সারা পৃথিবীতে যেসকল মহা-পুরুষ নিজ জাতিকে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্তি দেন, তিনি সেই জাতির কাছে মহাপুরুষ হিসেবে, মহামানব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যান। এটি একটি প্রচলিত নিয়ম। এখানে কোনো বাড়াবাড়ি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ জর্জ ওয়াশিংটন, রাশিয়ার জনগণ ভøাদিমির ইলিচ লেনিন, ভারতের জনগণ মহাত্মা গান্ধী, তুরস্কের জনগণ মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক, চীনের জনগণ মাও শেতুং, পাকিস্তানের জনগণ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কিউবার জনগণ ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে তাদের দেশের মুক্তি দাতা হিসাবে মেনে নিয়েছেন, বরণ করে নিয়েছেন এরকম উদারহণ কয়েকশত দেয়া যাবে। এই মহাপুরুষরা যাঁর যাঁর দেশের জনগণের কাছে মহানায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেইসব দেশের উদ্বোধনী খাম, ডাকটিকেট, ধাতব মুদ্রা, ব্যাংক নোটে তাঁদের ছবি মুদ্রিত হচ্ছে। এর ফলে সেই সব দেশের মহানায়করা সারা পৃথিবীবাসীর কাছে পরিচিতি পাচ্ছেন।
মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বাংলাদেশের জনগণকে মুক্তির জন্য যিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন সেই মহাপুরুষের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে সারা পৃথিবীর বাঙালির কাছে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই সূর্য সন্তান গোপালগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটোবেলা থেকেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষার সাথে সাথে ধর্মীয় শিক্ষায় আলোকিত হতে থাকেন। যেটা তার ব্যক্তিগত জীবনে দেখা গেছে। ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে চিরদিনের জন্য মাইনাস করতে চেয়েছিল। তার কারণ একটাই ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এর ফলে সেই দিন থেকেই হানাদার পাকিস্তানিরা বুঝে গিয়েছিল তাদের ডাস্টবিনে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। এই বাংলার ভূমিতে তাদের আর কোনো স্থান নেই। বঙ্গবন্ধুকে হানাদার পাকিস্তানিরা বন্দি করে যখন পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে গেল তখন এদেশের অল্পকিছু দেশবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আল সামস্, জামায়েতে ইসলাম নামধারী দুষ্কৃতিকারী ছাড়া সাড়ে সাত কোটি বাঙালী হানাদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ে। সেই সময়ে আমাদের পরম মিত্র ভারত আমাদেরকে সবদিক দিয়ে মানবিক সহায়তা, সামরিক প্রশিক্ষণ, গেরিলা প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি চৌকস মুক্তিবাহিনী গড়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। সেই সময়ের ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আমাদের সহায়তা করেছিলেন। তাঁর নামটিও স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে।
২০২০ সালের ১৭ই মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উদ্যাপন শুরু হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐদিন আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিববর্ষের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। একাধিক দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা ঐদিন ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন। ১৬ কোটি বাঙালি মিলে মিশে দিনটিকে উদ্যাপন করবেন। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ পালন উপলক্ষে বছরব্যাপী রাষ্ট্রীয়ভাবে মুজিববর্ষ পালন করা হবে। শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীতে যেখাইে বাংলাদেশী দূতাবাস রয়েছে সেখানেও মুজিববর্ষ অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হবে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে সারা ঢাকাকে নতুন রূপে সাঁজানো হবে। মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, তাবলীগ জামায়েতের জন্য একটি মসজিদ উপহার প্রদান করেন, বিশ্ব ইজতেমার জন্য টঙ্গীতে জায়গা বরাদ্দ করেন, মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করেন, বেপর্দা নারীদের পর্দার মধ্যে নিয়ে আসেন, দেশ থেকে সুদ ও ঘুষকে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করেন, অন্যধর্ম বিশ্বাসীদের জন্যও যা যা করণীয় তিনি তাই করেছেন।
দিনটিকে চির স্মরণীয় রাখার জন্য অন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রৌপ্য মুদ্রা, একটি স্বর্ণ মুদ্রা, ১০০ ও ২০০ টাকার দুটি স্মারক ব্যাংক নোট সংগ্রাহকদের জন্য বাজারজাত করবে। বাংলাদেশ ডাকবিভাগ দিনটি উপলক্ষে উদ্বোধনী খাম, ১০০টি বিশেষ ডাক টিকিট প্রকাশ করবে। সারা দেশবাসীর সাথে সাথে টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাবও এই মহা-মানবের জন্মদিন পালন করবে। টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাব মাসব্যাপী নতুন মুদ্রা সংগ্রাহকদের বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্মলিত দুর্লভ ব্যাংক নোট উপহার দিবে। দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবে। নতুন প্রজন্ম নতুন করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে নতুন করে আবিষ্কার করার সুযোগ পাবেন, যার পুরো কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার। অন্য কোনো দল আজ ক্ষমতায় থাকলে এই মহাপুরুষকে যথাযথ মূল্যায়ন করতো না, কারণ তাদের মধ্যে কোনো দেশপ্রেম নেই। যারা জাতির পিতাকে সম্মান দিতে পারে না, তারা নিজের পিতা মাতাকেও সম্মান দিতে পারে না। আজকের এই শুভলগ্নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানাই আমাদের লাখো সালাম।
সৈয়দ রশিদ আলম : গবেষক ও প্রাবন্ধিক।





Users Today : 32
Views Today : 40
Total views : 177925
