন না, ইহাই আমাদের কামনা (ইত্তেফাক ২৭ মার্চ, ১৯৭২)।
৪০। ‘…সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হইল স্বাধীন সক্রিয় নিরপেক্ষতা, সকলের সহিত বন্ধুত্ব, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ এবং যুদ্ধচুক্তি বিরোধী। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বের নিপীড়িত মানুষ ও সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে সর্বদা সাহায্য করিবে (ইত্তেফাক ৮ এপ্রিল, ১৯৭২)।
৪১। ‘…দেশে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আর তার জন্যে এমন সংবিধান রচনা করতে চাই যাতে জনগণের অধিকার স্বীকৃত হবে এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকবে (দৈনিক বাংলা ১১ এপ্রিল, ১৯৭২)।
৪২। ‘…যে চারটি আদর্শের জন্য বীর শহীদেরা আত্মত্যাগ করেছেন, সেই চারটি আদর্শ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদই হবে আমাদের শাসনতন্ত্রের ভিত্তি (দৈনিক বাংলা ১১ এপ্রিল, ১৯৭২)।
৪৩। ‘…বাংলাদেশে কাহাকেও ধর্মের নামে রাজনীতি, ব্যবসায়, সম্পদ অর্জন ও জনসাধারণকে শোষণ করিতে দেওয়া যাইবে না (ইত্তেফাক ২৯ এপ্রিল, ১৯৭২)।
৪৪। ‘…ধর্মনিরপেক্ষতা বর্তমান সরকারের নীতি। …ইহার অর্থ এই নয় যে, কাহাকেও ধর্মীয় চর্চা করিতে দেওয়া হইবে না (ইত্তেফাক ২৯ এপ্রিল, ১৯৭২)।
৪৫। ‘…আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সমাজতন্ত্র কায়েম করা। এই ব্যবস্থায় দেশের সমুদয় উৎপাদিত ও প্রাকৃতিক সম্পদ কৃষক-শ্রমিক ও সর্বশ্রেণীর মানুষের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন করা হবে (সংবাদ ৩ মে, ১৯৭২)।
৪৬। ‘…আমরা এই শপথ গ্রহণ করি যে, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য আমরা অবিরাম সংগ্রাম করে যাব। এ দেশের চাষি, তাঁতী, কামার-কুমার, শ্রমিক ও মজলুম জনতার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা কাজ করব (সংবাদ ৩ মে, ১৯৭২)।
৪৭। ‘…বাংলাদেশে গণতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। গণতন্ত্র সমাজতন্ত্রের পাশে থাকবে (সংবাদ ৭ মে, ১৯৭২)।
৪৮। ‘…শোষক ও সমাজবিরোধীদের স্থান বাংলাদেশে নেই। সব ধরনের নির্যাতন, অবিচার আর শোষণের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটেছে। যারা এগুলো বহাল রাখতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে (দৈনিক বাংলা ২৮ জুন, ১৯৭২)।
৪৯। ‘…জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এ চার রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি আস্থা দেখে তারা জনগণের সেবার জন্য প্রস্তুত থাকবে। …রাষ্ট্রের সার্বিক ক্ষমতার অধিকারী হলো জনগণ (দৈনিক বাংলা ৬ জুলাই, ১৯৭২)।
৫০। ‘…নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া বিশেষ কোন জাতিই তাদের মহত্ত্ব অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা একান্তভাবে প্রয়োজন। নিয়মানুবর্তিতা ছাড়া জাতির ঐক্য-সংহতি বিপন্ন হতে পারে (দৈনিক বাংলা ৬ জুলাই, ১৯৭২)।
৫১। ‘…আমরা ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায়ও বিশ্বাস করি (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, বর্ধিত সংস্করণ ১৫ আগস্ট, ২০০০)।
৫২। ‘…জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চারটি আদর্শের ভিত্তিতে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি এবং এইসব আদর্শের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, এটাও আপনারা নিশ্চয়ই বিশ্বাস করেন। আমরা এই চারটি আদর্শের ভিত্তিতেই দেশের শাসনতন্ত্র তৈরি করতে চাই (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, বর্ধিত সংস্করণ ১৫ আগস্ট, ২০০০)।
৫৩। ‘…রাতারাতি একটা কাগজ বের, বৈদেশিক সাহায্য নিয়ে কেউ যদি বাংলার বুকে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে, তাহলে আপনারা নিশ্চয়ই সেটা সহ্য করবেন না। কারণ তা আমাদের স্বাধীনতা নষ্ট করবে (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, বর্ধিত সংস্করণ ১৫ আগস্ট, ২০০০)।
৫৪। ‘…আমরা গণতন্ত্র চাই, কিন্তু উচ্ছৃঙ্খলতা চাই না, কারও বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করতেও চাই না (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, বর্ধিত সংস্করণ ১৫ আগস্ট, ২০০০)।
