বর্তমান বিশ্বের তথা বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি তাতে করে খ্রিস্টীয় বিশ্বাসীদের এক ঐক্যে বা ঐক্যবদ্ধভাবে বাস করা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা না হলে মণ্ডলীগুলো হুমকির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈশ্বরের ইচ্ছা হলো, তাঁর মণ্ডলী একতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকুক। কিন্তু বাস্তবে আমরা প্রায়ই বিভক্তি, মতভেদ ও অনৈক্যের শিকার হই। বাইবেল আমাদের শেখায় কিভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে খ্রিস্টের দেহ হিসেবে একসাথে থাকতে পারি।
তোমরা একে অপরকে ভালবাসিও, যেমন আমি তোমাদের প্রেম করিয়াছি, তদ্রূপ তোমরাও একে অপরকে প্রেম করিও। (যোহন ১৩:৩৪)।
১. খ্রিস্টের প্রেম ও নম্রতা দিয়ে ঐক্য গড়া:
নম্রতা, সহিষ্ণুতা ও প্রেমসহ একে অপরের ভার বইবে। (ইফিষীয় ৪:২)।
ঐক্যের জন্য প্রথম শর্ত হলো নম্রতা ও প্রেম। খ্রিস্ট নিজেকে শূন্য করে আমাদের মাঝে এসেছিলেন। যদি আমরা একে অপরকে নম্রভাবে সম্মান করি ও বিনয়ী হই, তাহলে মণ্ডলীতে ঐক্য আসবে।
প্রয়োগ: অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করা। অন্যের মতামত শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা। ক্ষমাশীল ও সহনশীল হওয়া।
২. এক আত্মায় ও এক লক্ষ্যে স্থির থাকা:
এক আত্মা ও এক দেহ; যেমন তোমরা এক কেবল এক প্রত্যাশায় আহ্বনপ্রাপ্ত হয়েছ। (ইফিষীয় ৪:৪)
ঈশ্বর চান আমরা একই লক্ষ্যে এগিয়ে যাই-ঈশ্বরের মহিমা ও সুসমাচার প্রচার। যদি মণ্ডলীর প্রত্যেক সদস্য এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, তাহলে বিভক্তি আসার সুযোগ থাকবে না। ব্যক্তি স্বার্থের পরিবর্তে ঈশ্বরের রাজ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া। মতানৈক্য হলেও খ্রিস্টের প্রেমের বন্ধনে থাকা, মণ্ডলীর ভেতরে বিভাজন তৈরি না করা।
৩. একসাথে প্রার্থনা ও উপাসনা করা:
যদি দুই জন একমত হয়ে প্রার্থনা করে, আমার পিতা তা দান করবেন। (মথি ১৮:১৯)।
ঐক্যের মূল ভিত্তি হলো প্রার্থনা ও উপাসনা। যখন আমরা একসাথে ঈশ্বরের সামনে আসি, তখন আমরা একই আত্মায় আবদ্ধ হই।
ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত প্রার্থনার চর্চা। পারস্পরিক আশীর্বাদ কামনা করা। একসাথে উপাসনা ও সেবা করা।
৪. এক দেহ হিসেবে কাজ করা:
আমরা অনেক লোক এক দেহ এবং প্রত্যেকে একে অপরের অঙ্গ। (রোমীয় ১২:৫)।
ঈশ্বর আমাদের সবাইকে এক দেহের বিভিন্ন অঙ্গ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকের দায়িত্ব আলাদা, কিন্তু উদ্দেশ্য এক-খ্রিস্টের দেহ গঠন করা।
মÐলীতে প্রত্যেকের ভ‚মিকাকে সম্মান করা। ঈশ্বরের দেওয়া প্রতিভা ও দান মণ্ডলীর জন্য ব্যবহার করা। একে অপরের সেবা করা।
৫. পরস্পর ক্ষমা ও ধৈর্যের মনোভাব রাখা:
তোমরা একে অপরকে ক্ষমা কর, যেমন খ্রিস্ট তোমাদের ক্ষমা করেছেন। (কলসীয় ৩:১৩)
বিভক্তির প্রধান কারণ হলো অপরাধ ও ক্ষোভ পুষে রাখা। বাইবেল আমাদের শিক্ষা দেয়, ক্ষমাই ঐক্যের মূল চাবিকাঠি। একে অপরকে সহজে ক্ষমা করা। ঝগড়া ও বিতর্ক এড়িয়ে চলা। খ্রিস্টের প্রেমে মনোভাব পরিবর্তন করা। ঐক্য কোনো সহজ বিষয় নয়, তবে এটি সম্ভব যখন আমরা খ্রিস্টের প্রেম, নম্রতা, ধৈর্য, এবং ক্ষমা চর্চা করি। মণ্ডলীতে ঐক্য থাকলে, ঈশ্বরের গৌরব প্রকাশিত হয় এবং সুসমাচার আরও শক্তিশালীভাবে প্রচারিত হয়।
৬. ঐক্যে বাস করার আশীর্বাদ:
