অন্ধকার যত গভীর হয় আলোর আশা ততই নিকটে আসে। যদিও এক সময় আলো শেষে হয়েই অন্ধকার এসেছিল। আর অলো একসময় অন্ধকারকে হটিয়ে তার জায়গা ঠিকই করে নেবে। প্রতিদিনের চলাচলে আমরা সকলেই সমস্যার অংশ বিশেষের মধ্য দিয়েই সময় পার করতে হয়। কতই না ধৈর্য ধরতে হয় আমাদের। নিজের সহ্যগুণের ক্ষমতা অনেক সময় না পাওয়ার কষ্টকে দূরে ঠেলে দিয়ে আরো অনেক কিছু পেতে সাহায্য করে থাকে। আজ সারা পৃথিবীর একটাই পথ যা ধনতন্ত্রীরা রক্ষা করে তার সুবিধা ভোগ করে থাকে। কিন্তু সেটা আর কয়জন হবে। বেশির ভাগই তো সেই না পাওয়া লোকদের লাইনে। আজ সকল ক্ষেত্রেই সারিবদ্ধ লাইন ভঙ্গকারী, কৌশলে কর আদায়কারী, অনাহারী বা অনাথদের দেখিয়ে নিজের আখের গোছানো, যার যা পাওনা তা থেকে তাকে অনেক দূরে রাখা আরো কত কি-ই না দেখা যাচ্ছে। তবে বিকল্পের কোনোই বিকল্প নেই। কেননা দেশ স্বাধীন কিন্তু আমরা পারাধীন।
পবিত্র বাইবেল যিশাইয় ৫৯ : ৯ এই জন্যে বিচার আমাদের হতে দূরে থাকে, ধার্মিকতা আমাদের সঙ্গ ধরতে পারে না। আমরা দীপ্তির অপেক্ষা করি কিন্তু দেখ অন্ধকার, আলোর অপেক্ষা করি কিন্তু তিমিরে ভ্রমণ করি। আমরা অন্ধ লোকদের মতো দেওয়ালের জন্য হাতড়াই, হোঁচট খাই ও মৃত লোকদের মতো চলি। কতই না শিক্ষা আছে তার পরিমাপ আমরা সংখ্যায় করে ফেলি। কিন্তু সেটা তো ভুল কেননা এটার হিসেব যারা কসে তারাও তো তথাকথিত শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের সীমাবদ্ধ জ্ঞান দ্বারা যেটুকু পেরেছে তাই সে চেষ্টা করেছে মাত্র। মাস যাচ্ছে বেতন পেয়ে দিব্বি চলছে সংসার। আর উপরিতে চলছে বাসনা পূরণের চেষ্টা। অন্যজনের বিষয় ভাববার সময় কোথায়। পিছু ভয় যে নেই সেটাও বলব না।
স্বামী রাজতীর্থ বলেছেন নিজের দোষ, গুণ আর ক্ষমতার সঠিক মূল্যাঙ্কন করাটাই হচ্ছে মজবুত পক্ষ। কিন্তু কীভাবে তা জানব বা চিনব। নিজের ভেতরে যদি নম্রতা না থাকে তবে কেমন করে তাকে চিনব। আজ সকালে দুইজন শিক্ষিত ভদ্রলোক আমার কাছে এসেছিলেন তার বুকটা একটু চেকআপ করতে। তারা দুজনই প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে ভাবে। প্রকৃতির নিবিড়তায় নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে তার দুঃখ বেদনাগুলো নিজেকে অনুভব করার মাধ্যমে কিছুটা হলেও প্রশান্তি পেতে চায় দুর্গন্ধযুক্ত এই সমাজ থেকে। পুঁজিবাদের নিষ্ঠুর শোষন, অপ-শাসন, কথিত গণতন্ত্রে গণতন্ত্র হীনতা, স্বৈরতন্ত্র, লুটপাট তন্ত্র, সাম্প্রদায়ীকতার বিরুদ্ধে রুটি-রুজি-ভাত-কাপড়-ভোটাধিকার আদায়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্যে গণ সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন। ধর্ম তো মানুষের কল্যাণের জন্য।
যে ধর্ম অন্য মানুষের কল্যাণ করে না মিছেমিছি সেই লেক দেখানো ধর্ম করে কি লাভ। মনে রাখা দরকার যে, নিপিড়ন-নিপীড়ক ও নিপীড়িত দুজনকেই অমানবিক করে তোলে। প্রকৃত মুক্তি ও মানুষ হওয়ার জন্য নিপীড়ক ও নিপীড়িতকে একে অপরের প্রয়োজন। আমরা মানুষ হয়ে উঠতে পারি কেবল পরস্পর সাহচার্য সম্প্রীতি ও শান্তিতে। কেননা প্রতিশোধের ওপরে পুনর্মিলনে ও জবাবদিহির চেয়ে ক্ষমা প্রর্দশনেই, হয়ত সেই অন্ধকার কেটে এক সময় উদিয়মান সূর্যের চকচকে আলোর দেখা পাবই। ক্রুশে ঝুলন্ত যীশু মৃত্যু মুখে দাঁড়িয়ে ক্ষমার শিক্ষাই দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, পিতঃ এদের ক্ষমা করো। কারণ এরা কী করছে তা তারা জানে না। আমাদের মনে সেই পরিবর্তনের আলোতে আলোকিত হোক। ঈশ্বর সেটা দেখার সৌভাগ্য দান করুন।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক; বিশেষ প্রতিনিধি সাপ্তাহিক সময়ের বিবর্তন।





Users Today : 9
Views Today : 9
Total views : 180708
