বড়দিন বড় হওয়ার দিন। কারণ মহান এসেছেন দীন বেশে, দীন মানুষের হাত ধরতে। আমরা দীন তাই তিনিও দীন হয়েই এলেন আর তাইতি এ উৎসব আমাদের বড় হওয়ার উৎসব। যীশু পরিপূর্ণভাবে ঈশ্বর ও মানুষ ছিলেন। ঈশ্বররূপে তিনি পিতা ও পবিত্রাত্মার সমকক্ষ; তিনিও অসীম, অনন্ত ও সর্বশক্তিমান। আমাদের পরিত্রাণের নিমিত্তে তিনি মানব দেহ ধারণ করলেন। তিনি ঈশ্বর হয়েও পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে এ ধরায় জন্ম নিলেন যার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর ও মানুষের মিলন ঘটেছে, সূচিত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। ইতিহাসে এই ঘটনাটিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা কারণ ঈশ্বর মানুষ হলেন। তিনি কুমারী মারিয়ার পবিত্র গর্ভে মানুষরূপে জন্ম নিলেন। মনুষের ন্যায় তাঁর দেহ ও আত্মা ছিল। যীশু খ্রীষ্টের মধ্যে দুটো স্বভাব বিদ্যমান। মানবীয় স্বভাব এবং ঐশরিক স্বভাব। কিন্তু স্বভাব দুটো হলেও ব্যক্তি এক। তিনি কেবল ঐশব্যক্তি। “যখন সময়ের পূর্ণতা এল, তখন ঈশ্বর তাঁর আপন পুত্রকে প্রেরণ করলেন, যিনি নারী গর্ভে জন্ম নিলেন, বিধানের অধীনে জন্ম নিলেন, যেন মূল্য দিয়ে তিনি বিধানের অধীনস্থ যত মানুষের মুক্তিকর্ম সাধন করতে পারেন, যেন আমরা দত্তক পুত্রত্ব লাভ করতে পারি (গালাতীয় ৪:৪-৫)। এই হলো ঈশ্বর পুত্র যীশু খ্রীষ্টের সুসমাচার (মার্ক ১:১) ঈশ্বর মানুষের কাছে এসেছেন। তিনি ঈশ্বরত্বের ও মনুষ্যত্বের মিলন ঘটিয়েছেন যেন আমরাও ঐশ স্বভাবের অংশী হতে পারি। তিনি আব্রাহাম ও তাঁর বংশধরদের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তাঁর প্রত্যাশিত সেই পুণ্য কর্মটি হল তাঁর “প্রিয়তম পুত্রকে” (মার্ক ১:১১, লুক ১:৫৫, ৬৮) এ জগতে প্রেরণ। এর মধ্য দিয়ে ঐশরাজ্যের প্রতিচ্ছবি এই মর্ত্যে রচিত হয়েছে। মানুষ নতুন আলোর সন্ধান পেয়েছে। তাই ঈশ^র ও মানুষের মিলন উৎসবই হল বড়দিন। এই উৎসব হলো আনন্দের উৎসব। সব ভেদাভেদের উর্ধ্বে উঠে, ক্ষমা দিয়ে ক্ষমা নিয়ে মনে প্রাণে এক হওয়ার উৎসব।
ঈশ^র ও মানুষের মিলনের উদ্দেশ্য: পরিত্রাণের ইতিহাসে ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতিকে শুধু মিশরের দাসত্ব থেকে উদ্ধার করেই ক্ষান্ত ছিলেন না (দ্বিতীয় বিবরণ ৫:৬)। তিনি তাদের পাপ থেকে পরিত্রাণের মহাপরিকল্পনা করেছেন এবং তা সময়ের পূর্ণতায় বাস্তবায়ন করেছেন। যেহেতু পাপ সর্বদাই ঈশ্বরের বিরুদ্ধাচরণ করে তবুও পাপের ওপর বিজয় একমাত্র ঈশ্বরের হাতে, এক মাত্র তিনিই পারেন পাপ ক্ষমা করতে (সামসংগীত ৫১:৪, ১২)। যীশু তাঁর দেহ গ্রহণের মাধ্যমে সব মানুষের সাথে নিজেকে যুক্ত করেছেন যেন মানুষ পাপের ক্ষমা লাভ করতে পারে।