ইহা কি উত্তম ও মনোহর, ভ্রাতারা এক ঐক্যে বাস করে! (গীতসংহিতা ১৩৩:১)। ঐক্য ঈশ্বরের একটি আশীর্বাদ, যা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনে। এই পদটি আমাদের শেখায় যে যখন ভ্রাতৃসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন তা সৌন্দর্য ও কল্যাণের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।
ঐক্যের সৌন্দর্য ও মঙ্গল:
বাইবেল ঐক্যকে একটি মহিমান্বিত গুণ হিসেবে চিত্রিত করে। আমাদের পার্থিব সম্পর্কগুলোর মধ্যে যদি ঐক্য থাকে, তবে তা সুখ ও শান্তির কারণ হয়। যেমন একটি পরিবারের সদস্যরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে সে পরিবার সুখের উদাহরণ হয়ে ওঠে। একইভাবে, চার্চ বা সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য থাকলে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ পায়।
ঐক্যের চ্যালেঞ্জ:
ঐক্য গড়ে তোলা সহজ নয়। অহংকার, আত্মকেন্দ্রিকতা, ভুল বোঝাবুঝি, ও স্বার্থপরতা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। শয়তান সর্বদা আমাদের বিভক্ত করতে চায়, কারণ ঐক্যের মধ্যেই শক্তি ও আশীর্বাদ নিহিত আছে।
ঐক্য অর্জনের উপায়:
ঐক্য বজায় রাখার জন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:
প্রেম ও নম্রতা: অপরের প্রতি ধৈর্য ধারণ করা ও ক্ষমা করতে শেখা।
আত্মত্যাগ: নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যদের কল্যাণ চিন্তা করা।
প্রার্থনা: ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চাওয়া যেন আমরা ঐক্য রক্ষা করতে পারি।
পবিত্র আত্মার নেতৃত্ব: আত্মার দীক্ষা গ্রহণ করে আমাদের জীবনকে পরিচালিত করা।
ঐক্যের আশীর্বাদ:
যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তখন ঈশ্বর আমাদের জীবনে অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। এটা গীতসংহিতা ১৩৩-এর শেষ পদে বলা হয়েছে, সেখানে সদাপ্রভু আশীর্বাদ ও অনন্ত জীবন নির্দিষ্ট করেন। গীত ১৩৩:৩ ‘‘তাহা হর্মোণের শিশিরের সদৃশ, যাহা সিয়োন পর্বতে ক্ষরিয়া পড়ে; কারণ তথায় সদাপ্রভু আশীর্বাদ আজ্ঞা করিলেন, অনন্তকালের জন্য জীবন আজ্ঞা করিলেন। অর্থাৎ ঐক্যের মধ্যেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও জীবনের পরিপূর্ণতা রয়েছে।
ঐক্য কেবল একটি আদর্শ নয়, এটি একটি আত্মিক আহ্বান। ঈশ্বর চান আমরা একসাথে ভালোবাসা ও সংহতির সাথে বসবাস করি। তাই আসুন, আমরা অহংকার ও বিভেদ পরিত্যাগ করে, প্রেম ও নম্রতার মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তুলি, যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ আমাদের জীবনে প্রবাহিত হয়।
৭. মণ্ডলীতে একতাবদ্ধ না থাকলে তার বিপদ:
মানুষ সামাজিক প্রাণী, এবং সামাজিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একতাবদ্ধ থাকা। কোনো মণ্ডলীতে (সমাজ, গোষ্ঠী, দল, সংগঠন) যদি সদস্যরা একতাবদ্ধ না থাকে, তবে সেটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। খ্রিস্টধর্মে একতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যিশু খ্রিস্ট নিজে শিষ্যদের একতার শিক্ষা দিয়েছেন এবং প্রার্থনা করেছেন যেন তাঁর অনুসারীরা এক থাকে (যোহন ১৭:২১)। যদি খ্রিস্টান মণ্ডলীতে একতা না থাকে, তবে তা কেবল ব্যক্তি খ্রিস্টানদের জন্য নয়, বরং পুরো মণ্ডলীর জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। নিচে একতাহীন খ্রিস্টান মণ্ডলীর বিপদগুলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো―
মণ্ডলীতে বিভক্তি ও অনৈক্য সৃষ্টি হয়:
