গত কয়েক মাস ধরে বাজারে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, ডিম, মুরগি, সবজি ও ভোজ্য-তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগাম ছাড়া বাড়ছে। তা নিয়ে দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দারিদ্র্য মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। দরিদ্র মানুষের সস্তায় ক্রয়ের শেষ পণ্য মোটা চালের কেজিও ৫০ টাকার বেশি। বলা হয়, চালের দামের ওপর নির্ভর করে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামের সমীকরণ। ফলশ্রুতিতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীসহ সীমিত আয়ের মানুষ। অথচ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। চোখে পড়ছে না সারাদেশে কালোবাজারি ঠেকানোর কার্যক্রম।
মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দারিদ্র্য মানুষের এমন পরিস্থিতিতে আমরা কথা বলছিলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ ভোক্তার সঙ্গে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ, এর থেকে সমাধানের কী উপায়, করণীয় নিয়েই এবারের সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন।
বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের দায় নেই
জসিম উদ্দিন, খুচরা বিক্রেতা।
বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে আমাদের দায় নেই আড়তদারেরা পণ্য মজুদ করছে বলেই দাম বাড়ছে। আমরা আড়তদারদের থেকে যে দরে কিনি সে হিসেবেই খুচরা বাজারে বিক্রি করি।
মাসখানেক ধরে মাছ বা মাংস খাইনি
দিলরুবা বানু, গৃহকর্মী।
ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বস্তিতে ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের ছোটো একটি ঘরে তার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকি। প্রায় ১৫ বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করে একাই সংসার চালাই। দুই মেয়েই স্কুলে পড়ে, করোনার কারণে স্কুল এতদিন বন্ধ থাকলেও, নিয়মিত প্রাইভেট পড়ার খরচ যোগাতে হয়েছে।
এই তিন সদস্যের পরিবারের কোনো সদস্যই গত প্রায় মাস খানেক ধরে মাছ বা মাংস খাইনি।
বাজারে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আগে দিনে ১০০ টাকা খরচ হলে খাওয়া হয়ে যাইত, এখন সেইটা ২০০ টাকায়ও কুলায় না। মাছ, মাংস ডিম সবজি সব কিছু দামই বাইড়া গেছে। এক দেড় মাসের মতো হয় ডিম আর সবজি দিয়াই চালাইতেছি খাওয়া-দাওয়া।
আমরা কামাই করি কী, আর খামুই বা কী?
নজরুল ইসলাম, ফুটপাতে চায়ের দোকান চালান ।
চিনি-দুধ-চা’পাতার দাম বাড়লেও চায়ের দাম বাড়াতে পারি নাই। চা প্রতি কাপ আগেও পাঁচ টাকা ছিল, এখনো তাই। বাড়াতে পারি নাই। ফলে দোকানের খরচ মিটিয়ে সংসার চালানো একটি দুরূহ ব্যাপার।
কিন্তু আগে যে চাউলের কেজি ছিল ৪০ বা ৫০ টাকা সেইটা তো হইছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। আমরা কামাই করি কী, আর খামুই বা কী!
সরকার কী বলছে?
সরকার এই পরিস্থিতিতে বলছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

টিপু মুন্সী, বাণিজ্যমন্ত্রী
পেঁয়াজ-ভোজ্যতেল-চিনিসহ যে ক’টি পণ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমদানি করা হয়, সেগুলোর দাম কমানোর জন্য শুল্ক প্রত্যাহার এবং শুল্ক হ্রাসের জন্য রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছি আমরা।
পেঁয়াজ আমাদের যা প্রয়োজন তার ৮০ শতাংশ আমাদের দেশে হয়, বাকি ২০ শতাংশের বড় অংশটা ভারত থেকে আমদানি হয়। সম্প্রতি ওখানে (ভারতে) দুর্গাপূজা এবং টানা বৃষ্টি হওয়ায় ওরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কারণে আমাদের ইমপোর্ট ভ্যালু বেড়েছে। সেইটা বিবেচনায় নিয়ে আমরা অনুরোধ করেছি যে পেঁয়াজের ওপর যে পাঁচ শতাংশ শুল্ক আছে, সেটা যেন এই মুহূর্তে বন্ধ করে দেয়া হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এরকম অনুরোধ জানানোর পর আগেও এনবিআর শুল্ক কমিয়েছিল বা কোন ক্ষেত্রে প্রত্যাহার করেছিল, ফলে দাম কমেছিল।
আশা করছি এবারো দ্রুতই এনবিআর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে এবং দ্রুত সমাধান হবে। এছাড়া দাম কমানোর উদ্যোগ নেয়া ছাড়াও আড়তদারেরা পণ্য মজুদ করছে কিনা তা মনিটরিং করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেউ পণ্য মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সব থেকে বেশি কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন নিম্নবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত সৎ সরকারি কর্মচারী, প্রবীণ জনগোষ্ঠী ও নিম্নআয়ের মানুষ। সবচেয়ে বেশি কষ্টকর পরিস্থিতিতে রয়েছেন অধিকাংশ প্রবীণ।
যেসব চাকরিজীবী সৎভাবে চাকরিজীবন কাটিয়েছেন, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। কারণ চাকরি জীবনের তাদের একমাত্র সঞ্চয় পেনশন বা গ্র্যাচুইটির টাকা। জীবনের শেষ সম্বল এ সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে তারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। এ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকা দিয়ে তাদের সংসার-জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে নির্বাহ করতে হয়। প্রবীণদের এ দিকটি চিন্তাভাবনা না করেই হঠাৎ করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমিয়ে দিয়ে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছে। দেশে এখন প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ প্রায়। প্রবীণ জনগোষ্ঠীসহ নিম্নবিত্ত ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকাংশই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বাজারের ওপর সরকারের কতটা নিয়ন্ত্রণ?
বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলছে। একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে, তা আর কমে না। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এ ব্যাপারে কাজ করলেও তা তেমন কার্যকর ভূমিকা না রাখায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসছে না। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) নামে একটি সংস্থা রয়েছে। কিন্তু তাদের কার্যক্রমও তেমন লক্ষণীয় নয়।
এলপিজি দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি
রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার গত কয়েক বছরে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন গ্রামীণ এলাকাতেও এই সিলিন্ডারের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। শিল্প ও আবাসিক মিলিয়ে বছরে দেশটিতে ১২ লাখ মেট্রিকটনের বেশি এলপিজি ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৪১ লাখ পরিবার এলপিজি ব্যবহার করেন।
এপ্রিল থেকে গত চারমাসে চারবার এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের কারণে এই বছরেই দুইবার শুনানি করে দাম বৃদ্ধি করা হলো। সীমিত আয়ের জনগণের ওপর চাপ আরও বাড়াছে এলপিজি সিলিন্ডারের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধিতে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের। গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে মো. মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী
সদস্য, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে। গত এপ্রিলে যখন গ্যাসের দাম ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটা নিয়ে এলপিজি অপারেটরদের কিছু আপত্তি ছিল। আগের দাম যেহেতু গণ শুনানির করে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাই তাদের আপত্তির পরে একটা গণ শুনানি করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় আরেকটা কারণ হলো, আন্তর্জাতিকভাবে সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) প্রতি মাসে ঘোষণা করা হয়, সেটা প্রায় প্রতিমাসেই ওঠানামা করে। তাই আমাদেরও সেটার সঙ্গে মিল রেখে মূল্য ঠিক করতে হয়। এসব কারণে নতুন করে দর নির্ধারণ করতে হয়েছে।
প্রয়োজনীয় পণ্যের দর বৃদ্ধি মানেই সংসারের বাজেটের ওপর চাপ
রিতা পারভিন, গৃহিণী।
যারা বাসায় পাইপের গ্যাস পায়, তারা যেভাবে ইচ্ছামতো খরচ করে। আর আমরা সিলিন্ডারের গ্যাস কিনে এত হিসাব করে খরচ করি, তারপরেও তাদের চেয়ে আমাদের গ্যাসের পেছনে বেশি টাকা দিতে হয়। এটা তো ঠিক না। এখন শহরে বা গ্রামে তাদের মতো অনেক পরিবার রান্নার কাজে পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে এই অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের দর বৃদ্ধি মানেই সংসারের বাজেটের ওপর চাপ তৈরি করা।
ব্যবসায়ীরা যেভাবে পরিবর্তনটা চেয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডারের এই মূল্যহারের পরিবর্তনে সেটাই নিশ্চিত করা হয়েছে
শামসুল আলম, ক্যাবের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
ব্যবসায়ীরা যেভাবে পরিবর্তনটা চেয়েছে, এলপিজি সিলিন্ডারের এই মূল্যহারের পরিবর্তনে সেটাই নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে যেহেতু ঊর্ধ্বগতি আছে, তার সাথে দর সমন্বয় করতে হবেই। কিন্তু যেসব কারণ দেখিয়ে গ্যাসের দর বৃদ্ধি করা হয়েছে, সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।
শুধু সিপির (সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস) বাইরে যেভাবে বাড়িয়ে ব্যবসায়ীদের ইপ্সিত বেশি বেশি মুনাফা লাভের প্রত্যাশা পূরণ করা হচ্ছে, এই দুইটা মিলিয়ে বলা যায় ভোক্তারা ক্রসফায়ারে আছে।
মুরগির দাম বাড়ল কেন?
