ক্রিসমাস কী, ক্রিসমাস কেন, ক্রিসমাস মানে কী? ‘মাস’ শব্দের অর্থ হলো একত্রিত হওয়া, আর ক্রিসমাস মানে হলো খ্রীষ্টের জন্য বা ঈসা মসীহের নামের জন্য যেন সবাই একত্রিত হয়। আমরা একত্রিত এই কারণে যেন আমরা আমাদের মুক্তিদাতা ঈসা মসীহকে বা প্রভু যীশুকে স্মরণ করতে পারি—যে তিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং কেন এসেছিলেন, কী করেছিলেন, তাঁর জীবন নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি সেই উদ্দেশ্যেই এটা করা। তাই ইংরেজিতে বলে ক্রিসমাস। অর্থাৎ খ্রীষ্টের নামে, খ্রীষ্টের জন্য একসাথে সংগঠিত হয়ে সবাই মিলে সেটা স্মরণ করা। আমাদের যেকোনো অনুষ্ঠানে যেমন শিশুদের জন্মদিন পালন করার সময় আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবকে আমরা নিমন্ত্রণ করি। কেন নিমন্ত্রণ করি? যেন সবাই মিলে ঐ আনন্দটাকে সেলিব্রেট করি, শেয়ার করি। ঠিক একইভাবে ক্রিসমাস বা বড়দিন আমরা পালন করি যেন খ্রীষ্টের উদ্দেশ্যে, খ্রীষ্টের আগমনের উদ্দেশ্য, তিনি এই পৃথিবীতে কেন এসেছিলেন এই বিষয়গুলি নিয়ে যেন আমরা আলোচনা করি, ধ্যান করি, চিন্তা করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যখন অনেক সময় এই চিন্তাটা আমাদের মধ্যে শুধু আনন্দ, নতুন কাপড় পরা, গ্রামে দেখি পিঠা বানায়। মানুষ মনে করে এটা আসলে ভ্যাকেশন বা ছুটির দিন, বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় তারা খুশি কারণ এ সময় তারা কয়েকদিন ছুটি পায়, তারা মনে করে এটা ছুটির আনন্দ। আমাদের দেশে যারা শহরে থাকে তারা মনে করে বড়দিন আসলে গ্রামে যাবে, সবাই একসাথে মিলিত হবে—এটা একটা আলাদা আনন্দ, কেউ একটু বেশি করে ছুটি নেয়—বড়দিনে গ্রামে জায়গা-জমি মাপার নানান বিষয়ও রাখে একসাথে। বড়দিনের ছুটিতে যাবো তখন ঐ শালিসটা-দরবারটা হবে। এই সমস্ত সকল প্ল্যানগুলো করে। আবার গ্রামে যারা থাকে তারা মনে করে এতদিন পর ছেলে আসবে, জামাই আসবে, আত্মীয়-স্বজন আসবে তাই একটু ভালো-মন্দ রান্না করতে হবে, এই পিঠা বানাবো, অনেক আগে থেকে চালের গুঁড়া সবকিছু রেডি করে রাখে যেন বড়দিনের সময়টা আনন্দময় হয়। এটা খারাপ না, এটা ভালো।
কিন্তু আসল আনন্দ কোনটা, এইসব আনন্দের মধ্যে যে সত্যিকারের ক্রিসমাস বা বড়দিনের যে আনন্দ সেটা আসলে আমরা হারিয়ে ফেলি, সেটা আসলে আমাদের মধ্যে আর কাজ করে না, থাকে না। তখন এটা শুধু একটা সাধারণ অনুষ্ঠান হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকে। মনে হয় শুধু একটা অনুষ্ঠান আর কিছু না। তাই আমাদের চিন্তা করতে হবে কেন বড়দিন পালন করি বা ক্রিসমাস আমরা উদ্পযান করি। যে অংশটা আমরা পাঠ করেছি ইউহোন্না ১ : ১-৫, ৯-১৪ আয়াতে বলেছেন, প্রথমেই কালাম বা বাক্য ছিলেন, এবং কালাম খোদার সঙ্গে ছিলেন এবং কালাম নিজেই খোদা ছিলেন, প্রথমেই তিনি খোদার সঙ্গে ছিলেন। সবকিছু সেই কালামের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিল আর যা কিছু সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে কোনো কিছুই তাকে ছাড়া সৃষ্টি হয়নি। আমরা জানি সৃষ্টি যখন হয় শুধু বলেছে ‘কুন’ বা হও আর