জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সর্বত্র ছিল পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর ধ্বংসলীলার ক্ষতচিহ্ন। সদ্যস্বাধীন দেশের মানুষের খাদ্য-বস্ত্র, বাসস্থানের অভাব ছিল প্রকট। কলকারখানায় উৎপাদন শূন্যের কোঠায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু রাখা ও এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনসহ দেশের সমস্যা ছিল আকাশসম। সদ্যস্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ, যা তিনি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেন। স্বাধীনতা-উত্তর কালের বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থার পর্যালোচনা করে বিশ্বজুড়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫০ লাখ মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাবে, দেখা দেবে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। এমনি এক ভয়াবহ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিল। বঙ্গবন্ধুর সাহসী নেতৃত্ব ও পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকার প্রাথমিক অসুবিধা ও সংকটগুলো কাটিয়ে উঠেছিলেন দ্রæত। দেশের প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ প্রমাণ করে যে বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রাথমিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি সুনিশ্চিত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য অর্জন করেছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পূর্বে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর রেকর্ডকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা ওয়ারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি স্বশরীরে মুক্তিযুদ্ধে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর নামেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে আয়োজিত জনসভায় দেয়া ভাষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির পুননির্মাণ, সমাজে শান্তি ও স¤প্রীতি রক্ষা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ক‚টনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের যে প্রকৃত লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সে ভাষণেরই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়।
১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কালবিলম্ব না করে রাতে তিনি পাকিস্তানের পিআইএর একটি বিমানে লন্ডন যাত্রা করে ৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁঁছেন। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজকীয় কমেট বিমানে ৯ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন।
১০ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে সৌজন্য সাক্ষাতের পর ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানেই যাত্রা করেছিলেন ঢাকার উদ্দেশে। ব্রিটিশ কমেট বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দর স্পর্শ করে বিকেল ৩টায়। সেখানেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু দেশ পুনর্গঠনের নানা দিক নির্দেশনা দেন।
বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু সেদিন রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় ভাষণে বলেন, ‘বাংলার মানুষ আজ মুক্ত, স্বাধীন। কিন্তু আমাদের সামনে অসংখ্য সমস্যা আছে, যার আশু সমাধান প্রয়োজন। অনেক কাজ আছে যা করা জরুরি।’ এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং শোষণ-বৈষম্য থেকে জনগণের মুক্তি অর্জনকে তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে প্রশাসন, শিক্ষা, আইন-শৃংখলা রক্ষা, বন্দর কার্যক্রম, বৈদেশিক বাণিজ্য, যোগাযোগ, কৃষি, সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা নির্মাণ, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ও ট্রেজারি চালান, কর আদায়, বীমা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবসরকালীন ভাতা প্রদান, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাতা প্রদান ইত্যাদি। ১১ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধু সব ক্লান্তি-ভাবাবেগ উপেক্ষা করে এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দেশ পরিচালনায় গভীর মনোনিবেশ করেন। সেদিনই মন্ত্রিসভার সঙ্গে দুদফা বৈঠক করেন এবং বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিলÑঅভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক সম্পদের পর্যাপ্ত সহবরাহ, অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ, যুদ্ধে সর্বস্বহারা লাখ লাখ মানুষের পুনর্বাসন এবং আর্থিক, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনরুজ্জীবন ছিল বঙ্গবন্ধুর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক খাতের বাইরে অন্যান্য চ্যালেঞ্জ ছিল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুশাসন এবং বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর ক‚টনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। এরফলে স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তিনশ’র বেশি রেলসেতু এবং তিনশ’র বেশি সড়ক সেতু মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী বাহিনী ধ্বংস করেছে। ২৯ টি জাহাজ ডুবিয়ে বন্দরের প্রবেশপথ অচল করে দেয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হয়ে যায়। পলায়নরত পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বন্দরের চ্যানেলে মাইন পুঁতে যাওয়ার কারণেও দেশের প্রধান এই সমুদ্র বন্দর ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পণের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নগদ টাকা ও মজুদ স্বর্ণ জ্বালিয়ে দেয় এবং পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পপতিরা প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা সরিয়ে নেয়। এতে সদ্য স্বাধীন হওয়া এই দেশটি অর্থশূন্য হয়ে পড়ে। