
জোয়ারের সামনে
তাদের কান ছিল
কিন্তু কিছুই শুনতে পাচ্ছিল না
জোয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে
ফ্যালফ্যাল ক’রে কাঁদছিল
দুপায়ের মাঝখানে
বালিতে ঢাকা ছিল গৃহশোক
কোদালের কাছে
তবু বলি
এসো
বারবার এসো
বীভৎস স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার আগে
মাটি খুঁড়ে খুলি বের করার আগে
কোদালের কাছে বসি
কোদালের বয়সের কাছে
প্রার্থনা করি
ফিরিয়ে দাও তোমার ধার
চাষীবংশের বিলুপ্তির আগে
নদী
এই সমস্ত জ্বরের ঘোরে
যখন মিইয়ে আসে
তার রং
আমি জল আনতে
নদীর কাছে যাই
নদী
কেবল এক সরুরেখা হয়ে
মিলিয়ে গেছে দূরে
রেখা ধ’রে হাঁটতে হাঁটতে
আমি আর ফিরতে
পারি না
হে পরমানন্দ
হে পরমানন্দ
গাছের নীচে ব’সে
অপেক্ষা করছো কোন দৈব ডাকের?
বাতাসে দুলছে শরীর।
কোন সুরে উচাটন হয়ে
টলছে তোমার পা।
তুমিও কি
ক্ষুধার্ত জিরাফের গলা বেয়ে
নেমেছো এই গাছের নীচে?
ঘাসের ডগায়
কোন ক্ষুদ্র প্রাণের কানে
মানব-ভাষায় শুনিয়েছো বাঁচার অভিলাষ।
হে পরমানন্দ
ব’লে যাও
কোন হাতের স্পর্শে
গাঢ় হয় সবুজ পাতা।
আমার বন্ধুরা
আমার শিশুবন্ধুরা
এখন বুড়ো হয়ে গেছে
তাদের মুখ আর চেনা যায় না
কথাগুলোও কেমন দুর্বোধ্য ঠেকে
তারা কেউ ভালো থাকে না
সব সময় মোটামুটি থাকে
আর তাদের হাঁটু বেয়ে
ঝরে পড়ে আফসোস
দুয়েকটা আফসোস কুড়াতে গেলে
দেখি আমারও মুখ
কেমন করুণ হয়ে পড়ে আছে পথে





Users Today : 66
Views Today : 67
Total views : 177470
