• প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
No Result
View All Result
বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২৬
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা
  • স্বাস্থ্য
  • বিনোদন
  • ভ্রমণ
  • ধর্ম-দর্শন
  • ফিচার
Somoyer Bibortan
No Result
View All Result

বিশেষ নিবন্ধ ● রক্ত ▌ পাস্টর এএম চৌধুরী

বিশেষ নিবন্ধ ● রক্ত ▌ পাস্টর এএম চৌধুরী

Admin by Admin
এপ্রিল ৪, ২০২৬
in ধর্ম-দর্শন, প্রচ্ছদ
0 0
0
বিশেষ নিবন্ধ ● রক্ত ▌ পাস্টর এএম চৌধুরী
0
SHARES
20
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

‘‘কেননা রক্তের মধ্যেই শরীরের প্রাণ থাকে এবং তোমাদের প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থে আমি তাহা বেদির উপরে তোমাদিগকে দিয়াছি; কারণ প্রাণের গুণে রক্তই প্রায়শ্চিত্ত সাধক।’’ (তৌরাত শরীফ, লেবীয় ১৭:১১)
আমরা জানি রক্তের মধ্যে আমাদের জীবন থাকে। যদি রক্ত আমাদের শরীরে না থাকে তাহলে আমরা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারতাম না।
পবিত্র কালামে বলেছেন―‘‘তোমাদের প্রাণের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থে রক্ত কোরবাণী দিয়েছি।’’
শুধু রক্তের গুণেই আমরা জীবন প্রাপ্ত হই। আমরা জানি প্রাণ সব কিছুর আছে। যেমন:-

  • শাকসব্জি (গাছ)―(vegetable) দেহ আছে (Body)
  • পশুপাখি―(Animal) দেহ ও মন আছে (Body And Mind)
  • মানুষ (Human) দেহ-মন ও আত্মা আছে (Mind-Body and Sprit)

কিন্তু এই দেহমন একদিন শেষ হয়ে যাবে, তবে আত্মা অনন্তকাল স্থায়ী। মানুষের মৃত্যুর পর আত্মা হয়ত দোযখে যাবে অথবা বেহেস্তে যাবে। আর সেখানে যে অনন্ত কাল ধরে থাকবে। কিন্তু বেহেস্ত দোযখের মধ্যবর্তী কোনো স্থান নাই যেখানে আত্মা থাকবে। যদিও ‘মধ্যস্থান’কে অনেকে বিশ্বাস করে, তবে খোদার কালামে তা বলে নাই। আর অনেকে মনে করে বেহেস্ত, দোযখ ও পুনরুত্থান নাই। কিন্তু এইগুলি যদি না থাকত আমি নিজে ঈসা মসীহকে জীবনে গ্রহণ করতাম না এবং এমনকি আজ সুসমাচার প্রচারও করতাম না। যদি আমরা একটা অনেক পুরোনো বীজ আমি মাটিতে লাগাই; তা সাথে সাথে গাছ হিসাবে সজীব হয়ে উঠে না। কিন্তু প্রথমে সেই মাটির নীচে পুঁতে রাখা বীজটা মারা যায়, এমনকি পচে হয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। তার কিছুদিন পর সে মরা বীজটা গাছ হয়ে মাটির উপরে উঠে। যদি একটা পুরাতন বীজ মরে গিয়ে, নষ্ট হয়ে, পুনরায় সজীব হয়ে গাছ হিসাবে উঠতে পারে, তবে আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে আরো কত না নিশ্চিত যে মৃত্যুর পরে পুনরায় পুনরুত্থিত হবো। আর তাতে যে আত্মা আছে তা হলো জীবন।

RelatedPosts

শিক্ষা ভাবনা ●মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে খ্রিষ্টিয়ান ধর্ম শিক্ষক প্রসঙ্গে ○ মিথুশিলাক মুরমু

হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৭ শিশুর প্রাণহানি

আগের বকেয়া পরিশোধ ছাড়াই ঋণ পাবেন চামড়া ব্যবসায়ীরা

‘‘পাপ যে বেতন দেয় তাহা মৃত্যু; কিন্তু খোদা যাহা দান করেন তাহা মসীহ ঈসা; যিনি আমাদের প্রভু তাঁহার মধ্য দিয়া অনন্ত জীবন’’ (ইঞ্জিল শরীফ ―রোমীয় ৬:২৩)।
পাপের বেতন মৃত্যু (যা অনন্ত মৃত্যু)
কিন্তু ঈসা মসীহেতে জীবন (অনন্ত জীবন) বা নাজাত।