৫৫। ‘…মানুষের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে আমাদের সব নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করবার চেষ্টা করে, এখানে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়াবার চেষ্টা করে, জাতির আদর্শের বিরুদ্ধে কথা বলে, তবে সেটাকে স্বাধীনতা বলা যায় না (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, বর্ধিত সংস্করণ ১৫ আগস্ট, ২০০০)।
৫৬। ‘…ধর্মনিরপেক্ষতাও আমাদের আদর্শ। এখানে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, বর্ধিত সংস্করণ ১৫ আগস্ট, ২০০০)।
৫৭। ‘…বাংলার মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম, বাংলার মানুষকে মুক্ত করতে হবে, বাংলার মানুষ সুখী হবে, বাংলার সম্পদ বাঙালিরা ভোগ করবে (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৫৮। ‘…মানুষের মৌলিক অধিকার দেওয়ার কারণ হলো, আমরা জনগণের উপর বিশ্বাসী …জনগণকে আমরা ভয় পাই না, জনগণকে আমরা ভালোবাসি (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৫৯। ‘…মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রে কারও নাই। হিন্দুরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কারও বাধা দেওয়ার ক্ষমতা নাই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের কেউ বাধাদান করতে পারবে না। খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ বাধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৬০। ‘…ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, তাহলে আমার জীবন সার্থক হবে, শহীদের রক্তদান সার্থক হবে (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও বেবী মওদুদ সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৬১। ‘…যদি আমি আমার গবির মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি দেখিয়া যাইতে পারি, যদি দেখিয়া যাইতে পারি আমার মানুষ অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান পাইয়াছে, তবেই আমি শান্তিতে মরিতে পারিব (ইত্তেফাক ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭২)।
৬২। ‘… যতদিন বাংলার মানুষ পেট পুরে খেতে না পারবে, দেশ থেকে অত্যাচার অবিচার দূর না হবে, আর শোষণমুক্ত সমাজ কায়েম না হবে, ততদিন শহীদদের আত্মা তৃপ্তি পাবে না (দৈনিক বাংলা ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৭২)।
৬৩। ‘… জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি আমাদের আদর্শ। বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সহিত আমরা বন্ধুত্ব কামনা করি (ইত্তেফাক ২২ জানুয়ারি, ১৯৭৩)।
৬৪। ‘…বন্ধুত্বের নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। চীন সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ রহিয়াছে, চীনদেশের জনগণের সহিত আমাদের কোন শত্রুতা নাই (ইত্তেফাক ২২ জানুয়ারি, ১৯৭৩)।
৬৫। ‘…যদি আজ আমরা নিজেরা দেশকে গড়ে তুলতে পারি তাহলেই সত্যিকার শান্তি ও সমৃদ্ধি আমাদের আসবে (বাংলার বাণী ১৬ মার্চ, ১৯৭৩)।
৬৬। ‘…বিশ্বের সর্বত্র শান্তি বজায় থাকুক এবং সকল শান্তিকামী শক্তি সুসংহত হউক—ইহাই আমার চাই (ইত্তেফাক ২৪ মে, ১৯৭৩)।
৬৭। ‘…বিশ্বশান্তিই তাঁহার জীবনদর্শনের অন্যতম মূলনীতি। …নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত, শান্তি ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ, যে বিশ্বের যেকোনো স্থানেই হোক না কেন, তাঁহাদের সাথে আমি রহিয়াছি। …সকলের সহিত বন্ধুত্ব, কাহারও প্রতি বিদ্বেষ নয়—শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থানের এই নীতিতে আমরা আস্থাশীল (ইত্তেফাক ২৪ মে, ১৯৭৩)।
৬৮। ‘…আমরা শান্তির জন্য সর্বাত্মকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (ইত্তেফাক ৪ আগষ্ট, ১৯৭৩)।
৬৯। ‘…আমি শহীদদের নামে প্রতিজ্ঞা করিয়াছি যে, আফ্রিকা, এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকায় মুক্তিসংগ্রামরত মানুষের পিছনে বাংলাদেশ সর্বদাই থাকিবে (ইত্তেফাক ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩)।
৭০। ‘…আমরা বিশ্বের প্রগতিশীল শক্তিসমূহের সংহতির এবং নির্যাতিত জনগণ ও তাহাদের ন্যায়ের সংগ্রামের সমর্থকদের সপক্ষে (ইত্তেফাক ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩)।
৭১। ‘…শান্তির ষ্ট্রাটেজিতে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিসমাপ্তি এবং সর্বাত্মক ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে (ইত্তেফাক ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩)।
