সময়ের বিবর্তন (বি. স. ) ● নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী অতি প্রয়োজন ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপনে বাড়ি না যেতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী সাধারণের কাছে বিনীত অনুরোধ, অতি প্রয়োজন ছাড়া আমরা যেন এই যাত্রাটাকে পরিহার করি। কারণ, বেঁচে থাকলে অনেক ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাব। কাজেই তাড়াহুড়ো করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই যাত্রায় না যাওয়াটাই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক।’
আজ ২৪ জুলাই শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে ঈদুল আজহা, গণপরিবহন নিয়ে আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি। একদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, অপরদিকে বন্যা—এ রকম একটা পরিস্থিতিতে সড়ক, রেল, আকাশ ও নৌপথে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যতটুকু সম্ভব সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নৌপথে ঈদযাত্রাটাকে আমরা সুন্দর করতে চাই।’
করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যেও দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছে দাবি করে সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেরই এই অগ্রগতি সহ্য হচ্ছে না। তাই তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার করছে।’
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে অনেকেই বলছেন বাংলাদেশের অর্থনীতি নাকি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাহলে কীভাবে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জন্য এত কোটি টাকা অনুদান দিলেন। কীভাবে এত বড় বাজেট পাস হলো? কীভাবে আমরা তিন মাস করোনাভাইরাসের দুর্যোগের মধ্যেও গত বাজেটের ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? কীভাবে পদ্মা সেতুসহ সরকার এত বড় বড় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে? এগুলো কীভাবে সম্ভব? দেশের কোনো জায়গায় এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি যে কেউ বেতন না পেয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কার্যক্রম নৌ-পরিবহনে চলমান। আমারা আরও ২৫শ’ কোটি টাকার ডিপিপি সংশোধন করার জন্য একনেকে পাঠিয়েছি। তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে গেলো কীভাবে? গতকালও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন লোকও গৃহহীন থাকবে না।’
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সাহেদ-সাবরিনা কর্মকাণ্ডে নাকি বিশ্বের কাছে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে নাকি আমাদের যেসব ভাইয়েরা বিদেশে আছে তারা নাকি সংকটে পড়বে। পঁচাত্তর সালে যখন শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল, গর্ভবতী মাকে হত্যা করা হয়েছিল, এরা তখন কোথায় ছিল? পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের পরে দেশের ইমেজ যখন নষ্ট কারা হয়েছে, তখন কোথায় ছিল এরা। ধারাবাহিকভাবে দেশে যারা জঙ্গিবাদ, শায়েখ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই সৃষ্টি করেছে, তারা এখন বলে আমাদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট হবে না। কারণ, এখানে আছেন পৃথিবীর অন্যতম ডায়নামিক নেত্রী শেখ হাসিনা। এটা আমার কথা নয়, সমগ্র পৃথিবীর কথা।’
নৌ-প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের এই সম্ভাবনা দেখে, উন্নয়ন দেখে কষ্ট পান, তারা এসব কথা বানিয়ে বলছেন। কারণ, তাদের লক্ষ্যই হলো বাংলাদেশকে বিকলাঙ্গ করা। তাদের লক্ষ্যই দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। আমরা যখন জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছি, তখন তারা ব্যর্থ রাষ্ট্র উদযাপন করতে চাচ্ছে।’





Users Today : 2
Views Today : 2
Total views : 177964