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে কৃষিখাতে ৩৭৬ কোটি টাকাসহ দেশের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১০২০ কোটি টাকা।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সৃষ্ট ভৌত ক্ষতি হিসাব করা হয়েছিল আনুমানিক ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। স্পষ্টত এ পরিসংখ্যানকে সম্পূর্ণ নির্ভুল হিসাব মনে করার কারণ নেই, উপরন্তু এতে অবস্তুগত ক্ষতি কিংবা যুদ্ধের ফলে উৎপাদনের রিকভারি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে দেরি হওয়ার প্রভাবজনিত ক্ষতি প্রাক্কলন করা হয়নি। আলোচ্য হিসাবের মধ্যে অবশ্য যুদ্ধে সৃষ্ট কৃষি উৎপাদনের ক্ষতিও ছিল। এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। খাদ্য বাদে কৃষি সম্ভাবনার (এগ্রিকালচারাল পটেনশিয়াল) ক্ষতি ছিল খুব সামান্য; প্রধান প্রভাব ছিল প্রাণিসম্পদ ও মাছ ধরা সরঞ্জামের ক্ষতিতে। পোস্টাল সেবা ও টেলিকমিউনিকেশন অবকাঠামো বিপর্যয়ের ক্ষতি শিল্পের ক্ষতি থেকে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিরূপ প্রভাব রাখা সবচেয়ে ভয়াবহ ধরনের ছিল পরিবহন অবকাঠামোর ক্ষতি। যদিও এ ধরনের ক্ষতি ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ছিল না এবং সেনা প্রকৌশলীদের দ্বারা এর বড়ো অংশই সংস্কার করা হয়েছিল। অবশ্য ১৯৭৩ সালের শেষ পর্যন্ত বলা যাবে না যে একটি পুরোপুরি কার্যকর পরিবহণ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা গেছে এবং এমনকি ওই সময়েও পরিবহন ব্যবস্থায় যথেষ্ট ঘাটতি ছিল।
দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক নিন্মে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হলো :
মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন : মুক্তি বাহিনীর জওয়ানদের কাজে লাগানোর জন্য বঙ্গবন্ধু ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী, মিলিশিয়া, রিজার্ভ বাহিনী সংগঠনের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া দেশ গড়ার বিভিন্ন কাজে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান করেন।
ত্রাণ কার্যক্রম : রিলিফ ও পুনর্বাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মঞ্জুরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ : মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র নিজেদের কাছে না রেখে তা ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সমর্পণের আহŸান জানান। এতে সব মুক্তিযোদ্ধা সাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেন।
স্বাধীন বাংলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ : ঢাকা মুক্ত হওয়ার পর একটা প্রশাসনিক শূন্যতা বিরাজ করছিল রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র। নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু প্রত্যাবর্তনের পর প্রশাসনকে কর্মোপযোগী করে তোলেন।
ভারতীয় বাহিনীর স্বল্পতম সময়ে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ: প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আগেই ১২ মার্চ ১৯৭২ ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
১৯৭২ সালের সংবিধান : ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তারই আদর্শ হিসেবে রচিত হলো রক্তে লেখা এক সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২।
সাধারণ নির্বাচন : ১৯৭৩ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থাগ্রহণ।
প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা : বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের জনগণের দ্রারিদ্র্য দূরীকরণ তথা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে জাতির জনক প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
এই পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো ছিল:
পররাষ্ট্রনীতি : বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরী মনোভাব নয়।’ প্রথম তিন মাসের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ ৬৩টি দেশের স্বীকৃতি লাভ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রগণ। ৩ মাস ২১ দিনের মধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় দুই বছর দুই মাসের মধ্যে। বঙ্গবন্ধু সরকারের বিচক্ষণ ক‚টনৈতিক তৎপরতায় এ সময়ের মধ্যে সর্বমোট ১২১টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন : ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলাম আদর্শের যথাযথ প্রচার তথা ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ছিল জাতির জনকের সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল।
যুদ্ধাপরাধীর বিচার : বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ কোলাবরেটরস স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল অর্ডার’ জারি করে। এতে দালাল, যোগসাজশকারী কিংবা কোলাবরেটরদের সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে:
ক) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা প্রদান বা কোনো কথা, চুক্তি ও কার্যাবলির মাধ্যমে হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করা।
খ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বা যুদ্ধের চেষ্টা করা।