হয়ে গেছে। আরবিতে বলে ‘ফায়াকুন’ আর হয়ে গেছে। সবকিছু এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। তারমানে কী দিয়ে হয়েছে—বাক্য বা কালাম, কথা, ‘হও’—এটা একটা কালাম, এই কালামের দ্বারাই সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে। এবং এই কালাম অনন্তকালীন কালাম। এজন্য বলছে, তিনি আলফা, তিনি ওমেগা। তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ। এই কালাম দিয়ে শুরু এবং কালামই শেষ পর্যন্ত থাকবে, এখনও আছে। তাই আমরা অনেক সময় বড়দিন বাংলায় যখন বলছি, বড়দিন—আসলে দিন কি বড়, একটু বড়, সাধারণভাবে দেখা যায় ডিসেম্বর অর্থাৎ শীতকালে দিন একটু ছোটো আর রাতটা একটু বড় শীতকালে। তাহলে বড়দিন কেন আমরা বলি? আসলে কি এদিন বড়? আবার যদি দেখেন একটা গান আছে, সবাই বলে বয়স বাড়ে, আমি বলি কমেরে। আসলে আমাদের বয়স বাড়ছে না, কমছে? যে দিনটা যাচ্ছে সে দিনটাই আসলে কমে যাচ্ছে। কেন? বয়স তো কমে যাওয়ার কথা ছিল না।
যখন আদম-হাওয়াকে ঈশ্বর সৃষ্টি করেছিলেন তাদের কত বৎসর বয়স দিয়েছিলেন? আদম-হাওয়াকে যখন সৃষ্টি করেছিলেন তখন কি তাদের বলে দিয়েছিলেন তোমরা এত বৎসর বাঁচবে? না, বলেননি, তাঁদের সৃষ্টি করে বাগানে ছেড়ে দিয়েছিলেন, যত বাঁচতে পারে, বয়স বাড়বেও না, কমবেও না, তারা এভাবে থাকবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা সেই অসীম বয়সের যে সুযোগটা ছিল সেটাকে তারা ধরে রাখতে পারেনি। না পারার কারণে কী হলো? তারা বেহেস্তের বাগান থেকে বের হয়ে গেল। তাদের বয়সও সীমাবদ্ধতার মধ্যে চলে আসলো। এখন বলল, যে নির্দিষ্ট একটা সময় তুমি থাকবে তারপর আবার ফিরে আসতে হবে। ফলে কী হলো, বয়স কমা শুরু হয়ে গেল। কারণ স্বর্গে বা বেহেস্তে যখন আমরা থাকি তখন আর আমাদের বয়সের সীমারেখা নেই, বেহেস্তে থাকব অনন্তকাল ধরে। যতদিন সৃষ্টিকর্তা থাকবে তার সঙ্গে আমরাও সবাই থাকব। কিন্তু আদমের ভুলের কারণে আমাদের বয়স কমা, পৃথিবীতে বয়স গণনা শুরু হয়ে গেল। এর আগে বয়স গণন ছিল না।
সত্তর বা আশির কাছাকাছি এলেই আমাদের মনে হয় বিদায়ের সময় হয়ে গেছে বা অনেকেই বিদায় নিয়ে চলে যায়। কিন্তু বিদায় যে নেয়, সেই বিদায় নেয়ার পরে যেখানে আমাদের থাকতে হবে, সেখানে আমরা কীভাবে থাকব, কতদিন থাকব। সেখানে দুটো পথ আছে একটা হলো আজীবন কষ্টের মধ্যে থাকা যেটাকে আমরা বলছি দোজখ বা নরক আরেকটা হলো আজীবন শান্তির মধ্যে, আনন্দের মধ্যে, ঈশ্বরের সাথে আগের মতো বাগানে থাকা যেটাকে আমরা বলছি বেহেস্ত বা স্বর্গ।
আর এই যে বড়দিন আমরা বলছি, এটা বড় কেন? এটার কারণ হলো এই, এই দিনে একজন পৃথিবীতে আসলেন যিনি এসে আমাদের সেই দিনকে বড় করে দিলেন যেন আমরা তাঁর মধ্যে দিয়ে আজীবন সেই বাগানে আবার থাকতে পারি। যেটা আদম-হাওয়া হারিয়ে ফেলেছিল সেটা যেন আমরা আবার ফিরে পাই, সেইজন্য দিনটা আমাদের কাছে বড়। কারণ আমরা যা হারিয়ে ফেলেছিলাম সেটা আবার আমরা ফিরে পাচ্ছি। কার মধ্যে দিয়ে? ঈসা মসীহের বা প্রভু যীশুর মধ্য দিয়ে। কারণ তার জন্মের মধ্যে দিয়ে। সেজন্য বলা হয়েছে, তিনি প্রথমে কালাম, বাক্য ছিলেন আর বাক্য দ্বারাই সবকিছু