আইন করে নিজের জায়গায় নিজেকে অবৈধ বানানোর যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা আর বন্ধ হয়ত হবে না। যত দিন যাবে ততই যে নিজের পরিচিত জায়গায় নিজেই নতুন হয়ে যাচ্ছি সমাজে। জানি না এটা ব্যর্থতা না-কি সফলতা, তবে ধারাবাহিক সফলতা বা ব্যর্থতা দুটোই খারাপ। মাঝে মাঝে স্বাদের পরিবর্তন হলে তবেই তো আসল উপলব্ধি বের হয়ে আসে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা কেন যেন আজ পুতুল নাচের খেলার মতো মনে হচ্ছে। কেউ আনন্দ পাচ্ছে, কেউবা স্বজন হারাচ্ছে। শত লাফ ঝাঁপ, শত হুমকি, শত নিষ্ঠুরতা, শত অপমান, শত মা-বোনের সম্ভ্রমের উপরে হামলা দেখে আজ অন্তরাত্মা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। কি হতে যাচ্ছে পরবর্তী সময়ে সেটার হিসেব কসে শেষ করতে পারছি না। অত্যাচার করে মেরে ফেলে সেই মৃত মানুষের উপরে তাণ্ডব নৃত্য যা হয়েনা ও বন্যশূকরের সম্মানকেও নষ্ট করেছে। কেননা তারাও এতটা নিষ্ঠুর হতে পারেনি। যতই আধুনিকতা ততই যেন নিষ্ঠুরতার বৃদ্ধি হচ্ছে।
৫০ বছর আগে কখনো মানুষকে এত নৃশংসভাবে হত্যা করে তাণ্ডব নৃত্যের কথা শুনিনি। পরিবারকে জিম্মি করে মা মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের কথা শুনিনি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মেরে ফেলে অস্ত্র লুট করে সেই লাশ গাছে টাঙিয়ে রাখতে দেখিনি। কোনো ধনী অভিজাত শিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করতে দেখিনি। জবরদখলের মহা উৎসবে আগ্নেয়াস্ত্রের আওয়াজ শুনিনি। আজ ক্ষুধার্ত গৃহহীন মানুষ যখন কাঁদছে, চাঁদাবাজরা তখন অস্ত্র হাতে হাঁক মারছে, আর ফন্দিবাজরা রাজপথ কাঁপিয়ে নিজেদের বিপদ নিজেরাই কাছে ডাকছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষ শুধু হিসেব করেই গেলাম যে কতটা হারালাম আর কতটা বাকি আছে হারাতে। তবে একটা কথা সত্য যে আমরা খুবই ধৈর্যশীল জাতি। সব বুঝেও মহা সর্বনাশের আগে মুখ খুলি না। নিজের চোখে বিষাক্ত তীর বিদ্ধ না হলে অন্যের অন্ধত্বের কষ্ট বুঝি না। শক্তির অভাবে হোক বা ভয়েই হোক অনুভূতিহীন প্রাণীর মতো অদৃশ্যের হাতে নিজেকে সঁপে দেই। কসাইখানার পশুর মতো নিজেরা নিজেরা গুতোগুতি করে বধ্য ভূমিতেই নিজেদের সঁপে দেই। কত আজব প্রাণী আমরা। নিজেরা নিজেদের শক্তির মূল্যায়নের ব্যর্থতায় নিজেরাই নিজেদের মেরুদণ্ডহীন প্রাণীতে পরিণত করে ফেলেছি। তাই তো মিটি মিটি আলোতে নিজের মেরুদণ্ড ঠিক আছে কিনা তা খুঁজতে অনেকেই ব্যস্ত। কবি শঙ্খ ঘোষের কবিতার সাথে তার যথেষ্ট মিল। তিনি লিখেছেন, ‘‘দাপিয়ে বেড়াবে আমাদের দল, অন্যে কবে না কথা, বজ্র কঠিন রাজ্যশাসনে সেটাই স্বাভাবিকতা’’।