গ) মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে ও মুক্তিকামী জনগণের কর্মকাÐের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
ঘ) পাকিস্তানি বাহিনীর অনুক‚লে কোনো বিবৃতি প্রদান বা প্রচারে অংশ নেওয়া এবং পাকিস্তানি বাহিনীর কোনো প্রতিনিধিদল বা কমিটির সদস্য হওয়া। হানাদারদের আয়োজনে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া।
চার ধরনের অপরাধীর বিচার : পরবর্তীকালে একই বছরে এই আইন দুই দফা সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীতেও চার ধরনের অপরাধীকে ক্ষমা করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে নেই, তাদের ক্ষমা করা হয়। কিন্তু যারা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যা এই চারটি অপরাধ করেছে, তাদের ক্ষমা করা হয়নি। ১৯৭৩ সালে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ জনকে দালাল আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার ৮১৮টি মামলার সিদ্ধান্ত হয়। এতে রাজাকার চিন আলীর মৃত্যুদÐসহ ৭৫২ দালাল দÐিত হয়। বঙ্গবন্ধু সরকার আইনগত ব্যবস্থা ত্বরিত করার জন্য ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ১১ হাজার আটক থাকে।
উপরন্তু বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালের ১৯ জুলাই ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট’ জারি করেন, যা পরবর্তী সময়ে আইন হিসেবে সংবিধানে সংযোজিত হয় এবং অদ্যাবধি তা বহাল রয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানের ১২ ও ৩৮ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সংবিধানের ৬৬ ও ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার বাতিল করা হয়েছিল।
হজে প্রেরণ : ১৯৭২ সালে সৌদি আরবে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে ছয় সহস্রাধিক বাংলাদেশি মুসলমানকে হজ পালনে প্রেরণ করা হয়।
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি : ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত হয় ‘২৫ বছরমেয়াদি’ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীচুক্তি।
শিক্ষা কমিশন গঠন : বঙ্গবন্ধু দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুযোপযোগী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন।
যমুনা সেতু : ১৯৭৩ সালের ১৮-২৪ অক্টোবর জাপান সফরকালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাকুই তানাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের সূচনা করেন।
বিভিন্ন সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ : এ সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সরকার জাতিসংঘের বেশির ভাগ সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদস্যপদ গ্রহণ করার ব্যবস্থা করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন : স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ : বাংলাভাষাকে বিশ^ দরবারে স্থান করে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদান।
২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ: পাঁচ হাজার টাকার ওপরে কৃষিঋণ মওকুফকরণ এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে এনে সামাজিক অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জমি মালিকানার সিলিং পুননির্ধারণ ছিল ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা : বঙ্গবন্ধু সরকার নগর ভিত্তিক ও গ্রামীণজীবনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৫০০ ডাক্তারকে গ্রামে নিয়োগ করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আইজিএমআর শাহবাগ হোটেলে স্থানান্তর হয়। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে থানা স্বাস্থ্য প্রকল্প গ্রহণ বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আজও স্বীকৃত।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি : বাংলাদেশের শিল্পসংস্কৃতিকে বিশ^ দরবারে তুলে ধরার জন্য ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় আশা-আকাক্সক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশকে শিল্প-সংস্কৃতিবদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠন এবং বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ধরে রেখে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশি শিল্পকলা একাডেমি গঠন করেন।
বৈদেশিক বাণিজ্য শুরু : শূন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারকে শুরু করতে হয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্য। এ ছাড়া জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থায় বলিষ্ঠ ভ‚মিকা পালন করে বঙ্গবন্ধু তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বের ছাপ রাখতে সমর্থ হন। পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ এবং বিশ্বশান্তির প্রতি ছিল তাঁর দৃঢ় সমর্থন। এ ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ভ‚মিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাঁকে প্রদান করে ‘জুলিওকুরি’ শান্তিপদক।
দুর্নীতির বিরদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা : ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ছেয়ে যাবে।’ দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, চোরাচালানি, মজুদদারি, কালোবাজারি ও মুনাফাখোরদের সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রæ বলে আখ্যায়িত করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এদের শায়েস্তা করে জাতীয় জীবনকে কলুষমুক্ত করতে না পারলে আওয়ামী লীগের দুই যুগের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বদানের গৌরবও ¤øান হয়ে যাবে। ’