আমাদের পূর্বপুরুষ পিতা আদম ও তার পাপের জন্য (অবাধ্যতা) আজ আমরা খোদার আছ থেকে আলাদা হয়েছি। সেই জন্য পুনরায় খোদার সাথে আমাদের সম্পর্কেরও সম্মিলনের প্রয়োজন রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন আসবে কেমন করে আমাদের পাপ ক্ষমা হতে পারে?
‘‘কেননা প্রত্যেক প্রাণীর রক্তই প্রাণ। তাহাই তাহার প্রাণস্বরূপ’’ (তৌরাত শরিফ, লেবীয় ১৭:১৪)

আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে প্রাণ থাকে না, আমাদের মাংসের মধ্যে প্রাণ থাকে না। কিন্তু খোদা বলেছেন, ‘‘প্রাণীর রক্তই প্রাণ’’। আমাদের রক্তের মধ্যেই প্রাণ থাকে।

সুতরাং যেখানে পাপ থাকে—সেখানে মৃত্যু ও ব্যথা।
কিন্তু সেখানে রক্ত পতিত হলে জীবন লাভ করা যায়। তাহলে বুঝা যায় যে, আমাদের পাপ ক্ষমার মাত্র একটি পথ আছে। আর সেই পথ কি আপনি জানেন? তা হলো রক্ত।
আর তাই তো আদম হবা থেকে আরম্ভ করে যুগে যুগে নবীগণ পশু কোরবাণী দিয়েছেন যেন মানব জাতির পাপের ক্ষমা হয়। তখনও পাপের ক্ষমা পাবার জন্য প্রাণীর রক্ত পাতিত হতো।
‘‘রক্তপাত না হইলে পাপের ক্ষয় হয় না’’ (ইঞ্জিল শরীফ: ইব্রাণী ৯:২২)

প্রিয় ভাই ও বোন, যদি আপনি অনেক হারানো আত্মা জয় করতে চান, তাহলে ঈসা মসীহ কীভাবে রক্ত সেচন করেছেন সেই তত্ত্ব নিশ্চয়ই আপনাকে জানতে হবে।
একজন লেখক বলেছেন, পৃথিবীর ৯০ ভাগ লোক বিশ্বাস করে পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য রক্ত সেচন প্রয়োজন আছে।
অন্য আর একজন লেখক বলেছেন, পৃথিবীর ৯৫ ভাগ লোক বিশ্বাস করে রক্তের দ্বারায় পাপের ক্ষমা হয়।
এই যে লোকেরা বিশ্বাস করে তাদের নিজের পাপের জন্য ও তাদের মৃত-পিতৃপুরুষদের পাপের জন্য রক্ত পাতিত হলে পাপের ক্ষমা হবে।

‘‘রক্ত সেচন ব্যতিরেকে পাপের ক্ষমা হয় না’’―এটা আমার নিজের কথা নয়। এটা খোদা তায়ালার স্বয়ং মুখের (কথা) বাণী।
কারণ খোদা মানুষকে ভালোবাসেন বলে এই রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আপনি যত বড় পাপী হোন না কেন ঈসা মসীহের রক্তে আপনার কৃত সমস্ত পাপের ক্ষমা হবে।

আমরা জানি মুসলমান ধর্মের নিয়ম অনুসারে কেউ চুরি করলে তার হাত কেটে ফোলা হয়।
আমার প্রশ্ন―হাত কাটলে কি তার চুরির অভ্যাস চলে যাবে?
না―তার মন থেকে সেই অভ্যাস যাবে না। হয়ত সে আর অন্য কোনো নূতন পদ্ধতি খুঁজে বের করবে।
কারণ মনে রাখবেন শরিয়তের শাসন পাপের ক্ষমা করে না।
আমরাও এতক্ষ এতক্ষণে জেনেছি যে―
‘‘রক্তে মানুষের জীবন থাকে
রক্ত সেচন ব্যতিরেকে পাপের ক্ষমা হয় না।’’

