আমরা যারা সংসারের বোঝা বহন করে নিয়ে চলেছি, তারাই একদিন এই সংসারেরই বোঝা হয়ে যাব। এটাই যেন প্রকৃতির নিয়ম বা সৃষ্টির খেলা। এই পৃথিবীর এই নিয়মগুলো যে এতটাই নিষ্ঠুর, এতটাই নির্মম যে বেশিরভাগ মানুষকেই এটার কাছে নতি স্বীকার করতেই হয়। কত ঠান্ডা, কতই না রোদ, গরম, কতই না বৃষ্টি, মথার উপর দিয়ে চলে গেছে, তার কোনো হিসেব রাখিনি। খাওয়া থেকে ঘুমানো পর্যন্ত সকল নিয়মই যেন জীবনের অনিয়মের খাতায় যুক্ত হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে কাটানোর কথা ছিল যার জীবন, অথচ সে-ই যেন সংসারের আর সবার মুখে হাসি ফোঁটাতে, এক মুঠো ভাত তুলে দিতে বা কোনো উৎসবে একটা কাপড় কিনে দিতে, মনে মনে বাসনা প্রকাশ করেছিল, আর আজ সে কিনা সেই সংসারেরই বোঝা। বাহ রে দুনিয়া। এর জন্যই কত গণ্ডগোল, কত আমার আমার করা, কতই না অনৈতিকভাবে টাকা ইনকাম করার মোহে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলাম অথচ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে অন্যের করুণা পাবার আশায় অথচ কিছু দিন আগেও যে মানুষটি অন্যকে ভালো রাখার চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকত। কোন মায়ায় আমরা তাহলে নিজেদেরকে বিলিয়ে দেই। কেনই বা অসহায়ের মতো মৃত্যুকে তিল তিল করে আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে নিতে হবে আমাদের। আসলে আমরা যে যাই বলি না কেন নিজের সুস্থতাই নিজেকে রক্ষা করে। নিজেকে সুন্দর রাখে। নিজেকে সুস্থ রাখে। জীবন সংসারে অভাব, অনটন, কথা, ঘটনা থাকবেই। কোনোটা নিজের পক্ষে আবার কোনোটা বা বিপক্ষে যেতেই পারে। কিন্তু নিজের প্রতিটা পদক্ষেপ নিজেকেই ভাবতে হবে। মনে রাখা দরকার যে কোনো ঔষধ বা টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি কাউকেই কখনো সুখী ও সমৃদ্ধি দান করতে পারে না। কোনো সৌন্দর্য সেই মানুষের জন্য চিরস্থায়ী নয়। বিল গেটসের কত টাকা অথচ তার পারিবারিক জীবনে কোনো শান্তির ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। কতো সুন্দরী মহিলা আছে যারা পারিবারিক জীবনে প্রচণ্ড অসুখী। তাই তো খুশি থাকা বা সুখী হওয়া নিজেই একটা মহাষৌধ। আর এটা নিজেকে পরিবর্তন করেই সম্ভব। আমরা কেমন যেন হিটলারের মতো কৌশল অবলম্বন করতে শিখে গেছি। হিটলার বলেছিলেন, ‘মানুষকে এতটাই বিপদের মধ্যে রাখতে হবে যেন, সে নিজের বেঁচে থাকাটাই তার কাছে উন্নতি বলে মনে করে।’ আমিও তাই মাঝে মাঝে বলি, হতাশায় ঘেরা জীবনে আমার শান্তির দূত কোথায় পাই, কোন সে স্মরণে জীবনে মরণে জীবন হবে মোর মধুময়। ভাবল না কেউ মনের কথা বুঝল না কেউ চোখের ভাষা, আত্মভোলা আমি যে গো তাই পদে পদে পাই ব্যথা।
পবিত্র বাইবেল বলে অন্য লোকদের জীবনে শান্তি আনবার জন্য যারা চিন্তা করে ও পরিশ্রম করে, তারা ধন্য, কারণ ঈশ্বর তাদের নিজের সন্তান বলে ডাকবেন। আর দয়ালু যারা তারা ধন্য কারণ তারাই দয়া পাবে। ঈশ্বর আমাদেরকে তাঁর পরিকল্পনায় চলতে সাহায্য করুন।





Users Today : 35
Views Today : 43
Total views : 177928
