সুনসান নীরব গ্রামে ‘সাত আনী’ এক ব্যতিক্রমী হাটের নাম। বিশাল বটগাছের নিচে বসা এ হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই মাস্ক পরেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনার বিপর্যস্ত সময়ে যেখানে অনেক গ্রামেই মানুষ মাস্ক পরতে চান না, সেখানে সাত আনীর’ চিত্র আলাদা।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ধনুয়া গ্রামের এ হাটে সবাই মাস্ক পরেন কথা হয় সেখানকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে। প্রায় সবাই জানান, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় গ্রামের লোকজন সবাই সচেতন হয়ে গেছেন। একসময় এ গ্রামে মাস্ক পরার প্রবণতা ছিল না। কিন্তু একে একে সবাই এখন স্বাস্থ্যসচেতনতার অংশ হিসেবে মাস্ক পরেন। হাটে এলেও সবাই নিজ দায়িত্বে মাস্ক পরেন, বেচাকেনা করেন।
বটগাছের নিচে মাছ বিক্রি করছিলেন মানিক আলী। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালো না। পেটের তাগিদে ব্যবসা করতে হচ্ছে। তাই মাস্ক পরে বাজারে এসেছেন। এ বাজারের ইজারাদারেরা করোনার কারণে কেনাবেচায় কোনো খাজনা নিচ্ছেন না। হাটে পণ্য কিনতে এসেছেন জহুর উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মাস্ক পরি। হাটে কেউ মাস্ক ছাড়া এলে ইজারাদারের পক্ষ থেকে বিনা মূল্যে মাস্ক দেওয়া হয়।’ জয়নাল আবেদীন নামের অপর এক বৃদ্ধ বলেন, ‘এই হাট ও গ্রামে আমরা কমবেশি সবাই মাস্ক লাগাই। দেশে কঠিন রোগ আইছে। এ জন্য সবাই সজাগ অইসে।’
বাজারের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, করোনাকালে সবার কথা বিবেচনা করে কেনাকাটায় আমরা খাজনা নিচ্ছি না। এ ছাড়া সবাইকে বিনা মূল্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। এমনিতে সবাই নিজ উদ্যোগেই এ হাটে মাস্ক পরেন। এখানে সবাই অনেক সচেতন। এটি একটি ব্যতিক্রম হাট। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার এ হাট বসে।





Users Today : 111
Views Today : 115
Total views : 177518