হয়েছে। এই কালামই খোদা ছিলেন, এবং সেই কালামের মধ্য দিয়েই সব কিছু সৃষ্টি হয়েছিল। তাকে ছাড়া আর কোনো কিছু সৃষ্টি হয়নি, তাই প্রকাশিত কালাম ১৯ : ১৩ আয়াতে বলা হয়েছে, তার পরনে ছিল রক্তে ডোবানো কাপড়, আর তার নাম হলো খোদার কালাম। সে কালাম যিনি, এই পৃথিবীতে এসেছেন তিনি এই দিনটাকে এত বড় করে দিতে পেরেছেন। তিনি তার রক্তের মধ্য দিয়ে, তার কোরবানের মধ্য দিয়ে সেই কাপড়টাকেই ডুবিয়েছেন, ভিজিয়েছেন সেই কাপড় হলো দেহ।
ইউহোন্না ১ : ১৪ আয়াতে বলা হয়েছে, সেই কালামই মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন। সেই বাক্য পৃথিবীতে আসলেন। তাই আমাদের প্রথম যে জিনিসটা বুঝতে হবে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে সব তার মধ্য দিয়েই সৃষ্টি হয়েছে। তাই ইব্রিয় ১ : ২ আয়াতে বলা হয়েছে, কিন্তু এইদিনগুলোর শেষে তিনি তার পুত্রের মধ্যে দিয়ে আমাদের কাছে কথা বলেছেন, খোদা তার পুত্রকে সবকিছুর অধিকারী হবার জন্য নিযুক্ত করলেন, পুত্রের মধ্যে দিয়েই তিনি সব কিছু সৃষ্টি করলেন।
সেই পুত্র, সেই ঈসা মসীহ তার দ্বারাই সব কিছু হয়েছে, তার দ্বারাই সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে। আর সেটা হয়েছে বাক্য দিয়ে, কালাম দিয়ে, সেজন্য এ বাক্যকে বলা হয় অনন্তকালীন বাক্য। তাই সৃষ্টির আরম্ভে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে বাক্য দিয়ে, হও, কুন আর ফায়াকুন অর্থাৎ হয়ে গেছে। আবার সৃষ্টির শেষে প্রকাশিত কালামে দেখলাম সেই বাক্য দিয়েই সমস্ত কিছু সমাপ্ত হবে। এবং তার রক্তের মধ্যে দিয়ে সেই ক্রুশের রক্তের মধ্যে দিয়ে সবকিছু তিনি শেষ করলেন। আর তাই আমাদের জন্য এটা বড়দিন, আনন্দের দিন। দিনটি মাহাত্ম্যে বড়, গুণে বড়, কেননা এই দিনে এমন একজন এসেছেন যিনি আমাদের আবার অনন্তকাল আবার সেই বেহেস্তে থাকার জন্য আদম-হাওয়ার মতো সৃষ্টির প্রথম দিনের মতো সেই ব্যবস্থাটাকে তিনি আমাদের জন্য করে গেছেন। আর তাই কেন, কীভাবে, সে বিষয়টা সেই যে বাক্য মাংসে মূর্তিমান হলেন। ইউহোন্না ১ : ১৪ আয়াতে সে কথাটি বলা হয়েছে, সেই কালামই মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন।
পিতা খোদার একমাত্র পুত্র হিসেবে তার যে মহিমা, সেই মহিমা আমরা দেখেছি তিনি দয়া ও সত্যে। সেই যে কালাম, সেই যে বাক্য সেটাই পৃথিবীতে আসলেন। কীভাবে? বলা হয়েছে, একটা দেহ রূপ কাপড় নিয়ে তিনি আসলেন। তাই ঐ কালাম বা রূহ সেটা ঢাকার জন্য তিনি এই দেহকে ধারণ করলেন। কারণ ঐ রূহ বা ঐ কালাম যদি আসে কেউ দেখবে না এটা—আমরা বলি কি তিনি অদৃশ্য। রূহকে আমরা দেখি না। তাই তিনি যেন মানুষের মধ্যে আসতে পারেন, মানুষের মধ্যে বসবাস করতে পারেন সেজন্য সেই কালাম মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে এসেছেন। একটা কাপড় পরে, কিসের কাপড়? রক্ত মাংসের এই যে দেহরূপ কাপড় পরে। কোরআন শরীফে যদি আপনারা দেখেন সুরা মরিয়মের সেই ১৭ নম্বর আয়াতে সেই একই কথা বলেছে।