৭২। ‘…এশিয়াতে শান্তি, প্রগতি এবং স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আমাদের দু’দেশের লক্ষ্যও এক। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে জাপানের মতোই আমরা সমন্বিত নিয়মশৃঙ্খলার পক্ষপাতী। আবার ভাষা, সংস্কৃতি এবং জাতিগত উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে জাপানের জনগণের মতোই আমরা এক্যের বন্ধনে আবদ্ধ (দৈনিক বাংলা ২০ অক্টোবর, ১৯৭৩)।
৭৩। ‘…আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বের ধনী এবং দরিদ্র দেশগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার মাধ্যমে ক্ষুধা, ব্যাধি ও দারিদ্র্যকে জয় করার কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে এক মাত্র তখনই শুধু একটি সুসামঞ্জস্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং শান্তির জন্য স্থায়ী একটি কাঠামো সৃষ্টি হওয়া সম্ভব (দৈনিক বাংলা ২০ অক্টোবর ১৯৭৩)।
৭৪। ‘…রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিস প্রয়োজন এবং তা হচ্ছে নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন ((বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সম্পাদনা—খোন্দকার মোহাম্মদ ইলয়াস, আগামী প্রকাশনী)।
৭৫। ‘…যাদের আদর্শ নাই, যাদের নীতি নাই, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা দেশকে ভালোবাসে না, তারা যদি প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যায় তাতে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয় না, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয় (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সম্পাদনা—খোন্দকার মোহাম্মদ ইলয়াস, আগামী প্রকাশনী)।
৭৬। ‘…ন্যায় নীতি ও আদর্শ সামনে রাখতে হবে। সে আদর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে ((বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সম্পাদনা—খোন্দকার মোহাম্মদ ইলয়াস, আগামী প্রকাশনী)।
৭৭। ‘…রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে, যারা সাম্প্রদায়িকক, তারা হীন, নীচ; তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে সে কোনদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সম্পাদনা- খোন্দকার মোহাম্মদ ইলয়াস, আগামী প্রকাশনী)।
৭৮। ‘…আমাদের জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মধ্যে কোন কিন্তু নাই (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সম্পাদনা- খোন্দকার মোহাম্মদ ইলয়াস, আগামী প্রকাশনী)।
৭৯। ‘…আফ্রিকা হোক, ল্যাটিন আমেরিকা হোক, আরবদেশ হোক—যেখানে মানুষ শোষিত, যেখানে মানুষ অত্যাচারিত, যেখানে মানুষ দুঃখী, যেখানে মানুষ সাম্রাজ্যবাদীর দ্বারা নির্যাতিত—আমরা বাংলার মানুষ সেই দুঃখী মানুষের সাথে আছি এবং থাকব। আমাদের নীতির পরিবর্তন হবে না (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, সম্পাদনা- খোন্দকার মোহাম্মদ ইলয়াস, আগামী প্রকাশনী)।
৮০। ‘…আমরা বন্ধু চাই, মাষ্টার চাই না। আমরা সকলের বন্ধুত্ব কামনা করি। কিন্তু কাহারও চোখ রাঙানি কামনা করি না (ইত্তেফাক ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪)।
৮১। ‘…আমরা এই উপমহাদেশে এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুগপৎ অবদান রাখার পথ উন্মুক্ত করিয়াছি (ইত্তেফাক ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪)।
৮২। ‘…ধ্বংস নয় সৃষ্টি, যুদ্ধ নয় শান্তি, দুর্ভোগ নয় মানুষের কল্যাণে আমাদের কাজ করিতে হইবে (ইত্তেফাক ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪)।
৮৩। ‘…উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ ও সকল প্রকার শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সঙ্গে একাত্মতার উপর জোর দিতে হইবে (ইত্তেফাক ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪)।
