বিবর্তন ডেস্ক (বি. স.) ● গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরীক্ষার পর দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি কিট কার্যকর বলে মনে করছে। এ কারণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিটের নিবন্ধন চেয়ে আবেদন করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে। ওষুধ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। ফলে কিট নিবন্ধন পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, এক মাসেরও বেশি সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনা অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার পর ১৭ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় বিএসএমএমইউ। প্রতিবেদনের একটি কপি তারা ওষুধ প্রশাসনকে এবং আরেকটি কপি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জমা দেয়।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যান্টিবডি কিটের উদ্ভাবক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা রবিবার (২১ জুন) অ্যান্টিবডি কিটের নিবন্ধনের জন্য ওষুধ প্রশাসনে আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত তারা কোনও রেজাল্ট জানায়নি আমাদের। আমরা তাদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি।
ডা. বিজন বলেন, কিটের নিবন্ধন না দেওয়ার তো কোনো কারণ নেই। ওষুধ প্রশাসন হয়ত কীভাবে নিবন্ধন দেওয়া যায়, সেটা নিয়ে ভাবছে। আমার বিশ্বাস নিবন্ধন পেয়ে যাব। সেটা তারা যেভাবেই দিক।
বিএসএমএমইউ অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার প্রতিবেদনে গণস্বাস্থ্যের কিট কার্যকর বলে মনে করেন ডা. বিজন কুমার। তিনি বলেন, তারা তাদের পরীক্ষার একটি কপি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জমা দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনেই বলা আছে, গণস্বাস্থ্যের কিট কোভিড রোগের ব্যাপ্তি দেখার কাজে ব্যবহার করা যাবে। এই কিটের মাধ্যমে ৭০ শতাংশ রোগী, যাদের ইতিপূর্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের শনাক্ত করা সম্ভব। প্লাজমা বিতরণ, কোয়ারেন্টিন সমাপ্তির সময় নির্ধারণ এবং লকডাউন উত্তোলনের রূপরেখা তৈরি এবং হার্ড ইমিউনিটি যাচাইয়ে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে। তারা প্রতিবেদনে যেসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি কিটের ব্যবহার সুপারিশ করেছে, সেই কাজে কিটের অনুমতি চেয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরকে চিঠি দিয়েছি।
এ বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের উপ-পরিচালক আইয়ুব হোসেন জানান, সোমবার আমাদের কাছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের কিটের রেজিস্ট্রেশনের একটা আবেদন করেছে। এখন এটা আমাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।
তিনি আরও বলেন, কিটের ট্রায়াল পরীক্ষা শেষে নিয়ম অনুযায়ী বিএসএমএমইউ একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ওষুধ প্রশাসনে। এটা নিয়ে আমরা বসবো। তারপর একটা সিদ্ধান্ত দেবো। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
কিট নিয়ে ওষুধ প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে কতদিন সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে আইয়ুব হোসেন বলেন, আমাদের এখানে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এটার জন্য ১-২ দিন বা আরও বেশি সময় লাগতে পারে। আসলে নির্দিষ্ট করে সময় বলা যাবে না।





Users Today : 5
Views Today : 5
Total views : 184053