বলা হয়েছে, সেই রূহ দেহ ধারণ করে পৃথিবীতে আসলেন। কেন? যেন তিনি আমাদের মাঝে থাকতে পারেন, আমাদের চিনতে পারেন, আমাদের মাঝে বসবাস করতে পারেন, যেন তার মহিমা আমরা দেখতে পারি। তাই গালাতীয় ৪ অধ্যায়ে ৪-৫ আয়াতে এ কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সময় পূর্ণ হলে পর খোদা তার পুত্রকে পাঠিয়ে দিলেন, সেই পুত্র স্ত্রীলোকের গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেন এবং আইন-কানুনের অধীন জীবন কাটালেন। যেন আইন-কানুনের অধীনে থাকা লোকদের তিনি মুক্ত করতে পারেন আর যেন খোদার পুত্রদের যে অধিকার আছে তা আমরা পাই। তাহলে তিনি কী করলেন? ঠিক সময়ে মানুষকে—অর্থাৎ এটা বড়দিন যে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি এই পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে আসলেন এবং মানুষ হিসেবে একজন স্ত্রীলোকের গর্ভে। আমরা জানি সেই নারী মরিয়ম। তিনি আসলেন যেন আমরা যারা আইনের অধীনে আছি আমাদেরকে উদ্ধার করতে পারেন। তিনি এই পৃথিবীতে আইন মেনে ছিলেন। তিনি মানুষ হিসেবে আসছেন যিহুদি হিসেবে ছিলেন, যিহুদি সমাজে যে আইন-কানুন ছিল সেগুলি তিনি মানতেন। তিনি ধর্মধামে অর্থাৎ উপাসনালয়ে যেতেন। সেখানে বসেও হুজুরদের সাথে কথাবার্তা বলতেন। এবং আইন-কানুনের কথা শিক্ষা দিতেন। ৮ দিনের দিন তিনি সুন্নত করালেন। সব আইন কানুন তিনি মেনেছেন। কেন? যেন আমাদের দিনটা বড় হয়। তার দিনটা তিনি ছোটো করে আমাদের দিনটা বড় করেছেন। আর এজন্য বলা হয়েছে, যারা আইন-কানুনের অধীনে চলে তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য, রক্ষা করার জন্য তিনি পৃথিবীতে তিনি মানুষ হিসেবে এসেছিলেন। আমরা আইনের অধীনে চলি, আমরা কী মনে করি? সকল আইন মানলে আমরা খোদাকে বা ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে পারব। এই যে আইনগুলো মানার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব।
কিন্তু এই যে আমরা আইন মানা শুরু করেছি জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত—তারমানে আমরা আইন মানার চেষ্টা করছি আইন মেনে বেহেস্তে যাবার জন্য, অনন্তকাল খোদার সাথে থাকার জন্য। কিন্তু আসলে এটা সম্ভব না। গালাতীয় পুস্তক ৪ অধ্যায় ৪-৫ আয়াতে পৌল বলেছেন, একজন মহিলার মধ্য দিয়ে তিনি আসলেন এবং আইন-কানুন মানলেন যেন আমরা যারা আইন-কানুন মেনে খোদাকে পাওয়ার চেষ্টা করছি আমরা যাতে পাপের থেকে উদ্ধার পাই, যেন আমরা এখান থেকে বাঁচতে পারি, রক্ষা পাই।
সেজন্য একজন নারীর গর্ভে আইন মেনে মানুষ হিসেবে ঈসাকে পৃথিবীতে পাঠালেন, যেন আমাদের দিন বড় হয় হলেন যেন আমরা মুক্তি লাভ করতে পারি। তাই ইউহোন্না ৩ : ১৬ আয়াতে বলা হয়েছে, খোদা মানুষকে এত মহব্বত করলেন যে তার একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করলেন যেন যে কেউ পুত্রের সেই ওপর বিশ্বাস করে, সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়।
তিনি দান করলেন, তিনি আমাদের জন্য ব্যবস্থা করলেন। এজন্য বলা হয়েছে, তিনি তাকে অর্থাৎ দেহরূপ কাপড়কে রক্তে ভিজিয়েছেন যেন আমরা পাপ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি। তাই এই যে খোদার কালাম, বাক্য, কথা তা আমাদের জন্য সহজ বোধগম্য বিষয়। এটা বোঝার জন্য খুব বেশি গবেষণার দরকার হয় না।