যখন কোনো মণ্ডলীতে একতা থাকে না, তখন মতভেদ, দলাদলি এবং বিভক্তির সৃষ্টি হয়। এতে দলের মধ্যে অনাস্থা বাড়ে এবং সদস্যরা একে অপরের প্রতি আস্থা হারায়। ফলে ঐক্যের অভাবে সেই মণ্ডলীর কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।
যদি খ্রিস্ট বিশ্বাসীরা একতাবদ্ধ না থাকে, তবে মণ্ডলীর মধ্যে দলাদলি, মতপার্থক্য এবং বিবাদ বাড়তে থাকে। বিভক্তি সৃষ্টি হলে খ্রিস্টীয় গির্জা ও সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, যা মণ্ডলীর সামগ্রিক ঐক্যকে নষ্ট করে।
বাইবেলের সতর্কবাণী:
১ করিন্থীয় ১:১০ – ভাইয়েরা, আমি খ্রিস্টের নামে তোমাদের কাছে অনুরোধ করছি, তোমাদের মধ্যে যেন কোনো বিভাজন না থাকে, বরং তোমরা যেন একই মনোভাব ও মতামতে ঐক্যবদ্ধ হও।
নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে:
একতাবিহীন মণ্ডলীতে নেতৃত্ব ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। যদি গির্জা বা খ্রিস্টান সংগঠনে দলাদলি থাকে, তবে পাস্তর বা নেতা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবেন না। ফলে নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয় এবং মণ্ডলী দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাইবেলের দৃষ্টিভঙ্গি:
হিব্রু ১৩:১৭ – ‘‘তোমাদের নেতাদের কথা শুনো এবং তাদের আনুগত্য করো, কারণ তারা তোমাদের আত্মার জন্য যত্ন নেয়।’’
একতাবিহীন মণ্ডলীতে সাধারণত নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে যায়। কারণ, সদস্যরা যদি একসঙ্গে কাজ না করে, তবে নেতা বা নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তির পক্ষে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পুরো সংগঠন বা গোষ্ঠী নেতৃত্বহীন হয়ে পড়তে পারে।
মিশনারি কাজ বাধাগ্রস্ত হয়:
খ্রিস্টান মণ্ডলীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সুসমাচার প্রচার করা। যদি মণ্ডলীতে একতা না থাকে, তবে বাইরের জগতে খ্রিস্টের সাক্ষ্য দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। খ্রিস্টানদের মধ্যে যদি বিভেদ থাকে, তবে অবিশ্বাসীরা তাদের দেখে নেতিবাচক ধারণা পেতে পারে এবং সুসমাচার প্রচারে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
বাইবেলের শিক্ষা:
যোহন ১৩:৩৫ – ‘‘তোমরা একে অপরকে ভালোবাসলে সবাই বুঝবে যে তোমরা আমার শিষ্য।’’ এবং একতাবিহীন মণ্ডলী বাইরের শক্তির দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। ঐক্যের অভাব থাকলে শত্রুরা সহজেই সুযোগ নেয় এবং দল বা গোষ্ঠীকে দুর্বল করে দেয়। ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতি বা সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে মূলত অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও একতার অভাবের কারণে।
আত্মিক উন্নতি ব্যাহত হয়:
একতা না থাকলে খ্রিস্টানদের আত্মিক জীবন দুর্বল হয়ে পড়ে। মণ্ডলীতে যদি একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভ‚তি না থাকে, তবে বিশ্বাসের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায় এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ হারিয়ে যেতে পারে।
বাইবেলের নির্দেশনা:
ইফিষীয় ৪:৩ – ‘‘শান্তির বন্ধনে বাঁধা পড়ে আত্মিক একতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করো।’’ একতাহীন মণ্ডলীতে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যায়। এতে ব্যক্তিগত স্বার্থ বড় হয়ে ওঠে এবং গোষ্ঠীর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। সমাজ বা সংগঠনের সদস্যরা যদি একসঙ্গে কাজ না করে, তবে তারা বড়ো কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না।