ঈশ^রের সাথে মানুষের মিলনের স্বরূপ: স্বরূপ হলো রূপ পরিগ্রহণ করা। আমাদের স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসতে পারে কেন অসীম ঈশ্বরের সসীম মানব রূপ গ্রহণ? যদি এমন হত ঈশ্বর তাঁর দেবত্ব নিয়ে এ জগতে আসতেন তাহলে হয়ত আমার-আপনার মত পাপী-তাপী, দুর্বল-অসহায় মানুষ তাঁর গৌরবের সামনে কোনো স্থান পেতাম না; তাই তিনি তা করলেন না বরং আমাদেরই মতো শুধু পাপ ব্যতিত সবকিছু নিয়ে জগতে ধরা দিলেন যেন আমরা তাঁর কাছে যেতে পারি সহজেই এমনকি আমাদের দীন অবস্থা নিয়েও। আর তাই তো তাঁর এ রূপ ধারণ তথা দেহ গ্রহণ করা। এখন ধরা যাক, যীশু যদি ধনী হয়ে আসতেন তাহলে কী হত! তাহলে শুধু রাজপ্রাসাদের লোকেরা তাঁর কাছে যেতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করলেন না বরং ‘দাসের স্বরূপ গ্রহণ করলেন’ (ফিলি.২:৬) যেন ধনী পণ্ডিতেরা যেমন, তেমনি গরীব রাখালেরাও যেন তার কাছে আসতে পারে। তাই এ কথা ধ্রুব সত্য যে, যীশু হলেন ঈশ্বরের শ্বাশত পুত্র, যিনি মানুষ ছিলেন। তিনি “ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছেন”, (যেহন ১৩:৩) “স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন” (যোহন ৩;১৩, ৬:৩৩) এবং “মাংসে আগত” (১ যোহন ৪:২) হয়েছেন, এজন্যে বাণী হলেন মাংস ও আমাদের মাঝে বাস করতে লাগলেন। আর আমরা তাঁর গৌরব প্রত্যক্ষ করলাম: এমন গৌরব যা ঈশ্বরের সেই একমাত্র পুত্রেরই সমুচিত গৌরব, যিনি অনুগ্রহ ও সত্যে পরিপূর্ণ। আর আমরা সকলে তাঁর ঐশ্বর্য থেকে লাভবান হয়েছি: লাভ করছি অনুগ্রহের পর অনুগ্রহ” (যেহন ১:১৪, ১৬)। ঐশসত্ত¡া ও মানব সত্তা একই বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় আমরা পাপের শৃঙ্খংখল থেকে মুক্ত হয়ে নব জীবনের পথে হাঁটার সুযোগ পেয়েছি।
খ্রীষ্টের দেহধারণের সার্বজনীন মিলন: রাখালদের কাছে স্বর্গদূতেরা ঘোষণা করেছিলেন ইস্রায়েল জাতির প্রতিশ্রুতি মোশীহের জন্ম বারতা: “আজ দাউদ নগরীতে তোমাদের জন্য এক ত্রাণকর্তা জন্মেছেন-তিনি খ্রীষ্ট প্রভু” (লুক ২:১১)। