তোমার গলাকে সংযত কর কেননা সেখান থেকে কথা বের হয়। তোমার কথাকে সংযত কর কেননা সেখান থেকে কাজের শুরু। তোমার কাজকে সংযত কর কেননা সেখান থেকেই অভ্যাস শুরু। তোমার অভ্যাসকে সংযত কর কেননা সেখান থেকেই চরিত্র শুরু। তোমার চরিত্রকে সংযত কর কেননা সেখান থেকেই সুন্দর দেশ ও সমাজ শুরু। আমাদের খেলাঘরকে ধন্যবাদ যে তার সকল কর্মী বাহিনী শুরু থেকেই এই পরিবর্তন আনার জন্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজকের এই লেখাটা হয়ত কারো খারাপ লাগতে পারে। কেননা কিছুটা ধর্মীয় ব্যাখ্যা রয়েছে তো তাই। ধর্ম সম্মন্ধে আমার অনেক জানা নেই। আবার ধর্ম সম্মন্ধে অতোটা পড়াশোনাও নেই। তাই ক্ষুদ্র জ্ঞানেই এইটুকু লিখলাম। ভুল-ভ্রান্তি অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখবেন। ধর্ম তো সবার জীবনেই প্রয়োজন আছে সেটা কেউ মুখে স্বীকার করি বা না করি। আমরা ধর্মটাকে মুখে মুখে স্বীকার করি কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই সেই অনুসারে কাজ বা মন পরিবর্তন করি না। পবিত্র বাইবেল বলে, “কারণ আমার সম্মুখে এক দ্বার খোলা রহিয়াছে তাহা বৃহৎ ও কার্য সাধক আর বিপক্ষ অনেক’’ (১ম করি ১৬ : ৯) । প্রত্যেক ভালো কাজের বিপক্ষ থাকবেই তাই বলে কি কাজ থেমে থাকবে। কি সেই দ্বার ভেবেছি কখনো? সেই দ্বার হলো প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সেই আদর্শ। যেখানে যীশু খ্রীষ্ট বলেছেন, আমার পশ্চাতে আসো আমি তোমাকে বিশ্রাম দেব। এখানে পশ্চাৎ অর্থ তার আদর্শ। কাজ বাদ দিয়ে এটা নিয়েই থাকতে তিনি বলেননি। তিনি তার আদর্শকে ধারণ করে চলতে বলেছেন। কোনো ধর্মই তার আদর্শকে বিকিয়ে দিয়ে চলতে বলেনি। কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে সেই আদর্শকে আমরা জলাঞ্জলি দিয়ে ফেলেছি।
ঈশ্বরের শিক্ষা হলো বৃষ্টির মতো। বৃষ্টি যেমন করে অঙ্কুর থেকে চারা বৃদ্ধি করে একটা পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গাছ তৈরি করে, ঠিক তেমনই হলো ঈশ্বরের শিক্ষা। আমরা প্রতেকেই মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি কিন্তু মানুষের যে আদর্শ, যে গুণ আমাদের থাকা দরকার তা কি আমাদের সবার ভেতরে আছে? যদি সঠিক আদর্শকে ধরতে না পারি তবে ব্যক্তি জীবন বা পারিবারিক জীবন বা সামাজিক জীবনে এর কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই আমরা যদি মান + হুস বুঝতে পারি তবে এক অপূর্ব ও অলৌকিক পরিবর্তন হবেই।
প্রচারের অনেক মাধ্যম আছে। রেডিও, টিলিভিশন, পত্রিকা, অনলাইন। আমরা সত্য প্রচার করি। জানি না এটা ধর্ম কিনা। ধর্ম আসলে কী? সত্যটাই হলো ধর্ম। এক একজন এক এক ভাবে সেই সত্যকে উপস্থাপন করে। আমরা কে কতটা বুঝতে বা নিতে সক্ষম সেটাও অবশ্য আর একটা বিষয়। বর্তমানে আমাদের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে বলি এক আর করি আর এক। আমরা বলি ভালো ভালো কথা কিন্তু পেছনে দেখলে দেখতে পাই অন্য জিনিস।
দেশের পরিস্থিতি আজ যে অনেক ভালো তা আমার এই ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে আসে না। অভাব, অসুবিধা, ধর্মীয় দাঙ্গা, খুন, ধর্ষন, মিথ্যাচার আজ আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। মুন্সিগঞ্জের জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশাকা প্রকাশনীর মালিক শাহজাহান বাচ্চুকে প্রকাশ্যে চায়ের দোকান থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করলো বেশ অনেক দিন আগেই। আমাদের দেশের কাউন্টার টেররিজমের ভাষ্য অনুসারে মতাদর্শের ভিন্নতার কারনে তার এই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ভালো কথা তার অপরাধ ছিল তিনি মুক্তচিন্তা করতেন। আমার চিন্তার স্বাধীনতা তো থাকইে পারে , তাই বলে আমাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। কোনো ধর্ম কি বলেছে কেউ যদি আমার কথা না শুনে বা আমার আদর্শে না চলে তবে তাকে মেরে ফেলতে হবে। কোন মতাদর্শ এটা আমি বুঝতে পারি না।
যীশু খ্রীষ্ট তো বলেছেন, “কেউ যদি তোমার এক গালে চড় মারে তবে তোমার অন্য গাল পেতে দাও”। আসলে বিষয় হলো আমরা পড়ি কিন্তু বুঝি না, আবার কেউ যদি বোঝার চেষ্টা করতে চাই তাকে নাস্তিÍক বলে আইনের প্যাঁচে ফেলে দেওয়া হয়। ধর্মীয় অবমাননার জন্যে তাকে অনেক হেনস্থা এমনকি কারো রোষানলে পড়ে অপমৃত্যুর স্বাদটা পর্যন্ত নিতে হয়। আজ যদি আমরা পরিবর্তীত না হই তবে এইসব ধর্মীয় দাঙ্গা বিচ্ছিন্নভাবে চলতেই থাকবে। এর আগেও হয়েছে, হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। যার কোনো কিনারা কোনো বাহিনীই কখনোই খুঁজে পাবে না। তাই আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতেই হবে। ঠিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয় কিন্তু প্রথমেই দরকার মানবিকতার শিক্ষা যা অঙ্কুুর থেকেই শুরু হতে হবে।
অলোক মজুমদার : চিকিৎসক ও লেখক।





Users Today : 7
Views Today : 9
Total views : 175513