শুধু যায় আর অসে পরিবর্তন হয় না। বীভিষিকাময় দমন পীড়নের মধ্যেও সাহস হারায়নি মানুষ যা গত ষোল বছরের ইতিহাসে দেখা যায়। আমরা জানি সত্যের পক্ষে লড়াইতে অদম্য শক্তি সৃষ্টি হয় মনে ও শরীরে। সকল ভয়কে প্রতিরোধ করতে অদম্য সাহস তৈরি হয়। কেন অনেকেই ভুলে যায় যে, জুলাই আন্দোলন শুধু একটা আস্ফালন নয়। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য একটা শক্তিশালী জবাব। একটা নতুনের আশায় নতুন জাগরণ। একটা প্রেতাত্মার প্রতি সত্যের মন্ত্র। সবই তো হলো কিন্তু শেষ হইয়াও যেন হইলো না শেষ। মুখোশ পরা কিছু মানুষের জন্য চব্বিশের সকল রক্ত, জীবন সবই বৃথা হতে চলছে। সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে আশা করেছিল তা ক্রমান্বয়েই নষ্ট হতে চলছে। আদর্শ ন্যায়বোধ বিশ্বাস আজ দূরে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছে। কে সাহস করে তার চোখের জল মুছে দেবে। সেই সময় ও সাহস কি আমরা আর কখনো অর্জন করতে পারবো। কতদিন লাগবে আবার সেটা করতে। জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি যেখানে পৃথিবীকে সামনে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমরা উল্টো দিকে হাঁটছি। ধর্ম অবমাননার দোহাই দিয়ে এক মসজিদের বারান্দায় এক হুজুর আরেক হুজুরের গলা কাটতে দ্বিধা করছি না। সব জান্তা সমশেরের মতো নিজেকে জ্ঞানের পাহাড়ের উপরে রাখতে চাই অথচ আমার মধ্যের আলো খুবই অল্প। সোনালী দিন হারিয়ে গেছে। ভাগ্যের উপরে নিজেকে ছেড়ে দিয়ে অনেকটা হাফ ছেড়ে বাঁচার চেষ্টায় অনেকেই। অনেকেই চাচ্ছেন সব কিছু গুটিয়ে নিয়ে নিজের স্বার্থের সদ্বব্যবহার করতে। মিথ্যের আতঙ্কে নতুন দিগন্তের নতুন সূর্য হয়ত মেঘাচ্ছন্নই থেকে যাবে। কেউ সতর্ক অবস্থানে কেউবা প্রতিবাদে আবার কেউবা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে সেই দিকে। তবে আমি চাই অগ্রগতির অনুপ্রেড়নায় সাফল্যের যাত্রা বিরামহীনভাবে এগিয়ে যাক। ঐক্যমতে সুন্দর আগামীর ভবিষ্যৎ নিধারনে সুস্থ মস্তিষ্ক ঈশ্বর দান করুন। পবিত্র বাইবেলের ১ম পিতর ২:১-২ পদে লেখা আছে, এই জন্য অন্যদের ক্ষতি করবার সব রকম ইচ্ছা, সব রকম ছলনা, ভন্ডামি, হিংসা এবং সব রকম নিন্দার কথাবার্তা তোমাদের অন্তর থেকে দূর করে দাও। এই মাত্র জন্মেছে এমন শিশুর মতো তোমাদের আত্মিক বৃদ্ধির জন্য খাঁটি দুধ পেতে তোমরা খুবই আগ্রহী হও। যেন তার দ্বারা বেড়ে উঠতে উঠতে তোমরা উদ্ধারের পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যেতে পারো। ঈশ্বর আমাদের সকলকেই আশীর্বাদ করুন যেন আমরা সবাই নিজের জায়গায়।






Users Today : 30
Views Today : 54
Total views : 184358