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি “যাঁকে পিতা পবিত্রীকৃত করলেন ও জগতে প্রেরণ করলেন” যে “পবিত্রজনকে” মারীয়া তাঁর কুমারী গর্ভে ধারণ করেছেন (ইসাইয়া ১১:২; ৬১:১, জাখারিয়া ৪:১৪; ৬:১৩; লুক ৪:১৬-২১)। পরমেশ্বর যোসেফকে আহ্বান করে বললেন “দাউদ সন্তান যোসেফ, তোমার স্ত্রী মারীয়াকে গ্রহণ করে নিতে ভয় করো না, কারণ তাঁর গর্ভে যিনি জন্মগ্রহণ করবেন, তা পবিত্র অত্মারই প্রভাবে হবে;” এই ভাবে যীশু, যাঁকে খ্রীষ্ট বলা হবে, তিনি মসীহের বংশধারায় দাউদের বংশোভ‚ত যোসেফের স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নিবেন (মথি ১: ১৬,২০, রোমীয় ১;১; ২ তিমথি ২:৮, প্রত্যাদেশ ২২:১৬)। রাখালেরা স্বর্গীয় দূতের মাধ্যমে সংবাদ পেয়েছিলেন। তাই তাঁরাও তাঁকে তাদের মেষ নিয়ে ঈশ্বর তনয়কে প্রণাম জানায়। রাখালেরা হল দরিদ্রদের প্রতীক। উভয়ের কাছে প্রকাশের মধ্য দিয়ে যীশু তাঁর সার্বজনীনতাকে প্রকাশ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, তিনি হলেন সার্বজনীন মুক্তিদাতা। তিনি ধনী দরিদ্র সবার সঙ্গে আছেন। এটাই হল আমাদের সকলের জন্য বড়দিনের বার্তা।
বাণীর দেহধারণ নব জন্মের আহ্বান: খ্রীষ্ট হলেন অভিষিক্তজন। সাধু ইরেনিয়াস বলেন, “যিনি অভিষিক্ত করেছেন তিনি হলেন পিতা, যিনি অভিষিক্ত হয়েছেন তিনি হলেন পুত্র এবং পবিত্র আত্মার দ্বারা তিনি অভিষিক্ত হয়েছেন তিনিই সেই অভিষিক্তজন।” সিমোন পিতর যীশুকে বললেন, “খ্রীষ্ট, জীবনময় ঈশ্বরের পুত্র” যীশু ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে উত্তর দিলেন, “রক্ত মাংসের মানুষ নয় বরং আমার স্বর্গ নিবাসী পিতাই তোমার কাছে এ কথা প্রকাশ করেছেন (মথি ১৬: ১৬-১৭)। দামাস্কাসের পথে পল তাঁর মন পরিবর্তন সম্পর্কে লিখেছেন-“যিনি আমাকে মাতৃগর্ভ থেকেই স্বতন্ত্র করে রেখেছিলেন, তিনি যখন স্থির করলেন পুত্রকে আমার অন্তরে প্রকাশ করবেন আমি যেন বিজাতীয়দের কাছে তাঁর কথা প্রচার করতে পারি (গালাতীয় ১: ১৬-১৭)। “এর পর থেকে সমাজগৃহগুলোতে পল যীশুকে প্রচার করতে লাগলেন, ‘যীশুই ঈশ্বরের পুত্র’ (শিষ্যচরিত ৯:২০)। সেই শুরু থেকেই খ্রীষ্টের ঐশপুত্রত্ব প্রেরিতদের বিশ্বাসের কেন্দ্ররূপে গণ্য হয়ে আসছে, যা খ্রীষ্টমণ্ডলীর ভিত্তিরূপে পিতর প্রথম স্বীকার করেছিলেন (১থেসা ১:১০; যোহন ২০:৩১; মথি ১৬:১৮)। নিসীয় বিশ্বাসমন্ত্রের সাথে একাত্ম হয়ে আমরা স্বীকার করি যে: “আমাদের মত মানুষের জন্য এবং আমাদের পরিত্রাণের জন্য তিনি স্বর্গ থেকে নেমে এলেন, পবিত্র আত্মার শক্তিতে কুমারী মারীয়ার গর্ভে দেহধারণ করে মানুষ হলেন।” ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের পুনর্মিলন সাধন করে আমাদের পরিত্রাণ করার জন্য বাক্য দেহধারণ করলেন। বলেন, সেই ঈশ্বর “আমাদের ভালোবাসলেন এবং আমাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হতে নিজ পুত্রকে প্রেরণ করলেন”: “পিতা পুত্রকে জগতের ত্রাণকর্তারূপে প্রেরণ করেছিলেন” এবং “পাপ হরণ করতেই তিনি আবিভর্র্‚ত হয়েছিলেন” (যোহন ৪:১০; ৪;১৪; ৩:৫)। বাণী দেহধারণ করলেন যেন আমরা ঈশ্বরের ভালোবাসা বুঝতে পারি: “এতেই আমাদের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে: ঈশ্বর তাঁর একমাত্র পুত্রকে জগতে প্রেরণ করলেন তাঁর দ্বারাই আমরা যেন জীবন পাই” (১ যোহন ৪:৯)। “কেননা ঈশ্বর জগতকে এতই ভালোবেসেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে দান করেছেন, তাঁর প্রতি যেন যে কেউ বিশ্বাস রাখে, তাঁর যেন বিনাশ না হয়, কিন্তু অনন্ত জীবন পেতে পারে” (যোহন ৩:১৬)। মানুষকে নব জীবন দেয়ার জন্য যীশু ঈশ্বরত্বে ও মনুষত্বের মিলন ঘটিেেছন।
আদর্শ গুরু হওয়ার মাধ্যমে ঐশ্বরত্ব ও মনুষত্বের মিলনের প্রকাশ: পবিত্রাত্মার প্রভাবে তিনি জন্ম নিলেন যেন তিনি আমাদের কাছে পবিত্রত্মার তথা পূর্ণতার আর্দশ হতে পারেন: তাই তিনি বলেন, আমারই জোয়াল কাঁধে তুলে নাও, আমার শিষ্য হও তোমরা কেননা “আমিই পথ, সত্য ও জীবন!” পিতার কাছে কেউই যেতে পারে না, যদি না সে আমার মধ্য দিয়ে যায় (মথি ১১:২৯; যোহন ১৪:৬)। দিব্য রূপান্তরের সময় পর্বতের ওপরে, পিতা এই আদেশ দেন: “তাঁর কথা শোন!” (মার্ক ৯:৭; দ্বি. বিবরণ ৬:৪-৫)। এ সমস্ত কিছু এ তথ্য প্রমাণ করে যে, তিনিই ‘সুখ পূর্ণতার অদর্শ এবং নতুন নিয়মের মানদণ্ড : “তোমরা পরস্পরকে ভালোবাস, আমি তোমাদের যেভাবে ভালোবেসেছি,” (যোহন ১৫:১২)। এই ভালোবাসার অর্থ তাঁর দৃষ্টান্ত অনুযায়ী নিজেকে কার্যকরীভাবে দান করা (মার্ক ৮:৩৪)।” সাধু ইরেনিয়াস বলেন, “আমাদের তাঁর ঐশস্বরূপের অংশীদার করতে বাণী মানুষ হয়ে জন্ম নিলেন, ঈশ্বর পুত্র হলেন মানবপুত্র: যাতে মানুষ বাণীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এবং ঐশসন্তানত্ব লাভ করে ঈশ্বরের সন্তান হয়ে উঠতে পারে।” সাধু আথানাসিউস বলেন-“ঈশ্বরপুত্র মানুষ হলেন যাতে আমরা ঈশ্বর হতে পারি।” সাধু টমাস আকুইনাস বলেন, “আমাদের সঙ্গে তাঁর ঈশ্বরত্ব সহভাগিতা করার জন্যই একজাত পুত্র আমাদের স্বরূপ গ্রহণ করলেন, যাতে মানুষ হয়ে তিনি মানব জাতিকে ঈশ্বরীয় করে তুলতে পারেন।”
রিক্ত হওয়ার মাধ্যমে ঈশ্বর ও মনুষের মিলনের প্রকাশ: “খ্রীষ্ট যীশুতে যে মনোভাব ছিল, তোমাদের অন্তরেও যেন তা থাকে: অবস্থায় ঈশ্বর হয়েও তিনি ঈশ্বরের সঙ্গে তাঁর সমতুল্যতাকে আঁকড়ে থাকতে চাইলেন না; বরং দাসের স্বরূপ গ্রহণ করে মানুষের সাদৃশ্য আপন করে তিনি নিজেকে রিক্ত করলেন; আকারে প্রকারে মানুষের মত হয়ে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত, এমনকি