মাত্র পনেরটি কাজ যত্নসহকারে করলে হাসপাতাল ও ফার্মেসির কোনো দরকার হয় না। তার প্রথম কাজটিই হলো এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম। আমরা বিভিন্নভাবেই এটা করতে পারি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে, শুয়ে শুয়ে, চলার পথে বা জেগে থাকা অবস্থায়। সব সময়ই আমরা কোনো না কোনো এক্সসারসাইজ করতে পারি। তাই আজই শুরু করি তা সঠিকভাবে জেনে। তার পরের কাজটি হলো ফাস্টিং বা সংযম। এটাকে আমাদের ভাষায় উপোস করা, রোজা রাখা, অভুক্ত থাকা, না খাওয়া, পরিমিত খাওয়া ইত্যাদি বলতে পারি। তবে ফাস্টিং যে শুধু খাওয়াতেই আছে তাও কিন্তু নয়। ধর্মীয়ভাবে ফাস্টিং, রাজনৈতিকভাবে ফাস্টিং, থেরাপিউটিক ফাস্টিং-সহ অনেক ফাস্টিং আছে জীবন চলার পথে। সবগুলোই আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে। তার পরেই আছে প্রাকৃতিক খাদ্য। প্রকৃতি থেকে আমরা বাতাস, আলো, তাপ পেয়ে থাকি। এটা আমাদের শরীরের সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতিতে নিজেকে বিলিয়ে দিলে অনেক সমস্যার সমাধান আমরা পেতে পারি। তারপরেই আছে লাফটার বা হাসি। হাসতে ভুলেই গেছি শত কাজের ভিড়ে। যদিও বা হাসতে চাই তা ঠোঁটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে মনে হয় যেন কৃত্তিমতায় ভরপুর।। শুধু চাই টাকা আর টাকা বা সম্পদ বাড়ানো। কি লাভ, যদি সমস্ত পৃথিবীর সম্পদ এক দিকে আর আমার জীবন এক দিকে দেওয়া হয়। আমি তো জীবনকেই চাইবো। তার পরেই আছে শাকসব্জি ও ফলমূল। প্রাকৃতিক সকল উপাদানই আছে এগুলোতে। ঈশ্বর আমাদের শরীরের সকল চাহিদা পূরণের জন্য সকল উপাদানই এর মধ্যে দিয়ে দিয়েছে। তার পরেই রয়েছে পরিমিত ঘুম। ঘুমকে বলা হয় মস্তিষ্কের চার্জ। পরিমিত ঘুম, তার মানেই ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা যা আমাদের মস্তিষ্ককে সুন্দরভাবে চালাতে সাহায্য করে। তার পরেই আছে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা যেটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। সকালের নির্মল বাতাসে আমাদের রক্ত যেমন বিশুদ্ধ অক্সিজেন পেতে পারে, তেমনই সকালের সূর্যের তাপ আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি উৎপাদনে সাহায্য করে, যা অনেক রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। তাপ শক্তিকেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো শক্তি হিসেবে দেখা হয়, আর তা আমরা সূর্যের কাছ থেকে পেতে পারি। তার পরেই আছে নিজেকে ভালোবাসা ও অন্যদের ভালোবাসা দেওয়া। আমি যদি নিজেই নিজের সম্বন্ধে না বুঝি বা নিজেকে না জানতে চেষ্টা করি বা নিজেকেই ভালোবাসতে না পারি, তবে আমার এই জীবন তো বৃথা। পবিত্র বাইবেল বলেছে, প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসো। তাই তো নিজেকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়, তাই যদি না জানি, তবে অন্যদের কেমন করে ভালোবাসবো।
তার পরেই আছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আমাদের সমাজে বর্তমানে সেটা উঠে গেছে। আজ যেন কৃতজ্ঞতাকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। এটা যেন নিজেকে নিচু করার মতো। আসলে কৃতজ্ঞতার প্রকাশ যার জীবনে আছে, সেই তো দুই কালেই প্রতিষ্ঠিত। তার জন্যে ইহকাল ও পরকাল কোনোটার সামনেই কোনো বাধা থাকবে না। তার পরেই আছে অপরাধ ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা। বিভিন্ন কারণে মানুষের মনে অপরাধবোধ আসতে পারে বা মানুষ অপরাধী হতে পারে। আবার সাজানো অপরাধে যে আমরা কোনো কোনো সময় আক্রান্ত হই না, তা কিন্তু নয়। তবে নিজেকে অনেক ধৈর্যের সাথে এটা মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তার পরেই আছে ধ্যান করা। ধ্যান অর্থ হলো নিরিবিলিভাবে, নিজের আত্মাকে পরমাত্মার সাথে মিলিয়ে দিয়ে সেখান থেকে শক্তি আহরণ করা। এর মানে হলো মনকে প্রশস্ত করা। তুমি যখন তোমার মনকে প্রশস্ত করো, আর একে ছেড়ে দাও প্রকৃতিতে, যখন তুমি তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে নাও এবং এটাকে লম্বা করো, তখন তোমার শরীর শান্ত ও স্থির হয় এবং তুমি একে নিজের আয়ত্বে রাখতে পারো, আর এটা হলো শ্বাস-প্রশ্বাসের চক্রায়ন, যা শরীরকে সজিব ও সতেজ রাখে। আর এটার দ্বারাই নিজের চিন্তা ও কাজ কে স্বগীয় মনে হবে। আমি নিজে যখন একাকী নিজের ঘরে চোখ বন্ধ করে বসে থাকি, মনটা তখন শান্ত হয়, মনের অদৃশ্য সংযোগ যেন বেড়ে যায়, সকল অবসাদ দূর হয়, রিফ্রেশ হয় মনের হার্ডডিক্স, আর এটার প্রভাবই নিজের সুস্থতা নিজে বুঝতে পারি। কেননা মনস্তাত্তি¡ক স্বাস্থ্য, স্নায়ুবিক স্বাস্থ্য, কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা করে এই বিষয় গুলো। এছাড়াও আছে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুষম খাদ্য খাওয়া। সেই খাদ্যই সুষম খাদ্য যার মধ্যে খাদ্যের ছয়টি উপাদানই অন্তর্ভুক্ত থাকে। কেননা কোনো একটা উপাদানের ঘাটতি মানেই তো শরীরের কোনো অঙ্গ দুর্বল হওয়া। তা ছাড়া যেন কোনোভাবেই খাওয়াটা বেশি হয়ে না যায়, সেদিকেও সুদৃষ্টি দিতে হবে। পরিমিত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। সব থেকে বড়ো যেটা সেটা হলো, ভালো বন্ধু। বন্ধু মানে যে শুধু স্কুল কলেজের হবে তা কিন্তু নয়। পরিবারের সাথে বন্ধুত্ব, স্বামী স্ত্রীতে বন্ধুত্ব, সামাজিকতায় বন্ধুত্ব, সামনে যার সাথে দেখা হবে তার সাথেই বন্ধু সুলভ আচরণ। সর্ব ক্ষেত্রেই বন্ধুত্বের প্রকাশ থাকতে হবে জীবনে।






Users Today : 13
Views Today : 18
Total views : 172744
