মাস কয়েক আগে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন তার প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেন। কতই না সুন্দর ব্যবস্থা সেখানে, যেখানে নৈতিকতা লংঘনের ব্যপারে কেউই ছাড় পাচ্ছে না। আর যেখানে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। হয়ত মিছিল মিটিং হয়েছে। হয়ত ক্ষমতা ফিরে পেতে সত্য প্রমাণে চেষ্টা থাকলেও জনগণের ক্ষতি করে সমাবেশ বা মহাসমাবশের চিত্র দেখা যায়নি। হাসতে হাসতে তিনি তার পদ থেকে নেমে এসেছেন। তার পরে আবার দেখলাম তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী পদে শপথ নিলেন। একটা নীচু পদ দেখেও তিনি আপত্তি বা লজ্জা করেননি। সামান্য একটা ফোনের কথা ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগের দাবি ওঠে তার বিরুদ্ধে সংবিধানিক আদালতে। মাননীয় আদালত ১৫ দিনের জন্য তাকে তার ক্ষমতা থেকে সাময়িক স্থগিত করেছেন। যেহেতু এটা সেই দেশের সংবিধানের আলোকে নৈতিকতা লঙ্ঘন, তাই তাকে এই শাস্তি পেতে হলো। কতই না ভালো তাদের আইন-কানুন ও সংবিধানিক আদালত। আবার কতই না ভালো সেই দেশের নেতা-নেত্রীগণ।
আমার মনে হলো আমাদের দেশে যদি এমন একটা সাংবিধানিক আদালত থাকতো, যদি আইনের শাসন তার নিজের গাতি পথে চলতে পারতো, যদি নেতা নেত্রীগণ গণমানুষের কথা সত্যিকারভাবেই ভাবতো, যদি শাসন মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা তৈরি হতো সবার মধ্যে, তাহলে আজ আমরাও সত্যিকার গণমুখী দেশের বাসিন্দা হিসেবে নিজেদের সম্মানিত বোধ করতাম। ক্ষমতাসীনদের সাংবিধানিক আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনতে পারতো আমাদের দেশের আইন। আকাশের জ্বলন্ত তারা অনেক সময়েই নষ্ট মেঘে ঢেকে যায়। সামাজিক মানুষ অনেক সময় অসামাজিক হয়ে যায় গুরুতর অভিযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবার জন্য কৌশুলী হয়ে পড়ে সে। সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সমাজতন্ত্র চাইলেই তো পরিবর্তন হবে না। নিজের জীবনে পরিবারে ও সমাজে সমাজতন্ত্র, সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করতে হবে। বায়বীয় রাজনীতির আস্ফালন যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে খালি চোখ থেকে নাকের উপরে চশমা উঠেছে। শূন্যের সাথে কোনো সংখ্যা আজও যোগ হয়নি। দম বন্ধ পৈশাচিক শাসন ব্যবস্থা খেকে মুক্ত হয় না আমাদের মতো সাধারণ মানুষ। কখনো বা সুবিধা ভোগী কখনো বা পরিবার পূজারীর রাজত্ব কায়েম হয়েছে বারবার। সবাইকে নিয়ে চলার সুন্দর মানসিকতা তৈরি হয়নি আজও। শিক্ষা স্বাস্থ্য জনকল্যাণ মানবাধিকার আজ পৈশাচিক ব্যবস্থার জন্য বিলিন হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক পোশাকে অগণতান্ত্রিক চর্চা এখন আমাদের সমাজে একেবারেই বাজে সংস্কৃতির মতো হয়ে গেছে। তবে সংকট যেখানে সমাধান সেখানেই লুকায়িত অবস্থায় চুপ করে বসে থাকে। তাই তো বলি আরে বাবা ভাগ বাটোয়ারা তো তোমাদের নিজেদের মধ্যেই। একটু সমঝোতা করে নিজেরা নিজেরা মিল করে নাও না অযথা জনসাধারণকে শাস্তি দিয়ে কি লাভ পাও তোমরা।
পবিত্র শাস্ত্রে লেখা আছে, তুমি তোমার প্রতিবেশীকে আপনার মতো ভালোবাসবে। আমরা কি তার আলামত দেখেতে পেয়েছি পাচ্ছি বা পাবো কখনো। ইচ্ছা শক্তি আর একাগ্রতা মানুষকে উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। ন্যায় নীতি আর সততাকে সাথী করে চলার মানুষ এখনো অনেক এই পৃথিবীতে আছে। মিল গড়মিলের মধ্য দিয়েই পৃথিবী সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তবে ছন্দ হারালে সেটা কোথাও গিয়ে আটকে যায়। পরিবেশবান্ধব মানুুষ চিরদিনই পরিবেশের জন্য সুঘ্রাণ বয়ে আনে। কত স্বঘোষিত যুবরাজ তাকে রাজা বানাতে ব্যস্ত হতে নিষিদ্ধ ব্যবস্থা হাতে তুলে নিতে অস্বস্তি বোধ করে না। ভাসমান কীটের মতো আকড়ে ধরা মানুষ খুঁজে তাকে কাজে লাগায়। ছন্দের অভাবে অল্প দিনের রাজত্বে তাদের শাসন ক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। নতুন করে বাঁচতে নতুন ভালোবাসা প্রয়োজন হলেও তারা সেটা আর পায় না। তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় সোনালী যুগ। ডোবা থেকে পদ্ম তোলার ইচ্ছা থাকলেও বাধা-বিপত্তি নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি করে। স্নিগ্ধতার পরশ যেন প্রতারণায় আটকে যায়। নিজের ভালোর জন্য মাঠ পরিষ্কারে ব্যস্ত হয়ে যায় তারা। মনে হয় জগত নিজেই যেন খেয়ালখুশি মতো চলছে। প্রতিশোধ নিতে যার যার মতো করে চেষ্টার কমতি নেই। এত উত্থান পতনের মধ্যে চললেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না সাধারণ মানুষের। ক্রমান্বয়ে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি বিভ্রান্তি নিয়ে। সাধারণ মানুষের পক্ষে ভালো থাকার জন্য যাদের তৎপর হওয়ার কথা তারা আজ নিশ্চুপ। দুই একটি ঘটনায় ভাইরাল হওয়ার জন্য ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই দেশের সার্বিক কোনো পরিবর্তন হবে না। মনে রাখতে হবে যে সন্দেশের স্বাদের মতো আর কোনো স্বাদেও নেতা আমাদের দেশে হয়ত আসবে না। এখনো সময় আছে নিজেকে পরিবর্তন করার।






Users Today : 30
Views Today : 32
Total views : 180731