সেই মহিমা আমরা দেখেছি। তার মহিমা কী? তিনি শুধু আমাদের মধ্যে বাস করেননি তিনি তার জীবন দিয়ে আমাদের জন্য মুক্তির একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমরা কীভাবে দেখেছি? তার কিতাবের মধ্য দিয়ে। প্রকাশিত কালাম ২ : ২০ পদে বলা হয়েছে, আমি দ্বারে দাঁড়িয়ে আছি এবং আঘাত করছি, যদি কেউ আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেয় সেখানে আমি প্রবেশ করব। কিসের দরজা? হৃদয়ের দরজা। সেখানে কী করবেন? পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবেন যদি কোনো ভেজাল থাকে, তারপরে তিনি আমাদের সাথে খাওয়া-দাওয়া করবেন। তারমানে তিনি এখনো আমাদের মধ্যে আছেন, আমাদের মধ্যে বসবাস করতে চান। আপনার আমার হৃদয় যদি প্রস্তুত না থাকে তবে তিনি প্রস্তুত করতে চান। প্রস্তুত করে তিনি আমাদের সাথে বসবাস করতে চান। যেন আমরা তার মহিমা দেখি ও বুঝি।
১ ইউহোন্না ১ : ৩ আয়াতে বলা হয়েছে, যাকে আমরা দেখেছি এবং যার মুখের কথা আমরা শুনেছি ঠিক তার বিষয়ে আমারা তোমাদের জানাচ্ছি। আমরা জানাচ্ছি যেন তোমাদের ও আমাদের মধ্যে একটা যোগাযোগ সম্বন্ধ গড়ে ওঠে। এই যোগাযোগ হলো পিতা ও তার পুত্র ঈসা মসীহ এবং আমাদের মধ্যে। আমাদের আনন্দ যাতে পরিপূর্ণ হয় সেজন্যই আমরা এ সমস্ত লিখছি।
ইব্রিয় ১ : ২৪-২৫ আয়াতে বলা হয়েছে, যেন একে অন্যকে উৎসাহ দিতে পারি, একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারি একে অন্যের সুখে সুখি হতে পারি, একে অন্যের দুঃখে দুঃখি হতে পারি।
আরেকটা হলো আমাদের সাথে তার যোগাযোগ সম্বন্ধটা হয়। যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সেই সৃষ্টিকর্তা খোদার সঙ্গে আমাদের সেই যোগাযোগ, সম্বন্ধটা যেন হয়। কেন? তাহলেই আমরা তার মহিমা দেখতে পাবো। এই যে বড়দিনে যেন আমরা সবাই একত্রিত হয়ে এই সহভাগিতা রক্ষা করতে পারি এবং এর মধ্য দিয়ে তার মহিমা প্রকাশ পায়। তাই ইব্রিয় ১০ : ২৫ আয়াতে বলা হয়েছে, অনেকের মতো তোমরা একসাথে সভাস্থ হওয়া বাদ দিয়ো না। বরং একত্রিত হই যেন তার মহিমা আমরা প্রকাশ করতে পারি।
আমরা এমন একজনকে দেখছি তিনি পৃথিবীতে ছিলেন কিন্তু সমস্যা হলো ইউহোন্না ১ : ১১ আয়াতে বলা হয়েছে বলছে, তিনি নিজের দেশে এলেন কিন্তু তার নিজের লোকেরা তাকে গ্রহণ করল না।
কিন্তু ১২ আয়াতে বলা হয়েছে, যতজন তাকে বিশ্বাস করল এবং গ্রহণ করল সেই সকলকে তিনি খোদার সন্তান হবার অধিকার দিলেন। যিরমিয় নবীর কিতাবে ২৯ অধ্যায়ে ১৩ পদে এ কথা বলেছে, আর তোমরা আমার অন্বেষণ করিয়া আমাকে পাইবে, কারণ তোমরা সবান্তকরণে আমার অন্বেষণ করিবে।
ঈসা মসীহ আপনাকে, আমাকে ভালোবাসেন বলেই তার সেই কালামকে এই পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে দেহ দিয়ে পাঠালেন যেন আমাকে আপনাকে পাপ থেকে মুক্তি দান করতে পারেন, পাপের ক্ষমা দান করতে পারেন। খোদা আমাদেরকে নতুন বছরে সেই অনুগ্রহ দান করুন আমরা যেন তাকে হৃদয় দিয়ে খুঁজে পাই। আমেন।
পাস্টর এ এম চৌধুরী : মডেরেটর, ঈসায়ী চার্চ বাংলাদেশ।





Users Today : 1
Views Today : 1
Total views : 175445
