ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য নতুন আতঙ্ক কারণ হয়ে উঠেছে হৃদযন্ত্র অচল করার মতো মায়োকার্ডিটিসে (সংক্রমণের মাধ্যমে হৃৎপি-ের পেশির প্রদাহ) আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার এটিও একটি কারণ। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিকিৎসকদের সতর্ক হওয়া অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মাহামুদুর রহমান জানান, ‘ডেঙ্গুর কারণে মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত হলে তা খুবই বিপজ্জনক। অনেক চিকিৎসকের পক্ষে তা দ্রুত বুঝে ওঠা কঠিন। তাই এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। চীনে মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত তিন হাজার মানুষের ওপর গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ১১ শতাংশ ডেঙ্গু থেকে মায়োকার্ডিটিসে আক্রান্ত হয়েছে। এটি আক্রান্তদের মৃত্যু ঘটাতে সক্ষম।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ বছর জানয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত জুন মাসে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭১৩ জন, যা গত বছর জুনে আক্রান্তের প্রায় সাত গুণ বেশি। সরকারি হিসাবে এ বছরের শুরু থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দেশে আক্রান্ত হয় দুই হাজার ৬৬ জন। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩২৬ জন। বিশেষজ্ঞরা জানান, এডিস মশা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে ডেঙ্গুর ধরনে পরিবর্তন আসায় মৃত্যু বাড়ছে। এর জন্য ডেঙ্গুর চিকিৎসায় চিকিৎসকদের আরো সতর্ক এবং দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর এই ধরন পরিবর্তন এবং সৃষ্ট নতুন নতুন জটিলতা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরুরি বৈঠকে বেশ কয়েকজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা আগের গাইডলাইন (নির্দেশিকা) সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জোর দেন অপেক্ষাকৃত বয়ঃকনিষ্ঠ (জুনিয়র) চিকিৎসকদের অধিকতর প্রশিক্ষণের ব্যাপারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। মৃত্যুর খবরও বেশি। আমরা তিনজনের মৃত্যু তালিকাভুক্ত করলেও আরো চারজনের খবর পেয়েছি। তাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য আমরা আইইডিসিআরের কাছে পাঠিয়েছি।
ভেক্টর বর্ন ডিজিজ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা এসেন্ডের কান্ট্রি হেড অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহম্মেদ বলেন, চার ধরনের ডেঙ্গুর (ডিইএনভি-১, ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩ ও ডিইএনভি-৪) মধ্যে ঠিক কোন ধরনের ডেঙ্গুর প্রকোপ বাংলাদেশে বেশি, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এখন জ্বর হলে মানুষ যেমন প্রথমে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ভয় পায়, তেমনি ডাক্তাররাও তা শনাক্ত করে চিকিৎসা করেন। কিন্তু যার ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে, তা ঠিক কোন টাইপের ডেঙ্গু, তা শনাক্ত করা হচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু পরীক্ষার পাশাপাশি টাইপিংও করতে হবে। না হলে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গত মার্চ মাসে এডিস মশার জরিপ করতে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব পরিমাপে ব্যবহৃত সূচকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। ওই সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার নির্মাণাধীন বাসাবাড়ির ছাদে জমানো পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, বালতি, পানির চৌবাচ্চা, ফুলের টবে এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি দেখা যায়। বিবর্তন ডেস্ক




Users Today : 38
Views Today : 39
Total views : 177442