৮৪। ‘…বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম হইতেছে সার্বিক অর্থে শান্তি এবং ন্যায়ের সংগ্রাম (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৮৫। ‘…বাংলাদেশ প্রথম হইতেই শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান ও সকলের প্রতি বন্ধুত্ব এই নীতিমালার ওপর ভিত্তি করিয়া জোটনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করিয়াছে (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৮৬। ‘…আমরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াকে শান্তি, স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ এলাকায় পরিণত করার প্রতিও সমর্থন জানাই (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৮৭। ‘…ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত শান্তিই দীর্ঘস্থায়ী হইতে পারে (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৮৮। ‘…ক্ষমাপ্রাপ্ত কিছু কিছু লোক সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নেই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান বাংলাদেশে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁরা সকলেই এদেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সম-অধিকার ভোগ করবেন (বাংলাদেশের সমাজ বিপ্লবে বঙ্গবন্ধুর দর্শন, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস সম্পাদিত, আগামী প্রকাশনী)।
৮৯। ‘… তোমরা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবে। যেখানে অন্যায় অবিচার দেখবে, সেখানে চরম আঘাত হানবে। তোমারা যদি গুরুজনকে মেনে শৃঙ্খলা রক্ষা করে সৎ পথে চলো, তাহলে জীবনে মানুষ হতে পারবে (কুমিল্লা সেনানিবাস, ১১ জানুয়ারী ১৯৭৫)।
৯০। ‘…আপনারা মানুষের সেবা করুন। মানুষের সেবার মতো শান্তি দুনিয়ায় আর কিছুতে হয় না (রাজারবাগ পুলিশ লাইন ১৬ জানুয়ারি, ১৯৭৫)।
৯১। ‘…আমি চাই আপনারা মানুষকে ভালোবাসুন। তাহলেই শান্তি আসবে (রাজারবাগ পুলিশ লাইন ১৬ জানুয়ারি, ১৯৭৫)।
৯২। ‘…জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে, দলমত-নির্বিশেষে, বাংলার জনগণ যে যেখানে আছেন, আজকে থেকে আমরা প্রতিজ্ঞা করে নতুন জীবন শুরু করব। আমরা নতুন বিপ্লব শুরু করব (বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫)।
৯৩। ‘…আমরা সমস্ত দুনিয়ার রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আমরা জোটনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাস করি, আমরা কো-একজিস্টেনস (co-existence)-এ বিশ্বাস করি, আমরা বিশ্বশান্তিতে বিশ্বাস করি (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ২৬ মার্চ, ১৯৭৫)।
৯৪। ‘…বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছে দুঃখী মানুষকে ভালোবেসে, বঙ্গবন্ধু রাজনীতি করেছে শোষণহীন সমাজ কায়েম করবার জন্য (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ২৬ মার্চ, ১৯৭৫)।
৯৫। ‘… তোমরা মেহেরবানি করে যুদ্ধের মনোভাব বন্ধ কর। আরমামেণ্ট রেস বন্ধ কর। তোমরা অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ কর। ওই সম্পদ দুনিয়ার দুঃখী মানুষকে বাঁচাবার জন্য ব্যয় কর। তাহলে দুনিয়ায় শান্তি ফিরে আসবে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ২৬ মার্চ, ১৯৭৫)।
৯৬। ‘…উপমহাদেশের সকল দেশের মধ্যে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়িয়া তোলার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে (ইত্তেফাক ৪ মে, ১৯৭৫)।
৯৭। ‘…আমি মানুষ। আমি মনুষ্যত্বকে ভালোবাসি (ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেডিভ ফ্রস্টের নেওয়া সাক্ষাৎকার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
৯৮। ‘… নেতার আদর্শ থাকতে হবে, নীতি থাকতে হবে। এই সব গুণ যার থাকে, সে-ই মাত্র নেতা হতে পাওে (ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেডিভ ফ্রস্টের নেওয়া সাক্ষাৎকার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭২)।
৯৯। ‘…বাংলাদেশকেও অগ্রসর হতে হবে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র এই চারিটি মূল সূত্র ধরে, বাংলাদেশের নিজস্ব পথ ধরে (১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২; মুজিববাদ বইয়ের লেখক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস-এর কতিপয় প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু)।
১০০। ‘… শ্রেণী চেতনা বিকাশের পথে সাম্প্রদায়িকতাবাদ প্রধান অন্তরায় (১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২; মুজিববাদ বইয়ের লেখক খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস-এর কতিপয় প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু)।
মিথুশিলাক মুরমু : গবেষক ও লেখক।





Users Today : 7
Views Today : 9
Total views : 175513