খ্রিস্টীয় প্রেম ও সহানুভ‚তি হারিয়ে যায়:
খ্রিস্ট তাঁর শিষ্যদের প্রেম ও সহানুভ‚তির আদর্শ শিক্ষা দিয়েছেন। যদি খ্রিস্টান মণ্ডলীতে একতা না থাকে, তবে সেই ভালোবাসা ও সহানুভ‚তি নষ্ট হয়ে যায়। একতা না থাকলে ঈশ্বরের প্রতি প্রেম ও অন্যদের প্রতি সহানুভ‚তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাইবেলের শিক্ষা:
কলসীয় ৩:১৪ – সব কিছুর উপরে প্রেমকে পরিধান করো, যা একতার বন্ধনে পূর্ণতা আনে।
প্রার্থনার শক্তি কমে যায়:
বাইবেল বলে, যখন খ্রিস্টানরা একসঙ্গে প্রার্থনা করে, তখন তা অত্যন্ত শক্তিশালী হয় (মথি ১৮:১৯-২০)। কিন্তু যদি মণ্ডলীতে একতা না থাকে, তবে সম্মিলিত প্রার্থনার শক্তি কমে যায় এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বাইবেলের প্রতিশ্রুতি:
মথি ১৮:১৯-২০ – ‘‘যদি তোমাদের মধ্যে দু’জন পৃথিবীতে একমত হয়ে কিছু চাও, তবে আমার স্বর্গীয় পিতা তা দান করবেন। কারণ, যেখানে দুই বা তিনজন আমার নামে একত্র হয়, আমি সেখানে তাদের সঙ্গে থাকি।’’
শয়তানের আক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়:
যখন খ্রিস্টানরা বিভক্ত থাকে, তখন শয়তান সহজেই মণ্ডলীর মধ্যে প্রবেশ করে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। বিভক্ত মণ্ডলী আত্মিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শয়তানের কৌশলের শিকার হয়।
বাইবেলের সতর্কবাণী:
১ পিতর ৫:৮ – তোমরা সাবধান ও সতর্ক হও। কারণ, তোমাদের শত্রু শয়তান গর্জনকারী সিংহের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, কাকে সে গ্রাস করতে পারে!
নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পায়:
যদি খ্রিস্টান মণ্ডলীর সদস্যরা পরস্পরের প্রতি বিরূপ আচরণ করে, তবে বাইরের লোকদের কাছে খ্রিস্টান ধর্মের ভুল বার্তা যায়। এতে খ্রিস্টধর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং খ্রিস্টানদের সাক্ষ্য দেওয়া দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাইবেলের উপদেশ:
ফিলিপীয় ২:২ – একই মনোভাব রাখো, একই ভালোবাসা প্রকাশ করো, একই আত্মায় সম্পূর্ণ ঐক্য বজায় রাখো।”
একতাবিহীন মণ্ডলী দুর্বল, বিভক্ত এবং দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়ে। এটি শুধু মণ্ডলীর সদস্যদের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজ বা জাতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সমাজে শান্তি, উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য একতা অপরিহার্য। ঐক্যের মাধ্যমেই কোনো দল, সংগঠন বা জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
খ্রিস্টান মণ্ডলীর জন্য একতা অপরিহার্য। যদি খ্রিস্টানরা একতাবদ্ধ না থাকে, তবে আত্মিক দুর্বলতা, বিভক্তি, শয়তানের প্রলোভন, নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং মিশনারি কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি হতে পারে। বাইবেল বারবার খ্রিস্টানদের একতার উপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং একসঙ্গে ঈশ্বরের মহিমা করার আহ্বান জানিয়েছে। তাই খ্রিস্ট বিশ্বাসীদের উচিত পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি ও ক্ষমার মাধ্যমে একতাবদ্ধ থাকা, যাতে তারা খ্রিস্টের সত্যিকারের সাক্ষী হতে পারে এবং ঈশ্বরের রাজ্যকে প্রসারিত করতে পারে।
রেভা. জেমস রানা বিশ্বাস: লেখক, খ্রীষ্টিয় ধর্মতত্ত্ববিদ; বিশেষ প্রতিনিধি সাপ্তাহিক সময়ের বিবর্তন।





Users Today : 0
Views Today :
Total views : 175444
