এক অঙ্কে ঋণের সুদের হার নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯ দফা সুবিধা দেয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে টাকার প্রবাহ বাড়াতে শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
কমিটির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে কম সুদে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে অর্থের জোগান দিতে বিশেষ তহবিল গঠন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা বাড়ানো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অর্থ ধার দেয়ার শর্ত শিথিল, বৈদেশিক উৎস থেকে তহবিলের জোগান বাড়ানো, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কস্ট অব ফান্ড গ্রহণযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ আদায়ে আরও কার্যকারণ ব্যবস্থা নেয়া, ঋণের সুদ হিসাব পদ্ধতি তিন মাস থেকে ছয় মাসে উন্নীত করা, ব্যাংক রেট ও নীতিনির্ধারণী উপকরণের সুদের হার কমানো। কমিটির এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট নিরসন ও ঋণের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে ব্যাংক বিশ্লেষকগণ মনে করেন, ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে এ পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে ব্যাংকগুলোকে দফায় দফায় নানা সুবিধা দেয়া হয়েছে। এখন আবার তারল্যের গতি বাড়াতে আরও একগুচ্ছ সুবিধা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে ব্যাংকগুলো কেন এত গড়িমসি করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে কম খরচের টাকার প্রবাহ বাড়বে। এতে কিছু খাতে সুদের হার কমানো সম্ভব হবে। এটি সাময়িক পদক্ষেপ। কিন্তু সার্বিকভাবে সুদের হার কমাতে হলে শক্ত হাতে জালজালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ঋণ আদায় বাড়াতে হবে। সব মিলে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।
কিছু সুপারিশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়নও করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকগুলোতে টাকার প্রবাহ বাড়বে। ব্যাংকগুলো সক্রিয় হলে তাদের কস্ট অব ফান্ডও কমানো সম্ভব হবে। তখন ঋণের সুদের হার কমে যাবে। এছাড়া শিল্পসহ অর্থনীতির মৌলিক কিছু খাতে ঋণের সুদের হার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি ব্যবস্থাও জোরদার করবে।
ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের পরিমাণ ১১ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে খেলাপি ও খেলাপির পর্যায়ে থাকার কারণে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঋণ আটকে রয়েছে। এ থেকে কোনো আয় আসে না। এ কারণেও তহবিল খরচ বাড়ছে।
এ জন্য খেলাপি ঋণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ তৈরি করা হবে। ঋণের আদায় বাড়লে তহবিল সংকট যেমন কমবে, তেমনি কমবে সুদের হারও। এমনটিই মনে করেন ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা।
সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে কার্যকরের কথা বলে অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে ৫ দফা সুবিধা আদায় করে নেন ব্যাংকের পরিচালকরা। এগুলো হচ্ছে- সরকারি সংস্থার আমানত ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা, নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) কমানো, রেপো সুদহার কমানো, রেপোর মেয়াদ ২৮ দিনে বৃদ্ধি ও কর্পোরেট কর কমানো।
এরপরও সুদের হার না কমানোর ফলে অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে বলেছে, যেসব ব্যাংক ইতিমধ্যে ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনেনি তারা সরকারি আমানত পাবে না। সরকারি আমানত সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে ব্যাংকে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




Users Today : 42
Views Today : 43
Total views : 177446