আর সেই রক্ত হলো কালভেরী শলিবের উপরে ঈসা মসীহের পাতিত রক্ত। আর এটাই আমাদের আসল সুসমাচার। যদি আপনি রক্তের শক্তি কতটুকু না বুঝেন তাহলে এখনও সুসমাচার কি তা বুঝেন নাই। পবিত্র কিতাবুল মোকাদ্দাসে রক্ত কথাটা প্রায় ৭০০ বার উল্লেখ করা হয়েছে।
আমাদের শরীর থেকে যদি সমস্ত রক্ত বের হয়ে য়ে যায়, তাহলে বেঁচে থাকা যায় না, সে অবশ্যই মারা যাবে। তদ্রূপ খোদার কালাম থেকে রক্ত কথাটা বাদ দিয়ে দিলে সেই কালামের জীবন থাকবে না।
আমরা জানি হযরত মুসার শরিয়ত অনুসারে―কেহ পাপ করলে তা ক্ষমার জন্য পশুর রক্ত দেওয়া হতো। আর বর্তমানেও মুসলমান সম্প্রদায় লোকেরা কোরবাণীর ঈদ পালন করে। আর সেইদিন সারা দেশে রক্তের প্লাবন হয়। মুসলমানেরা (মৃত বা জীবিত) ৭ জনের নাম দিয়ে একটা গরু এবং যা সামর্থ্য নাই সে ১ জনের নাম দিয়ে একটা ছাগল কোরবাণী করে। তবে ঐ কোরবাণীর গরু বা ছাগলটা নির্দোষ ও নিখুঁত হতে হবে। তাছাড়া তা হালাল বা সৎ আয়ের টাকা হতে হবে আর কোরবাণীর সময় মৌলানা সাহেব যে দোয়াটা (নির্দিষ্ট লোকের নাম দিয়ে) পাঠ করে তার বাংলা তরজমা বা অনুবাদ পাঠ করলে আমার বক্তব্যের বিষয়বস্তু আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন। তার সংক্ষিপ্তভাবে অনুবাদ―‘‘হে বিশ্ব প্রতিপালন কর্তা (অমুক, তমুকের নামে) পাপের জন্য এই নিষ্পাপ ও নিখুঁত পশু কোরবানী করতেছি, তুমি এই নির্দোষ পশুর রক্তে তাহাদের পাপ মার্জনা কর বা ক্ষমা কর।’’

কিন্তু আমরা যারা ঈসা মসীহের উম্মত―কেন আমরা পশুর রক্ত পাতিত করে পাপ ক্ষমা চাই না?
কারণ দুই হাজার বৎসর পূর্বে একজন নিখুঁত নিষ্পাপ লোক বেহেস্ত থেকে নেমে এসে তাঁর রক্ত আমাদের মানব জাতির পাপের ক্ষমার জন্য কালভেরী শলিবে পাতিত করেছেন। তিনি হলেন হযরত ঈসা রুহুল্লাহ। সেইজন্য আর আমরা পশুর রক্ত পাতিত করিনা। সমস্তে ঈসা মসী নিজে বলেছেন, ‘‘তোমাদের সমস্ত পাপের জন্য আমার রক্ত প্রদান করেছি।’’
ঈসা মসীহের রক্ত হলো খোদাতায়ালার নিয়ম বা শরিয়ত, তা বেহেস্তে রচনা করা হয়েছিল। সেইজন্য তিনি বলেছেন, ‘‘রক্তের নূতন নিয়ম’’। নিয়ম হলো চুক্তি বা দলিল। যা হলো খোদা ও মানুষের মাঝে পূর্ণসম্পর্কের নিয়ম। মনে রাখবেন খোদা মিথ্যা বলেন না। তিনি বলেছেন―‘‘তাঁহার পুত্র ঈসার রক্ত সমস্ত পাপ হতে আমাদের-পবিত্র করে” (ইঞ্জিল শরিফ ― ১ ইউহোন্না ১:৭)
এমন কোনো পাপ নাই, যা ঈসা মসীহের রক্তে ক্ষমা হবে না। ইঞ্জিল শরিফ – ১ পিতর ১: ১৮, ১৯ আয়াতে বলেছেন, স্বর্ণ ও রৌপ্য আমাদের পাপ ক্ষমা করতে পারে না। কিন্তু খোদার অনুগ্রহে ও ঈসা মসীহের রক্তের গুণে আমরা পাপের ক্ষমা পেয়েছি।
তাই মনে রাখবেন―আমরা নাজাত লাভ করি ঈমানের মাধ্যমে। আর তা ঈসা মসীহের উপরে করতে হবে।

