গত কয়েক বছর ধরেই মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। এ বছরেও এ পর্যন্ত আটক হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার বাংলাদেশী। ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন। তবে সেখানে কি পরিমাণ অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিক আছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা কঠিন। সম্প্রতি দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের পর অবৈধ অভিবাসী-বিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবৈধ শ্রমিক বা অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন বৈধভাবেই মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আবেদন করেও ভিসা না পাওয়ায় এখন তিনি হয়ে গেছেন ‘অবৈধ’। জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মালয়েশিয়ায় এখন নতুন করে অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর নাম করে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তাতে যেন বাংলাদেশী শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে এখন থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা মালয়েশিয়ায় এসেছি শ্রমিক হয়ে। আজ দেশে চলে গেলে পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে। এখন আমাদের বের করে দিলে এর প্রভাব দেশেও পড়বে। মালয়েশিয়া এখন দুদিন পরপরই লোকজন ধরছে কিন্তু দেশে পাঠাচ্ছে না। তাদের ধরে অত্যাচার করছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত।’’
বছর দুয়েক আগে অবৈধ শ্রমিকদের রেজিস্ট্রেশন করে বৈধ হবার একটি সুযোগ দিলে তাতেও তালিকাবদ্ধ হয়েছে বহু মানুষ। কিন্তু দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে সেখানেও প্রতারিত হয়েছে বহু বাংলাদেশী।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলছেন, ‘‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে তারা পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনার কথা বলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব জায়গা থেকে এসেছে অবৈধরা তাদের সেখানেই পাঠিয়ে দিতে চায় তারা’’।
বাংলাদেশীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে, কারণ যারা অবৈধ বিষয়টা তাদের সম্পর্কে।’’
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পাঁচটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা। এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তারা দেশটি অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করবে। অবৈধ অভিবাসীদের যেসব নিয়োগকর্তারা রাখে তাদের চিহ্নিত করবে। আনডকুমেন্টেড যারা তাদের শনাক্ত করবে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বাসাবাড়িতে তল্লাশি করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষদের এ অভিযানে সম্পৃক্ত করবে।
এমন পরিস্থিতিতে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠন রামরুর একজন পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলছেন, মালয়েশিয়ার অবৈধ অভিবাসীবিরোধী এসব পদক্ষেপে যেন বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিয়ে এখন থেকেই মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে আলোচনা করা উচিত বাংলাদেশের। সেখানে থাকা শ্রমিকরা যেন ঝুঁকিতে না পড়ে সেটাও দেখতে হবে, আবার মালয়েশিয়ার বাজারটাও ঠিক রাখা দরকার। শ্রমিকরা যেন সম্মানের সাথে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।’’
মালয়েশিয়ায় যারা অবৈধ হয়ে আছে তাদের দায় দুদেশের সরকারকেই নিতে হবে কারণ শুধু শ্রমিকদের জন্যই নয় বরং দুতরফে থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই শ্রম বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মো. রায়হান





Users Today : 220
Views Today : 267
Total views : 182115
