স্বাস্থ্যরক্ষায় রসুন খাওয়ার প্রচলন বহু দিনের। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক হিপোক্রেটিসও একে ব্যবহার করেছিলেন সারভাইকাল ক্যানসারের চিকিৎসায়। লুই পাস্তুর এর অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণের খবর জানান। সময়ের সঙ্গে আরও উপকারের কথা জানা গিয়েছে।
আধুনিক বিজ্ঞানীরা জানালেন হৃদরোগ প্রতিরোধে এর ভ‚মিকার কথা। বিজ্ঞানীদের দাবি করছেন, কাঁচা রসুন খেলে হার্ট অনেক বেশি সুস্থ থাকে। রক্তচাপ বশে রাখতেও তার ভ‚মিকা আছে।
নিয়মিত রসুন খেলে যদি হার্ট ও রক্তচাপ ঠিক থাকে, তাহলে কম থাকবে কোভিডের জটিলতাও। রসুনের আরও নানা উপকার দিক –
♦ নিয়মিত রসুন খেলে মোট কোলেস্টেরল ও খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলের প্রায় ১০-১৫ শতাংশ কমে যায়। তবে উপকারি কোলেস্টেরল বা এইচডিএল বাড়াতে ও ট্রাইগিøসারাইড কমাতে এর কোনো ভ‚মিকা নেই।
♦ বিপাকীয় ক্রিয়া ও পরিবেশ দূষণের ফলে শরীরে যে ফ্রি র্যাডিক্যালস তৈরি হয় তা হার্ট তথা সমস্ত শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রসুনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সেই ক্ষতি খুব ভালোভাবে ঠেকাতে পারে।
♦ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে সমস্ত হৃদরোগী নিয়মিত রসুন খান, তাঁরা অনেক বেশি সক্রিয় থাকেন। তবে এ বিষয়ে অনেক গবেষণার প্রয়োজন।
♦ আয়ুর্বেদ বলছে, সবচেয়ে ভালো ফল পেতে গেলে সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে খেতে হবে কাঁচা রসুন।
কাঁচা রসুনই কেন
মোটামুটি নিশ্চিত করে বলা যায়, কাঁচা রসুনের যত উপকার, রান্না করার পর আর তত থাকে না। বিভিন্ন গবেষণায় এমন ফলাফলই এসছে। কাঁচা রসুন কাটলে বা বাটলে যে ঝাঁঝালো গন্ধ বেরোয় তার মূলে আছে অ্যালিসিন। মাপমতো খেলে যা ওষুধের মতো কাজ করে। রসুন কাটা বা বাটার পর সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে না নিলে সে আস্তে আস্তে উবে যায়। সে জন্যই রসুন শুকিয়ে বা রান্নায় দিয়ে খেলে উপকার কমে যায়। প্যাকেটের রসুন বাটা বা সাপ্লিমেন্টেও এই উপকার থাকে না। তাছাড়া, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মাত্রাও বেশি থাকে কাঁচা রসুনে। পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২-৩টি রসুনের কোয়া খেতে বলছেন পুষ্টিবিদরা। রোজ সকালে এক কোয়া রসুন কাঁচা চিবিয়ে খেলে তা সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে।
কখন, কীভাবে
সকালে খালি পেটে খেতে হবে এমন নয়। বিকেল-দুপুর বা রাতে খেতে পারেন। পুরো উপকার পেতে গেলে খেতে হবে কাঁচা, আগেই বলা হয়েছে। এমনি খেতে অসুবিধা হলে ধনেপাতার সঙ্গে বেটে নিন। নারকেল বা কচু বাটায় মেশান। স্যালাডে বা দইয়ে মিশিয়ে খান। কারও ভয় একটাই, শ্বাসে কট‚ গন্ধ হবে কি না। সে উপায়ও আছে। একটু পার্সলে পাতা চিবিয়ে নিন, দাঁত মাজুন বা ব্যবহার করুন মাউথ-ওয়াশ, গন্ধ চলে যাবে।
ফিচার ডেস্ক





Users Today : 7
Views Today : 9
Total views : 175513