কেন আমরা ঈসা মসীহের উপরে ঈমান আনব?
কারণ―তিনি নিজে নিষ্পাপ ও নির্দোষ হয়েও আমার আপনার পাপের জন্য যে শাস্তি তা ভোগ করেছেন কালভেরী শলিবে নিজের রক্ত সেটিতে পাতিত করে। তিনি তাঁর রক্ত আমার-আপনার পাপের ক্ষমার জন্য দান করেছেন।

তবে অনেকে বলে, ঈসা মসীহের উপর ঈমান এনেছ, তোমার তো আর কোনো কিছু করার দরকার নাই, যেমন ইচ্ছা তেমনি চল।

প্রিয় ভাই ও বোন, মনে রাখবেন আমরা রহমত পাই কাজের মাধ্যমে।
প্রথমত: আমরা যত বেশি খোদার কালাম পাঠ করি―তিনি তত বেশি আমাদের রহমত দান করেন।

‘‘পাপের ক্ষমা পেলে সে ধার্মিক হয়’’ (ইঞ্জিল শরিফ ―রোমীয় ৫:৯)
আর ক্ষমতা বা অধিকার পাই পাকরূহের মাধ্যমে প্রার্থনার দ্বারায়।
‘‘ঈসা মসীহের রক্ত ছাড়া পাপের ক্ষমা পেতে পারি না।’’ (ইঞ্জিল শরিফ ― ইব্রাণী ৯:১৪)

যখন আদম ও হবা পাপ করল, তখন তাঁরা একটা জিনিস দেখল তা হলো তারা উলঙ্গ। আর গাছের পাতা দিয়ে এই উলঙ্গতা ঢাকল। হয়ত গাছের পাতা দিয়ে আদম লুঙ্গি ও হবা শাড়ি তৈরি করে পরলেন। কিন্তু যখন আরা হাঁটতে লাগল তখন তাদের লুঙ্গি ও শাড়ি পরে যেতে লাগল। হয়ত যখন সূর্য উঠল তখন তাদের পরনের পাতাগুলি শুকিয়ে পড়ে যেতে লাগল। তখন পদের উলঙ্গতা ঢাকবার আর কোনো উপায় নাই। আর তখনই খোদা একটা পশু কোরবাণী করে চামড়ার পোশাক তৈরি করে তাদের দিলেন। (কোরআন, সুরা বাকারা, আয়াত ৩৬-৩৮)
এই যে পশু তা হলো মেষশাবক। এই মেষ শাবক আমাদের সমস্ত পাপের আবরণ দিলেন। আদম ও হবা পাতা দিয়ে লুঙ্গি ও শাড়ি তৈরি করে তাদের লজ্জা ঢাকতে চেষ্টা করল। তেমনি আমরাও অনেক সময় আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি, বিদ্যা, মাথা দিয়ে আমাদের দুর্বলতা ও পাপকে ঢাকতে চেষ্টা করি।
আদম ও হবা চামড়ার পোশাক পরিধান করার পর খোদার সামনে দাঁড়াতে সাহস হলো। ঠিক তেমনি যে কেহ ঈসা সমীহের রক্তে আবৃত্তি হয় সে খোদার সিংহাসনের সামনে যাবার অধিকার লাভ করে। খোদার কাছে যাবার একমাত্র উপায় রক্ত। আর বেহেস্তে যাবার একমাত্র টিকেট হলো ঈসা মসীহের রক্ত।

আমরা জানি কয়িন ও হেবল খোদার কাছে কিছু উপহার নিয়ে আসল কোরবাণী করার জন্য। কিন্তু খোদা হেবলের কোরবানী গ্রহণ করল ও কয়িনেরটা অগ্রাহ্য করল।
আমাদের প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক যে- খোদা কেন একজনেরটা গ্রহণ করল ও অন্যজনেরটা অগ্রাহ্য করল?
তার কারণ হেবলের বিশ্বাস ছিল (ইঞ্জিল শরিফ; ইব্রাণী ১১:৪)