পোল্ট্রি ফার্মগুলোতে মুরগিকে সাধারণত সয়াবিন মিল খেতে দেওয়া হয়। তবে এসব সয়াবিন মিল প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি করায় মুরগির দাম বেড়ে গেছে বলে দাবি করছেন পোল্ট্রি ফার্মগুলোর মালিকরা।
সয়াবিন মিলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পোল্ট্রি খামারিরা সংকটের মুখে পড়েছে
ইহতেশাম বি শাহজাহান
সভাপতি, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
সয়াবিন মিলের দাম কেজিতে ১০-১২ টাকা থেকে ৫৩-৫৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় পোল্ট্রি খামারিরা একধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। সয়াবিন মিল বাইরে থেকে আমদানি বন্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। পোল্ট্রি মালিকরা সয়াবিন মিলের ৭০% থেকে ৮০% পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারে স্থানীয়ভাবেই।
সরকার ও ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছাই পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে
উজ্জ্বল দাস, বেসরকারি কর্মজীবী।
মানুষের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ঘোটক। জীবন ধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের অগ্নিমূল্য। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের জন্যই সাধারণ মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরকারকে কঠোর হাতে অতিলোভী অসাধু এসব ব্যবসায়ীকে দমন করতে হবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যতালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে কিনা, সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য সব বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করে দেশের সাধারণ মানুষের একটু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা প্রদানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
এখানে সিন্ডিকেট স্পষ্ট
এসএম নাজের হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)।
এখন বাজারে যে ভোজ্য তেল তা তিন মাস আগে আমদানি করা। তাহলে এখন আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে কেন সয়াবিনের দাম কেন বাড়ানো হবে? পেঁয়াজ আমদানি ভারত থেকে বন্ধ হয়নি। পূজার সময় কয়েকদিন বন্ধ ছিল মাত্র। তাহলে দেশি পেঁয়াজের দাম কেন বাড়ল? দেশে তো পেঁয়াজের কমতি নেই। এখানে সিন্ডিকেট স্পষ্ট। দেশে চিনি আমদানি করে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, ভোজ্য তেল আমাদানি করে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। চাল জিম্মি চালকল মালিকদের হাতে। ফলে তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করে সেভাবেই হয়। আর তাদের দেখাদেখি সবজি , মাছ , মাংসের দামও বেড়ে যায়। তারা মনে করে তারা যখন বাড়াচ্ছে আমরাও একটু বাড়াই।
পণ্যের আমদানি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা এর সুযোগ নেয়
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, অর্থনীতিবিদ।
ভোজ্যতেলসহ আরো কিছু পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নেয়। প্রথমত আন্তর্জাতিক বাজারে যে দাম বাড়ে তার তুলনায় তারা বেশি বাড়িয়ে দেয়। আবার এখন দাম বাড়লে তারা এর সুযোগ নিতে আগে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এইসব পণ্যের আমদানি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা এটা করতে পারে।
এর ফলে যা হয় দেশে উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ে। দুই ধরনের পণ্য আছে। পচনশীল যেমন-শাক সবজি, মাছ আর কিছু আছে পচনশীল নয়। এই দুই ধরনের পণ্যের দামই বাড়িয়ে দেয়া হয়। কারণ তাদেরও তো আমদানি করা ভোগ্যপণ্য কিনে খেতে হয়। আর সবাই দাম বাড়িয়ে ব্যবসা করলে তারা করবে না কেন?
সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী এবং এদের হাত অনেক লম্বা
ড. কাজী খলীকুজ্জামান, চেয়ারম্যান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
শুধুমাত্র চাল, আলু আর পেঁয়াজ নয়, আরো আনেক কিছুতেই সিন্ডিকেট রয়েছে। ভোজ্যতেলেও তো সিন্ডিকেট কাজ করে। এই সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী এবং এদের হাত অনেক লম্বা। শুধু এই সরকার নয়, আগের সরকারগুলোর সময়ও আমরা দেখেছি, সিন্ডিকেটের কারণে মাঝে মধ্যেই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। সরকার চাইলে এদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সরকার দাম কমানো ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে
ড. আব্দুর রাজ্জাক, কৃষিমন্ত্রী।
এ বছর চাল, পেঁয়াজ ও আলু-এই তিনটির দাম বেশি ছিল। তবে চাল আমদানির ফলে চালের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। সরকার দাম কমানো ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চালের দাম কমাতে আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২৫ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে চালের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। লাগাতার বন্যার কারণে আউশ ও আমন চালের উৎপাদন কম হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে না পারলে কোনো পণ্যেরই বাজার স্থিতিশীল থাকবে না। চাল, আলু ও পেঁয়াজের উৎপাদন আরো বাড়াতে কার্যক্রম চলছে।
চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার ভারসাম্য সাধারণ মানুষের অধিকার। টিসিবি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ করে বাংলাদেশে দুর্নীতি, কালোবাজারি ও মজুতদারি শক্ত হাতে দমন এখন সময়ের প্রয়োজন। প্রতিটি দ্রব্যের বাজারমূল্য নির্ধারণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা ও সমন্বয়ে আরও বেশি বেশি মোবাইল কোর্ট চালু করে ভেজালকারীদের গুরুদ- প্রদান, ক্যাবকে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেইসঙ্গে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার বিষয়টি আবারও বিবেচনায় নিতে হবে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা দরকার। সাধারণ জনগণের যদি স্বস্তির মধ্যে না রাখা যায় তবে দেশের কোনো উন্নয়নই প্রকৃতভাবে ফল দিবে না। তাই সরকারের এই বিষয়ে নিরপেক্ষ ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নাজিম উদদীন, বিশেষ প্রতিবেদক।





Users Today : 13
Views Today : 15
Total views : 175519