ক্রুশমৃত্যু পর্যন্তই নিজেকে বাধ্য করায় নিজেকে অবনমিত করলেন” (ফিলিপ্পীয় ২:৫-৮)। হিব্রুদের কাছে পত্রে তিনি একই রহস্যের কথা ব্যক্ত করেন: “এজন্যই এ জগতে প্রবেশ করার সময় খ্রীষ্ট এই কথা বললেন: যজ্ঞ ও শস্য-নৈবেদ্য তুমি ইচ্ছা করোনি, বরং আমার জন্য একটি দেহ গড়ে তুলেছ; আহুতি ও পাপার্থে তুমি প্রসন্ন হওনি, তাই আমি বলেছি: এই যে, আমি এসেছি,-শাস্ত্রগ্রন্থে আমার বিষয়ে লেখা আছে-হে ঈশ্বর, তোমার ইচ্ছা পূর্ণ করতে” (হিব্রু ১০:৫-৭, সামসংগীত ৪০:৬-৮)।
ঐশ্বরত্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন: আদমে পাপের ফলে মানুষের ঐশরিক মর্যাদা যেভাবে হারিয়ে গিয়েছিল, তেমনি নতুন আদম খ্রীষ্টের দেহধারণ ও ক্রুশ মৃত্যুর মাধ্যমে সে হারানো মর্যদা আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই খ্রীষ্টের সমগ্র জীবনটাই হল পুন:সংরক্ষণের রহস্য, যীশু যা করেছেন, বলেছেন এবং সহ্য করেছেন-সব কিছুর লক্ষ্য ছিল পতিত মানবজাতিকে তার মৌলিক আহ্বানে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। আর সেই রহস্যটি ঈশ্বরের সাথে মানুষের মহামিলন। সাধু ইরেনিয়াস বলেন, যীশু যখন দেহ ধারণ করে মানুষ হলেন, তখন তিনি মানব ইতিহাসের সব কিছু নিজের মধ্যে সংগ্রহণ করলেন এবং আমাদের মুক্তির জন্য এক সহজ পথ খুলে দিলেন, যাতে আদমের মধ্যে আমরা যা হারিয়েছি, অর্থাৎ ঈশ্বরের স্বরূপ এবং সাদৃশ্য হওয়া, তা যেন যীশু খ্রীষ্টে আবার ফিরে পেতে পারি। এই জন্যে, খ্রীষ্ট মানব জীবনের সব পর্যায়ই অভিজ্ঞতা করেছেন শুধু পাপের দিকটি ছাড়া, আর এভাবে সকল মানুষকে তিনি ঈশ্বরত্বের সঙ্গে মিলিত করেছেন।
বড়দিনে তাই নিঃসন্দেহে সবার বড় হওয়ার দিন। পতিত অবস্থা থেকে উঠে আসার দিন। আমরা বড় হই হৃদয়, মনে ও আত্মায়। আমরা বড় হই ভালোবাসা, ক্ষমা দেওয়া ও নেওয়ায়। যীশু ধরায় এসে সব কিছু মানুষের মধ্যে অভিজ্ঞতা করেছেন মানুষ যেন ঐশ্বরত্বের সন্ধান পেতে পারে ও ঐশ্বরত্বের অংশী হতে পারে। বড়দিনে যীশু বেথলেহেমের গোশালা ছেড়ে আমাদের হৃদয় গোশালায় জন্ম গ্রহণ করতে চান। কারণ আমাদের হৃদয় হল পবিত্র আত্মার মন্দির। এই জীবন্ত মন্দিরে আমাদের খ্রীষ্ট দেবতা সব সময় বসবাস করতে চান। আমরাও যেন খ্রীষ্টময় হয়ে খ্রীষ্টের সাথে এক হতে পারি। ঈশ্বরত্বের অংশী হতে পারি আর এটাই হল বড়দিনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । সেজন্যই এ কথা সত্যে প্রতিভাত হয় যে, বড়দিন হলো ঈশ্বর ও মানুষের মিলনোৎসব।





Users Today : 65
Views Today : 68
Total views : 177319