আমি বিশ্বাস করি, আদম ছেলেদেরকে শিখিয়েছেন―কেমন করে খোদার নিকট কোরবাণী করতে হয়। নিশ্চয় আদম তাঁর ছেলেদেরকে শিখিয়েছে- আমরা পাপী, আর রক্ত সেচন ব্যতিরেকে পাপের মোচন হয় না।
কিন্তু কয়িন নিজেকে বুদ্ধিমান মনে করে নিজের ইচ্ছা অনুসারে উপহার নিয়ে আসল। অথচ পিতার শিক্ষা অনুসারে দেন নাই। এই জন্য খোদা কয়িনের কোরবাণী গ্রহণ করল না, কারণ সেই কোরবাণীতে রক্ত ছিল না।
প্রিয় ভাই ও বোন, হয়ত আপনার বিদ্যা জ্ঞান-টাকা সব থাকতে পারে, কিন্তু ঈসা মসীহের রক্তে পাপের ক্ষমা না হলে, আপনি বেহেস্তে যেতে পারবেন না।
ইস্রায়েল জাতি মিশর দেশ থেকে বাহির হয়ে আসার পূর্বের রাত্রে মৃত্যুদূত থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রত্যেক জনের ঘরের দরজায় রক্ত লাগালেন। আর মৃত্যুদূত খোদার হুকুমে মিশর দেশ দিয়ে যাবার সময় যে ঘরের দরজায় রক্ত দেখেছে সেই ঘর বাদ দিয়ে অন্য ঘরে গিয়েছে। কোরআন, সুরা বাকারা, আয়াত ৪৯
এবং তাদের প্রথমজাতকে সংহার করেছে। এরপর ফেরৌন ইস্রায়েল জাতিকে ছেড়ে দিলেন। তাই ইহুদিদের নিস্তারপর্বের সময় মেষের রক্ত দেওয়া হতো (তৌরাত শরীফ: যাত্রা ১২ : ১১-১৩)।
আর আমাদের পাপ ক্ষমার জন্য ঈসা মসীহ কালভেরী শলিবে তাঁর রক্ত দিয়েছেন।

খোদার কালাম অনুসারে ঈসা মসীহের আগমন সন্নিকট। তাহলে বিচারও সন্নিকট। কোরআন শরিফের সুরা ‘যুখরুখ’র ৬১ আয়াতে লেখা আছে, ‘‘ঈসা রুহুলুল্লাহ বিচার বিচার করার জন্য এই পৃথিবীতে আবার আসবেন।’’ আর সেইদিন যদি আমার আপনার ঘরের দরজায় তাঁর রক্ত না থাকে, তাহলে আমরা বিচারের দায়ে পড়ব। এবং তার সাথে মিলিত হতে পারব না ও তাঁর প্রশংসা করতে পারব না।

