বিভাগীয় সম্পাদক • মানুষ জীবনের কোনো না কোনো একটা সময়ে একা বোধ করেন। এই একাকিত্ব অনুভূতি দীর্ঘমেয়াদি হলে তখনই তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নানা ধরনের পারিপার্শ্বিক কারণে একজন মানুষের জীবনে একাকিত্ব, নিঃসঙ্গতা ক্রমশ গেড়ে বসে। একাকিত্ব ডেকে আনতে পারে হার্টের অসুখসহ স্বাস্থ্যের জন্য নানা ক্ষতি।
একাকিত্ব কেন মানুষের জন্য হুমকি?
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার পর ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, এখন বেশ শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণাদি রয়েছে যে একাকীত্ব নানা অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের কারণে হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে ২৯ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়েয ৩২ শতাংশ। দীর্ঘদিনের একাকিত্ব মস্তিষ্কের কিছু মনে রাখতে না পারার মারাত্মক অসুখ ডিমেনশিয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। একাকিত্বের কারণে হতে পারে হার্টের অসুখ। নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের মধ্যে বিষাদ, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যা প্রবণতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। এসব কারণে নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের তাড়াতাড়ি মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন বলছেন, “অনেক মানুষ আছে যারা বাধ্য হয়ে একা থাকে। তাদের অনেকের জন্য একাকিত্ব একটা কারাগারের মতো। নিঃসঙ্গ মানুষ অনেক কিছু নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগে। তার মনে বেশি উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। যা শরীরে কিছু স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, হার্টের উপর চাপ বৃদ্ধি করে, ডায়াবেটিস বাড়াতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ কিডনির অসুখও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও বলছেন, একাকিত্ব মানুষের সামাজিক দক্ষতা কমিয়ে দেয়। ব্যক্তিত্বের সমস্যা তৈরি করে। তাতে সে আরও একা হয়ে পড়ে। মনের মধ্যে একাকিত্বের পাহাড় যখন জমতে থাকে তখন ক্রোধও তৈরি হতে পারে।
একাকিত্ব কাটাবেন কীভাবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাকিত্ব ও বিষণ্ণতার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে রয়েছে। তবে একটু উদ্যোগী হলে, পারিপার্শ্বিক সহযোগিতায় একাকিত্ব কাটাতে অনেক কিছুই করা সম্ভব। একাকিত্ব কাটাতে ভালো লাগে এমন কিছু করতে হবে। একাক্তিব কাটাতে অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন যা যা পরামর্শই দিচ্ছেন—
ভালো লাগে এমন কিছু করার মতো খুঁজে বের করুন। এমন কিছু করুন যাতে খারাপ চিন্তা থেকে মনোযোগ সরে যায়। সেটা হতে পারে গান শোনা, বই পড়া অথবা বাগান করা। তবে তা যেন ক্ষতিকর ভালো লাগার কিছু না হয়।
নিজের এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, সংগঠনে যোগ দিন। কিছুক্ষণের জন্য ভালো থাকবেন। সেখানে নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ হবে, বন্ধুত্ব বাড়বে।
আত্মতুষ্টি বোধ করবেন এমন কোনো দাতব্য কাজে যোগ দিন। ইতিবাচক চিন্তা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।
কথা চেপে না রেখে কথা বলার চেষ্টা করুন, আপনার অনুভূতি সম্পর্কে বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সাথে কথা বলুন।
একাকিত্বের চাপ কমাতে সেটি উপভোগ করতে শিখতে হবে।





Users Today : 186
Views Today : 202
Total views : 177605
