অংক কম বুঝলেও কর গুনে গুন তো হিসেবটা ঠিকই করতে পারি। ছোটোবেলায় বাবা শিখিয়েছিল কর গুনে গুনে অংক করা। অনেকেই ফিগার চোখে দেখেই উত্তর বলে দিত আর তখন আমি নিজেকে দুর্বল ভাবতাম। হয়ত আমার পদ্ধতি আমার তৃষ্ণা মেটাতে না পারলেও চেষ্টা করতে কমতি ছিল না আমার। আর সেই সময় হিসেব মেলাতে দেরি হতো এজন্যেই হয়ত এখনো বুঝতে পারি না যে দুর্জন দুর্বৃত্ত দুষ্ট দুরাচারী মানুষেরাই অর্থবিত্তে বর্ধনশীল হয়ে উঠেছে। কেন হয়েছে আর আমি কেন পারলাম না সেই অংকের উত্তর এই জীবনে আর মিলবে না।
ঘুরতে গিয়েছিলাম রামকৃষ্ণ আশ্রমে। সেখানে লেখা আছে শক্তিই জীবন আর দুর্বলতাই মৃত্যু। দুঃখের জীবানু আমাদের চারিদিকে ভাসমান। আত্মবিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা একবারেই কম। পেশীশক্তির দুনিয়ায় এটার খুবই অভাব আমার কিন্তু আত্মবিশ্বাসে স্থির থাকতে পারি। তাই সাময়িক কষ্টে থাকলেও কারো কাছ থেকে শুনতে হয় না যে এটা ওর প্রাপ্য তাই হয়েছে। আমার চিন্তা আমার চেতনা আমাকে শক্তিশালী করে যেটা আমি অনুভবেই বুঝতে পারি। যে কথাটা আমরা অতি সহজে বলতে পারি তা কি সহজে করতে পারি। সামনে এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কত উচিত অনুচিতের প্রশ্ন। নিজের সক্ষমতার কোনো মূল্য থাকে না তখন। নিজের পরিপার্শ্বিকতা তখন বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। হয়ত মনে হয় একটু কিছু হারিয়েছে কিন্তু সেটা যে অপূরণীয় ক্ষতি তা একটা সময় অনুভবে চলে আসে। নিজেকে শতভাগ সঠিক মনে করলেও কেউ কি তা আছে। কত কিছুতেই না একজন অন্যজনের উপর অত্যাচার করে তার ঠিক নেই। শুধু আইন দিয়েই কত ভাবে স্বাধীনতা হরন করা হয় তার ঠিক নেই। কেউই নিজেকে অন্যের উপর নির্ভরশীল তা মনে করে না তাই তো ন্যায্যাতা আসে না আমাদের জীবনে। ন্যায্যাতা চাই কিন্তু তা যেন আবার গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত না হয়। কত মানুষের জীবনের গল্প বদলে যায়। কত খোলস পাল্টানো মানুষ দেখা যায়। শুধু দর্শক হয়ে বসে থাকি শেষটা দেখার আশায়। কত বাগবিতণ্ডা হানাহানিতে ইমেজ নষ্ট হয়। কত নতুন আশার স্বপ্ন নষ্ট হয়। শিশু থেকে প্রবীণ আজ সবার ভেতরেই নবীন নবীন ভাব। সবাই যেন শান্তির পতাকা হাতে মাঠে কিন্তু আমার তো মনে হয় সবাই যার যার ভাবনায় শান্তি পেতে চায়। আমাদের জীবনে আমরা নিশ্চয়তা আকাক্সক্ষা করি কিন্তু অনিশ্চয়তা কখন যে ঢুকে পরে তা কেউই জানে না। কত বিশ্বাস-অবিশ্বাসে পরিণত হয় তার হিসাবে কতজন করি আমরা। আমাদের রক্তের মধ্যে ভাইরাস। ইচ্ছে করলেও ভালো রক্ত উৎপাদন হওয়া সম্ভব নয়। আমরা যে যে ভাবেই নিজেকে ভালো বলে চালাতে চেষ্টা করি না কেন সেটা ফেক। কেননা আমি আমার ভালো কোনটা দিয়ে পরিমাপ করবো সেটাই জানি না।

আজ কেউ বলছে ছাত্ররা দেশের বড়ো সম্পদ, আবার কেউবা মনে করছে রাজনৈতিক নেতাই বড়ো সম্পদ। সবই ঠিক আছে কিন্তু পচনটা ধরে তো মাথা থেকেই। তার পরে ফরমালিন দিয়ে সেটা রোধ করার চেষ্টা করা হয়। মস্তিষ্কের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সঠিক ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা কি আমরা করতে পেরেছি এত দিনেও। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব হলো আমাদের জাতীয় অক্ষমতা। তাই তো সংস্কার শুধু মুখে। অন্তরে নেই অনেকেরই। যত দিন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি সামর্থ স্বাধীনতা সক্ষমতা ফিরে না আসবে, ততদিন এই ভাইরাস মুক্ত করা সম্ভব হবে না। মনে মনে সংস্কারবিরোধী আমলা নির্ভর এই দেশে আমলাগণ তাদের নিজেদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পাওয়া সম্পত্তি মনে করে এবং করবেই। লাখো মানুষের আস্থায় সুখ্যতির গন্ধ ছড়ানো মানুষ এখন আর নেই। একটা টিকটিকিই নষ্ট করে দিচ্ছে সুগন্ধযুক্ত রান্না করা রান্না ঘরের খাবারগুলো। পেটের ক্ষুধায় কোটি মানুষের আহাজারি কেউই শুনতে পায় না এখন। সমাজে যাদের এখনো সম্মানের ভয় আছে তারা সামান্য অপমপানের ভয়ে নিজেদেরকে আড়াল করে রাখতে চেষ্টা করে যায়। পড়েছিলাম যে মানুষ সামাজিক জীব কিন্তু এখন দেখছি সেটা ভুল ছিল। প্রতিটি মানুষই যেন কারো না কারো স্বার্থের কাছে জিম্মি। আগে সকল বিষয়ে তীব্রতা তিক্ততা বাড়িয়ে নিয়ে তার পরে আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান করলেই কি তা হয়। তবে আজ যে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছি এটার তো স্বপ্নের ছুটিতে নিজের ঘরে শুয়ে থাকার মতো আরামদায়ক বলে আমার কাছে মনে হয়। তবে সবার আরাম তো আমার সাথে নাও মিলতে পারে। অংক কম বুঝি জন্যে হিসেব মেলাতে আজও তাই কষ্ট হয়। নিজের আদর্শকে জলাঞ্জলী দিয়ে বাঁচতে চাই না পৃথিবীতে। কোটি কোটি কিটের মধ্যে আমার জন্ম না হলেও পারতো এই মানুষ্য সমাজে। এই সমাজের রান্নাঘরের দরজা যেন খোলা। তাই তো কিছু কুকুর আনন্দ করে রান্না খাবার খেয়ে বসে আছে, কেউবা খাচ্ছে, কেউবা খাওয়ার আশায় ঘরে ঢুকতে চেষ্টা করছে অথচ রান্নাঘরের মালিক জলাতঙ্কের ভয়ে নিজেকে নিরাপদে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। একটা পশুর আনন্দ বেদনা থাকে তার শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ কিন্তু আমি তো মানুষ।






Users Today : 12
Views Today : 12
Total views : 177415