আমি একটা ঘটনার কথা বলছি―
আমেরিকায় একজন জজের ছেলে গাড়ির লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে লাগল। সে মনে করল, তার বাবা জজ। সুতরাং কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু একদিন সে একটা একসিডেন্ট করল। তখন পুলিশ এসে তাকে বলল, থানায় চলুন। কারণ প্রথমত, সে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সে একসিডেন্ট করেছে। তখন জজের ছেলে বলল, স্যার আমাকে ক্ষমা করুন। কারণ আমি অমুক জজের ছেলে।
কিন্তু পুলিশ তার অনুরোধ না শুনে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে গেল। আর থানা থেকে তাকে কোর্টে সে নিয়ে যাওয়া হলো। যখন বিচারপতির চেয়ারে তার বাবাকে দেখল সে মনে মনে খুবই আনন্দ পেল। সে চিন্তা করল এবার তার আর কোনো অসুবিধা হবে না। কিন্তু জজ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনার নাম কী? তখন সে অবাক হয়ে বলল, কেন, তুমি তো আমার পিতা, আমার নাম কি তুমি জান না? তখন জজ বলল, তাড়াতাড়ি বলেন আপনার নাম কী? ছেলে মর্মাহত কণ্ঠে বলল, আমার নাম কিংহংগো। তারপর জজ বললেন, আপনার ঠিকানা কোথায়? তখন ছেলে বলল- আমার ঠিকানা তুমি জানো না? তোমার ঠিকানাই তো আমার ঠিকানা। কিন্তু জজ জোর কণ্ঠে বললেন, তাড়াতাড়ি বলুন, আপনার ঠিকানা কোথায়? তখন ছেলে তার ঠিকানা বলল। পরে বিচারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০০০ ডলার জারিমানা আসল। তখন ছেলে বিচারের রায় শুনে কোর্টে বসে কাঁদতে থাকল, সে বলল, জেলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই। তার সবচেয়ে বেশি মনে কষ্ট পাওয়ার কারণ ছিল―তার বাবা জানে, তার ২০০ ডলার দেবার ক্ষমতা নাই, অথচ ২০০০ ডলারের রায় দিলেন। অন্যদিকে জজ সাহেব বাসায় গিয়ে তার বিচারকের পোশাক খুলে রেখে, অন্য পোশাক পরে ২০০০ ডলার সাথে নিয়ে কোর্টে ছেলের কাছে আসল। আর ছেলের পিঠে হাত দিয়ে বলল, দেখ আমার ছেলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। তখন ছেলে রেগে গেল―বলল, তুমি আমার বাবা না, তুমি এখান থেকে চলে যাও। তোমার মুখ আমি দেখতে চাই না। তুমি জান, আমার ২০০ ডলার দেওয়ার ক্ষমতা নাই আথচ তুমি ২০০০ ডলার জরিমানা করেছ। এখন আমার জেলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নাই।
তখন পিতা বলল, দেখ, আমি জানি তুমি ২০০০ ডলার দিতে পারবে না। তাই আমি তোমার জন্য ২০০০ ডলার নিয়ে এসেছি। নাও এই ২০০০ ডলার জরিমানা দিয়ে তুমি মুক্ত হয়ে ফিরে যাও।
এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে, জজ সাহেব, একজন বিচারক হিসাবে একই সঙ্গে ন্যায় বিচার ও ধার্মিকতা রক্ষা করলেন। আবার অন্য দিকে পিতা হিসাবে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তার ভালোবাসা প্রকাশ করলেন।
খোদা তিনি পবিত্র- তাই কেউ কোনো পাপ নিয়ে তাঁর কাছে আসুক তিনি তা চান না।
খোদা প্রেমময়: তিনি যদি ধার্মিকতা নিয়ে ন্যায় বিচার করতেন, তাহলে সমস্ত মানুষ দোযখের আগুনে জ্বলত। আবার খোদা যদি পাপ যুক্ত মানুষকে বেহেস্তে নিতেন, তাহলে তাঁর ন্যায় বিচার ও ধার্মিকতা এবং পবিত্রতা রক্ষা হতো না।
সেই জন্য খোদা নিজের ধার্মিকতার ও ন্যায় বিচারের পোশাক খুলে রেখে মানব জাতির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য তাঁর প্রিয় পুত্র ঈসা মসীহকে (পুত্র = রূহানিক অর্থে) এ জগতে মানুষ হিসাবে পাঠালেন। কারণ ঈসা মসীহ প্রথমে কালাম হিসাবে খোদার সাথে ছিলেন (কোরআন, সুরা নিসা, আয়াত ১৭০; সুরা মরিয়ম, আয়াত ৩৪)। তাই তিনি মানুষ হিসাবে এসে এই পৃথিবীতে এসে কালভেরী শলিবে রক্ত দিয়ে মানব জাতিকে পাপের থেকে রক্ষা করলেন। ঈসা মাসীহই হলেন সকল মানুষের জন্য নির্দশন ও রহমত স্বরূপ (কোরাআন, সুরা মরিয়ম, আয়াত ২১ ও সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৯১)।
আর এইভাবে খোদা তাঁর ধার্মিকতা ও ন্যায়বিচার এবং পবিত্রতা রক্ষা করলেন। সুতরাং আমরা যখন ঈসা মসীহের উপর ঈমান আনি তখনই আমরা বেহেস্তে যেতে পারব। এবং পরকালে তাদের কোনো ভয় নাই (কোরাআন, সুরা বক্কর, আয়াত ৬২) এবং (ইঞ্জিল শরিফ; ইউহোন্না ৩ : ১৫, ১৬ ও ৩৬ আয়াত)।
তাই আজ যারা এখনও ঈসা মসীহের উম্মত হয় নাই, তাদেরকে লাভ করার জন্য এই রক্তের সুসমাচার প্রচার করতে হবে। আসুন আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে―আজ থেকে সেই হারানো লোকদের কাছে মসীহের রক্তের সুসমাচার প্রচার করব।
অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে যে―আমরা নাজাত পাওয়ার পর, পাপ করতে থাকলে, কি নাজাত হারাই কি না?
আসলে খোদার কালাম অনুসারে নাজাত আমরা হারাই না, কিন্তু নাজাত পাওয়ার পর আমরা খোদার সন্তান হবার অধিকার পাই। (ইঞ্জিল শরীফ-ইউহোন্না ১:১২ আয়াত)। আর খোদার সন্তান হিসাবে পাপ করতে থাকলে আমরা নিম্নের কয়েকটা বিষয় হারিয়ে ফেলি।
যেমন-
(১) খোদার সহভাগিতা থেকে বঞ্চিত থাকি। (ইঞ্জিল শরীফ ― ১ ইউহোন্না ১:৭)
(২) নাজাতের আনন্দ হারাইয়া ফেলি (যবুর শরীফ ৫১ : ১২ আয়াত)
(৩) খোদার হাতের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার হতে পারি না। কারণ তিনি পবিত্র পাত্র ব্যবহার করেন। (ইঞ্জিল শরিফ: ২ তীমথীয় ২: ২০)
(৪) আমরা প্রার্থনার উত্তর পাই না (যবুর শরীফ―৬৬:১৮ আয়াত)
(৫) তিনি আমাদিগকে মাঝে মাঝে শাস্তি দেন। এই জগতের মধ্যেই তা দিয়ে থাকেন (ইঞ্জিল শরীফ ― ইব্রাণী ১২:৫; ১ করিন্থীয় ১১: ৩০-৩২)।

