কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট করোনার মধ্যে বিদায়ী ২০২০–২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৩৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে। এই প্রথমবারের মতো বার্ষিক রাজস্ব আদায় তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়াল কমিশনারেটটি। এর আগে কুমিল্লা কমিশনারেটের ইতিহাসে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।
শুধু সদ্যসমাপ্ত জুন মাসেই তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করেছে। এটিই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন সারা দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
গতকাল রোববার কুমিল্লা কমিশনারেটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জুন মাসে এই কমিশনারেটের ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৯ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৫১০ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।
গত মে মাসসহ ভ্যাট অনলাইন রিটার্ন জমায় দেশে টানা দশবার সেরা হয় কুমিল্লা। বিদায়ী অর্থবছরের, অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল কুমিল্লার। এ কমিশনারেটের সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায় হয় আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড থেকে।বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের শুরুতে কুমিল্লা কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী। এরপর রাজস্ব আদায় বাড়াতে কুমিল্লা সদর দপ্তরসহ ছয় জেলায় পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কর্তন ও জমাদানে ব্যর্থতার দায়ে অনধিক ২৫ হাজার টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা আরোপের বিধানের বিষয়টি উৎসে কর্তনকারী সব প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। উৎসে মূসক যথাসময়ে জমা না করা হলে সুদ, দণ্ডসহ পরবর্তী সময়ে আদায়ের বিধানও জানানো হয়।
এদিকে চিঠি পেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বকেয়া পরিশোধ করতে শুরু করেন। এর মধ্যে চাঁদপুর জেলখানার বকেয়া সাত লাখ টাকা, প্রয়াত এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর ২৭ বছরের বকেয়া ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন স্ত্রী ও সন্তানেরা। একজন ইটভাটার মালিক ৯ লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধ করেন।
কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, যেখানে করোনা মহামারিতে আগের বছরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন, সেখানে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে। গত এক বছরে অনলাইনে রিটার্ন জমায়ও সবার শীর্ষে ওঠে আসে কুমিল্লা কমিশনারেট।





Users Today : 10
Views Today : 10
Total views : 182159