এসব পদক্ষেপ সমূহের মধ্যে সবার আগে অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দেন বঙ্গবন্ধু, কারণ সেসময় দেশব্যাপী জনগণকে সহায়তা প্রদান ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনঃনির্মাণ খুবই জরুরি ছিল। বঙ্গবন্ধু দেশের আনন্দ উচ্ছ¡সিত জনগণের প্রতি উদাত্ত আহŸান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের রাস্তাঘাট এবং সেতুগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এগুলো মেরামত শুরু করুন’। বঙ্গবন্ধু একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আপোশহীন থেকে ঘোষণা করেছিলেনÑ“আমি আমার অফিসারদের হুঁশিয়ার করছি কেউ যেন ঘুষ না নেয়, এই মাটিতে দুর্নীতিকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।” তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ছিল সমাজে শান্তি ও স¤প্রীতি বজায় রাখা। তিনি জনগণকে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের অবশ্যই শান্তি বজায় রাখতে হবে। শান্তিপ্রিয় বাঙালি স্বাধীনতার জন্য অনেক রক্ত ঝরিয়েছে। তারা শান্তি রক্ষা করতেও জানে।’ তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত অবাঙালি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের বাঙালি হওয়ার আহŸান জানান। কিন্তু তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, যারা এদেশের মাটিতে বসে ইয়াহিয়ার সরকারকে সহায়তা করেছে এবং স্বাধীনতাকামী জনগণকে হত্যা করেছে তাদের ক্ষমা করা হবে না। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির ব্যাপারেও বঙ্গবন্ধু সজাগ ছিলেন।
এই সময়ে বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদুৎ বিতরণ পুরুদ্ধার করার লক্ষ্যে দেশের বড় বড় সেতু, বিদুৎ কেন্দ্র, টেলিফোন ভবন পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেন। যা ছিল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয়। পরবর্তী বছরগুলোতে সরকার হার্ডিঞ্জ সেতু, তিস্তা ও ভৈরব রেলওয়ে সেতু পুনঃনির্মাণ করে যানবাহনের জন্য খুলে দেয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাইন ও ভাঙা জাহাজ অপসারণ করে বন্দর চলাচলের যোগ্য করে তোলা হয়। শিল্প খাতের জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার দীর্ঘ মেয়াদী শিল্প ঋণ প্রদানের নীতিমারা গ্রহণ করেন। বিনিয়োগকারীদের জন্য চলমান কাজের জন্য স্বল্প মেয়াদি মূলধন ঋণ প্রদান ও ইক্যুইটি সার্পোট দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু পরমাণু শক্তি কমিশন, বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ, শিল্পঋণ সংস্থা, কৃষি গবেষণা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর সরকার গঠনের পর দ্রæততম সময়ে বিভিন্ন দেশের সাথে কার্যকরী ক‚টনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার কাজ। বঙ্গবন্ধুর সফল প্রচেষ্টার কারণে জাতিসংঘ যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সহায়তার জন্য ৪১১ কোটি টাকা প্রদানের ঘোষণা প্রদান করেছিল। ভারত সরকার সে সময় বাংলাদেশকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতা প্রদান করে।
পরিস্থিতি দ্রæততার সঙ্গে আদৌ সঠিক পথে বা উন্নতির দিকে এগোত না, যদি জাতিসংঘের প্রচেষ্টা অব্যাহত না থাকত। কারণ সুশৃৃঙ্খল উপায়ে খাদ্য বিতরণ ও বিভিন্ন উৎস থেকে সাহায্য-সহযোগিতা সংহত করার উদ্যোগ নিয়েছিল সংস্থাটি। বিশুদ্ধ সাংগঠনিক সামর্থ্য বা সক্ষমতা ছিল এ সহযোগিতার খুব গুরুত্বপূর্ণ ও দামি অনুঘটক এবং সমস্যা বিস্তারের সমান্তরালে আলোচ্য সাংগঠনিক সাহায্য আর্থিক সহযোগিতার সঙ্গে সমন্বিত হয়েছিল। অনুমিত ক্ষতির হিসাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ১৯৭২ সালের আগস্টের শেষের দিকে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার অর্থসহায়তার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল এবং উল্লিখিত বছর শেষে প্রতিশ্রæত অর্থসহায়তার পরিমাণ উন্নীত হয়েছিল ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ডলারে। এভাবে পুরোপুরি যুদ্ধকালীন ক্ষতি পোষাতে যথেষ্ট উপায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অর্থসহায়তা (বেশির ভাগই ভারত থেকে আসা) দ্রæততার সঙ্গে বিতরণ করে অবনতিশীল খাদ্য পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয় এবং অর্থনীতির অন্য বিষয়গুলোও ১৯৭২ সালের মাঝামাঝিতে মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে আসে। যদিও জাতিসংঘের প্রচেষ্টা সত্তে¡ও পরিবহন সুবিধা তখনো অপ্রতুল ছিল। পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় বাধা ছিল আমদানিকৃত পণ্যপ্রবাহের ধীরগতি। পাইপলাইনে এসব পণ্য ছাড়ে দেরি হওয়ায় অর্থনীতিতে গভীরতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল।
পরিশেষে, বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ নেতৃত্ব যথাযথ কর্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ দ্রæতই সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্র, দেশের ভেতর লুকিয়ে থাকা বর্ণচোরা স্বাধীনতা বিরোধীদের সহযোগিতায় এবং পাকিস্তানপন্থী কিছুসংখ্যক উচ্চাবিলাসী সামরিক বাহিনীর অফিসারদের সহযোগিতায় ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার ও আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চরম আঘাত হানা হয়। যা ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়ের সূচনা হয়। যার ক্ষত চিহ্ন আজও বাংলাদেশের মানুষ বইছে।
লেখক : মাহবুবুল আলম
কবি-কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও গবেষক।





Users Today : 39
Views Today : 49
Total views : 177934