যদি আপনি খোদার সন্তান হয়ে থাকেন, তবে পাপে জীবন কাটাবেন না। আমরা যেন পাপে পতিত নাই হই, সেইজন্য পাপকে ভয় করেন।
খোদার সন্তানেরা ভিন্ন রকম পাপে পতিত হয়।
প্রথমতঃ অর্থ, দ্বিতীয়ত যৌনতা; তৃতীয়ত অহংকার।
খোদার সন্তান হিসাবে আপনাকে এই সমস্ত পাপ থেকে পালিয়ে যেতে হবে (ইঞ্জিল শরিফ ― ১ তীমথিয় ৪ : ১২ ও ৫ : ১২ আয়াত, ৬ : ৬-১০ এবং ১ পিতর ৫ : ৫, ৬ আয়াত)।

উপসংহার: খোদার সন্তান হিসাবে পাপ করার চেয়ে আমাদের মরে যাওয়া উত্তম। খোদার সাথে প্রতিজ্ঞা করেন―
‘‘মরে যাব কিন্তু পাপ করব না’’―এই রকম প্রতিজ্ঞা যদি আমাদের জীবনে থাকে, তাহলে আমাদের জীবনও আমাদের পরিবারে খোদা রহমত দান করবেন। আমেন।

পাস্টর এ এম চৌধুরী: খ্রীষ্টিয় ধর্মতত্ত্ববিদ ও লেখক; মডারেটর, ঈসায়ী চার্চ বাংলাদেশ।

Previous Post

বিশেষ নিবন্ধ ● না চিনি আমার প্রকৃত ঈশ্বর, না চিনি আমার প্রতিবেশী ▌ডা. অলোক মজুমদার

Next Post

আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

Admin

Admin

Next Post
আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

আজ পবিত্র ইস্টার সানডে

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ADVERTISEMENT

সময়ের বিবর্তন

সম্পাদকঃ
আবদুল মাবুদ চৌধুরী

বিভাগীয় সম্পাদকঃ
নায়েম লিটু

ফোনঃ ০২-৯০১১১৫৬ বাসাঃ -০৪, রোডঃ ০৪, ব্লক- এ, সেকশনঃ ০৬, ঢাকা -১২১৬

Our Visitor

0 3 7 8 9 3
Users Today : 102
Views Today : 110
Total views : 179855
Powered By WPS Visitor Counter

  • Setup menu at Appearance » Menus and assign menu to Footer Navigation

Developer Lighthouse.

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • সারাদেশ
  • শিক্ষা
    • পড়াশোনা
    • পরীক্ষা প্রস্তুতি
  • সাহিত্য পাতা
    • গল্প
    • ইতিহাসের পাতা
    • প্রবন্ধ
    • কবিতা ও ছড়া
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  • অন্যান্য
    • বিশ্ব রাজনীতি
    • মতামত
    • বড়দিনের বিশেষ লেখা

Developer Lighthouse.

Login to your account below

Forgotten Password?

Fill the forms bellow to register

All fields are required. Log In

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In