দিন নেই রাত নেই
বসে থাকা একাকী
ফিরে আসি বার বার
পোড় খাওয়া আঙ্গিনায়।
এই শিরোনামে সাপ্তাহিক সময়ের বিবর্তন পত্রিকায় এক পাতাব্যাপী কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল। আজকের লেখায় ফরিয়াদ-এ-এলাহি’র বিষয়টিকে প্রবন্ধের আকার দিয়েছি। এছাড়া ‘না পারি ভুলে যেতে না পারি মিটে যেতে’ ও ‘তোমার নাম তোমারই নাম’-কবিতা দুটি ইতিমধ্যে প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি মানুষ তার আকাক্সিক্ষত বস্তু পাওয়ার জন্য পরম করুণাময়ের কাছে ফরিয়াদ করতে থাকেন। পৃথিবীর প্রত্যেকটি ধর্ম বিশ্বাসীরা তাদের চাওয়া-পাওয়া যাই দরকার তাই যার যার নিয়মে পরম করুণাময়ের কাছে ফরিয়াদ করতে থাকেন। কখনো এই ফরিয়াদ বাস্তবায়ন হয়, কখনো বা বাস্তবায়ন হয় না, যখন হয় তখন পূর্ণতা চলে আসে, আর যখন এই ফরিয়াদ বাস্তবায়ন বা কবুল হয় না তখন হাহাকার তৈরি হয়, যেটা আমার কবিতায় বর্ণনা করেছিলাম। তিনটি ঘটনার ভেতর দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। নভেম্বর ২০১০ সাল, মারিশ্যা বাজার, বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি। এক প্রিয় মানুষের বিয়েতে উপস্থিত হলাম। তার ধর্মবিশ্বাস বৌদ্ধ। প্যাগোডায় যথাযথ নিয়মে শুভ পরিণয় হলো, আমিও উপস্থিত ছিলাম। যদিও তার নামটা উল্লেখ করলাম না। সেই প্রিয় মানুষটি জানালো একসময় তোমার জন্যও প্রভুর কাছে ফরিয়াদ করেছিলাম কিন্তু প্রভু আমার প্রার্থনা শোনেননি। জীবনের প্রথম ধাক্কা এই রাঙ্গামাটি থেকে ঢাকায় বহন করে নিয়ে আসতে হয়েছিল। তাকে বলতে পারিনি এরকম ফরিয়াদ আমিও করেছিলাম। ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সাল, আমার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান নেত্রকোনার ওপর ব্যাপক গবেষণা করলাম। তারপর নেত্রকোনার ওপর সাপ্তাহিক এই সময় পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লিখলাম। এরপর নেত্রকোনার ওপর একাধিক প্রবন্ধ লিখেছি। সোমেশ্বরী নদীতে যেমন নৌকা ভ্রমণ করেছি, তেমনি নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি খেয়ে দেখেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই তৃপ্তি পাইনি। নেত্রকোনার এক প্রিয় মানুষকেও জানাতে পারিনি, আমার প্রভুর কাছে তার জন্যও করেছিলাম ফরিয়াদ। এপ্রিল ২০১৮ সাল, ময়মনসিংহের খ্যাতনামা দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দমোহন কলেজ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর প্রবন্ধ লেখার জন্য ময়মনসিংহে উপস্থিত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে ঐ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ও ময়মনসিংহ জেলার ওপর একটি প্রতিবেদন অর্থাৎ মোট তিনটি প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ‘এই সময়’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে যেতে যেতে নিজের অজান্তেই ময়মনসিংহের প্রেমে পড়েছিলাম। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের একটি উপজেলাকে নিয়েও দুটি প্রথম শ্রেণির সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখেছিলাম। এই ময়মনসিংহে আমার এক প্রিয় মানুষ আছেন যাকে অনেকবার কবিতা উৎস্বর্গ করেছি। আমার কবিতা পেয়ে সবচাইতে বেশি তাকে খুশি হতে দেখেছি। কিন্তু হায়-এই সমাজের কিছু মানুষের কাছে এর জন্য অনেক অপদস্থের শিকার হতে হয়েছিল। পরম করুণাময় মানুষকে পরীক্ষা করার জন্যই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে দেন। কখনো এই আকর্ষণ কার্যকর হয়, আবার কখানো এই আকর্ষণ কান্নায় পরিণত হয়ে যায়। ময়মনসিংহের প্রকৃতির প্রতি, প্রকৃতির এক সন্তানের প্রতি আকর্ষণের কারণে লেখক থেকে কবিতে পরিণত হয়েছি। যার ফলে প্রথম শ্রেণির একাধিক প্রত্রিকায় আমার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে, যা প্রবন্ধে বলতে পারি না তা কবিতায় বলেছি। যখন কবিতা প্রকাশিত হয়েছে তখন সবার আগে প্রিয় মানুষের কাছে কবিতা পাঠিয়েছি। কিন্তু তারপরেও এই সমাজের বানানো বিধিবিধান বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। বাস্তবতা মেনে নিয়েছি, প্রভু যাই করেন মানুষের মঙ্গলের জন্যই করেন। এটাই বিশ্বাস করেছি। কবিতার ভাষায় এই প্রবন্ধ শেষ করছি, দুনিয়াও পেয়েছি, ব্যথার দুনিয়াও পেয়েছি, তাকেই পাইনি, যার জন্য প্রভুর কাছে করেছিলাম ফরিয়াদ…
লেখক পরিচিতি
সৈয়দ রশিদ আলম : কবি ও প্রাবন্ধিক।





Users Today : 7
Views Today : 9
Total views : 175513
