১ লা জানুয়ারি ২০২০, সকাল ১১টা। স্থান: টাকা জাদুঘর। মিরপুর-২। বছরের প্রথম দিন আমি প্রথম ব্যক্তি মুদ্রা সহ টাকা জাদুঘরে উপস্থিত হলাম। হয়ে গেলাম পরপর পাঁচ বছর থেকে বছরের প্রথম মুদ্রা উপহার দাতা। ঐদিন সকাল ১১:৩০ টায় টাকা জাদুঘরে উপস্থিত হলেন, টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও টাকা জাদুঘরের সম্মানিত মুদ্রা উপহার দাতা শেখ আবু জাফর জুয়েল। তিনিও ঐদিন টাকা জাদুঘরে মুদ্রা উপহার দিলেন। এবার ফিরে যাই শেখ আবু জাফর জুয়েলের মুদ্রা সংগ্রহের ইতিহাসের দিকে। তাঁর মুদ্রা সংগ্রহের শুরুটা হয়েছিল তাঁর মায়ের কাছ থেকে একটি মুদ্রা উপহার পাওয়ার পর থেকে। এরপর তিনি যার কাছে দেশ-বিদেশে ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা দেখতেন তবেশি তার ভেতর মুদ্রা সংগ্রহের আগ্রহ তৈরি হতো। এভাবে নিজের অজান্তেই হয়ে গেলেন দেশের অন্যতম একজন মুদ্রা সংগ্রাহক।
বাগেরহাট জেলার শালতলা রোডে শেখ আবু জাফর জুয়েলের জন্ম। তাঁর পিতা ছিলেন একজন খ্যাতনামা আইনজীবী। এখানেই তাঁর পড়াশুনা শুরু, পাশাপাশি চলছিল মুদ্রা সংগ্রহ। বাগেরহাট থাকাকালীন সময়ে তিনি একাধিক মুদ্রা প্রদর্শনীতে তাঁর মুদ্রা নিয়ে উপস্থিত হলেন। বাগেরহাটবাসী তাঁর মুদ্রার সংগ্রহশালা দেখে অবাক হয়ে গেলেন। তিনি বিএনসিএসসহ একাধিক ক্লাবের আয়োজিত মুদ্রা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘর ও টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাব, টাকা জাদুঘরে মুদ্রা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল সেখানেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুদ্রা সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন-যাদের কথা তিনি মনে রেখেছেন। একাধিক পত্রিকায় তার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তিনি প্রচার বিমুখ হওয়ার কারণে প্রচারের আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখেন। বাংলাদেশের তিনি যেখানেই যান সেখানেই তিনি টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাবের পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশের ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা উপহার দেন, যেন এদের ভেতর থেকে একাধিক মুদ্রা সংগ্রাহক তৈরি হয়। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘরের সবার কাছে একটি প্রিয়মুখ, প্রিয় মানুষ। বাগেরহাট থেকে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের পর তিনি তাঁর মুদ্রা সংগ্রহের ভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধি করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি যখন যান সেখানেও গিয়ে বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশের ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা উপহার দিয়ে আসেন, যে কাজটি একজন রাষ্ট্রদূতের করা উচিত। তাঁর সংগ্রহে স্বাধীন দেশ, বিলুপ্ত দেশ ও টেরেটোরি মিলিয়ে মোট তিন হাজার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা রয়েছে। এছাড়াও তাঁর সংগ্রহে প্রাচীন যুগের অতি দুর্লভ স্বর্ণ মুদ্রা ও রৌপ্য মুদ্রা রয়েছে। তিনি চান আজীবন এই সংগ্রহের জগতে থেকে যেতে, নতুন মুদ্রা যারা সংগ্রহ করছেন তারা শেখ আবু জাফর জুয়েলকে দেখে উৎসাহিত হন অনুপ্রাণিত হন। তিনি চান সবসময় তাঁর সংগ্রহশালা সবাই দেখে আসুক। যারাই তাঁর সংগ্রহশালা দেখতে যায় তারা মুগ্ধ হয়ে যান। সবাইকে তিনি চা ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়িত করেন।
ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা ছাড়াও তিনি উদ্বোধনী খাম, মুদ্রা সংক্রান্ত বই, ডাক টিকিট সংগ্রহ করেন। একাধিক ডাক টিকিট প্রদর্শনীতে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। মুদ্রা সংগ্রহের কথা যখনই বলা হবে তখনই কৃতজ্ঞতার সাথে শেখ আবু জাফর জুয়েলের নাম চলে আসবে। টাকা জাদুঘরের ইতিহাস যতবার লেখা হবে ততবার দাতা শেখ আবু জাফর জুয়েলের নামও চলে আসবে, এটাই তাঁর সার্থকতা। তিনি নিজের কাছে না রেখে টাকা জাদুঘরকে সেরাটাই উপহার দিয়েছেন। পৃথিবীতে দুই শ্রেণির মানুষ আছেন, গ্রহীতা ও দাতা, শেখ জাফর জুয়েল,গ্রহীতা নন, দাতা…
সৈয়দ রশিদ আলম : সাধারণ সম্পাদক, টাকা যাদুঘর ডোনার ক্লাব।





Users Today : 128
Views Today : 141
Total views : 177392
